মেরিলিন মনরোঃ চিরসবুজ এক বিউটি আইকন


আজ ১ জুন মার্কিন অভিনয় শিল্পী ,মডেল ও গায়ক মেরিলিন মনরোর জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।


মেরিলিন মনরো ছিলেন মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল ও গায়ক। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। মনরো ১৯২৬ সালের ১ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম ছিল নর্মা জেন মর্টেনসন। তিনি গ্লাডিস পার্ল বেকারের তৃতীয় সন্তান। গ্লাডিস কনসলিডেটেড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ফিল্ম নেগেটিভ কাটার হিসেবে কাজ করতেন। গ্লাডিস পনের বছর বয়সে তার চেয়ে নয় বছরের বড় জন নিউটন বেকারকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রবার্ট এবং বার্নিস । ১৯২১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং বেকার তার সন্তানদের নিয়ে কেন্টাকি চলে যায়। মনরো তার ভাই বোনদের কথা জানতে পারে এবং তার বড় বোনের সাথে সাক্ষাৎ হয় তার ১২ বছর বয়সে।

১৯২৪ সালে গ্লাডিস তার দ্বিতীয় স্বামী মার্টিন এডওয়ার্ড মর্টেনসনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু মনরো যখন গ্লাডিসের পেটে তখন তা অন্য কারো সন্তান জানতে পেরে মার্টিন ১৯২৮ সালে তাকে তালাক দেন। মনরোর পিতার পরিচয় অজ্ঞাত এবং বেকারই তার উপনাম হিসেবে ব্যবহৃত হত। শৈশবের বেশিভাগ সময় শিশুপল্লীতে কাটিয়ছেন তিনি। ১৯৪২ সালের ১৯ জুন তার ১৬তম জন্মদিনের কয়েকদিন পরে তিনি তার প্রতিবেশীর পুত্র এয়ার ক্রাফট প্লান্টের একজন চাকরিজীবি জেমস “জিম” ডগার্থিকে বিয়ে করেন তখন মনরো স্কুল থেকে ড্রপ আউট হয়ে যান এবং গৃহিণী হয়ে যান। জেমসের সহায়তায় বিয়ের পর মনরো এরোপ্লেন পার্টস কোম্পানীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ পান। রূপের লাবণ্য আর শরীরের মোহনীয় অভিব্যক্তির জন্য অল্প কিছুদিনের মাঝেই সেখানকার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন মনরো। কোম্পানীর শো-গার্ল হিসেবে মডেলিংয়ের সুযোগ পান তিনি।

মনরো মডেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে তাকে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ করে।
গ্লামার জগতে তার ঝোঁক থাকলেও সেখানে বাধা হয়ে আসেন স্বামী জেমস। “সংসার করতে হলে মডেলিং ছাড়তে হবে”- এমন পরিস্থিতিতে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জেমসের সাথে চার বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন তিনি। তার প্রথমদিকের চলচ্চিত্রে উপস্থিতি খুবই গৌণ ছিল, কিন্তু “দি আশফাল্ট জাঙ্গল” এবং “অল অ্যাবাউট ইভ” (দুটিই ১৯৫০ সালে) চলচ্চিত্রে তার কর্মসঞ্চালন সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। ১৯৫২ সালে প্রথম তিনি “ডোন্ট বদার টু নক” চলচ্চিত্রে এবং ১৯৫৩ সালে নায়াগ্রা শিরোনামের একটি মেলোড্রামাটিক চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান, যা চলচ্চিত্র তার মোহময়তা অধিষ্ঠিত করে।

তার “মূক স্বর্ণকেশী” ব্যক্তিত্ব পরবর্তী বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কমিক প্রভাব বিস্তার করে, যেমন “জেন্টলমেন প্রেফার ব্লন্ডিস” (১৯৫৩), “হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার” (১৯৫৩) এবং “দ্য সেভেন ইয়ার ইচ” (১৯৫৫)। পর্দায় তার খোলামেলা পোশাক একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড় তুলেছে, অন্যদিকে তিনি হয়ে ওঠেন লাখো তরুণের হৃদয়ের রানী। মনরো তার পরিসীমা প্রসারিত করতে অ্যাক্টরস স্টুডিওতে পড়াশোনা করেন। বাস স্টপ চলচ্চিত্রে তার নাটকীয় অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন অর্জন করে।

১৯৫৪ সালের ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন দীর্ঘদিনের বন্ধু ডি মিয়াগোর সাথে। কিন্তু ৯ মাস পর দ্বিতীয় সংসারও ভাঙে তার। ১৯৫৬ সালের ২৯ জুন মনরো তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন, স্বামী আর্থার মিলার। সাংসারিক জীবনে মিলারের সাথেই তিনি সবচেয়ে সুখে ছিলেন। সর্বকালের সেরা আবেদনময়ী তারকা ও অভিনেত্রী হিসেবে শীর্ষে স্মরণ করা হয় হলিউডের সৌন্দর্যের এ রানীকে। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন মনরো। ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত বড়ি খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

কিংবদন্তী এ অভিনেত্রীর জন্মদিনে তার জীবনের আটটি অজানা বিষয় নিয়ে থাকছে ইরাবতীর বিশেষ আয়োজন।

মেরিলিন তোতলাতেন!

ছোটবেলা থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মেরিলিন কথা বলার সময় তোতলাতেন। পরবর্তীতে তোতলামি কেটে যায়। কিন্তু ‘সামথিংস গট টু গিভ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় তিনি স্ট্রেসের কারণে ফের তোতলাতে থাকেন।

মৃত্যুর পর মনরোর পোশাক লাখ টাকায় বিক্রি হয়  

মৃত্যুর পর মেরিলিনের পরিধেয় পোশাক অনেক দামে বিক্রি হয়। জন এফ. কেনেডির জন্মদিনে মেরিলিন যে স্কিন টাইট পোশাক পরেছিলেন, তা ১৯৯৯ সালে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। আবার ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রে যে সাদা পোশাক পরেছেন, তা ২০১১ সালে বিস্ময়করভাবে ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

এলা ফিটজেরাল্ডকে মনরোই তারকা বানান

কৃষ্ণাঙ্গী হওয়ায় জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী এলা ফিটজেলাল্ড মোকাম্বো হলিউড নাইটক্লাবে বুকিং দিতে পারতেন না। মেরিলিন মনরো নাইটক্লাবের মালিককে বলেন, যদি তিনি এলাকে সেখানে গাইতে দেন, তাহলে মনরো প্রতি রাতে ক্লাবের প্রথম সারির টেবিলে বসে সঙ্গীত পরিবেশনা দেখবেন।

মনরো কোনো অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পাননি
অভিনয়ে চোখ ধাঁধালেও মেরিলিন মনরো কখনও অ্যাকাডেমি মনোনয়ন পাননি। তবে ‘সাম লাইক ইট হট’ চলচ্চিত্রে সুগার ক্যানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি গোল্ডেন গ্লোব জেতেন।

ন্যুড ফটোগ্রাফের জন্য মাত্র ৫০ ডলার পেয়েছিলেন 
প্লেবয় ম্যাগাজিনে মনরোর আলোচিত ন্যুড ফটোসেশনের জন্য তাকে মাত্র ৫০ ডলার দেওয়া হয়। আসলে ১৯৪৯ সালে আলোকচিত্রী টম কেলি ছবিগুলো ক্যালেন্ডারের জন্য তোলেন। পরে প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রকাশক হিউ হেফনার ৫০০ ডলারে কিনে নেন মনরোর ছবিগুলো।

২০ বছর ধরে মনরোর কবরে ফুল দিয়েছেন তার স্বামী

একবার মেরিলিন তার দ্বিতীয় স্বামী জয় ডিম্যাজিওকে প্রতিজ্ঞা করান, তিনি মারা যাওয়ার পর ডিম্যাজিও যেনো প্রতি সপ্তাহে মনরোর কবরে ফুল দেন। ডিম্যাজিও তার প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন। তিনি ২০ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে মেরিলিন মনরোর কবরে আধডজন গোলাপ রেখে আসতেন।

তিনি প্লাস্টিক সার্জারি করেছিলেন

মনরোর মেডিকেল রেকর্ড বলে, তার চিবুক ও নাকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছিলো। এই মেডিকেল রেকর্ডটি ২৫ হাজার ছয়শো মার্কিন ডলারে নিলামে বিক্রি হয়।

প্রায় এক ডজন পালক বাবা-মা ছিলো মনরোর 
ছেলেবেলায় অনাথাশ্রমে থেকেছেন মেরিলিন। এরপর ভিন্ন ভিন্ন ধাপে ১১ জন পালক বাবা-মায়ের কাছে বড় হন তিনি।

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত