গল্প লিখব বলেই লেখক হতে হয়েছেঃ মোজাফফর হোসেন

 

আজ ৯ এপ্রিল। কথাসাহিত্যিক মোজাফফর হোসেনের জন্মদিন। ইরাবতীর পাঠকদের জন্য রইল মোজাফফর হোসেনের গল্প ও একটি সাক্ষাৎকার।। কথাসাহিত্যিক মোজাফফর হোসেনের প্রতি রইল ইরাবতী পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 


এক নজরে মোজাফফর হোসেনঃ

মোজাফফর হোসেন মূলত কথাসাহিত্যিক। বিশেষ আগ্রহ অনুবাদ ও সমালোচনা সাহিত্যে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা চার। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বিধা’ প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী। দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘আদিম বুদবুদ অথবা কাঁচামাটির বিগ্রহ’ প্রকাশ করেছে রাত্রি প্রকাশনী।এই বইয়ের জন্যে তিনি অরণি ছোটগল্প পুরস্কার-১৩ পান। এবং একটি গল্পের জন্য পান বৈশাখি তোমার গল্পে সবার ঈদ-১৩ পুরস্কার। গল্পটি পরে নাটক আকারে নির্মিত হয়। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার দুটি বই। প্রবন্ধের বই ‘আলোচনা-সমালোচনা, প্রসঙ্গ কথাসাহিত্য’ ও গল্প ও গল্পবিষয়ক বই ‘বিশ্বগল্পের বহুমাত্রিক পাঠ’। বইদুটি প্রকাশ করেছে অনু্প্রাণন প্রকাশনী। ‘বিশ্বগল্পের বহুমাত্রিক পাঠ’ বইটির কথা আলাদা করে বলতে হয়। বইটি ইতোমধ্যে বেশ আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের বেশ কটি উল্লেখযোগ্য গল্প এখানে ধরে ধরে আলোচনা করা হয়েছে। এ ধরনের বই বাংলাদেশে এর আগে কেউ করেনি। গল্পকার মোজাফফর হোসেনকে আমরা এই বইতে একজন অনুবাদক, একজন বিশ্লেষক ও একজন সম্পাদক হিসেবে পাই। কাজ করছেন বাংলা একাডেমিতে। ‘শাশ্বতিকী’ নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক তিনি।



গল্পঃ বাঁশিওয়ালা মজ্জেল


আজ এতকাল পর মজ্জেলের সাথে দেখা। যত দূর মনে পড়ে, ও মারা গিয়েছিল বছরপনেরো আগে, মে কি জুন মাসে। দিনটি ছিল ওই বছর সবচেয়ে গরমপড়া দিনগুলোর একটি। অবশ্য ওর সাথে আমার শেষ দেখা হয় ওর মৃত্যুরও বছরদুয়েক আগে। দু’বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর আমাদের ব্যাঙগাড়ির মাঠে এক শ্যালো মেশিনের পাশে লাশটা মেলে। শরীরের কোনো অংশে কাটাছেঁড়ার দাগ ছিল না। লোকমুখে মৃত্যুর কত কারণ শুনেছিকোনো একটা ঠিক ছিল হয়তো, কিংবা কোনোটাই না। এ নিয়ে পরে কোনো উচ্চবাচ্য না হওয়ায় এর কোনো একটা ভার্সন আমাদের সত্য বলে মেনে নিতে হয়েছে। যেমন, আমাদের এক বাড়িতেই চারটা ভার্সন তৈরি হলো। বাবা বললেন, ‘সব সুময় মরার কারণ থাকবি, এমুনটা আশা করা ভুল।’ মা বললেন, ‘মৃগীব্যারাম, গরমে ওর সমস্যাটা আরু বাড়তুক।’ কাজের মেয়ে মুশির মা বলল, ‘জিনের দোষে মরিচে। ওমুন ধু-ধু ফাঁকা মাঠে একা মানুষ বাঁচে নাকি! দেকো গে তিষ্টা মিটাতি গিলো, অমনি গলা মটকি দিচে।’

আমি মেনে নিয়েছি দাদির ভার্সনটাদাদির ধারণা, মজ্জেল বাঁশিতে ফুঁ দিতে না পেরে দম আটকে মারা গেছে!

মৃত মজ্জেলকে দেখতে যেতে আমার মন সায় দেয়নি। ওর লুঙ্গির কোঁচরে বাঁশিটা গোঁজা ছিল, আর কিছু ছিল না সঙ্গে যারা দেখতে গিয়েছিল তাদের মুখে শোনা।

এভাবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে দেখা হয়ে যাবে, ভাবতেই পারিনি। প্রথমটায় আমি ওকে চিনতে পারিনি। ওর বাঁশির সুর শুনে চেনা বলে আন্দাজ করেছিলাম মাত্র। মজ্জেলই আমাকে প্রথম চিনল, তাও চাঁদনি রাতে একসমুদ্র আলোয় আমার কাঁপা কাঁপা অবয়ব দেখে; অথবা হতে পারে আগে থেকেই ও আমাকে চিনতে পেরে অনুসরণ করছিল।

‘কী দাদাভাই, মিঠুন-কাট লাগবি নাকি?’ মজ্জেল বাঁশিটা মুখ থেকে নামিয়ে ওর সেই গালটানা হাসিটা হেসে বলল।

‘এখন আর তোমার মিঠুনের যুগ না। এটা হলো রণবীরদের যুগ- এক রণবীর সিং আর এক রণবীর কাপুর! ওদের অবশ্য তুমি চিনবে না।’ আমিও যথারীতি হাসতে হাসতে উত্তর দিলাম। আমরা পাশেই একটি গাছের গুঁড়ির ওপর দু’জন দু’দিকে মুখ করে বসলাম। ২০০৯ সালে আইলাতে সমুদ্রের শরীরের এদিকটাতে আরো কিছুটা জল ধরে, বেদখল হয় লোকালয়ের অংশবিশেষ, দু-একটা গাছের গুঁড়ি এখনো ভাটার সময় জেগে ওঠে।

‘তুমি এখানে যে?’ আমি জানতে চাইলাম।

‘গাঙের ধারে বসি বাপজানের কাছে সাগরের মেলা গল্প শুনছি। বাপজান শুনছে তার বাপজানের কাছে। সেই শুনছে আবার তার বাপজানের কাছে। চৌদ্দুপুরুষে কেউ সাগর দেকিনি। গাঙ শুকি খাল হলু, খাল শুকি খটখটি মাঠ। মরার আগে বাপজান আমার হাতখান ধরি বুলিলো, তুই দেখিস বাপ। তোর কাছে আর কিছুই আমার চাওয়ার নেই। মান্সে তার ছেলির কাছে কত কিছু চায়।ছেলি ডাক্তার হবি, হাকিম হবি, মাতববর হবি। দশ গাঁয়ির মানুষ তাকে মান্য করি চলবি। আমার বাজান চেইছিল, আমি সাগর দেখবু। গেল বছর একিনে এসিচি। তার আগে কক্সবাজারে ছিলাম।’

‘সমুদ্র তোমার ভালো লাগে?’ আমি আনমনা হয়ে জানতে চাই।

‘কি জানি! তয় ডাঙায় আর মন টেকে না। মনটা খালি তড়পায়। জল বড় মায়া ডাক ডাকে রে ভাই!’

‘বাঁশিতে একটু ফুঁ দাও না মজ্জেল। কত দিন জলের কিনারে বসে তোমার বাঁশি শোনা হয়নি। তুমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমাদের শান বাঁধানো পুকুড়পাড়ে বসে বাঁশি বাজাতে, আর আমরা তোমার পাশে গোল করে বসে তন্ময় হয়ে সেই বাঁশি শুনতাম মনে পড়ে?’

মজ্জেল কোনো কথা বলে না। সমুদ্রের জলের মতো ওর চোখেও চাঁদের চিকন আলো গলে-মিশে একাকার হয়ে যায়। বাঁশিটা মুখে তোলে মজ্জেল। বাঁশি বাজায় চোখ বন্ধ করে, ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো একমনা হয়ে। সেই মজ্জেল, তেমনই আছে, তেমন সুরেলা বাজায় সে।

আমার বয়স যেদিন সাত দিন হলো, সেদিনই আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ। আমার আঁতুরে চুল ফেলার জন্যে মা ডেকেছিল। তপ্ত দুপুরে গোলাঘরের চালের তলে বসে আমার চুল কেটেছিল। আমি ছিলাম দাদির কোলে ধরা। শুধু আমি না, প্রথম চুলকাটা থেকে অনেক বড় হওয়া অবধি আমার চার ভাইয়ের চুল কেটেছে ও। গাঁয়ের প্রায় সকল আবালবৃদ্ধবনিতার চুল মজ্জেলই কাটত। গুরুদায়িত্ব বটে। আমার চুল কাটা শেষ হলে ও কাঁঠালের সার দিয়ে গরম ভাতে জল ঢেলে পান্তা বানিয়ে খেয়েছিল। ছেলের প্রথম চুল কাটা, মা বাড়ির পোষা মুরগির ঝালমাংস রান্না করেছিল, মজ্জেল খায়নি। ক’টা টাকা বকশিশ দিতে চেয়েছিল মা, তাও নেয়নি। বরাবরের মতো কেজিখানেক চাল গামছায় বেঁধে হাঁটা দিয়েছিল। এসব কথা আমার মায়ের মুখে শোনা। মজ্জেল যেদিন মারা গেছে বলে সংবাদ এল, সেদিন মা আমাকে দুঃখ করে কথাগুলো বলছিল।

কোনো এক শুক্রবারে জুম্মার আগে মজ্জেলকে বাড়িতে ডাকা হতো। আমরা পিঠাপিঠি দু’ভাই খালি-গা হয়ে বসে পড়তাম। মজ্জেল বাবার চাকু-কাস্তে ধার করা বেলিটে বালু দিয়ে তার খুর ধার দিত। আমরা বসতাম, মজ্জেল তার স্বভাবজাত ঢঙে জানতে চাইত, ‘মিঠুন না অমিতাভ?’ আমি বলতাম, মিঠুন। মেজো ভাইয়ের পছন্দ ছিল অমিতাভ। মজার ব্যাপার হলো, আমরা কেউই তখন অমিতাভ বা মিঠুনকে চিনতাম না। গাঁয়ে তখনো টেলিভিশন ঢোকেনি। আমার ধারণা মজ্জেলও দেখিনি। তবে সেই ধারণা ভুলও হতে পারে।পাশের গাঁয়ে চুল কাটতে গিয়ে হয়ত কারো বাড়ি দেখে থাকতে পারে। কারণ পাশের গাঁয়ে তখন তিনটা টিভি আছে বলে আমাদের কাছে খবর ছিল। গাঁয়ে গাঁয়ে কাজিয়া বাঁধলে ওরা এই টেলিভিশন থাকা নিয়ে বড্ড বড়াই করত।

চুল কাটা হলে আয়নায় দেখতাম, দু’জনের চুল কাটার স্টাইল হুবহু এক। মজ্জেলের চুল কাটার ভ্যারিয়েশনটা ছিল ওর মুখেই, কাঁচিতে না। সারা গাঁয়ে একভাবেই চুল কেটেছে বড়-ছোট সবার। বৈচিত্র্য ছিল না ওর বাঁশির সুরেও। সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত একটানা একসুরে বাজত ওর বাঁশি। একসুরা হলেও বেসুরা ছিল না। প্রতিদিনই মনে হতো নতুন করে শুনছি, এমনই দরদ দিয়ে বাজাত ও।

‘চল একটু হাঁটি।’ বাঁশিটা মুখ থেকে নামিয়ে বলল মজ্জেল।

আমরা হাঁটতে থাকি।

‘আচ্ছা, রাত বিশেষ হয়নি, ওদিকটায় মানুষ যা আছে একেবারে কম না। এদিকটা এমন ফাঁকা কেন?’ আমি জানতে চাই।

‘আমি আছি বুলি!’ সরলভাবে উত্তর করে মজ্জেল। ‘রাতে বাতাসে বাঁশির সুর শুনি কেউ আসার সাহস পায় না। আমাকে তো আর কেউ দেখতি পায় না! ভয় দেখি বিশ্বজয়, বুঝলি দাদা?’ মজ্জেল বাঁকা হাসি হেসে বলে।

‘সেদিন তুমিও যদি কোনো ভয় ওদের দেখাতে পারতে, তাহলে তো আর তোমাকে ওইভাবে নিরুদ্দেশ হতে হতো না।’ বলি আমি।

মজ্জেল কোনো কথা বলে না। আনমনা হয়ে কী যেন ভাবে।

‘বিশ্বাস করো, আমি ওদের দলে কোনো দিনই ছিলাম না। সবাই একজোট ছিল বলে, আমি বিরোধিতা করতে পারিনি। তবে হ্যাঁ, যদি বলো নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ, তবে আমার অপরাধ মেনে নিতে আপত্তি নেই।’ আমি মজ্জেলকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি।

‘সব বুঝি, দাদাভাই। তুমি আমার বাঁশির সুর ভালোবাসতি বুলিই তো আবার আমাদের ফের দেখা হয়িচে। আবার এত দিন পর আমি কারু জন্যি বাজাচ্ছি।’

‘তাহলে মাঝে এত দিন কার জন্যে বাজিয়েছ?’

‘অভ্যেসে। অভ্যেসে বাজাই এখন।’

‘নাকি নিজের জন্যে?’

‘হতিও পারে।’ মজ্জেলের নির্বিকার উত্তর। সমুদ্রের দিকে বোবাদৃষ্টি দিয়ে বাঁশিটা আবার তুলে নেয় সে।

আমাদের সবাইকে রাতে ঘুম পাড়িয়ে তবেই ঘুমাতে যেত। আমার ঘুম আসত একটু দেরিতে। মজ্জেল যখন হেঁটে হেঁটে বাঁশি বাজাতে বাজাতে গাঁয়ের ও প্রান্তে চলে যেত, তখন মনে হতো অন্য কোনো জগৎ থেকে ভেসে আসছে সুরটা। একবার মনে হতো, স্বপ্নের ওপাশ থেকে, আর একবার মনে হতো, মনের কোনো গোপন স্থান থেকে। ফজরের আযানের কিছু আগে বিশ্রামে যেত সে। প্রতিদিনই দেরিতে ওঠার জন্যে মা’র বকা শুনতে হতো আমাকে। মজ্জেলকে একবার বলেওছিলাম সে কথা। ও হাসতে হাসতে বলেছিল, ‘আমি তো অত রাত পর্যন্ত বাজাইনি, দাদাভাই। এশার আযান হলিই আমার ফুঁ ফুরিয়ে যায় যে!’

বাতাস কমে আসার সাথে সাথে সমুদ্রের কণ্ঠস্বরে খানিক পরিবর্তন আসে। আমার এমন শান্ত-নীরব সমুদ্র দেখলেই বেশি ভয় করত। এখন অবশ্য আর কিছুতেই ভয় করে না। এখন এই অবস্থায় একভাবে টানা কিছুক্ষণ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয়, সমুদ্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, যে শব্দটা আসছে, ওটা ওর নাক ডাকার শব্দ। আমি একটু একটু করে সমুদ্রকে বুঝে উঠতে শুরু করেছি।

‘গাঁটা মেলা বদলি গিচে, তাই না দাদাভাই?’ মজ্জেল বাজানো থামিয়ে জিজ্ঞেস করে।

‘হুম। অনেক বদলেছে। বাড়ি বাড়ি লম্বা প্রাচীর উঠেছে, হুটহাট কারো বাড়ি যাবার জো নেই। বাড়ির মেয়েরা আর যখন-তখন বের হয় না। পাড়ার ছেলেরা এখন সীমান্তে ফেনসিডিলের কারবার করে। গাঁয়ে আগে মসজিদ ছিল একটা, তাও যেমন তেমন করে বাঁধানো; এখন অনেকগুলো মসজিদ উঠেছে, অট্টালিকার মতো, গায়ে গায়ে বৈদ্যুতিক ফ্যান লাগানো। মোড়ে মোড়ে সেলুন হয়েছে। আধুনিক সব মেশিনে চুল কাটা হয়।’

‘বাহ!’ এটুকু বলেই মজ্জেল থেমে গেল। কিছু একটা যোগ করতে গিয়ে করল না।

‘এখন বাড়ি বাড়ি টেলিভিশন, কত গান-বাজনা হয়, অথচ বাঁশি বাজানোর অপরাধে তোমাকে গ্রামছাড়া করা হলো। কোথা থেকে এসে সাফি হুজুর কি ফতোয়া দিল, আর অমনি গ্রামবাসী ঝাঁপিয়ে পড়ল। অথচ এই গ্রামবাসীই তুমি একরাত অসুস্থ হলে বাঁশি শুনতে পাবে না বলে বিচলিত হয়ে পড়ত। তোমার ত্বরিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করত।’

‘একবার আমার গা-গরম কিছুতেই বাগে আসছিল না। মিনু কবিরাজ তার চিকিৎসা ফেল মেরি গেল দেকি পাবনার এক বড় কবিরাজকে ধরি এনিছেল।’ আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে যোগ করে মজ্জেল।

‘অথচ তোমাকে গ্রামছাড়া করার মিছিলে নেতৃত্বস্থানে ছিল সেই মিনু কবিরাজ। মনে পড়ে তোমার?’

‘সমুদ্র কত মহান দেখ দাদাভাই। একটা আস্ত জগৎ কেমন মায়ের মতোন মমতা দি পেটের ভেতর বেঁধি রেকিচে।’ প্রসঙ্গ বদলায় মজ্জেল।

আমরা হাঁটতে হাঁটতে আরো একটা গুঁড়ি পেয়ে যাই। দু’জনের অখন্ড সময়, বসে পড়ি আগপিছ করে। মজ্জেলকে বাঁশিটা ধরতে আবারো অনুরোধ করি। সে ফুঁ দেয়। আমি চোখ বন্ধ করে অনুভব করি, বহুদূর থেকে ভেসে আসছে সুরটি। আমি বালিশ থেকে মাথা তুলে চেটেপুটে সমস্ত সুরটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি। এটা ছিল আমার রোজকার কাজ। মজ্জেল বাঁশি বাজাতে বাজাতেই কোনো একগাছের গুঁড়িতে বসে কিংবা কারো বাঁশের মাচানে শুয়ে অথবা কারো বাঁধানো পুকুরে পানির ভেতর চাঁদের প্রস্থান দেখতে দেখতে রাতটা কাটিয়ে দিত। ঘরসংসারহীন মানুষ সে ছিল না। সে তখন আট সন্তানের বাবা- পাঁচ মেয়ে, তিন ছেলে। একটির সঙ্গেও তার চেহারার মিল নেই। মাঝরাতে মজ্জেলের বৌয়ের বিছানা থেকে একেকদিন একেক জনকে উঠে আসতে দেখা যেত বলে রটনা আছে। বছর বিয়াতো মজ্জেলের বৌ। যদিও গাঁয়েই বাড়ি, তবুও বেশ কয়েক দিন পর পর নিজের বাড়ি যেত সে। বাড়ি থেকে বের হতো দুকাঁধে দুই মেয়েকে নিয়ে। সব সময় দুকাঁধে দুজন থাকত, একজোড়া বড় হলে পিঠাপিঠি অন্য জোড়া আসত। মজ্জেল গভীর মমতা দিয়ে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খানিকটা সময় বা গোটা দিন কাটিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ত বাঁশি আর চুলকাটার সরঞ্জাম নিয়ে। সংসারে তার অবদান বলতে ছিল, ছেলেমেয়েদের জন্যে মাঝে-মধ্যে মুঠোভর্তি চার আনা দামের লজেন্স নিয়ে যাওয়া। বৌ মেজাজ খিঁচিয়ে তার অর্ধেক ফেলে দিত রান্নাঘরের ঝাঁপির ওপাশে গা ঘিন ঘিন করা কাদার ভেতর। ছেলেমেয়েরা সেটাই কুড়িয়ে পুকুরের পানিতে ধুয়ে পলিথিন ছাড়িয়ে অন্য ছেলেমেয়েদের লোভ দেখিয়ে দেখিয়ে চুষে বেড়াত। মজ্জেলের সেজো মেয়েটা আট বছর বয়সে বাগানে রক্তাক্ত অবস্থায় মারা যায়। রক্তাক্ত কেন হলো, সেটি নিয়ে গাঁয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। চেয়ারম্যান চোখ রাঙিয়ে সবাইকে চুপ করে দিল। মেয়েটিকে কোলে তুলে মজ্জেলের সেকি কান্না ওই প্রথম এবং ওই শেষ কাঁদতে দেখি তাকে। মজ্জেলের লাশ যেদিন পাওয়া যায়, ঠিক তার দিনসাতেক পরে তার বৌ এক পুত্রসন্তান প্রসব করে। অবিকল মজ্জেলের মতো দেখতে। গাঁয়ের মানুষ ভেঙেছিল শিশুটিকে দেখতে। আমিও গিয়েছিলাম। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। এগার দিনের মাথায় মারা যায় শিশুটি। ভাবলাম কথাগুলো মজ্জেলকে বলি। আবার মনে হলো থাক, এত দিন বাদ সেসব কথা না তোলাই ভালো। আছি যখন, অন্য দিন আরো কথা পাড়া যাবে।

মজ্জেল বাঁশিটা মুখ থেকে নামিয়ে লুঙ্গির ভাঁজে গোঁজে। ‘আমাকে তুমি মাফ করি দাও দাদাভাই।’ মজ্জেল বলে।

‘তুমি তো কোনো অন্যায় করোনি আমার কাছে। ক্ষমা চাচ্ছ যে?’ জিজ্ঞেস করি।

‘জলের স্রোত যকুন তুমাকে টেনি নি যাচ্ছিল, তকুন আমি তুমাকে অনেক বাঁচানুর চেষ্টা করিচি। পারিনি। দেহহীন ইচ্ছাশক্তি বড্ড অকেজো।’

‘তোমাকে আর বলতে হবে না সেসব। এ কয় দিনে আমিও কিছুটা বুঝেছি।’

আমরা আর কেউ কোনো কথা পাড়ি না। সহসা যেন দুজন দুটো প্রাচীন বৃক্ষের ন্যায় অসংখ্য ঘটনার সাক্ষী হয়ে প্রায় কোনো ঘটনাকেই আর ঘটনা মনে না করে নির্বিকার বসে থাকি। মাথার ওপর দিয়ে রোজকার মতো পথ কেটে কেটে নিঃশব্দে বাড়ি ফেরে একথালা চাঁদ। সমুদ্র শেষবারের মতো পাড়ে আছড়ে পড়ে গুটিয়ে যেতে থাকে। ভাটা যে কেবলই ভাটা নয়, বিশাল সমুদ্রের ছোট হয়ে যাওয়ার চেষ্টা, সিসিফাসের সেই ব্যর্থ চেষ্টার নামান্তর তা আর কজনেই বা বোঝে!

 



মোজাফফর হোসেনের একটি সাক্ষাৎকারঃ

সাইফ বরকতুল্লাহ : বইমেলা কেমন দেখছেন?
মোজাফফর হোসেন : 
এবারের বইমেলা অনেক বেশি গোছানো। তবে পরের বার মেলায় বেশ কয়েকটি চায়ের মিনি স্টলের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। মাঝে মধ্যে বসার জন্য ফিক্সড বেঞ্চের ব্যবস্থা থাকা উচিত। আরো উন্নত টয়লেটের ব্যবস্থা এবং তথ্যকেন্দ্র ডিজিটালাইজড করা যেতে পারে, যেখানে ওয়াইড স্ক্রিনে পুরো মেলার স্টলের অবস্থান দেখা যাবে।

সাইফ বরকতুল্লাহ : আপনার এবারে প্রকাশিত বই সম্পর্কে জানতে চাই।
মোজাফফর হোসেন :
 বেহুলা বাংলা প্রকাশনী থেকে গল্পগ্রন্থ ‘অতীত একটা ভিনদেশ’-এর দ্বিতীয় মুদ্রণ এসেছে। দেশ পাবলিকেশনস থেকে বের হয়েছে সম্পাদিত গ্রন্থ ‘বিশ্বসাহিত্যের নির্বাচিত প্রবন্ধ’। সাহিত্যের উপকরণ, প্রকরণ ও কৌশলগত দিক নিয়ে রচিত ৩৯টি প্রবন্ধ আছে; যার ভেতর দিয়ে পাঠক প্রাচ্য-প্রতীচ্য মিলে আধুনিক এবং ধ্রুপদী চিন্তার মিশেলে বিশ্বসাহিত্যের একটা একটা আপাত চেহারা নির্ণয় করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

সাইফ বরকতুল্লাহ : আপনি তো গল্প লিখছেন। আপনার গল্পভাবনা সম্পর্কে জানতে চাই..
মোজাফফর হোসেন : 
আমার সাহিত্যভাবনার কেন্দ্রে আছে গল্প। আমি লেখক হব বলে গল্প লিখছি বিষয়টি তা নয়; গল্প লিখব বলেই আমাকে লেখক হতে হয়েছে। লেখালেখি সংস্কৃতির একেবারে বাইরের মানুষ আমি। এমন একটা গ্রামীণ পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছি যেখানে সাহিত্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না। স্কুলে বাংলার শিক্ষকরা গদ্য-পদ্য পড়াতেন, যেমন করে অঙ্ক করাতেন অঙ্কের মাস্টার। এমন একটা সময় আমি হাতে পাই ‘গল্পগুচ্ছ’। পড়ে অনেক কিছু না বুঝলেও এটুকু বুঝলাম যে, আমাকে গল্পকার হতে হবে। আমরা ছিলাম বারো ভাই-বোন। আমার বড়বোনের বয়স এখন ষাটোর্ধ। প্রায় আমার বয়সি নাতি আছে তার। অর্থাৎ এক বাড়িতেই আমি কয়েক প্রজন্ম দেখেছি। মা দেশভাগের কথা বলে কাঁদতেন; মুক্তিযুদ্ধে পালিয়ে বেড়ানোর কথা বলার সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত তার চোখে-মুখে, শরীরে। দেখেছি মেডিক্যাল থেকে পাস করা ডাক্তার তার বোনকে জ্বিন ছাড়াতে ওঝার কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এরকম শতশত ঘটনা ও বয়ানের ঘাত-প্রতিঘাতে আমার ভেতর জন্ম নিয়েছে গল্প। সেই বিমূর্ত গল্পগুলোকে মূর্ত করে প্রকাশ করতে ভাষার ব্যবহারটা শিখতে হয়েছে।

সাইফ বরকতুল্লাহ : আপনার গল্পের প্রধান উপজীব্য বিষয় কী?
মোজাফফর হোসেন : 
গল্পের বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি দুটো বিষয় মাথায় রাখি। এক. আমার বর্তমানের কাছে দায়বদ্ধতা। যে-কারণে আমার গল্পে বর্তমান সময়ের ত্রিমুখী শক্তি- করপোরেট শক্তি, আমলাতন্ত্রের শক্তি এবং মিডিয়া শক্তির কাছে একজন ব্যক্তির যে অবস্থান, সেটি নানাভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। দুই. ঐতিহ্যের কাছে দায়বদ্ধতা। এই ঐতিহ্য যেমন সাহিত্যিক ঐতিহ্য তেমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও।

সাইফ বরকতুল্লাহ : আপনার গল্পলেখার কৌশলটা কি?
মোজাফফর হোসেন :
 পূর্বপরিকল্পিত ছক এঁটে আমি গল্প লিখতে পারি না। দেখা যায় অধিকাংশ গল্পই লিখতে লিখতে বাকবদল করে ভিন্ন একটা গল্প হয়ে গেছে। আমি গল্পটা জানি বলে লিখি না; অনেক ক্ষেত্রে গল্পটা জানতে চাই বলে লিখতে শুরু করি। পাঠক যেভাবে গল্পটা পড়তে পড়তে জানেন, আমি তেমন লিখতে লিখতে জানি। আমি সবসময় একটি ঘটনা যা বাস্তবে ঘটেছে সেটি না বলে কি কি ঘটতে পারতো সেই সম্ভাবনাগুলোর একটি বলতে চেয়েছি। তাই গল্পগুলো সরাসরি বাস্তবতা-নির্ভর না থেকে সম্ভাবনা-নির্ভর হয়ে উঠেছে।

সাইফ বরকতুল্লাহ : আমরা দেখি যে সময়কাল নিয়ে সাহিত্য রচনা কম হচ্ছে…
মোজাফফর হোসেন :
 আমি মনে করি, যা লেখা হচ্ছে তা কোনো না কোনোভাবে সময়কে স্পর্শ করেই লেখা হচ্ছে। হ্যাঁ, এটা বলা যেতে পারে যে, গত দুই দশকে বৈশ্বিকভাবে সময়ের বাকবদলে বাংলাদেশের জনজীবনে যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে সেটা নিয়ে বড় ক্যানভাসে তেমন কিছু লেখা হয়নি। যা হয়েছে সব কোলাজ আকারে। কিন্তু এটা মানতেই হবে যে, সাহিত্যে সময়ের একটা গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ সেই সময় থেকে খানিকটা সরে গিয়ে নির্মিত হয়। এখন বাংলাদেশে দেশভাগ থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে বড় আকারে কাজ করার সময় এসেছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ নিয়ে বড় করে কাজ আরেকটু পরে হলেও ক্ষতি বিশেষ দেখছি না। একটা কথা আমি মানি, সমসাময়িক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টেলিভিশনের টক শো হতে পারে, কলাম লেখা যেতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে সাহিত্য হতে গেলে ঘটনার উত্তেজনা থেকে বের হতে হবে। এরজন্যে থিতু হওয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া, সংবাদমাধ্যম দিনে দিনে যত অ্যাকটিভ ও দায়িত্বশীল হবে, সাহিত্যকে তত নৈর্ব্যক্তিক হতে হবে। গণমাধ্যমের যুগে কেবল ঘটনার বয়ান করে পাঠকপ্রিয় হওয়া যাবে না। যে কারণে মিডিয়াপূর্ব যুগে জনপ্রিয় লেখক হয়েছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আর মিডিয়া-যুগে এসে জনপ্রিয় হয়েছেন ঠিক তার বিপরীত মেজাজের লেখক হুমায়ূন আহমেদ।

সাইফ বরকতুল্লাহ : সমকালীন গল্প নিয়ে আপনার ভাবনা?
মোজাফফর হোসেন :
 মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে বাংলাদেশের সাহিত্যের একটা বিরাট অংশ লেখা হয়েছে সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে শিল্পের প্রতি দায়। সাহিত্যে পুরানো গদ্যরীতি বাতিল করে নতুন করে ভাষা ও বর্ণনাশৈলী নির্মাণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের সাহিত্যে ছোটগল্পের এই যাত্রাপথে ষাটের পর সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে শূন্য দশক থেকে। বাংলাদেশের ছোটগল্প এখন গণসাহিত্যবোধ থেকে সরে এসেছে। দেশের চলমান ঘটনার ওপর মিডিয়ার সার্বক্ষণিক ফলোআপের ফলে জাতীয় ঘটনা নিয়ে লিখিত গল্প-উপন্যাসে পাঠকের আর আগ্রহ থাকছে না। সাহিত্যের সংবাদ পরিবেশনের উপযোগিতা আর নেই। বাংলাদেশ আর আগের মতো রাজনৈতিকভাবে অস্থিরও নয়। একটা সামগ্রিক উন্নয়নে ভর করে মধ্য আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ভাষার সরলীকরণের সঙ্গে যোগ হয়েছে আধুনিক চেতনা ও বিশ্ববোধ। বিশ্বসাহিত্যের আকরগ্রন্থগুলি অনুবাদ কিংবা ইংরেজি মাধ্যমে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মিডিয়ার আগ্রাসন, পুঁজিবাদের বিকাশ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্রাম ভেঙে শহর হওয়ার প্রবণতা, যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়া, প্রগতিবোধের সঙ্গে সঙ্গে মৌলবাদী চেতনার বিস্তার ঘটা- এসব কারণে ব্যক্তিক সংকট বেড়ে গেছে। এসব কারণে এই সময়ের ছোটগল্প নতুন চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। ভাষার কাব্যময়তা কমে মেদহীন ঝরঝরে গদ্য এই সময়ের ছোটগল্পের প্রাণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ছোটগল্পের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলছেন :‘ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট দুঃখ ছোট কথা…।’ বর্তমান ছোটগল্প সেখান থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। এখন আর ছোটগল্পকে কোনো সংজ্ঞা দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না। তবে এও উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাংলা ছোটগল্পের সমৃদ্ধ ইতিহাসের সঙ্গে যারা পরিচিত, তারা এই সময়ের গল্প পড়ে কিছুটা হতাশও হতে পারেন। কারণ মোটের ওপর এই প্রজন্মের লেখকদের ভাষাগত যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। সীমিত শব্দভাণ্ডার ও পাঠযোগে অনেকে গল্প লেখার চেষ্টা করছেন। কারো কারো গল্পে গল্পের চেয়ে ভণিতা বেশি। নিরীক্ষা করতে গিয়ে কেউ কেউ গল্পবলার উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে ফেলছেন বলে মনে হতে পারে।

সাইফ বরকতুল্লাহ : লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোজাফফর হোসেন :
 লিখে যেতে চাই যতদিন আমার কিছু বলার থাকবে। যেদিন মনে হবে পুরানো কথাগুলোই আবার বলতে হচ্ছে কিংবা অন্যেরা যা বলছেন, আমাকেও তাই বলতে হচ্ছে, সেদিন লেখালেখি বন্ধ করে দেব। তবে পাঠ চলবে আমৃত্যু। ভাষাটাকেই তো ভালোবাসি- সেটা আমি লিখি বা অন্য কেউ- সেটা সাহিত্যের হোক বা চলচ্চিত্র, সংগীত কিংবা চিত্রকলার।

কৃতজ্ঞতাঃ রাইজিংবিডি

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত