মালিঙ্গাকে মনে থাকবে

ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো চুল, ভিন্ন ধাঁচের বোলিং আক্রমণে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্রিকেট বিশ্ব মাতিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। যার কারণে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তার নামই হয়ে যায় ‘স্লিঙ্গা মালিঙ্গা।’ কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ত্রাস সেই মালিঙ্গাকে ‘৯৯’ জার্সিতে দেখা যাবে না আর। শুক্রবার (২৬ জুলাই) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মালিঙ্গা।

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয় মালিঙ্গার। একই বছর অভিষেক হয় ওয়ানডেতে। সাদা পোশাককে ৯ বছর আগে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। এবার অবসর নিলেন রঙিন পোশাক থেকে। বিদায় বেলায় বুড়ো হাতের ভেলকিতে ব্যাট হাতে অপরাজিত ৬ রান ও বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মালিঙ্গা লঙ্কানদের এনে দিয়েছেন অনেক ঐতিহাসিক জয়। নিজেও গড়েছেন একের পর এক মাইলফলক। পরিসংখ্যানে দেখে নেওয়া যাক ওয়ানডেতে ৩৫ বছর বয়সী পেসারের অনবদ্য সব রেকর্ড—

৩৩৮— ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের মধ্যে নবম স্থানে আছেন মালিঙ্গা। নিয়েছেন ৩৩৮ উইকেট। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে ৩ উইকেটে নিয়ে ভারতীয় স্পিনার অনীল কুম্বলেকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসেন তিনি। শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে শীর্ষ উইকেট নেওয়ার তালিকায় মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫৩৪) এবং চামিন্দা ভাসের (৪০০) পরই আছেন মালিঙ্গা।

৫৬— বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় মালিঙ্গা আছেন তৃতীয় স্থানে। নিয়েছেন ৫৬ উইকেট। তার উপরের স্থানে আছেন কেবল গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭১) ও মুত্তিয়া মুরালিধরন (৬৮)। মালিঙ্গা বিশ্বকাপ খেলেছেন চারটি (২০০৭, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯)। একমাত্র বোলার হিসেবে প্রতি আসরে ১২ উইকেটের বেশি উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্য কোনো বোলার তিন আসরের প্রতিটিতে ১০ উইকেটের ওপরে পাননি।

৩— ওয়ানডে ইতিহাসে একমাত্র বোলার হিসেবে তিনবার হ্যাটট্রিক করেছন মালিঙ্গা। ২০০৭ বিশ্বকাপে তিনি প্রথম হ্যাটট্রিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেবারই ওয়ানডেতে একমাত্র বোলার হিসেবে মালিঙ্গা টানা চার বলে চার উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। তার পরের হ্যাটট্রিকটি এসেছে কেনিয়ার বিপক্ষে, ২০১১ বিশ্বকাপে। একই বছর তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় হ্যাটট্রিক তুলে নেন।

১৬৩— ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ওয়ানডে ১৬৩ উইকেট নেন মালিঙ্গা। চার বছরের মধ্যে এত বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নেই কোনো বোলারের ঝুলিতে। ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ৪৫ ম্যাচে ৬৭ উইকেট নেন তিনি। ২০০৮-১০ অধ্যায়ে ৩০ ম্যাচে নেন ৪১ উইকেট। ২০১১-১৪ সালে ১০২ ম্যাচে নেন ১৬৩ উইকেট। যার মধ্যে ৬ বার পাঁচ উইকেটি নিয়েছেন। ২০১৫-১৯ ৪৮ ম্যাচে নেন ৬৪ উইকেট (অবসর ম্যাচের আগ পর্যন্ত)।

২৪.৭— ওয়ানডেতে মালিঙ্গার স্ট্রাইক রেট ২৪.৭। ১৫০ উইকেট শিকারিদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। তার ২১২ উইকেট এসেছে জয়ী ম্যাচে। পরাজিত ম্যাচে নিয়েছেন ১১২ উইকেট (স্ট্রাইক রেট ৪৭.০)।

২৯— এশিয়া কাপে মালিঙ্গা ১৪ ম্যাচে ঝুলিতে পুরেছেন ২৯ উইকেট। যা এশিয়া কাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এখানেও তার ওপরে আছেন কেবল স্বদেশী কিংবদন্তি স্পিনার মুরালিধরন (২৪ ম্যাচে ৩০ উইকেট)। তার ৫৬/৫ বোলিং ফিগারের ওপর ভর করে ২০১৪ সালে এশিয়া কাপ জেতে শ্রীলঙ্কা।

৮— ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আটবার ৫ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। এই তালিকায় তিনি আছেন পঞ্চম স্থানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনবার ৫ উইকেট নেওয়ার স্বাদ নেন তিনি।

৬— ওয়ানডেতে মালিঙ্গা সর্বোচ্চ ৬ বার শিকার করেছেন শেন ওয়াটসনকে। ৫ বার করে তিনি পরাস্ত করেছেন শহীদ আফ্রিদি, মার্টিন গাপটিল ও মোহাম্মদ হাফিজকে। তার মধ্যে দু’বার করে তিনি ডাক উপহার দিয়েছেন হাফিজ ও ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান বীরেন্দর শেবাগকে।

৫৬ বল হাতে প্রতিপক্ষের স্টাম্প উপড়ে ফেলায় জুড়ি নেই মালিঙ্গার। কিন্তু ব্যাট হাতে তত বেশি দক্ষ নন তিনি। তবুও দলের প্রয়োজনে তার ব্যাট হেসেছিল একবার। ২০১০ সালে মেলবোর্নে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ও একমাত্র ফিফটি। সেবার নবম উইকেটে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। যা ওয়ানডে নবম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৪০ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৭ রানে ৮ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। সেখান থেকে মালিঙ্গা-ম্যাথিউস জুটি ১ উইকেটের জয় এনে দেয় লঙ্গানদের।

সূত্র: বিনিউজটুয়েন্টিফোর

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত