চাঁদের আলো

সমস্যাটা চলছিল ওদের প্রেমের শুরু থেকেই। ব্যাপারটা নিয়ে আস্তিক খুব বিব্রত ছিল। দোয়েল অবিশ্যি নানা কথা বলে বোঝাতো । আস্তিক বোঝার চেষ্টা করত ও মেনে নিত।
সমস্যাটা হল, যখনি দোয়েল আর আস্তিক ফোনে কথা বলত। তখনই ওর মা নানা ছুঁতোয় দোয়েলকে ডাকত। বারবার মাঝপথে ওদের কথা কেটে যেত। প্রথম প্রথম মেনে নিলেও, পরে আস্তিক খুব রেগে যেত আর ফোন করত না।
বেশিদিন প্রেম করতে হয়নি। আস্তিক ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি পেয়ে গেল। এমন সোনার টুকরো ছেলেকে দোয়েলের বাবা হাতছাড়া করতে চাননা বলেই নিজে উদ্যোগ নিয়ে ওদের চার হাত এক করে দিলেন। দিন পনেরো হয়েছে বিয়ে হয়েছে ওদের। অষ্টমঙ্গলা থেকে ফিরে হানিমুনে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারেনি আস্তিকের অফিসের কারণেই। সে খুব ব্যস্ত মানুষ। 
দোয়েলের দিন ভালোই কাটছিল। সারাদিন মা, দাদা, বোনদের সঙ্গে কথা হয়। নতুন বিয়ে,  শাশুড়ি এখনি দোয়েলকে রান্নাঘরে যেতে দেন না । 
ইদানীং একটু আগেই আস্তিক বাড়ি ফিরছে। খেয়ে শুয়ে পড়ছে সাড়ে এগারোটার ভিতর। সে দোয়েলকে খুব করে চায়। অনেক রকম ছোট- বড়ো আদরের পরিকল্পনা তার। কিন্তু কোনোটাই বাস্তবায়িত হয় না দোয়েলের জন্য। কারণ রোজরাতেই ওর মা ফোন করে গল্প করেন মেয়ের সঙ্গে। ফোন শেষে দোয়েল যখন বিছানায় আসে আস্তিক হয় ঘুমোয় নতুবা এত রেগে থাকে যে আদর- টাদর কিছুই আর হয় না ।
সেদিন  আস্তিক বললে, কাল থেকে রাতে ফোন অফ রাখবে।
–ছিঃ ছিঃ কী বলছো ? মা কী ভাববে !
— কিছু ভাবার নেই।  তিনি ভাববেন, বিয়ের পর স্বামী- স্ত্রী যা করে , তাই করছে।
— না না, আমি এমনটা করতে পারব না। আচ্ছা, মাকে বলে দেব, মা যেন রাতে ফোন না করে ।
— সেই ভালো বলে দিও। 
— আরে, আমি রোজ বলি। মা শোনে না। আসলে মা আমাকে এত ভালোবাসে, সারাদিন কোথায় কী হল, আমাকে না বলে শান্তি পায় না। তাছাড়া সাংসারিক আলোচনা।
–আচ্ছা বুঝলাম বলে, দোয়েলকে কাছে টেনে নেয় আস্তিক। পাশে বসিয়ে পরম যত্নে ঠোঁটের পরে ঠোঁট রাখে। ধীরে ধীরে ঠোঁট নেমে আসে চিবুক  ছুঁয়ে গলায়। ডান হাতে শাড়িটা খসিয়ে স্তনের ওপর হাত রাখে আস্তিক। প্রবল এক  আবেগে দোয়েল কাঁপতে থাকে। তার চোখ বুজে আসে। 
ঠিক তখনই বেজে ওঠে দোয়েলের ফোন। স্ক্রীনে ভেসে ওঠে — মা।
দোয়েল চোখ খুলে হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিতে যায়।আস্তিক বিরক্তি প্রকাশ করে বলে, উফ্! এই মহিলা শান্তিতে একটু থাকতেও দেবে না। উঠে বাইরে চলে যায় আস্তিক সিগারেট ধরিয়ে।
কিছুক্ষণ পর দোয়েল ফিরে এসে দাঁড়ায় ঝুল বারান্দায়, যেখানে আস্তিক দাঁড়িয়ে। বলে, সরি।
আস্তিক ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে, সরি মানে, কীসের সরি ? সরি বললে সব মিটে যায়? আমার ইচ্ছে, আমার আবেগের কোনো দাম নেই? কী চায় তোমার মা?
খুব ধীর কণ্ঠে দোয়েল বলে, মা বলছিল, আমি যেন কয়েকদিন মায়ের কাছে গিয়ে থাকি। বলছিল, কাল যেন চলে যাই।
—  বাহ্ বাহ্! কী আবদার। আমার কী হবে শুনি! নতুন বিয়ে, তোমাকে ভালো করে জানাই হল না।
–জানা নয় , বলো ভালো করে সেক্স করা হল না।
–হ্যাঁ তাই।
সেক্স করার সময় কী চলে যাচ্ছে? আমি কাল মায়ের কাছে যেতে চাই।
— হ্যাঁ হ্যাঁ যাও। চিরদিনের মতো যাও। আর ফিরতে হবে না। ডিভোর্স পেপার সময় হলে পাঠিয়ে দেব।বলেই ঘরে এসে শুয়ে পড়ে আস্তিক।
দাঁড়িয়ে থাকে দোয়েল। ফাল্গুনের আকাশ। চাঁদের আলোতে ভরে আছে চরাচর। পাখি ডাকছে রাতের স্তব্ধতা ভেদ করে, চোখ গেল – চোখ গেল-!
দোয়েলের এখন খুব আদর পেতে ইচ্ছে করছে। আস্তিক খুব জেদি। ইচ্ছে করলেও আস্তিক ওকে আজ আর ছোঁবে না। সে তাকিয়ে আছে আস্তিকের দিকে। নিজেকে অপরাধী লাগছে। সে দেখছে চাঁদের আলো এসে চুঁইয়ে পড়েছে তাদের দু’জনের শরীরে ।সে চাঁদের আলো শরীরে মেখে নেয়। 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত