তন্দুরী বা মটকা চা

Reading Time: 3 minutesঅজিত দাশ  

তন্দুরী চিকেনের কথা শুনেনি এমন লোক পাওয়া মুশকিল। তাই বলে তন্দুরী চা! হতেই পারে। কারণ পৃথিবীতে চা তৈরি করার হাজারো পদ্ধতি আছে। আমাদের দেশেই বা কম কী আছে? এই ধরুন, দুধ চা, র চা, আদা চা, তেঁতুল চা কিংবা মরিচ চা। আবার ধরুন দুধ চায়ের সাথে ওভালটিন বা কাজু বাদামের গুঁড়ো মিশিয়ে সুস্বাদু চাও পাওয়া যায় আমাদের আশেপাশেই। কিন্তু তন্দুরী চা?তন্দুরী শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিরাট একটা চুল্লি যেটাতে কাঠ কয়লার আগুন জ্বলছে সবসময়। সেই চুল্লির গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে আটা বা ময়দার রুটি। এই তো! কিন্তু তাতে চা?আরে আছে মশাই। আমাদের ঢাকার মীরপুরেই আছে। মিরপুর পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া গিয়ে মাত্র ১৫ টাকায় আজই চুমুক দিতে পারবেন সেই চায়ে। আর সঙ্গে থাকতে পারে চিকেন কিংবা ভেজিটেবল মমো। কী, নেবেন নাকি স্বাদ?

তন্দুরে রাখা মাটির ভাড়

সম্প্রতি ভারতের পুনেতে নতুন এই চায়ের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করেছেন দুই ভাই- প্রমোদ বাংকার এবং আমল রাজদেও। ফেসবুক-টুইটারে এই চায়ের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ইতিমধ্যে ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে রাজস্থানসহ অন্যান প্রদেশের লোকজন আগ্রহী হয়ে উঠেছে এই চায়ের প্রতি। গ্রামের বাড়িতে প্রমোদ এবং অমলের ঠাকুমা মাটির উনুনে তৈরি করতেন এই তন্দুরী বা মটকা চা। আগে থেকে রান্নাঘরে মাটির উনুন বা তন্দুরে গরম কয়লার মধ্যে রাখা হতো ছোট ছোট মাটির ভাড়। আরেকটি পাত্রে চাপাতা-দুধ-চিনি এবং যাবতীয় মশলা মিশিয়ে আধা তৈরি চা রাখতেন। তন্দুর থেকে বড় একটি পাত্রের মাঝে মাটির গরম ভাড় নিয়ে সেটিতে আধাতৈরি চা ঢালতেন আর ঢালার সময় সেই চায়ের বুদবুদ উঠে মাটির ভাড় গড়িয়ে পড়লেই তৈরি হয় চা। মাটির গরম ভাড়ের এই চায়ে থাকে একরকম ধোঁয়াটে স্বাদ যা বরাবরই চা-প্রেমীদের নিয়ে যাবে মটকা চায়ের কাছে।

তৈরি হচ্ছে তন্দুরী বা মটকা চা

আর দেরি নয়। প্রমোদ বাংকার এবং আমল রাজদেও’র হাত ধরে শুরু হওয়া এই নতুন চায়ের স্বাদ পেতে চলে যান পশ্চিম শ্যাওড়াপারার মটকা চা এবং মমোর দোকানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নতুন এই চা তৈরির ভিডিও দেখে আগ্রহী হয় তিন তরুণ পূর্নেন্দু বিশ্বাস, রেজাউল কবির এবং অনুশ্রী হালদার। নতুন কিছু শুরুর আগ্রহ এবং উদ্যম নিয়ে পুনেতে গিয়ে দেখে আসেন এই চায়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি এবং সেই সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে অল্পকদিন আগেই পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ায় যাত্রা শুরু করেন এই চায়ের। শ্যাওড়াপাড়া মেইনরোড সংলগ্ন বাটা শোরুমের পাশের গলি দিয়ে দশকদম হাঁটলেই হাতের বায়ে দেখা যাবে তাদের দোকান। সকাল দশটা থেকে শুরু করে রাত দশটা পর্যন্ত ধীরে ধীরে লোকে লোকারণ্য হয়ে দোকানের চারপাশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছে একচুমুক মটকা চা পানের জন্য।

মাটির পাত্রে পরিবেশিত চায়ে রয়েছে একটি ভিন্ন মশলার ফ্লেভার যে মশলা তারা নিয়ে আসেন কেরালার থেক্কেডি থেকে। গরম মটকায় ঢালার আগে মশলা মিশানো চা তৈরি করেন অনুশ্রী হালদার, যিনি ইডেন কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। একটি আইটি প্রতিষ্ঠান চালানোর পাশাপাশি রেজাউল কবির এবং পূর্নেন্দু বিশ্বাস বিকেলের পর থেকেই তাদের দোকানে উপস্থিত থাকেন।

         

.

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>