মনোনীতা চক্রবর্তীর যুগল কবিতা

জল ভেঙে যাওয়া নদী

এইসব দিনের শরীরে আসলে রাত্রি জেগে আছে।

এই যে যত স্নিগ্ধ যা-কিছু
তার ভেতর বেড়ে ওঠা নোংরা নখ আর কালসিটে কুচকি,হ্যাংলা জিভ এবং…

বিছানা বাসি হলে প্রহর ফেরার হয়।
চিত্রনাট্য এডিট হয়। স্টোরি-লাইন ঢোক গেলে।
পড়তে গিয়ে দেরিতে ফিরে আসা মেয়ের জন্য
আমরা আগে থেকেই বুক করে রেখেছি
সিসিইউ-র নিভৃতি আর বেহালার ব্যর্থ-ছর।

কেউ-কেউ ফেরে। ধুমধাম জন্মদিন পালন হয়।
আর বাকিরা জেগে থাকে ব্রেকিং-নিউজ, স্যোশাল-মিডিয়ার শোরগোল
আর বিবশ নদীর বিষণ্ণ পৃষ্ঠায়…

এইসব উত্তাপ-উত্তালে আসলে তীব্র শীত…

 

 

হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে…’

 

খুঁজে পেয়েছি, একটা বিশুদ্ধ মুখোশ
একটা অনন্য তিল,কিছু মৃতকোষ।
তাতে এসে যায় না কিছুই
দিঘির ভিতর, তার ভিতর আসলে
নপুংসক পোকার ভিড়,পদ্মভ্রম– বিলাপ
তোমার চোখ অন্যকে দিয়ে তাক করিয়েছিল।
টাকিলার পর লেবু-লবনের মতো জিভে রেখেছি
বেপরোয়া স্রিজোফেনিক চুল সরাতে, সাহায্য চেয়েছি মাত্র একটাই ফুঁয়ের!
শান্তজলের ওপর তেলের মতো ভাসছে অসহায়তাগুলো

জিততে সবাই চায়।তুমি। আমি। আমরা। এতোল-বেতোল পারভারসান।
সব। সব। জোর করে হয় হয়ত অনেক জেতাই।কিন্তু তা আদৌ জেতা তো নয়ই,
হারার থেকেও ভয়ঙ্কর কিছু!

ফেমিনা স্নো। মনে পড়ে গোল কোটো, পিঙ্ক কাভার!
সেই গন্ধ স্কেচ করে করে যারা প্রেম লেখে
যারা প্রেমিকার নাম লিখতে অন্যের হাতে হাত রেখে হাত ঘোরায়
তাদের জন্য দু’চার পিস জেল্ফিস থাক…

ব্যক্তিগত ধুমধাড়াক্কা যা থাকে থাকুক আমার
লাম্পট্যের কোনো জেন্ডার হয় না।
চিহ্নগুলো শুধুই চিহ্ন হয়,যদি না বাতাস থাকে তাতে!

আমার ভাত পুড়েছে,গান পুড়েছে
বুকও শ্লোক হতে পারেনি,নাভির কাছেকাছে এসেও!
আমার ঘর পুড়েছে, খাট পুড়েছে
প্রেমও স্টাইল স্টেটমেন্ট রাখতে পারেনি!
একজীবন, জন্মজন্মান্তর সেঁটে কাব্য করতে করতে হাঁপিয়ে গেছি!

এক অথবা একহাজার বাদামি স্ট্র‍্যাপে সেসব লেখাও;
কেমন ব্রান্ডেড স্যান্ডি-টাচড কম্প্যাক্ট, কেবল মিশে যায়।
একটার পর একটা প্রেম।
বুকশেলফে অক্ষরের আদরে।
আমি সেসব খেয়ালে
নেড়েচেড়ে দেখবো,
ধুলোঝেড়ে যত্নে রেখে
দেবো খুব গোপনে!
ভাসের সবক’টা ফুলের পাপড়ি আমার প্রেম ও নদীর মতো ফর্সা হয়ে উঠবে!
ভুল করে ভুল না-করার মতো
সুরেলা হয়ে উঠবে…

সম্পর্ক হাঁপালে, আইন বাঁচার পথে ভেলভেট বিছোয়
সেক্ষেত্রে বিবাহিত হওয়া অথবা
সে-‘তিনদিন’-এর পুজো না-দেওয়ার মতো জরুরি।
ট্যাবু…. মহোদয়!
আমার প্রেম ১০৮টা নরম বিছানায় আসলে একটি মুখই খোঁজে
সে-মুখ তোমার!
যে-মুখ ছলের বাধ্যতার ট্যাটু আমার পিঠে আঁকে না
যে-মুখ শাশ্বত ছাইয়ের ভেতর বাড়িয়ে দেয় ভণিতাহীন ডানা
যে-মুখ আমার সারা পৃথিবীর সমস্ত প্রেমের মধ্যে আমাকে বাঁচিয়ে রাখে,রাখতে চায়
এক-একটি নিবিড় জন্মের মতো….
আসলে, প্রখর পুরুষ একটা স্বপ্নের মতো।শুদ্ধ সঙ্গীতের মতো।
সেখানে বাধ্যতা,বোকামি,
ফাঁস কোনোটাই নেই।
অহেতুক ‘বোকা’সাজার
জারিজুরি নেই!
আসলে বোকা সাজতে-সাজতে আমরা কখন যে সত্যিকারেই
বোকা হয়ে যাই, নিজেরাও জানি না!

আবারও খুঁজে পেয়েছি, নিয়মিত মুখোশ।বিশুদ্ধ অনিয়মিত বিছানা
আর বিবশ চাঁদের গন্ধ

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত