মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা

 

চৈত্রের মাঝামাঝি সময় থেকেই আমার আর ভাইয়ের দিন গোনা শুরু হত। আমাদের হালখাতা বলতে দত্ত জুয়েলার্স, ভবানী বস্ত্রালয়। বাড়ীর সামনে চন্দদের মুদিখানা। প্রতিবার সেই এক জিনিষ, চারটা প্যাকেট ভিতরে ঠান্ডা বরফ সিঙ্গারা আর দুটো মিষ্টি। আর বাংলা হালবছরের ক্যালেন্ডারে কোনবার দুর্গা নয়ত শিব হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন। তবু হালখাতার আবেদন অমলিন। বছর শেষে দোকানীরা সারা বছরের বাকীর খাতা সমাপ্ত করার জন্য পহেলা বৈশাখের দিনে নতুন সাজে বসে দোকানে। গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুরু করেন নতুন বছরের ব্যবসার সূচনা। এ উৎসব গুলো সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে প্রতিটি বাঙালির ঘরে। এখনো গ্রাম গঞ্জে নববর্ষে হালখাতার হিড়িক পড়ে বাজার, বন্দর ও গঞ্জে।

মুঘল সম্রাটেরা তাদের কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করতো হিজরী সন অনুসারে। হিজরী সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল, ঋতুর সাথে নয়। যে কারণে খাজনা প্রদান কৃষকদের জন্য পরিণত হতো শোষণে। পরিবর্তনটা আনলেন সম্রাট আকবর। কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা, মাশুল, শুল্ক আদায় করতেন চৈত্র মাসের শেষ দিনে। আর পরের দিনটি থাকতো পহেলা বৈশাখ। এই দিনটিতে ভূমি মালিকেরা তাদের অঞ্চলের মানুষদেরকে আপ্যায়ন করতেন বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্বারা, এই উৎসবের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবসায়িক লেনদেনের পুনঃসূচনা করতেন। যা এখনো হালখাতা হয়ে আমাদের সামাজিক উৎসবে ঠিকে আছে।

বাংলা সালের প্রচলনের ইতিহাস:

প্রাচীন মত অনুযায়ী— প্রাচীন বাংলায় (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর শুরু দিকে শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার রাজচক্রবর্তী রাজা। আধুনিক ভারতের বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার অধিকাংশ এলাকাই তখন তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুমান করা হয় যে, জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সোমবার ১২ এপ্রিল ৫৯৪ এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সোমবার ১৪ এপ্রিল ৫৯৪ প্রথম বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল।

আধুনিক মত অনুযায়ী— ভারতে ইসলামি শাসনামলে হিজরি পঞ্জিকা অনুসারেই সকল রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম পরিচালিত হতো। ভারতে সুলতানদের শাসনামলের পর এই ধারাবাহিকতা মোগল শাসনামলের প্রথমদিক পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। সম্রাট জালালউদ্দিন মুহম্মদ আকবরের সভাসদ এবং ঐতিহাসিক আবুল ফজলের ‘আকবরনামা’তেও তার ঐতিহাসিক প্রমান পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে তখন ভিন্ন ভিন্ন সালের প্রচলনও পাওয়া যায়। তখন ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো সালকেই সার্বিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিভিন্ন প্রচলিত সালের এই সব ভিন্নতা প্রজাদের জন্য কর প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ বিব্রতকর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেননা মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্রমাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্রবছর সৌরবছরের চেয়ে অন্তত ১১ থেকে ১২ দিন কম হয়। কারণ সৌরবছর ৩৬৫ দিন আর চান্দ্রবছর ৩৫৪ দিন। যে কারণে চান্দ্রবছরের ঋতুগুলি ঠিক থাকে না।

সাধারণত কৃষি চাষাবাদ ও এ ধরনের অনেক কাজই ছিল ঋতুনির্ভর। ফসল ঘরে উঠলেই কেবল প্রজারা তখন কর দিতে সক্ষম হতেন। যে কারণে শাহি লেনদেন এবং প্রজা সাধারণের সুবিধার্থে মোগল সম্রাট আকবর একটি সৌরসাল প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই তিনি দিন, তারিখ গণনার সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য একটি বর্ষপঞ্জি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ইরান থেকে আগত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতহেউল্লাহ শিরাজীকে সম্রাট আকবর বর্ষপঞ্জি নির্মাণের এক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অর্পন করেন।

ইরানী জ্যোতির্বিদ ফতহেউল্লাহ সিরাজী ১৫৮৪ সালের ১০ মার্চ বর্ষপঞ্জি তৈরির কাজ শেষ করতে সক্ষম হন। ধারণা করা হয়, ১৫৮৪ সালের ১০ মার্চ বা পরদিন ১১ মার্চ থেকে সম্রাট আকবর প্রবর্তিত বাংলা সন গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জির এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর ধরা হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (১৫৫৬) থেকেই।

প্রথমদিকে সম্রাট আকবর প্রবর্তিত এই সালের নাম ছিল ‘তারিখ-ই-এলাহি’। মোগল সরকার প্রবর্তিত বর্ষপঞ্জির মাসের নামগুলো ছিল ফার্সি ভাষায়। সেগুলো হল- কারোয়ার দিন, উর্দি বাহিশ, খোরদাদ, তীর, মুরদাদ, শাহরিবার, মেহের, আযান, আজার, দে, বাহমান ও ইস্কান্দার মিজ। পরবর্তী সময়ে সম্রাট আকবর প্রবর্তিত এই ‘তারিখ-ই-এলাহি’ বর্ষপঞ্জি ‘ফসলি সাল’, ‘বঙ্গাব্দ’ বা ‘বাংলা বর্ষ’ নামে পরিচিত পায়। ভারতীয় উপমহাদেশে বঙ্গাব্দ বা ফসলি সাল প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত স্থানীয় চান্দ্রমাসগুলো সৌরমাসে পরিণত করা হয়। ফলে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ প্রভৃতি নামও বঙ্গাব্দের বিভিন্ন মাসের নামরূপে গৃহীত হয়। তবে সেটা স্থানীয়দের সুবিধার জন্য। তবে খাতাপত্রে স্থান পেতো ‘তারিখ-ই-এলাহি’ সালের ফার্সি ভাষার মাসগুলো।

মোগল সম্রাট আকবরের আমলে প্রতি মাসের ৩০/৩১ দিনের আলাদা আলাদা নাম ছিল। এতগুলো দিনের নাম সাধারণ মানুষের পক্ষে মনে রাখা ছিল খুবই কষ্টসাধ্য। পরবর্তী সময়ে সম্রাট আকবরের দৌহিত্র সম্রাট শাহজাহান এক পর্তুগিজ জ্যোতির্বিদের সহায়তায় পশ্চিমের পঞ্জিকা অনুসরণে মাসের ৩০/৩১ নাম বিলুপ্ত করে সেখানে ৭ দিনে এক সপ্তাহ এবং ৭ দিনের নাম রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারের প্রচলন করেন।

মঙ্গল শোভাযাত্রা

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস:

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর ভারতীয় উপমহাদেশে পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। ইতিহাসে ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ একটি কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওযা যায়। পরবর্তীকালে ১৯৬৭ সনের পূর্বে বাংলাদেশে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন হল বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ইংরেজি ১৯৬৪ সাল, বাংলা ১৩৭১ সালের ১লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট প্রথম বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে। কালক্রমে এই নববর্ষ পালন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। তাছাড়া স্বৈরাচার এরশাদ সরকার হটাও আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। সে বছর পহেলা বৈশাখের সেই আনন্দ শোভাযাত্রা নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পরের বছর ১৯৯০ সালেও চারুকলার সামনে থেকে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। সেটা তখন বের করত চারুকলার চারুশিল্পী সংসদ। শুরুর দিকে চারুকলার এই শোভাযাত্রার নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সাল থেকে এটি নামবদল করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তারপর থেকে পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষের প্রধান আকর্ষনীয় অনুষ্ঠানে পরিনত হয়। এই শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বানানো হয় বিভিন্ন রঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি।

ছায়ানটের বর্ষবরণ

পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষারম্ভ পয়লা বৈশাখ। সারা চৈত্র মাস জুড়েই চলতে থাকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুবসংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়কপূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা। এই মেলায় অংশগ্রহণকারীগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে মানুষের মনোরঞ্জন করে থাকে। এছাড়া বহু পরিবারে বর্ষশেষের দিন টক এবং তিতা ব্যঞ্জন ভক্ষণ করে সম্পর্কের সকল তিক্ততা ও অম্লতা বর্জন করার প্রতীকী প্রথা একবিংশ শতাব্দীতেও চালু আছে। পরের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ প্রতিটি পরিবারে স্নান সেরে বয়ঃজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করার রীতি বহুল প্রচলিত। জাতীয়ভাবে বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে এক সাথে ৩ – ৭ দিন ধরে উৎসব উৎযাপন করে। ভারতের আসামে নববর্ষের উৎসব চলে ৮দিন। বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী লোকজ ধারায় বর্ষ বরণের মধ্যদিয়ে ফুটে উঠে বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক রুচি বোধ। তেমন কয়টি বর্ষবরণ-

১. চাকমাদের বিজু: চাকমা বা চাংমা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বাংলাদেশের একটি প্রধান উপজাতি। চাকমাদের বর্ষবরণের উৎসব হলো বিজু। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিনকে চাকমারা বলে ফুল বিজু, দ্বিতীয় দিনকে মূল বিজু ও তৃতীয় দিনকে গোজ্যাপোজ্যা বলা হয়। বাংলা বর্ষের শেষ দিনটি হচ্ছে মূল বিজু, তার আগের দিনটি ফুল বিজু এবং নববর্ষের দিনটিকে নতুন বছর বা গোজ্যাপোজ্যা বলা হয়। ফুল বিজুর দিন তরুণ-তরুণী এবং শিশুরা নদীতে গিয়ে কলাপাতায় করে ফুল ভাসিয়ে দেয়। অনেকে আবার ফুল দিয়ে ঘরদোর সাজায়। উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এদিনটিই মূলত চাকমাদের আসল বিজু দিন। নতুন পোশাকে তরুণীরা কলসি দিয়ে নদী থেকে জল এনে গুরুজনকে স্নান করিয়ে তাদের আশীর্বাদ গ্রহণ করে। অতিথি আপ্যায়নের জন্য কলা, পাহাড়ে জন্মানো এক প্রকার ধানের চাল দিয়ে বিনি পিঠা, নানা ধরনের মিষ্টি এবং পাজন [পাচন] থাকে। এদিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ, পরিচিত-অপরিচিত সবার জন্য ঘরের দরজা উন্মুক্ত থাকে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে চাকমারা আয়োজন করে বলীখেলা ও গিলাখেলার।

২. ত্রিপুরাদের বৈসু: ত্রিপুরাদের বর্ষবরণের উৎসব হলো বৈসু। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিনকে ত্রিপুরারা বলে হারি বৈসু, দ্বিতীয় দিনকে বিসুমা ও শেষ দিনকে বিসিকাতাল। চৈত্র মাসের শেষ দু’দিনসহ নববর্ষের দিনটি পালন করে হারি বৈসুক, বিসিমা বৈসুক ও বিসিকাতাল নামে। হারি বৈসুর দিন গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রত্যেক ঘরের উঠানে নৃত্য করে নাচের দল। নৃত্য শেষে শিল্পীদের মদ, মুরগির বাচ্চা, চাল প্রভৃতি দেওয়া হয়। বিনিময়ে শিল্পীরা গৃহস্থকে আশীর্বাদ করে যায়। পরের দিন উৎসবের মূল পর্ব বৈসুমা। এদিন ত্রিপুরাদের সমাজে ধনী-গরিবের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকে না। এদিন ‘কচুই পানি’ বা পবিত্র পানি দিয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়। পিঠাপুলি ও রকমারি মুখরোচক খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। পরের দিন বিসিকাতাল বছরের প্রথম দিন। এদিন শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীরা নতুন কাপড় চোপড় পরিধান করে বয়স্কদের প্রণাম করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা পরিবেশন করে গরাইয়া নাচ ও বোতল নাচ।

৩. মারমাদের সাংগ্রাইং: মারমাদের বর্ষবরণ হলো সাংগ্রাইং। চাকমা-ত্রিপুরাদের মত মারমারাও বর্ষবরণকে তিন দিনে পালন করে। তা হলো যথাক্রমে সাংগ্রাই আকনিয়াহ্, সাংগ্রাই আক্রাইনিহ্ ও লাছাইংতার বলে। পুরনো বছরের শেষ তিন দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন মোট চার দিন মারমা জনগোষ্ঠী পালন করে সাংগ্রাইং উৎসব। প্রথম দিন সবাই শোভাযাত্রা করে বুদ্ধমূর্তিকে নদীর ঘাটে নিয়ে আসে। তারপর কলাপাতায় তৈরি ভেলায় চন্দন, ডাবের পানি ও দুধ দিয়ে বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হয়। পরের দুটি দিন বিভিন্ন প্রকার পিঠা, বৌদ্ধভিক্ষুদের জন্য ছোয়াইং দান এবং প্রতিবেশিদের জন্য বিশেষ খাবার প্রেরণ করা হয়। মন্দিরে মন্দিরে চলে প্রার্থনা। মারমারা পূর্ববর্তি বছরের সমস্ত যন্ত্রণা, দুঃখ, দুর্ভাগ্য এবং মালিন্য ধুয়ে মুছে দিয়ে নির্মল নতুন বছরকে বরণ করার জন্য মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলে।

৪. রাখাইনদের সাংগ্রেং: কক্সবাজারে বসবাসরত রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসব হলো সাংগ্রেং। সাংগ্রাং উৎসব উপলক্ষে রাখাইন সামাজে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি, নৌকা বাইচ, ক্যানপোয়ে বা বালী খেলা আয়োজন করা হয়। ১৭ এপ্রিল থেকে রাখাইন নতুন বছর শুরু হয়। চার দিন ধরে চলে তাদের বর্ষবরণ উৎসব। প্রথম দিন প্রধান সড়কে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। দুপুরে প্রার্থনা ও বিকেলে চলে বৈচিত্রময় খাবার পরিবেশন। প্রতিদিন দুপুরেই ম-পে ম-পে চলে তরুণ-তরুণীদের জল কেলি উৎসব। আনন্দে ভরপুর এ জল কেলির প্রধান উদ্দেশ্য হলো পুরনোকে ভুলে গিয়ে নতুনকে বরণ করে নেওয়া।

৫. তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু: বান্দরবান ও রাঙামাটির পার্বত্য অঞ্চলে তঞ্চঙ্গ্যারা বাস করে। তঞ্চঙ্গ্যাদের বর্ষবরণ উৎসব বিষু তিন দিনে পালন করা হয়। ফুলবিষু, মূলবিষু ও নয়া বছর এই দিনে পালন করা হয়। ফুল বিষুর দিন মেয়েরা বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজায়। উৎসব উপলক্ষে হরেক রকমের পিঠাও বানানো হয়। গৃহিণীরা তাদের বাড়ি-ঘর ও ঘরের আসবাব পরিস্কার করে রাখে। আর পরদিন ভোরে সবাই স্নান করে নতুন জামা-কাপড় পরে খুব আনন্দ-ফূর্তি করে। ঘরে ঘরে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবার আর পিঠার আয়োজন করে। রাতে ‘ঘিলা’ খেলায় মেতে ওঠে সবাই। আর সেই সঙ্গে গ্রামে বসে গানের আসর। তঞ্চঙ্গ্যারা পুজা করে, তরুণ তরুণীরা বয়স্কদের স্নান করায়। আর কিশোর কিশোরীরা বয়স্কদের আশীর্বাদ নেয়। সব গৃহিণীরা লক্ষীপূজা করে। অনেকে আবার এই উৎসবে মন্দিরে গিয়ে উপোস করেন।

৬. ম্রো বা মুরংদের চাক্রান বা চাংক্রান: ম্রো বা মুরংরা বাস করে শুধু বান্দরবনে। তাদের বর্ষবরণের উৎসব হলো ‘চাক্রান’ বা ‘চাংক্রান’। আরাকানি পঞ্জিকা মানে তো, তাই ওরা ম্রাইমাব্দ অনুযায়ী চাক্রান উদযাপন করে। তারা যথাক্রমে চাংক্রান নীওয়ান, চাংক্রান পা-নী ও চাংক্রান নীচুর নামে তিন দিন ব্যাপী চাংক্রান পালন করে। চাক্রান চিং বা পিয়োনীর আগের দিন মেয়েরা বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে খোঁপায় ফুল গুঁজে রাখে। ঘরদোরের পাশাপাশি ওরাও ওদের বৌদ্ধমন্দিরগুলো ফুল দিয়ে সাজায়। আর রাতে ধুম পড়ে পিঠা বানানোর। মূল উৎসবের দিন মুরং তরুণ-তরুণী আর কিশোর- কিশোরীরা বন থেকে ফুল তুলে আনে। ওদিকে তাদের সবার ঘরে ঘরে পিঠা ও ভালো ভালো খাবারের আয়োজন করে মায়েরা। মন্দিরগুলো ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এদিন ওরা বাঁশি বাজিয়ে ‘পুষ্প নৃত্য’ করতে করতে মন্দির প্রদক্ষিণ করে। চাংক্রানের মূল দিনে তারা লাঠি খেলা খেলে। চাংক্রানের শেষ দিনে ম্রোরা আবার ফুল দিয়ে মন্দির সাজিয়ে উপাসনা করে। সারাদিন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাদের এই উৎসব।

৭. চাকদের সাংগ্রাইং: চাকদের বর্ষবরণের উৎসব হলো সাংগ্রাইং। এ শুভ দিনে চাকরা সকল হিংসা দ্বেষ ভূলে উৎসবে মেেত উঠনে। সাংগ্রাইং বর্মী সনের দিন ও তারিখ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। মূলত প্রাক-সাংগ্রাইং, পাইংছোয়েত, আক্যাই ও আপ্যাইং এই চার পর্বে চার দিন ধরে চাকরা সাংগ্রাইং পালন করে। প্রাক-সাংগ্রাইং হলো সাংগ্রাইং শুরুর পূর্বের দিন আগমনী বার্তা। এদিন চাকরা বাস গৃহ ও গৃহস্থালির আসবাব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে উৎসব উৎযাপনের জন্য প্রস্তুত হয়। বিভিন্ন রকম আতশবাজি ফুটিয়ে পাড়া-গ্রাম তোলপাড় করে। উৎসবের প্রথম দিন পাইংছোয়েত বা ফুল দিবস। এই দিনে নানা ধরণের ফুল তুলে ভগবান বুদ্ধের পূজা করে মঙ্গল কামনা করে। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আক্যাই। এদিনে চাকরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, শ্রমণ ও উপাসক-উপাসিকদের প্রণাম করে গোসল করায়। এই দিনে সারা রাত ধরে নৃত্য, সংগীত ও নাট্যানুষ্ঠান চলে। চাকরা আক্যাইয়ের পরের দিন পালন করে আপ্যাইং। এদিন নব বর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন রকমের পিঠা, সেমাই ও মিষ্টান্নর আয়োজন করা হয়। এদিন নবীন ও প্রবীনদরে মধ্যে সৌর্হাদ্যতা, জ্ঞানীগুনী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

৮. অসমীয়াদের বহাগ বিহু: বোহাগবিহু হলো অসমীয়া বা অহম জনগোষ্ঠির বর্ষবরণ উৎসব। বিহু উৎসবের সাথে অসমীয়াদের কৃষিনির্ভর সমাজ ব্যবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বছরে তিনটি বিহু পালিত হয় – বোহাগবিহু, কাতিবিহু ও মাঘবিহু। বোহাগবিহুর সময় ধানের বীজ বোনা হয়, কাতিবিহুতে চারগাছ রোয়া হয় আর মাঘবিহুতে ধান কেটে গোলায় তোলা হয়। তিনটির মধ্যে বোহাগবিহু বেশী গুরুত্বপূর্ণ। একে রঙালীবিহুও বলা হয়। চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয় রঙালিবিহু। এদিন গৃহপালিত গরুকে বাড়তি আদরযত্ন করা হয়। গরুকে হলুদ আর তেল দিয়ে মাখিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে সাজানো হয় এবং খোলা মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়। ছোটরা বড়দের জন্য লাল পাড়ের গামছা উপহার দেয়। পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে অসমীয়া সমাজে চলে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় বিহুর গান ও নাচ।

৯. পাংখোদের ডাই মার্হে: পাংখোদের বর্ষবরণের উৎসব হলো ডাই মার্হে। বছরের সূচনা লগ্নে তারা ইষ্টদেবতার পূজার মধ্যদিয়ে নতুন দিনকে স্বাগত জানায়। আদিকাল থেকেই পাংখোয়ারা ছিল আনন্দ প্রিয়। এদিন তারা আনন্দ-উৎসব, গান-বাজনা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে মধ্যদিয়ে দিনটি উৎযাপন করে।

১০. খুমীদের সাংক্রাই: খুমীদের বর্ষবরণ উৎসব হলো সাংগ্রাই তিন দিন ধরে পালন করে। প্রথম দিনে পুরুষেরা ভোরে উঠে ঝুড়িতে ধান-ভুট্টা ভরিয়ে গ্রামের প্রতি উঠানে ছিটিয়ে গৃহপালিত পশু-পাখিদের খাওয়ানো হয়। মহিলারা রান্না শেষে সবাইকে পরিবেশন করে। খাওয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে আড্ডায় বসে। দ্বিতীয় দিনে গিলার খেলা, বাঁশ খেলা ও পানির খেলাসহ নানান খেলাধুলার আয়োজন করে। তৃতীয় দিনে দল বেঁধে নদীতে মাছ ধরতে যায় আবার অনেকে শিকারে বের হয়। সবশেষে তারা অন্যান্ন নৃ-গোষ্ঠির মতই প্রার্থনা করে নব বর্ষের দিনটিকে শুরু করে।

১১. গুর্খাদের চৈতে দশই: গুর্খাদের বর্ষ বরণের উৎসব হলো চৈতে দশই বা বিষু। তারা চৈত্র মাসের শেষ দিনে এটি পালন করে। এদিন তারা নিরামিষ আহার করে গত বছরের ভালো-মন্দ কর্মের জন্য নৌরান বা প্রায়শ্চিত্ত করে। উৎসবের পূর্বের দিন তারা সকালে ফুল দিয়ে নিজেদের বাড়ি সাজায়। সকাল বেলা স্নান করে, গুরুজনদের নিকট আশীর্বাদ প্রর্থনা করে। প্রতিবেশীদের নিজ গৃহে আপ্যায়ন করে। এদিন তারা আনন্দ-উৎসব, গান-বাজনা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি উৎযাপন করে। তাদের ধারণা এই দিন ভালো কাটলে সারা বছরটাই ভালো কাটবে।

বাংলা নববর্ষের সাথে বৈশাখী মেলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলা নববর্ষের কথা উঠলে মেলার প্রসঙ্গ আসবে অনিবার্যভাবে। আমাদের দেশের মেলা সম্পর্কে ইংরেজ লেখক মি. বেন্টালি একটি প্রামাণ্যগ্রন্থ রচনা করেন ১৯২১ সালে। তিনি ওই গ্রন্থটিতে লিখেছেন- ‘গ্রামে গ্রামে মেলা উপলক্ষে যাত্রাগান, কবিগান, জারিগান এবং বাউল-ফকিরদের গানের আসর বসে। গ্রামীণ শিল্পীদের গাওয়া এবং গ্রামের মহিলাদের নকশিবাহার কারুকাজ এসব মেলার অনবদ্য আকর্ষণ।’
মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে খুব উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ পালন এবং মেলার আয়োজন হতো। ‘আইন-ই-আকবরি’তে বলা হয়েছে ‘এ দেশে এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে মেলার ধুম পড়ে না। বিভিন্ন মওসুমের রকমারি দ্রব্যসামগ্রীর সাথে মানুষের মহামিলনই মেলার প্রধান উপভোগ্য বিষয় ছিল।’
মেলায় দেশের লোকসংস্কৃতি উজ্জীবিত হয়। ময়রারা পসরা সাজান মণ্ডা, মিঠাই, জিলাপি, বাতাসা, তক্তি, নাড়ু-চিঁড়ে, মুড়ি-মুড়কি, বরফি, কদমা, সন্দেশ, পানতোয়া, রসগোল্লা, চমচম, রসমালাই, দই, বন্দেল, রসমুণ্ডুসহ মিষ্টান্নসামগ্রী দিয়ে।
বৈশাখী মেলার প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে- সার্কাস, জাদু, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, টকি, বায়স্কোপ, সঙ, সঙের নাচ, ঘুড়ি ওড়ানো, ঘোড়দৌড়, মই দৌড়, পশু-পাখির লড়াই, কুস্তি, সাপখেলা, বানরনাচ, পায়রা উড়ানো, মোরগ লড়াই, নাগরদোলা, লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু খেলা, বাউল গান, মুর্শিদী গান, ভাটিয়ালি গান ও পালাগান অন্যতম। বাংলাদেশে প্রাচীন দুটি বৈশাখী মেলার সন্ধান মেলে-

 

বউমেলা:
ঈশা খাঁর রাজধানী নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখে যথাক্রমে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এক মেলা বসে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বটতলার মেলা’ নামেও পরিচিত। জয়রামপুর গ্রামের মানুষের ধারণা, প্রায় ১০০ বছর ধরে পহেলা বৈশাখে শুরু হওয়া এই মেলা পাঁচ দিনব্যাপী চলে। প্রতি বছর প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে এই মেলা বসে। যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পুজোর জন্য এখানে সমবেত হয়। বিশেষ করে কুমারী, নববধূ, এমনকি জননীরা পর্যন্ত তাঁদের মনস্কামনা পূরণের আশায় এই মেলায় এসে পূজা-অর্চনা করেন। এই পূজায় ভক্তরা সন্দেশ-মিষ্টি-ধান দূর্বার সঙ্গে মৌসুমি ফলমূল নিবেদন করেন। এটি স্থানীয়ভাবে ‘বউমেলা’ নামেও পরিচিত। এ উপলক্ষ্যে পাঁঠাবলির রেওয়াজও অনেক পুরনো। ধীরে ধীরে পাঁঠাবলীর রেওয়াজও বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে পুরনো রীতি অনুযায়ী পাঁঠাবলির পাশাপাশি এই বউমেলায় ভক্তরা কপোত-কপোতি উড়িয়ে দেবীর কাছে শান্তির বার্তা প্রত্যাশা করেন।

ঘোড়ামেলা:
প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পেরাব গ্রামের পাশে আরেকটি মেলার আয়োজন করা হয়। এটির নাম ঘোড়ামেলা। জনশ্রুতি হল, যামিনী সাধক নামের এক ব্যক্তি ঘোড়ায় করে এসে নববর্ষের এই দিনে সবাইকে প্রসাদ বিতরণ করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ওই স্থানেই তাঁর ভক্তরা একটি স্মৃতিস্তম্ভ বানান। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে সেই স্মৃতিস্তম্ভে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি করে মাটির ঘোড়া রেখে পূজা করেন এবং এ উপলক্ষ্যে এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। এ কারণে লোকমুখে প্রচলিত মেলাটির নাম ঘোড়ামেলা। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ হল নৌকায় খিচুড়ি রান্না করে রাখা হয়। আর মেলায় আগত সকল বয়সি মানুষ কলাপাতায় আনন্দের সঙ্গে তা ভোজন করেন। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের সকাল থেকেই এ স্থানে লোকজনের আগমন ঘটতে থাকে। শিশু-কিশোররা সকাল থেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকে মেলায় আসার জন্য। এক দিনের এ মেলাটি জমে ওঠে দুপুরের পর থেকে। হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। তথাপি সব ধর্মের লোকজনেরই প্রাধান্য থাকে এ মেলায়। এ মেলায় মূলত শিশু-কিশোরদের ভিড় বেশি থাকে। মেলায় নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়। নানারকম আনন্দ-উৎসবের পর পশ্চিমের আকাশ যখন রক্তিম আলোয় সজ্জিত হয়, তখনই এ মেলায় আগত দর্শনার্থীদের ক্লান্তি দূর করার জন্য নতুন মাত্রায় সেখানে যোগ হয় কীর্তন। এই কীর্তন হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। এভাবেই শেষ হয় বৈশাখের এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ামেলা।

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত