লাভ ইন লকডাউন

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.comসবে লকডাউনের দুপুরে ভাতঘুমটা জমিয়ে এসেছিল অসীমের। গত জানুয়ারিতে রিটায়ার করেছে সে। বেড়ানোর প্ল্যান ছিল অনেক। মে মাসে বুক করা ছিল আরাকু- অনন্তগিরি- বোরা কেভস- ভাইজাগ ইত্যাদি। ফিরে এসেই ছেলের কাছে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল জুনের শেষে। সেসবে জল ঢেলে দিলো এই লকডাউন। অবশ্য এই বেড়ানোর প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ায় অসীমের সেরকম আফসোস হয়নি। খুব বেশি টাকা জলে যায়নি। বরং এখন, এই দুপুরের ভাতঘুমটা ভেঙে যাওয়ায় ভ্রু কুঁচকে উঠলো তার। পাশেই খাটে বসে বিনতা কার সঙ্গে যেন কথা বলছে। স্পিকার-মোডে আছে, ওপাশে নারীকণ্ঠ। বিনতার কোনো স্কুল কিম্বা কলেজের বান্ধবী হবে। কিন্তু কী এমন কথা, যে বিশ্রাম না করে এখনই বলতে হবে?      

অসীম পাশ ফিরে কোলবালিশ আঁকড়ে আবার ঘুমোবার চেষ্টা করে চোখ বুজে।  বিনতা কী বলছে এসব! চোখ আপনা থেকে খুলে যায় অসীমের। ওপাশ থেকে যে কথা বলছে, সে কি সত্যিই নারী, নাকি কোনো পুরুষ? মহিলার মত পাতলা গলায় কথা বলছে? অসীম কান খাড়া করে জোর করে চোখ বুজে থাকে।   

-‘কীভাবে মারলে সুবিধে?’- বিনতা কেমন ছুরি শান দেওয়া ধারালো গলায় কথা বলছে।     

-‘ছুরি কিম্বা চপার হতে পারে। রান্নাঘরে অনেকের বাড়িতেই বেশ বড় সাইজের থাকে! তোর নেই?’ ওপাশ থেকে বলে  ওঠে। 

-‘বলছি ভায়োলেন্সের দরকার কি?’ বিনতা চাপা গলায় বলে, ‘চায়ে কিম্বা খাবারে কিছু মিশিয়ে দিলেই তো হয়।’ 

-‘না, না… লকডাউনে কারো সন্দেহ হবেনা। মুখোশ, গ্লাভস এসব তো সবাই পরছে।’

-‘ঠিক বলেছিস। সেটাই করতে হবে। খামকা ব্যাপারটা টেনে দীর্ঘায়িত করার মানে হয়না।

-‘একদম। সূক্ষ্মভাবে নামিয়ে দিবি।’  

-‘কিন্তু আমি কি পারবো? মানে আনাড়ির মত ছড়িয়ে ফেলি যদি…’

-‘কিচ্ছু ছড়াবে না। আমরা আছি তো। ম্যানেজ হয়ে যাবে সব। একটু সাহসী হ, ব্যাস!’

-‘থ্যাংকস রে! ভাগ্যিস তুই বললি।’   

-‘আরে, থ্যাঙ্কসের কি আছে? ভালো থাকিস।’       

-’হ্যাঁ রে, এখন তো এভাবেই ভালো থাকতে হবে আমাদের। রাখি রে!’ বিনতার ফোনালাপ শেষ হয়েছে। পাশ থেকে উঠে বেরিয়ে গেলো। শোবার ঘরে এখন অসীম ছাড়া আর কেউ নেই। সব চুপচাপ। কিন্তু অসীমের ঘুম ছুটে গেছে। বিনতাকে চিনতে কতটা বাকি আছে তার? প্রেম করেই বিয়ে করেছিল, যদিও মায়ের বিনতাকে একেবারেই পছন্দ ছিল না। তাদের সন্তান একটিমাত্র ছেলে, ঋক, আমেরিকায় আছে এখন। সেখানেও অতিমারীর প্রকোপ কম নয়। এসব নিয়ে একটা চাপা টেনশন কাজ করছে দুজনেরই। কিন্তু বিনতা এসব কী বলছিল? কী করতে চায়?  মা কি এইজন্যই তার বিয়ের আগে মত দিচ্ছিল না…  -‘বাবু, তুই খুব ভুল করছিস। ঐ মেয়েটার চোখগুলো যেন কেমন! অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা, নিষ্ঠুর। তুই সমস্যায় পড়বি একদিন!’  

অসীম মাতৃভক্ত হলেও মায়ের কথা সেদিন মেনে নেয়নি, এবং কোনো আফসোস ছিল না তার। বিনতা স্ত্রীর ভূমিকা যথাযথ পালন করেছে গত তিরিশ বছর।  আচ্ছা বিনতার কী লকডাউনে মাথা খারাপ হয়ে গেলো?  ডিপ্রেশান, স্কিজোফ্রেনিয়া এসবের প্রকোপ বাড়ছে এইসময়ে, সেটা অসীম জানে। নাহ, ব্যাপারটা নজরে রাখতে হবে। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলছিল? ও কি কোনো খারাপ চক্রে জড়িয়ে পড়েছে? যারা ওকে দিয়ে খারাপ কাজ করাতে চায়? ঠিক কতটা খারাপ? মানুষ খুনের মত খারাপ? কিন্তু কেন? বিনতা কাকে খুন করতে চায়? বরং অসীমই রেগে গেলে কথায় কথায় বলে, ‘খুন করে ফেলব!’ যদিও কাজে কোনোদিন সেটা তার পক্ষে করা সম্ভব নয়, সেটা সে বিলক্ষণ জানে। বিনতা অবশ্য কখনো খারাপ কথা অবধি উচ্চারণ করে না। কারো উপরে প্রচণ্ড রেগে গেলে বিনতা তাকে ‘মূর্খ’ শব্দটার চেয়ে বেশি কোনো উচ্চস্তরের গালাগালি অবধি দিতে পারে না। সেই বিনতা… নাহ… কিন্তু  ফোনে যেন কেমন বিষাক্ত গলায় কথা বলছিল।  অসীম শোবার ঘরে এসির মধ্যেও ঘেমে ওঠে।       

ধীরে ধীরে শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরের সামনের প্যাসেজে রাখা ফ্রিজ থেকে জলের বোতল নিয়ে প্রায় একনিঃশ্বাসে লিটারখানেক জল খেয়ে ফেলে অসীম। বিনতা কী করছে? নাহ, নজর রাখা প্রয়োজন। রান্নাঘরে? বাসনের ঠুংঠাং আওয়াজ আসছে। অসীম রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়। বিনতার দু হাত গ্লাভসে ঢাকা। কিন্তু কেন? 

অসীম কাঁপা কাঁপা গলায় বলে… ‘গ্লাভস পরে রান্না করছো কেন?’   

বিনতা চোখ ফিরিয়ে তাকায়। দুচোখে কেমন যেন তাচ্ছিল্য।  

-‘রান্না করবো কেন? বাসন মাজছি। গ্লাভস পরে নিলে হাতে জল, সাবান একটু কম লাগবে, তাই!’

অসীম ঘরে গিয়ে আবার শুয়ে পড়তে পারেন না।  বসার ঘরে খবরের কাগজ খুলে সোফায় বসতে না বসতেই বিনতা এক কাপ চা এনে সামনে ধরে দেয়। আজকাল এইসব ভাইরাসের সমস্যায় অসীম খবরের কাগজ সকালবেলায় পড়ে না। বারান্দায় ফেলে রেখে যাওয়া কাগজ হাতে গ্লাভস পরে তুলে এনে, ইস্ত্রি করে রাখে অসীম। তারপরে দুপুরে কিম্বা বিকেলবেলা চোখ বোলায়।      

-‘এখন চা দিলে? তিনটেও বাজেনি। আমি তো চারটের সময় চা খাই।’ 

-‘চা চাই না, তো রান্নাঘরে ঘুরঘুর করছিলে কেন শুনি?’ বিনতার গলায় প্রশ্রয়। হ্যাঁ, অসীমের চা-তেষ্টা পেলেই রান্নাঘরে ঘুরঘুর করে। এটা মিথ্যে নয়। কিন্তু আজ তো চায়ের জন্য নয়, বিনতার উপরে নজর রাখার জন্যই রান্নাঘরের চৌকাঠ পেরোনো। অসীম চায়ে চুমুক দিতে পারে না। ফোনে কী যেন বলছিল বিনতা… চায়ে কিছু মেশাবার কথা… ঠিক মনে পড়ে না অসীমের।  চা ঠাণ্ডা হতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে আবার উঠে পড়ে অসীম কী করছে বিনতা? দেখতে হবে, নজর রাখতে হবে।

হ্যাঁ, ব্যালকনিতে দোলনায় বসে পা দোলাতে দোলাতে ফোনে কী যেন খুটুর খাটুর করছে। আচ্ছা, ওর মুখটা কি বেশ একটু কঠিন দেখাচ্ছে? নরম গোলগাল মুখটার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। ভাসা ভাসা আয়ত চোখদুটো কেমন ছুঁচোলো, তীক্ষ্ণ মনে হচ্ছে। নাহ, একদম অচেনা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আলাদা একটা মানুষ। ফোনে কী করছে ও? কারো সঙ্গে চ্যাট করছে? অসীমের চিন্তা বাড়তে থাকে।  

অসীম রাতে বিছানায় শুয়ে টিভি দেখছিল। নিউজ চ্যানেল।  ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বিনতা মুখে নাইট ক্রিম ঘষছিল। ‘একটু ভল্যুম কমাবে?’ বিনতার গলাটা কেমন খসখসে শোনাচ্ছে। ওর চোখের মণিদুটো কি সবজেটে হয়ে জ্বলে উঠলো? খাটে শুয়ে আয়নায় ওর প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে অসীম। কালচে রঙের স্যাটিনের একটা আলখাল্লা পরে আছে। এরকম পোশাক তো বিনতা আগে কোনদিন পরেনি! হাল্কা ফুলছাপ সুতির ম্যাক্সি পরে ঘুমোতে যায়। সারাদিনে ঘরে শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরে। এই কালো চকচকে পোশাকটা কোত্থেকে এলো? ওর বিশাল চুলটা খোলা, আলুলায়িত এলোকেশ। ড্রেসিং টেবিলের সামনে একটা মোমবাতি জ্বলছে। একটা অদ্ভুত ঝিমধরা গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে। অসীমের গলাটা শুকিয়ে আসছে। গরম লাগছে খুব। এসির টেম্পারেচার কমানো দরকার। অসীম হাত বাড়িয়ে টিভি কিম্বা এসি কোনটার রিমোট খুঁজে পায় না। বিনতা মুখ ফেরায়। নাহ, এটা বিনতা নয়। হতেই পারে না। একটা অদ্ভুত মুখোশ পরা কে! মুখোশটা সাধারণ কাপড়ে কিম্বা পলিইথিলিনে তৈরি সাধারণ মাস্ক নয়। মনে হচ্ছে আঁশওয়ালা কালচে সবুজ সাপের খোলসে অর্ধেক ঢাকা মুখ। চোখটা দেখা যাচ্ছে। উফফ, চোখটা কী বীভৎস আর বিশাল! সবুজ মণির চারপাশে লালচে শিরা ফুলে ফুলে উঠেছে সাদাটে অংশে। কোনো ভ্রু নেই। এ কে? অসীমের শরীর ভারি হয়ে আসে। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোয় না। অসীম বুঝতে পারছে ওর শরীর নাড়ানো দরকার, ওর এই ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে যাওয়া দরকার, কিন্তু ও পারছে না। পাথরের মত ভারি হয়ে গেছে ওর শরীর। অসীম চিৎকার করে আদ্যাস্তব উচ্চারণ করবার চেষ্টা করে, পারে না। ঐ ডাকিনী এসে গেছে খুব কাছে। কী বিশাল তার শরীর। কালো পোশাকের প্রান্ত অন্ধকারের মত ঢেকে ফেলছে তাকে। তার শরীর ধরে কী প্রবল ঝাঁকুনি দিচ্ছে । হয়তো  এখনই তার ঘাড় ধরে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বেডরুমের ব্যালকনি থেকে। অসীমের গলা থেকে গোঙানির মত আওয়াজ ছিটকে আসে একটা।      

-‘ওঠো, ওঠো, পাশ ফিরে শোও!’ কে যেন ধাক্কা দিচ্ছে, ঝাঁকাচ্ছে তাকে পাশ থেকে। হ্যাঁ, এ তো বিনতা। গোলগাল নরম মুখ, সাদা ফুলছাপ ম্যাক্সি পরে পাশেই বসে আছে।   

-‘জল খাও!’ অসীমের হাতে একগেলাস জল ধরিয়ে দিচ্ছে। অসীম আবার তাকায় ফ্যালফেলে চোখে। হ্যাঁ, বিনতা। কোনো ভুল নেই। তার মানে এতক্ষণ দুঃস্বপ্ন দেখছিল সে। কী সাঙ্ঘাতিক, কী ভয়ঙ্কর স্বপ্ন!

-‘কী হল? শরীর খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকবো?’  বিনতার উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর, ‘ঘুমের মধ্যে গোঙাচ্ছিলে কেন? বোবায় ধরেছিল তোমাকে? নাকি শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে, বলো!’ বিনতা বুকের উপরে একটা হাত রাখে।

অসীম ধীরে ধীরে উঠে বসে। জল খায়। হ্যাঁ, হয়তো বোবায় ধরেছিল তাকে। তাছাড়া দুঃস্বপ্নও দেখেছে সে। বিনতাকে বলবে স্বপ্নটা? কী ভাববে ও। নাহ, থাক। সকালে কথা বলবে। এখন যেন কথা বলবার শক্তিও অবশিষ্ট নেই তার শরীরে। পাশ ফিরে ঘুমোবার চেষ্টা করে।

-‘আচ্ছা, এই কালাযাদু ব্যাপারটা কী বলো তো? এসব কি সত্যিই হয়?’ অসীম ব্রেকফাস্ট টেবিলে জিজ্ঞেস করে। বিনতার চোখে হঠাৎ বিদ্যুৎ খেলে যায়। খাওয়া থামিয়ে ফোনে কী যেন খুটখাট করে।

-‘কী হল? কী করছ?’

-‘দাঁড়াও, একটু দাঁড়াও। বলছি।’ বিনতার গলায় ঠিক কী? কৌতুক, না রহস্য! -‘বুঝলে, তুমি না ঐ আলতুফালতু নিউজ চ্যানেল দেখা বন্ধ করো। আমি একটু সিরিয়াল দেখতাম বলে কী আওয়াজটাই না দিতে। এখন, নিজে কী? অ্যাঁ? নিউজ চ্যানেলগুলো দেখছি সিরিয়ালের বাবা! কালােযাদু নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন তোমার? ওসব গল্পকথায় হয়, এটা জানি। সত্যি সত্যি হয় কিনা, জানি না, জানার ইচ্ছেও নেই!’ বিনতা আবার ফোনে ডুবে যায়।

অসীম ফোনে একটা অনলাইন শপিং সাইটে ঢোকে। একটা স্যাটিনের লঞ্জরির উইনডো খুলে বিনতাকে দেখায়, ‘দ্যাখো, তোমার তো একটা কেনার শখ ছিল! অর্ডার দেবো নাকি?’

বিনতার মুখ হাঁ হয়ে চোয়াল ঝুলে পড়ে। চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসে।

-‘বলো কী! এই বুড়োবয়সে ভীমরতি ধরলো দেখি তোমার!’

-‘কী এমন বুড়ো হয়েছি?’ অসীমের গলায় কৌতুক।

-‘দাঁড়াও, দাঁড়াও, এই লেখাটা একলাইন বাকি! শেষ করে আসছি।’ বিনতা আঙুল দিয়ে ফোনে খুটখাট করে।

-‘কী ব্যাপার বলো তো? সারাদিন দেখছি ফোনে কিছু না কিছু করছো!’  অসীমের গলায় ক্ষোভ! ‘এইসব … ইয়ে কিনে দিতে চাইছি, ফিরেও দেখছো না!’

-‘ঢং!’ বিনতা ভ্রু নাচায়। ‘যখন বয়স ছিল, তখন মনেও ছিল না! আর এখন… থাক!’

-‘আহা! এখন তো বাড়ি ফাঁকা! কাজের লোক অবধি কেউ নেই। এখন একটু চেষ্টা করলে কি জমতে পারে না?’

-‘কী জমাতে চাও শুনি?’ বিনতা ঠোঁট ফোলায়! ‘লাভ ইন লকডাউন?’

-‘আরে, দারুণ বলেছো। একদম। লাভ ইন লকডাউন!’ অসীম এগিয়ে আসে। ‘কিন্তু তুমি তো পাত্তাই দিচ্ছো না আমাকে!’  অসীম বলতে যায়… ‘সারাক্ষণ তোমার লেখা নিয়ে ব্যস্ত তুমি’। কিন্তু এই বাক্যটা আর বলে না। কীভাবে বলবে? এটা কি বলা সম্ভব যে অসীম বিনতার ফোন ঘেঁটে দেখেছে যে ওরা বন্ধুরা মিলে একটা বারোইয়ারি থ্রিলার লিখছে, সেটা কিস্তিতে কিস্তিতে আসছে একটা ব্লগে। বিনতার লেখা এপিসোডে একটা খুন হয়েছে। সাঙ্ঘাতিক শ্বাসরোধকারী একটা থ্রিলার লেখা হচ্ছে। সেসব নিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপে মেসেজ চালাচালি করে বিনতা। এদিকে অসীম উল্টোপাল্টা কতকিছু ভেবে দুঃস্বপ্ন অবধি দেখে ফেলেছে। নাহ, ফোন ঘেঁটে এসব জেনেছে এটা বলা যাবে না কিছুতেই। না বলে বউয়ের ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করে মনে মনে নিজের কাছে অপরাধী হয়ে আছে অসীম। পরে কোনো একদিন ধীরে সুস্থে জানাবে। এমনিতেই এখন সত্যি ঘটনা জানতে পেরে তার অনুতাপের সীমা নেই। তাহলে কি কোথাও রয়ে গেছে অবিশ্বাসের শিকড় তার মনে? কীভাবে? কতখানি ভালোবাসা দিয়ে সে সেটাকে উপড়ে ফেলতে পারবে? 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত