নারী দিবস চাই না…

৮ ই মার্চ ।নারী দিবস।১৮৫৭ থেকে যার ইতিহাসের সূচনা।স্বীকৃতি ১৯৭৫ এ।সকলেরই জানা।তাই ইতিহাসের কচকচানিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
আমার কিছু এলোমেলো ভাবনা।কতটা গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারব তাও জানিনা।বিতর্ক হতে পারে জানি।তবুও নিজের ভাবনা টুকু আজ ইচ্ছে করল সবাইকে জানাতে।
কাল সকাল থেকে সোসাল মিডিয়া ভরে যাবে পোষ্টে।লাইক কমেন্টে ভরে যাবে পোষ্ট।শুভেচ্ছা বার্তায় ইনবক্স।সেই ভিড়ে খুঁজে পাব এমন কিছু মানুষকে যারা সকাল সন্ধ্যে নারীর অবমাননায় বেশ কিছু সময় ব্যায় করেন।
    কাল টিভি চ্যানেল থেকে যে কোনো মিডিয়ায় ভালো বিক্রি হবে নারীর কথকতা।
বহু পোষ্টে দেখব পুরুষ নিধন।আবার এটাও দেখব তাদের কেই অনুরোধ আমাদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে যখন তখন না দেখে প্রোটেক্ট করুন বলে আহ্বান।
 আমার বারবার এ সব দেখে মনে হয় আসলে আমরা কি চাই?
প্রথমত পুরুষ বিদ্বেষ কি আমাদের আসল উদ্দেশ্য? না সমান অধিকার?
সমান অধিকারের জন্য ওদের কাছেই প্রোটেকশন কেন? তবে তো আমরা দুর্বল স্বীকার করেই নিলাম,তাই নয় কি?
এবার আসি পুরুষ বিদ্বেষ… করার আগে একবার ভাবি…. আমাদের শত্রু কি আদৌ পুরুষ?না আমরা নিজেরাই?
শারীরিক ধর্ষণ ছাড়া অন্য সমস্ত নারী অত্যাচারের  ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সমতালে আমরাই বোধ হয় বেশি দায়ী।
কবে থেকে তার সূচনা…??
যখন একটি মেয়ে রজ:স্বলা হল।নারীত্বের প্রথম খুশি।
কিন্তু কি শিখি আমরা? ঠাকুরঘরে যাবে না।তুমি হলে অবিশুদ্ধ।শিখি আরো নানা অবৈজ্ঞানিক আচার।শিখি দাগ লেগে যাবার আতঙ্ক।শিখি ওরা ছেলে আমরা মেয়ে বিভাজনের প্রথম পাঠ।
কার থেকে শিখি??বাড়ির মা ঠাকুমাদের কাছ থেকে।
   নারী হবার প্রথম খুশি আমরা ক’জন সেলিব্রেট করতে পারি?
আমরা সোসাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিতে পারি… আমি ফিলিং বোর,আমার ভীষণ মাথাব্যাথা…আমি আধুনিক নারী ,সুতরাং সিগারেট বা মদ্যপানের ছবি দিয়ে সমতাও প্রমাণ করি।
কিন্তু ক’জন মা স্ট্যাটাস দিই?
আমার মেয়ে আজ থেকে রজ:স্বলা..ও নারী হয়ে ওঠায় আজ আমি খুশি।
পারি কি? পারি না।ছিঃছিঃ কি লজ্জা!! তাই না?
নারীত্ব স্বীকার করতেই আমাদের লজ্জা?????বাহ্
তারপর… সমস্ত ডোমেষ্টিক ভায়োলেন্সে…পণ থেকে শুরু  করে মানষিক নানা নির্যাতন হয়ে বধূ হত্যা..সর্ব ক্ষেত্রেই আমরা আমাদেরই শত্রু। শাশুড়ি ননদ এরাও নারী।আমি ও আমরাই।ব্যাতিক্রম সামান্যই।তবে পুরুষ বলে আঙুল তাদের দিকেই ওঠাই কেন?আঙুল ওঠাবো কিছু অমানুষের দিকে পুরুষ বা নারী বলে তাদের কোনো ভিন্নতা নেই।তারা অমানুষ‌।এটাই তাদের পরিচয়।
আরও প্রশ্ন.. অবান্তর তবুও।লেডিস স্পেশাল,লেডিস কমপার্টমেন্ট ,লেডিস সিটের কি প্রয়োজন আমাদের?সংরক্ষণ তো দুর্বলের জন্য ।তবে আমরা প্রকারান্তরে তাই ই মেনে নিচ্ছি ..তাই তো?সংরক্ষণ প্রয়োজন  প্রবীণদের ..প্রয়োজন সন্তান সম্ভবা নারীর….প্রয়োজন সন্তানকে দুগ্ধ পান করাবে এমন মায়ের.. অসুস্থ মানুষের।
কিন্তু কই???
বাসে উঠে …”উঠুন এটি লেডিস সিট.”… এটা প্রায়ই শুনতে পাই।দিব্যি সুস্থ সবল একটি নারী‌।নিজেকে বড্ড ছোট লাগে তখন।সত্যি বলছি। আমরা কি এতটাই দুর্বল??
… আমরা কাকে অনুকরণ করি? আমাদের থেকে সেরা যাকে ভাবি.. তাই তো?সমানকে তো নয়?
    আমি এযুগের বহু আধুনিক নারীকে দেখেছি বিভিন্ন কু নেশায় আসক্তি কে অধিকারের মাত্রা মেনে সেটাকে বেশ এনজয় করে।
প্রশ্ন করলে উত্তর আসে … ওরা করলে আমরা নই কেন?? ঠিক।
তবে ওদের অনুকরণনেই আমাদের আধুনিকতা?আমাদের নারী স্বাধীনতা??বাহ:
না কি এই  অনুকরণ না করে একজন  পুরুষকেও যদি আমরা তামাক জাত আসক্তি থেকে সরাতে পারি…ভাঙতে পারি মদের ঠেক….সেখানে আমাদের আধুনিকতা? নারী স্বাধীনতা??
 আমরা আজও ফর্সা হবার ক্রিম ব্যবহার করি?কেন কালো কি লজ্জা??আধুনিক পোষাকে সজ্জিত হই…তবু ফর্সা হবার জন্য   কিনে আনি ছাইপাশ।কেন?বিয়ে হবে না? কালো বলে??
বাড়ির নারীদের কাছ থেকেই এই খোঁটা খাই আমরা।অথচ আধুনিক পোষাকে অভ্যস্ত হয়েও আমরা এক যোগে বলতে পারি না ..আমরা কালোই থাকব।
খুব রিসেন্ট ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখছিলাম, একটি ছেলে কালো মেয়ে বিয়ে করেছে বলে তাকে সবাই বাহবা দিচ্ছে, মেয়েটিও বিগলিত প্রাণ… অদ্ভুত লেগেছিল,এই বিপরীত ভিডিও কি কোনোদিন তৈরী হবে ?? তবে এটি কেন ?
আমার মেয়েকে খুব ছোট বেলায় স্কুলে ভর্তি তে প্রশ্ন করা হয়েছিল কাকের রঙ কি? ও বলেছিল… কালো।তারপর একজন ওকে মজা করেই বলেছিল..কেন রে?কালো?সাদা নয়?
ও বলেছিল… কাকের মা কালো, তাই কাক কালো।
বিজ্ঞানের এই সহজ সত্যটি আমরা মানতে আজও পারি নি???
আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? সত্যিই আধুনিক নারী?
পরিশোধন আসলে প্রয়োজন কোথায়?? পুরুষ বিদ্বেষ আর তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই কি আমরা নারীরা দায় এড়াতে পারি????নাকি কয়েকটি শুভেচ্ছা বার্তা আর সেলিব্রেট করেই নারী স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করতে পারে?

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত