| 19 জুলাই 2024
Categories
চলচ্চিত্র বিনোদন সিনেমা

সোনার কেল্লার সুবর্ণজয়ন্তী ও নয়ন রহস্য : একটি নস্ট্যালজিক সমালোচনা

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

 

১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি। শহরের নিউ সিনেমায় এসেছে সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লা। তখন আমি সবে ক্লাস ফাইভে। বইয়ের পাতায় ফেলুদার সাথে অল্প অল্প করে পরিচয় হচ্ছে। সেসময় পুজো আর গরমের অবসরে স্কুলে টানা একমাস ছুটি থাকত। এর মধ্যে গরমের ছুটিটিই সবচেয়ে আরামের, কারণ এই দীর্ঘ সামার ভ্যাকেশনের প্রথম হপ্তাখানেকের মধ্যেই স্কুল থেকে দেওয়া বাড়ির কাজ মিটিয়ে ফেলার পরে নিজের জন্য পড়ে থাকত অঢেল নিরবচ্ছিন্ন নিরুপদ্রব ছুটির অবসর। প্রতিবারই গরমের ছুটির সময় নিয়ম করে মালদায় আমাদের পৈতৃক ঠাকুরদার বাড়ি ও শ্রীরামপুরে মামাবাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হত। মালদায় আমরা যেতাম প্রথমে এবং গিয়ে প্রতিবারই জেঠুর বাড়িতে উঠতাম। বাড়িটি শহরের একদম মধ্যিখানে। বাড়ির সামনে সরু গলি রাস্তা আর তার দু’ধার দিয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে উঁচু উঁচু সব বাড়ি। একেবারে বদ্ধ শহুরে পরিবেশ, কিন্তু তাও কেমন করে যেন বেশ একটা নিরিবিলি কোলাহলহীন আশ্চর্য শান্তি বিরাজ করত পাড়াটায়। ছোট্ট আকাশীরঙা গ্রীলের গেট খুলে ভেতরে ঢুকেই সার সার বেঞ্চি পাতা জেঠুর ছাত্র পড়াবার বড় ঘর। সেটা পেরিয়ে ভেতরের প্রায়ান্ধকার লম্বা বারান্দা ছাড়িয়ে ডানদিকে থাক থাক সিমেন্টের সিঁড়ি উঠে গেছে একেবারে তিনতলার ছাতে। নীচের ঘরগুলিতে ঠাকুমা ও পিসিরা থাকেন আর পুরো দোতলাটা জুড়ে জেঠুর অংশ। তিনখানি খোলামেলা ঘর আর দেয়াল জোড়া বড় বড় বুককেস। এই বই আলমারির তাক থেকেই দাদার স্কুল প্রাইজের নানা আকারের ও প্রকারের অসংখ্য বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে কোনও এক দারুণ গরমের নির্জন দুপুরে পাতলা পাতলা কার্ডবোর্ড বাঁধানো দু’তিনখানা ফেলুদার বই পেয়েছিলাম আমি। একেবারে নতুন ঢঙে লেখা মেদহীন ঝকঝকে গোয়েন্দা গল্প। এক নিঃশ্বাসে ঝর ঝর করে পড়ে ফেলা যায়। বার বার পড়লেও আশ মেটে না, প্রতিবারই মনে হয় যেন নতুন করে পড়ছি। সেই এক বইপাগল কিশোরীর ফেলুদা প্রেমের শুরু। তারপর মাসিক আনন্দমেলা ও মফস্বলি বইমেলার হাত ধরে সে প্রেম বেড়েছে বই কমেনি, এবং আজও সেই নস্ট্যালজিয়ার সৌরভী রেশ সমান অমলিন। প্রথম দিকে জেঠুর বাড়িতে পড়া ফেলুদার বইগুলোর নাম এখন আর মনে নেই। তবে সোনার কেল্লা যে তাতে ছিল না এটুকু পরিস্কার মনে আছে। তাই সোনার কেল্লা ছবি মুক্তির কুড়ি বছর উপলক্ষে আবারও হঠাৎ করে যখন আমার ঘরের কাছেই সিনেমাটি দেখার আশ্চর্য সুযোগ এসে গেল, থিয়েটারে বসে বড় পর্দায় একটা সম্পূর্ণ নতুন গল্পে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি দেখার সম্ভাবনায় একেবারে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল আমার শিশুমন। তখনও আমরা যথেষ্ট ছোট, তাই হলে গিয়ে সিনেমা দেখার চল ছিল না। তবুও আমার নাছোড়বান্দা আবদারে আর হয়তো সত্যজিতের সিনেমা বলেই ওই দারুণ অসম্ভব ব্যাপারটা শেষ অবধি সম্ভবপর হয়েছিল। তবে শর্ত ছিল একটাই। আসন্ন হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় অঙ্কে একশোয় একশো পেতে হবে, একটি নম্বরও কম পেলে চলবে না! ফেলুদার প্রতি দুর্দমনীয় ভালবাসার টানেই কিনা জানিনা, প্রাণপণ পড়াশোনায় শর্তপূরণ করে সগর্বে জীবনে প্রথমবারের জন্য হলে গিয়ে ফেলুদার কাণ্ডকারখানা প্রত্যক্ষ করলাম আমি। সেই শুরু! এরপর যথাসময়ে টিভিতে দেখলাম জয় বাবা ফেলুনাথ। এভাবেই কিভাবে যেন মনে মনে ফেলুদার ছবির একটা মান বাঁধা হয়ে গেল অজান্তেই। তাই এরপর একসময় টেলিভিশনের জন্য বানানো সন্দীপ রায়ের ফেলুদা থেকে কালক্রমে যখন বড় পর্দাতেও তার উত্তরণ ঘটল শুধুমাত্র নস্ট্যালজিয়ার টানে তা দেখলাম বটে, কিন্তু মন ভরল না, বারবার দেখার মতো কোনও রসদও খুঁজে পেলাম না। এর একটা মূল কারণ যত না পর্দায় সেই পুরনো ফেলুদা তোপসে জটায়ু ত্রয়ীর জাদু উপস্থিতির অভাব অনুভব করা, ততটাই হয়তো পরিচালক হিসেবে সন্দীপ রায়ের গল্প বলার ভিন্ন স্বাদের কারণেও। সন্দীপ রায় কাজের জায়গায় দীর্ঘদিন পিতা সত্যজিৎকে ক্যামেরার পিছন থেকে সাহায্য করেছেন, লক্ষ্য করেছেন, শিখেছেন, কিন্তু এতসবের পরেও যে জিনিসটি তিনি আয়ত্ব করতে পারেননি তা হল সিনেমা শিল্পে সত্যজিতের একান্ত নিজস্ব ম্যাজিকাল সৃষ্টিশীলতা। কিছু একেবারে স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাতীত ঈশ্বরপ্রদত্ত গুণ আছে যা বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রম, পূর্ণ মনোনিবেশ ও অতন্দ্র অধ্যাবসায়েও বশে আনা যায় না, আর শুধুমাত্র এই কারণেই সত্যজিতের সিনে ব্যাকরণ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার পরেও বড় পর্দায় সন্দীপ রায়ের নবম ফেলুদার ছবি নয়ন রহস্যও শেষ অবধি ফেলুদা নস্ট্যালজিয়ায় ভোগা মুষ্টিমেয় কিছু বাঙালির জন্য বরাবরের মতো কেবল একটা ওয়ান টাইম ওয়াচই হয়ে দাঁড়ায়, সত্যজিতের সোনার কেল্লার সুবর্ণজয়ন্তীকে উৎসর্গ করতে চেয়েও তার মতো কালজয়ী হয়ে উঠতে পারে না।

 

সুরিন্দর ফিল্মসের ব্যানারে এই ২০২৪ এর মে মাসের দশ তারিখে গরমের ছুটির অবসরে সন্দীপ রায়ের নবতম ফেলুদা ছবি নয়ন রহস্য মুক্তি পেল। শেষ ফেলুদা ছবি হত্যাপুরী এসেছিল ২০২২ সালের ক্রিসমাসের ছুটিতে। একটা দীর্ঘ বিরতির পর গত ছবির ত্রয়ী ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, অভিজিৎ গুহ ও আয়ুষ দাসকে নিয়েই পুনরায় এবারের নয়ন রহস্য অভিযান। গল্প সত্যজিৎ রায়ের এবং ছবির চিত্রনাট্য সঙ্গীত ও পরিচালনা সন্দীপ রায়ের। সোনার কেল্লার সুবর্ণ জয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে এ বছরের ফেলুদা ছবির গল্পও একটি শিশু এবং তার অতিলৌকিক ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সোনার কেল্লার মুকুল ছিল জাতিস্মর আর এখানকার আশ্চর্য শিশুচরিত্র নয়ন ( অভিনব বরুয়া) যেকোনও সংখ্যা বিষয়ক প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দিতে পারদর্শী। নয়ন রহস্য ছবিতে জাদুকর সুনীল তরফদারের ( দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়) জাদু প্রদর্শনীতে তার এই আশ্চর্য দৈব প্রতিভা জনসমক্ষে প্রকাশ পেতেই কিছু স্বার্থাণ্বেষী মানুষ নিজস্ব ব্যক্তিগত লাভের কারণে নয়নকে তাদের বাগে আনতে উদ্যোগী হয়ে পড়ে। এর মধ্যে আছে মার্কিন ধনকুবের স্যাম কেলারম্যান ও তার ভারতীয় এজেন্ট নন্দলাল বসাক( বিশ্বনাথ চক্রবর্তী), তারকনাথ ওরফে টি এন টি ( সুপ্রিয় দত্ত) এবং তার বিশ্বস্ত পালিত সঙ্গী বিশালাকার দানবীয় মানুষ গাওয়াঙ্গি এবং রেসের মাঠের নিয়মিত জুয়ারী হজসন সাহেব( ভরত কল)। এদের লুব্ধ দৃষ্টি থেকে বাঁচতে হঠাৎই ভাগ্যক্রমে এক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পৃষ্ঠপোষকের সহায়তায় বাংলা থেকে অনেক দূরে দক্ষিণ ভারতে কয়েক সপ্তাহের এক ম্যাজিক শোয়ের ট্যুরে বেড়িয়ে পড়ে তরফদারের দল। নয়নের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রায় স্ব ইচ্ছাতেই তাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে ফেলুদাও। দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাজ দিয়ে তরফদারের এই জাদু প্রদর্শনী সফরের শুরু। এরই পাশাপাশি আবার রীতেশ হিঙ্গোরানি ( মোহন আগাসে) নামে আরেক ভদ্রলোকেরও নিরাপত্তার দায়িত্ব এসে পড়ে ফেলুদার ওপর এবং ভাগ্যক্রমে কলকাতা থেকে দূরে চলে যাবেন মনস্থ করে তিনিও এসে উপস্থিত হন মাদ্রাজ বা চেন্নাই শহরেই। একসাথে ঘনিয়ে ওঠা এই যুগল রহস্য আসলে এক সূত্রে গাঁথা না পৃথক তা জানতে গেলে হয় মূল গল্পটি পড়তে হবে নয়তো ছবিটি দেখতে হবে কারণ সত্যজিতের মূল গল্পের সাথে ছবিটির কোনও পার্থক্যই নেই, শুধুমাত্র আজকের যুগোপযোগী করার ন্যূনতম দুটো একটা প্রচেষ্টা ছাড়া। এই প্রাসঙ্গিক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহারটাই একমাত্র চোখে পড়ে। এর বাইরে সন্দীপ রায়ের আজকের ফেলুদাও ভীষণভাবেই সেই সনাতন পুরনো ফেলুদাই রয়ে গেছে, আর সেটা মানসিকভাবে একরকম আরামদায়কই বলা যায়। এবার আসি ছবির গুণমানের প্রশ্নে। প্রথম দিকে ছবির গল্পের আবহ তৈরির জন্য যতটুকু গতি দরকার ছিল প্রায় ততটাই থাকলেও বিরতির পরে ছবির গতি বাড়ে এবং শেষটুকু অনেকটাই প্রয়োজনের চেয়েও বেশি দ্রুত মনে হয়। ফেলুদার এ গল্পটি সত্যজিৎ লিখেছেন অনেক পরে এবং তাঁর সেরা ফেলুদা গল্পগুলোর মধ্যেও এটি পড়েনা, ফলে মূলগত দুর্বলতা তো কিছু ছিলই, তবুও এটি সম্ভবত নির্বাচন করা হয়েছিল একমাত্র সোনার কেল্লার সাথে তার চরিত্রগত মিলের কারণেই। মুশকিল হল সন্দীপ রায় সত্যজিৎ নন, ফলে এরকম একটি পরাবাস্তব বিষয়কে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার জন্য যে তুখোর মুন্সিয়ানার দরকার সেটাও তাঁর নেই। ফলে তাঁর আর পাঁচটা ফেলুদা ছবির মতোই এটাও শেষ অবধি একটা গড়পড়তা ছবি হয়েই রয়ে যায়। স্বভাবসিদ্ধ ব্যাকরণসমৃদ্ধ ফর্মুলা পরিচালনার সীমাবদ্ধতা ভেঙে এবারেও তিনি বেড়োতে পারেন না। পরিচালনার বাইরে ছবির একঢালা সমান্তরাল গল্প বলার স্টাইল ও সাধারণ মানের সঙ্গীতের ব্যবহার ছবিটিকে গুণগতভাবে তেমন সাহায্য না করলেও এ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি বা দৃশ্যায়ন কিন্তু বেশ ভাল, বিশেষ করে চেন্নাইয়ের মহাবলীপুরম মন্দিরের দৃশ্যগুলির নান্দনিক চিত্রগ্রহণ এ ছবির অন্যতম সম্পদ। অভিনয়ের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টা সবচেয়ে বিতর্কিত সে প্রসঙ্গে একটাই কথা বলা যায়, এ মুহুর্তে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ছাড়া ফেলুদা হওয়ার মতো জায়গায় আর কেউ নেই। হ্যাঁ, উচ্চারণগত দিক এবং কিছু জায়গায় বডি ল্যাঙ্গুয়েজে যথেষ্ট বাঙালিয়ানার অভাবটি তাঁর মধ্যে বেশ প্রকট, কিন্তু তারপরেও বয়স, চেহারা এবং আজকের যুগোপযোগী স্মার্ট ফেলুদাকে যথেষ্ট সন্তোষজনক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরতে তিনি সক্ষম। ফেলুদার চরিত্রগত তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও ক্ষিপ্রতা গোটা ছবি জুড়ে তাঁর সুঠাম চেহারা ও বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টিতে বেশ সাবলীলভাবেই ফুটে উঠেছে। অকারণ সমালোচনায় কান না দিয়ে প্রাণপণে ফেলুদা হয়ে ওঠার দুরুহ কাজে যে তিনি মনপ্রাণ দিয়ে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, কিছু বিশেষ সীমাবদ্ধতার পরেও অন্তত তাঁর সেই চেষ্টাটুকু পর্দায় চোখে পড়ে এবং শুধুমাত্র এই চেষ্টাটুকুর জন্যেই তাঁর আন্তরিক কুর্নিশ প্রাপ্য। বাকিদের মধ্যে জটায়ুর ভূমিকায় অভিজিৎ গুহর কথাও না বললেই নয়। বহুদিনের আক্ষেপ মিটিয়ে অবশেষে এই ছবিতে এসে তাঁর মধ্যে বাঙালি অবশেষে এক ভাঁড়ামিবিহীন স্বাভাবিক মজাদার জটায়ুকে খুঁজে পেল, এ প্রাপ্তি সত্যিই মনে রেখে দেওয়ার মতো। তোপশের ভূমিকায় আয়ুষ দাস খানিকটা আরষ্ট, তবে সবমিলিয়ে হত্যাপুরীর তুলনায় এ ছবিতে তিনজনের রসায়ন নিঃসন্দেহে অনেক পোক্ত। বাকি কুশীলবদের অভিনয় নিজের নিজের চরিত্র অনুযায়ী যথাযথ। হিঙ্গোরানির চরিত্রে বহুদিন পর মোহন আগাসেকে সত্যিই ভাল লাগল। কিন্তু টি এন টির আধাপাগল সংগ্রাহক চরিত্রের ভূমিকায় সুপ্রিয় দত্তের অতিনাটকীয় অভিনয় বড়ই স্থূলদাগের, আর তেমনই বেমানান ও হাস্যকর তাঁর পালিত বিশালাকার দৈত্যমানব গাওয়াঙ্গি।  তবে অভিনয়ের দিক থেকে এ ছবির অন্যতম সম্পদ নয়নের ভূমিকায় শিশু চরিত্রাভিনেতা অভিনব বরুয়ার আশ্চর্য সাবলীল অভিনয়। গোটা ছবি জুড়ে তার নিষ্পাপ মুখশ্রী ও মায়াজড়ানো চোখের জাদুময় অভিনয়ে গল্পের আশ্চর্য বালক নয়ন যেন সত্যিই জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। সোনার কেল্লার মুকুলের মতোই এ ছবির নয়নকেও তাই বহুদিন মনে থেকে যাবে।

 

নানা কারণে আমি নয়ন রহস্য দেখতে যাই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার দিন কয়েক পরে। দারুণ গরমের মধ্যে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সান্ধ্যকালীন সুবিধাজনক সময়ের শোতেও সাকুল্যে হলে ছিলেন জনা তিরিশ লোক। আমাদের বয়সীই বেশি এবং সকলেরই সাথে একটি বা দুটি কিশোরবয়সী বালক বালিকা। আজকের দিনের অসম্ভব যান্ত্রিক ব্যস্ততার কারণে যেখানে অধিকাংশ সিনেপ্রেমী দর্শকের কাছে ওটিটি মাধ্যমই প্রধান হয়ে উঠেছে, সেখানে অন্তত গরমের ছুটির অবসরে কিছু অভিভাবক যে তাঁদের শিশুসন্তানটিকে নিয়ে ফেলুদার ছবি দেখতে হলমুখো হয়েছেন, দিনের শেষে এটুকুই বোধহয় প্রাপ্তি, এটুকুই কালজয়ী ফেলুদা ম্যাজিক। আর বাকি ভুলত্রুটির চুলচেরা হিসেব নাহয় তোলা রইল পরেরবারের জন্যে।

 

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত