নেওড়া ভ্যালির রূপকথারা

সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এই প্রান্তর পাখিদের স্বর্গরাজ্য। পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ চোখে পড়ে বরফ জমা পাহাড়ি নদী। এই রকমই এক রূপকথার জায়গা নেওড়া ভ্যালি।

নেওড়া ভ্যালি ন্যাশানাল পার্কের বিস্তার ডুয়ার্সের ঝালং-বিন্দুর কাছ থেকে শুরু করে বাংলা-ভুটান সীমানা ধরে সিকিম, ভুটান আর বাংলা তিনটির সংযোগস্থল হয়ে লাভা পর্যন্ত। এই জঙ্গলে ট্রেক করা যায় একমাত্র শীতকালে। কারণ এই অরণ্য অত্যন্ত ঘন এবং গাছপালার বাড়বাড়ন্ত এত বেশি যে যেটুকু রাস্তা শীতে তৈরী হয়, তা আবার ঝোপে ঢেকে যায়। এখানকার বাস্তুতন্ত্র বেশ অদ্ভুত। এখানে ক্রান্তীয়, উপক্রান্তীয়, নাতিশীতোষ্ণ সব ধরণের গাছপালা দেখা যায়। প্রায় ১৬০ কিমি বিস্তৃত এই অরণ্য পাখিদের স্বর্গরাজ্য। এছাড়া ভাল্লুক, সিভেট, ফ্লাইং স্কুইরেল আরো অনেক প্রজাতির প্রাণীর বাস এখানে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য এই জঙ্গলে বেশ কিছু রেড পান্ডারও বাসভূমি। এই ট্রেকটি রাচেলা ট্রেক নামেও বিখ্যাত, কারণ এর উচ্চতম জায়গা হলো রাচেলা দাঁড়া, উচ্চতা প্রায় ১০,৬০০ ফুট।

জানুয়ারী মাসে আটঘাট বেঁধে চললাম নেওড়া ট্রেকে। ট্রেনে পোঁছলাম নিউ-মালবাজার, সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে গেলাম লাভা। উঠলাম অর্কিড হোটেলে ডরমেটরিতে। আমার সহযাত্রীদের মধ্যে দু’জনের একেবারে প্রথম ট্রেক। আমায় নিয়ে দলের বাকি তিনজনেরই ট্রেকিংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ, বিকেলের ঠান্ডায় লাভাতেই হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমরা ফরেস্ট অফিস গিয়ে ট্রেকিংয়ের জন্য পারমিট করলাম। এখানে নিয়ম হচ্ছে সঙ্গে গাইড অবশ্যই থাকতে হবে। আমরা অনুরোধ করে একজন ফরেস্ট গার্ডকেই পেলাম গাইড হিসেবে তাঁর নাম যোসেফ। আরেকজন পোর্টারও নিলাম। সেই সন্ধ্যেটা এখনও মনে আছে, শনশন করে হাওয়া বইছে, পিছনের বারান্দা থেকে লাভা মনাস্ট্রি দেখা যাচ্ছে।ডানদিকে দূরে আবছা পাহাড়, কাল যেখান থেকে হাঁটা শুরু করবো, ক্রমেই তা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।

পরদিন ভোরবেলা লাভায় হোটেলে ব্রেকফাস্ট সেরে ঝটপট গাড়িতে বেরিয়ে পড়লাম। সকালের নরম আলোয় মনাস্ট্রিকে বাঁদিকে রেখে গাড়ি এগিয়ে চলল সামনের পাহাড়ের দিকে।খানিক এগিয়ে রাস্তা দু’ভাগ হয়ে গেছে, বাঁদিকে কোলাখাম, আর আমরা রওনা দিলাম ডানদিকে। লাভা থেকে মোটামুটি ৭ কিমি দূরে চৌদাফেরি। ছোট ফরেস্ট বিট অফিস। এখানে পারমিট দেখিয়ে শুরু হল হাঁটা। অনেকে এই চৌদাফেরি থেকে ৬ কিমি মতো দূরত্বে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসেন। আমরা ফরেস্ট অফিসকে পাশে রেখে ঢুকে পড়লাম জঙ্গলে। আমরা একটু উঁচু অঞ্চল দিয়েই হাঁটছিলাম। এই জঙ্গলের গন্ধ প্রায় অনাঘ্রাত। পর্যটকদের ভিড় নেই। জঙ্গলে স্পট শোনা যায় হাওয়ার শনশন শব্দ, পোকার কিরকিট কিরকিট আওয়াজ। বেশ কিছুক্ষণ পাহাড়ের চড়াই উতরাই পেরিয়ে পৌঁছলাম জঙ্গলে ঢাকা প্রায় সমতল এক অঞ্চলে। ঘন সবুজে ঢাকা প্রান্তর, মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট তিরতিরে এক নদী যার তলা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। অবাক হয়ে দেখলাম নদীর তলার সবকটা পাথর শেওলা-সবুজ, জল যেন আয়না, আর তাকে ঘিরে লতাপাতা, ছোট ছোট ঝোপ, প্রচুর নাম না জানা অর্কিড। চারিদিক ছায়ায় ঘেরা। চারদিকে শিশির জমে বরফ হয়ে ঝুলে আছে। ঝোপে, নদীর পাথরের উপরে স্বচ্ছ বরফ স্ফটিক শুভ্রতায় ঝলমল করছে। এ এক অপার্থিব দৃশ্য।

একটু দূরে দেখতে পেলাম একটা ওয়াচ টাওয়ার, যোসেফ জানালেন ওটা জড়িবুটি ওয়াচ টাওয়ার, এ অঞ্চলে প্রচুর ওষধি গাছ রয়েছে বলে তার এরকম নাম। এতক্ষণে আমরা প্রায় তিন ঘন্টা হেঁটেছি অথচ ঠান্ডা এতটাই বেশি যে শরীর গরম হওয়ার কোনও লক্ষণই নেই। হঠাৎ চোখে পড়ল একরাশ উজ্জ্বল কমলা রঙের মাশরুম! এই মাশরুমটি দেখে এতো অবাক হলাম যে ঠান্ডাও ভুলে গেলাম। এমন মাশরুম এর আগে কখনও দেখিনি। জোসেফ জানালেন এগুলো সালফার মাশরুম। এই মাশরুম ভাজা খেতে নাকি দারুণ! মাশরুম দেখে দল বেঁধে আমরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠলাম। এখান থেকে অরণ্যের অনেকটা অংশ দেখা যায়। বিস্তৃত এক ঘাসজমি আর বুনোঝোপে ঠাসা প্রান্তরটা দূরে আস্তে আস্তে পাহাড়ে উপর উঠে গেছে যেন। নীচে নীল নদী আর সবুজ বনের ক্যামোফ্লাজ। বেশ ভাল লাগছিল এই দৃশ্য। খানিকক্ষণ ওয়াচ টাওয়ারে কাটিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম।আকাশ এবার খানিকটা খোলা, দূরের সবুজ পাহাড় দেখা যাচ্ছে।আমরা পৌঁছলাম আরেকটা নদীর পাড়ে। এটি নেওড়া নদীরই একটা শাখা, আগের নদীটার চেয়ে বড়। আমরা একে একে টপকে ওপারে গেলাম। এখানেই সাজানো রয়েছে ছোট একটি ফরেস্ট ক্যাম্প। তখন দুপুর প্রায় দেড়টা।

শিরশিরে হাওয়া বইছে সারাক্ষন, আপন মনে নদী বয়ে চলেছে নীলচে সবুজ আভা মেখে। হালকা সবুজ, গাঢ় সবুজ, পাটকিলে, হলদেটে সবুজ গাছগাছালি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। উপরে বিশাল নীল আকাশ। এমন পরিবেশের তুলনা হয় না। জঙ্গল ক্রমে আরও ঘন হয়ে উঠছে। পায়ে পায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে লতানে গাছ। জঙ্গলের ভিতর গাঢ় অন্ধকার, জলে জঙ্গলে মাখামাখি, একদিকে বাঁশবন আধিভৌতিক চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চিলতে আলো পড়ে মায়াবী এক জগৎ যেন দেখলাম চোখের সামনে। একটা ছোট টিলা টপকে পড়লাম সমতলে, এখানে অদ্ভুত ঘাসফুলে মাঠ ছেয়ে আছে। দূরে এক জায়গায় আরও একটা ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পেলাম। জোসেফ জানালেন ওটা ভাঙা, এখন আর ওঠা যায়না। ঘাসবন পেরিয়ে আবার চড়াই শুরু হলো। এই জঙ্গলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে জায়গায় এত ধরনের বিপরীতধর্মী গাছের সমাবেশ। এতক্ষণে বেশে খিদে পেয়েছে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার আমরা হাঁটতে শুরু করলাম, উপরে পাহাড়ের খাঁজে দূর থেকে একটা ছোট ঘর চোখে পড়ছে।ওটাই আলুবাড়ি ফরেস্ট ক্যাম্প । আজ আমাদের রাতের আশ্রয়স্থল। ক্যাম্পের কাছে পৌঁছে পাশের ঝোপেই দেখি ভীষণ সুন্দর কিছু পাখি। চিনেতে পারলাম এরা ব্ল্যাক-ফেসড লাফিঙথ্রাশ। ক্যাম্পে ঢুকতেই চৌকিদার জানালেন আজ রাতে তো বরফ পড়বে! বেশ অবাক হলাম শুনে। কারণ এই জায়গার উচ্চতা মেরেকেটে ৮০০০ ফিট। জোসেফের মুখ থেকে শুনলাম যে তার মানে হল তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নামবে, জল জমে ক্রিস্টাল হয়ে যাবে! সারাদিন হেঁটে আমরা সবাই ক্লান্ত। বিকেলবেলা ক্যাম্পের বাইরে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলাম। নিভে যাওয়া আলোয় পাতাঝরা গাছেরা তৈরি করছে অদ্ভুত সিল্যুয়েট। লালচে কমলা রঙের ছোট ছোট রেড হেডেড বুলফিঞ্চ একটানা কিচিরমিচির করে চলেছে।। এমন সৌন্দর্য দেখে সব ক্লান্তির কথা ভুলে গেলাম।


পরদিন আলুবাড়ি ক্যাম্পে থেকে ভোর ভোর বেরোলাম। দিনের আলো তখন ঠিক ভাবে ফোটেনি। অল্প আলোয় তীব্র ঠান্ডায় আমরা সবাই জড়োসড়ো হয়ে আছি। শিশির ভেজা বারান্দায় গরম চায়ে চুমুক দিলাম। এরপর আবার ট্রেকিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হল। আজ হাঁটবো রাচেলা পাস বা রাচেলা দাঁড়া হয়ে রুখা ক্যাম্প। জোসেফের মুখে শুনলাম আজ জঙ্গল আরও ঘন এবং আজ চড়াইও আছে খানিক। শুরু হলো হাঁটা, গাছের চরিত্র ও আস্তে আস্তে পালটাতে শুরু করল। শাল, ওকের জায়গা নিলো বাঁশ, রডোডেনড্রন। ঘন জঙ্গলে রোদ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই স্যাঁতস্যাঁতে ভাব চারদিকে। চলতে চলতে ঢুকে পড়লাম একেবারে ঘন জঙ্গলে। এখানে একেবারে ঘন অন্ধকার। চারদিকে বাঁশগাছ ভর্তি। জোসেফ বললেন এখানেই রেড পান্ডা দেখা যায়।খানিক ইতিউতি চাইলাম, যদি একবার দেখা মেলে। কিন্তু সে সুযোগ হল না। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছলাম এক অদ্ভুত জায়গায়, রাস্তাটা কেমন যেন সুঁড়িপথ হয়ে গেছে। বড় অন্ধকার। চারপাশে কিছু ঠাওর হয় না। বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর সেই অন্ধকার গুহা থেকে বেরোলাম। বেরোতেই পড়লাম ভীষণ সবুজ এক মাঠের মধ্যে। ঝোপঝাড়, বাঁশগাছে ভরা। সামনেই দুটো পুকুর, স্থানীয় ভাষায় জোড়পোখরি। জলের কিছু কিছু জায়গা জমে বরফ হয়ে আছে, বাকিটা সবজে নীল জেলির মতো। পুকুরের বাঁদিকে একটু উপরে পাকা বাড়ি। সামনে গিয়ে দেখি পুরোপুরি ধ্বসে গেছে।শুনলাম এক অদ্ভুত প্রশাসনিক চাপানউতোরের গল্প। বাংলোটি নাকি সিকিম সরকার বানিয়েছিল। কিন্তু হিসেবের গোলমালে তা ঢুকে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে। সেই নিয়ে বাদানুবাদে আর কিছুই শুরুই করা যায়নি। রাচেল্লা পাস বা দাঁড়া হল ঠিক এর পরেই।এই জায়গাটিকে ট্রাই-জংশনও বলে। এটি পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম আর ভুটানের মিলনস্থল ।


এখানে বসে খাওয়াদাওয়া সেরে কিছুক্ষণ জিরিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটু এগোতেই এল রাচেল্লা পাস। উচ্চতা ১০,৬০০ ফুট। উপরে উঠে এলাম, তখন বেলা প্রায় ১১-৩০টা। সামনে বিস্তৃত আকাশ আর সবুজ, নীল, ধূসর পাহাড় ক্রমশ আবছা হয়ে মিলিয়ে গেছে আকাশে। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে নাকি দারুণ লাগে। কিন্তু আমাদের কপাল খারাপ। আকাশ বেশ মেঘলা, সঙ্গে জোরালো হাওয়া। চারপাশ একেবারে ধূসর। মেঘের আড়াল থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে সন্তুষ্ট থাকতে হল। সাদাকালো পুরোনো দিনের ছবির মতো লাগছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। মনে মনে ভাবলাম এই বা কম কী! কিছুক্ষণ ওখানে কাটিয়ে আবার হাঁটা শুরু হল। এখানে  রডোডেনড্রন গুলি বিরাট বড়। মহীরুর বলা যায়। লালচে বাকল ঝুলছে, আর সাদা কান্ড উঠে গেছে উঁচুতে, জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে গাছগুলো। নীচে ঝরা পাতার গদি পাতা। সরসর করে নামছি, সে ভারী মজা ।

খানিক নামার পরে আবার জঙ্গল শুরু হলো, গাছের চরিত্র ইতিমধ্যে বদলে গেছে, পরিচিত গাছপালা বেশি নজরে আসছে ।এই ট্রেকে জঙ্গলের বৈশিষ্ট্য নজরকাড়া। নীচের দিকে ক্রান্তীয় জঙ্গল, ঘাস জঙ্গল পেরিয়ে নাতিশীতোষ্ণ এমনকি রাচেল্লা পাসের কাছে সাব আলপাইন জঙ্গলও চোখে পড়লো। পৌঁছলাম রুখা-১ ক্যাম্পে। ক্যাম্পটা ছোট। গাছ গাছালির মধ্যে হঠাৎ ঠাহর করা যায় না। ক্যাম্পের সামনের এক চিলতে জায়গা। নীচে তোদে-তামটা যমজ ভ্যালি দেখা যাচ্ছে, সূর্যের শেষ আলো পড়েছে নীচের উপত্যকায় সোনালী ধানে, জঙ্গলের মাথায় মাথায়। কান্তি ভুলে তাকিয়ে রইলাম সেদিকেই।


পরদিন ভোর ভোর উঠলাম। আজই শেষ দিন। নীচে চোখ পড়তে দেখলাম তোদে-তামটা ভ্যালি আড়মোড়া ভেঙে রোদ মেখে সেজেগুজে বসে রয়েছে। তার গা ভর্তি সোনালী গম, মাথায় সবুজ চুলে সোনালী মুকুট, কানে, গলায় সোনার ঝিকিমিকি, এক্কেবারে সালংকারা। রুখা ক্যাম্পে ঠান্ডা একটু কম। আমরা নেমেও এসেছি অনেকটা। জঙ্গলও পাতলা হয়ে আসছে ক্রমশ। আমরা নামছি বেশ তরতর করে। বাঁশগাছের হাতছানি আর নেই, বদলে চেনা ক্রান্তীয় গোত্রের গাছপালা। ঘন্টাখানেক হাঁটার পর পৌঁছলাম তোদে ভ্যালি। একটা মাঠে ছোট ছেলেরা ফুটবল খেলছে। সামনে ছোট গ্রাম। বড়ো এলাচের খেত, দেশীয় পদ্ধতিতে জলসেচ চলছে। এসব পেরিয়ে আবার ঢুকে পড়লাম জঙ্গলে। এখানে শিমুল, জারুল গাছে ভর্তি । প্রচুর পাখি, সারাক্ষন এক অদ্ভুত আওয়াজ ঘিরে রেখেছে আমাদের। নামতে নামতে এলাম নদীর কাছে, দূর থেকে নদীর ওপর দোলনা ব্রিজ দেখতে পাচ্ছিলাম, কাছে এসে দেখি ব্রিজের মাঝখানে কিছু নেই!  মানে পাথর টপকে নদী পেরোতে হবে । এ পারে তামটা ভ্যালি, ধাপচাষ, অদ্ভুত সুন্দর এক ভূমিরূপ তৈরী হয়েছে ধাপে ধাপে ।

তামটা বাজারের কাছে  পৌঁছে একটি হোমস্টেতে ব্যবস্থা হলো থাকার ব্যবস্থা। শেষ হলো হাঁটা। কাল গাড়ি করে ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরার পালা। এই তিনদিন ধরে নিবিড় জঙ্গলে অনেক কিছু শিখলাম। আদিম পৃথিবী কতটা অন্যরকম ছিল তার কিছুটা আঁচ পেলাম এই ট্রেকে। আমাদের হাতের কাছে এরকম একটা জায়গা যে আছে, এখানে না এলে কোনোদিন জানতেও পারতাম না ।

১. ট্রেনে এনজেপি বা নিউ মালবাজার নেমে গাড়িতে লাভা; হাঁটা শুরু লাভা থেকে, শেষ তামটা ভ্যালিতে; সেখান থেকে শেয়ার গাড়িতে নিউ মালবাজার বা এনজেপি গিয়ে ট্রেন।

২. পারমিশন, গাইড, থাকা-খাওয়া নিয়ে ট্রেকের জনপ্রতি খরচ মোটামুটি ৬০০০ টাকা, এছাড়া যাতায়াত ও লাভায় থাকা-খাওয়ার খরচ আলাদা।

৩. গাইড যোসেফের যোগাযোগ: ৯৯৩২০৩৫২৪২

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত