নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের বিমান হামলা 

 

নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হামলায় পাকিস্তানের ‘জঙ্গি ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে এক হাজার কেজি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ভারতের এই অভিযানের কথা স্বীকার করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে মুজাফফরাবাদ সেক্টরে অনুপ্রবেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। তবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপে ভারতীয় বাহিনী পালিয়ে যায়। এতে পাকিস্তানের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাক বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে ভারতের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। ভারতের একটি যুদ্ধবিমানও ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিচালিত ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিযানে জইশ-ই-মোহাম্মদের বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার ও  প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। মঙ্গলবার সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা ওই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সে কারণেই ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ। পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ওই হামলা সংঘটিত হয়েছে দাবি করে তখন থেকেই সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলো ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টা নাগাদ ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর ওই হামলা সম্পর্কে ভারতীয় বিদেশ সচিব বিজয় গোখলে জানান, ‘‘বালাকোটে জইশের সবথেকে বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। জইশ-এ-মোহাম্মদের বহু জঙ্গি, সিনিয়র কমান্ডার, প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে।’’ হামলায় নিহতদের মধ্যে মাসুদ আজহারের শ্যালক মৌলানা ইউসুফ আজহারও ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় বাহিনীর অভিযান ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসেছে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এ বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ দেশটির প্রশাসন ও সামরিক নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি ভারতীয় যুদ্ধবিমান কর্তৃক পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সবাইকে সংক্ষিপ্তাকারে জানান। এ বৈঠকে ভারতের এ ধরনের পদক্ষেপের জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ বৈঠকের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি আরেকটি জরুরি পরামর্শ বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকের পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান, পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং দিল্লির এ ধরনের পদক্ষেপের জবার দেয়ার অধিকারও রাখে ইসলামাবাদ।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্ব জানিয়ে রাখছি, কী ঘটেছে। তারা আজ পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে। তারা এলওসি লঙ্ঘন করেছে। আর পাকিস্তান অবশ্যই আত্মরক্ষা এবং এ ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

এর আগে সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হিসেবে মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানিয়েছিলেন, ভারত রাতে এলওসি অতিক্রম করেছিল। কিন্তু পাকিস্তান বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ভারত পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের এ অভিযানে তাদের পক্ষে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত