Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,news/india/rahul-gandhi-drive-tractor-to-reach-loksabha

কৃষি আইনের প্রতিবাদে ট্রাক্টর চালিয়ে সংসদে এলেন রাহুল

Reading Time: 3 minutes

কৃষক আন্দোলন ও পেগাসাস-কাণ্ডে সরকারের বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী  সোমবার সংসদ ভবনে এলেন ট্রাক্টর চালিয়ে। সংসদ ভবনের প্রধান সড়কের সামনে ট্রাক্টরে আসীন রাহুল যখন কৃষক আন্দোলন নিয়ে সরকারের ঔদাসীন্যের সমালোচনায় মুখর, সংসদের অভ্যন্তরে তখন বিরোধীরা জোট বেঁধেছেন পেগাসাস-কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে।

বিরোধী প্রতিরোধ এতই তীব্র ছিল যে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারও বারবার মুলতবি করে দিতে হয় দুই কক্ষকে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিবিরোধী ঐক্য জোরদার করার উদ্দেশ্যে দিল্লি এলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বেলা ১১টা নাগাদ পাঞ্জাবের কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রাহুল একটা ট্রাক্টর চালিয়ে বিজয় চকের সামনে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। ট্রাক্টরের সামনে কালো কাপড়ের ওপর বড় বড় করে লেখা ‘কিষানবিরোধী তিন কালো কৃষি আইন প্রত্যাহার করো’। কংগ্রেস সাংসদদের বুকে-পিঠেও এই দাবি লেখা পোস্টার সাঁটানো। সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, ‘দেশের অন্নদাতাদের অধিকার কেড়ে মোদি সরকার জনা কয়েক শিল্পপতির পেট ভরাতে চাইছে। আন্দোলনরত কৃষকদের বার্তা আমি সংসদ ভবনে পৌঁছে দিতে চাই। সরকার এ নিয়ে সংসদে চর্চা করতে দেয় না। কৃষকদের এই সরকার দাবিয়ে রেখেছে। ’

সেই বার্তা দেওয়ার জন্য ট্রাক্টরে চেপে কেন আসতে হবে, জানতে চাইলে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘ট্রাক্টর ও কৃষক সমার্থক। তাই ট্রাক্টর নিয়ে এসেছি, যাতে সরকারের কাছে ঠিক বার্তা পৌঁছানো যায়। ’ রাহুল বলেন, ‘এই তিন আইন সরকার করেছে দেশের কয়েকজন শিল্পপতির স্বার্থে। তাঁরা কারা, সারা দেশের মানুষের তা জানা। সরকারকে এই তিন আইন প্রত্যাহার করতেই হবে। ’ গত বছর জুন মাসে করোনায় বিপর্যস্ত সময়ে সরকার কৃষি সংস্কারের উদ্দেশ্যে তিনটি অধ্যাদেশ জারি করে। সেই থেকে দেশের কৃষকসমাজের এক বিরাট অংশ ওই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আসছে। এরপর সংসদীয় অধিবেশনে বিনা আলোচনায় ওই তিন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরিত হলে কৃষকসমাজ দিল্লি ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয় দিল্লি অবরোধ। সোমবার সেই আন্দোলনের আট মাস পূর্ণ হয়।
কৃষকদের সম্মিলিত সংগঠনের সংযুক্ত ‘কিষান মোর্চা’র দাবি, এই আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৫৮২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়, কৃষক আন্দোলনে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই হিসাব সরকারের কাছে নেই। সংসদ ভবনের অদূরে যন্তরমন্তরে আন্দোলনকারী কৃষকেরা দৈনিক যে ‘কিষান সংসদ’-এর আয়োজন করছেন, সেখানে সরকারের এই ‘ঔদাসীন্য ও উপেক্ষা’র নিন্দা করা হয় কড়া ভাষায়। সোমবারের সমাবেশে যোগ দেন নারীরাও। কিষান আন্দোলন নিয়ে বিরোধীরা জোটবদ্ধ আগে থেকেই। আইন বাতিলের দাবিতেও বিরোধীরা একমত। এরই সঙ্গে বিরোধীদের পালে হাওয়া জুগিয়েছে পেগাসাস-কাণ্ড। ইসরায়েলি সংস্থা ‘এনএসও’র তৈরি ফোনে আড়ি পাতার এই ব্যবস্থা ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশ কিনেছে। অভিযোগ, ভারতের বিরোধী দলের নেতা, শাসক দলের কোনো কোনো সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিল্পপতি, সমাজকর্মীসহ অন্তত ৩০০ জনের ফোন এই নজরদারির আওতায় কোনো না কোনো সময় ছিল।
সরকারের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদে জানিয়েছেন, যারা ভারতের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত, ভারতের অগ্রগতি চায় না, তারাই এই চক্রান্ত করছে। লক্ষ্য, ভারত ও ভারতের সরকারকে ছোট করা। সরকারের এই মনোভাবের সমালোচনা করে বিরোধীরা দাবি জানাচ্ছেন, অবিলম্বে এ নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে হবে। তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে। এই দাবিতে গত সপ্তাহেও বিরোধীরা সংসদের স্বাভাবিক কাজ হতে দেননি। সোমবারও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দফায় দফায় মুলতবি করতে হয় লোকসভা ও রাজ্যসভা অধিবেশন। বিরোধীদের সম্মিলিত দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নিজে থেকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিন। কেননা, সরকার এখনো জানাচ্ছে না আদৌ তারা এই ব্যবস্থা কিনেছে কি না, ব্যবহার করছে কি না। শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, ২০১৮ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাততে বাজেটে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি রুপি খরচ ধরা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এখনো নিরুচ্চার। যদিও এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছান। তার আগে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ফোনে নজরদারির ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের এক কমিশন গঠন করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মদন লোকুর ও কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য পেগাসাস-কাণ্ডের তদন্ত করবেন। পেগাসাসের আওতায় তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন রয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। মমতা চান অন্য রাজ্যগুলোও এভাবে তদন্ত শুরু করুক।
     

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>