বেড়ে আসা অন্ধকারের দাবদাহ
যেন আত্মহত্যার শেষ লগ্নে বেঁচে থাকার অন্তিম প্রয়াস।
পরিস্থিতি কিসমিসের মতো চুপসে গেলে
প্রতিবাদের অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যায় দেহের জল রক্ত
স্ব-ইচ্ছায় ওত পেতে বসে থাকা আহত সন্ধ্যা-
এই নিয়েই আমাদের সংক্রামিত যাপন,
আমাদের কাটখোট্টা ব্রহ্মচর্য।
সাড়া নেই। শুধু ক্ষীণ পরিবেশ।
যাতায়াত করি। বিচ্ছেদ ঘন হয়।
আমরা মানব বন্ধন গড়ে ফেলি।
পুরুষের মিথ্যে। একপেশে এক হাসি।
দুধ শেষ। আমি সর হয়ে গোঁফে ঝুলি।
ধার ধরে হাঁটি। ব্যালেন্স কমে গেলে।
কুপুত্র বড়ো হলে, বাড়িতে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি।
ঝুলে পড়ি। টুকরো টুকরো। ব্যালকনি।
নারীসঙ্গ দুষ্ট হলে। পাহাড় কমিয়ে ফেলি।
দেখে ফেলি। মন খারাপের পাহাড়ি মেয়ে।
সুনসান রাস্তায় কাঁদানে গ্যাসের হুমকি :
সেই থেকে এর পোঁদে লাথি, ওর পোদে মলম। পুরু মেদের ভেতরে তো শুধুই গ্যাস। আর গ্যাস বেলুন হয়ে কতদিনই বা একটানা আকাশে ওড়া যায় বলুন। বেলুন তো ল্যান্ড আজ না হয় কাল করবেই কাকা!!
কালভাটে মানুষ ফেলে লঙ্কানৃত্য :
সাবধান! মাঝিমধ্যেই কিন্তু এস্ট্রয়েড ধেয়ে আসছে। তীর-ধনুক, ইট-পাটকেল, গোলা-বারুদ, ভাগাড়ের মাংস হজম যদিও সব তবু পোদে একবারটি গ্রহানুর থকথকে প্যাদানি পড়লে মন্দ হয় না, যদিও শেষে শুনি পোদ ঘেঁষে নাকি গ্রহাণুও বেরিয়ে যাচ্ছে বারবার!
কচুরিপানায় মুখ ঢাকে গণতন্ত্র :
তোমার আর কাম কি! দাঁত কিটমিট করতে করতে চোয়াল তো শক্ত বহুদিন আগেই করে ফ্যালাইসো। সিন্ধু, রোমান, মেসোপটেমিয়া সয়েছো। এখন না হয় ন্যানো সইবে। এ আর নতুন কি !!!!!
স্বপ্নছেঁড়া হবার আগে আরেকবার খুবলে দেখি
ঘৃনা ও ভ্রান্তিতে ভরে গেছে প্রেমেদের গাছ,
চাঁদ ও জোনাকির জুটি দেখলে আর হাসি না
আমাদের সংসারের মাটিতে দেখেছি মৃত শৈবাল
পিঁপড়ের সারির সাথে আশাদের কত মিল
ভেঙে দিলেই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে চিরকালের মতো
ভুলপথ চিনে নিতেই কেটে যায় অর্ধেক কৈশোর
তারপর বাসস্থান খুঁজে পেলে এলোমেলো সাজ–
আপ্যায়ন ও অবহেলাতেই কেটে যায় সবটুকু যৌবন…
জীবনের আলপথ বেয়ে হাঁটতে গিয়ে শুনেছি
কত পাথরভাঙা শব্দ — আর্তনাদ – তাড়না-তাগিদ
রাজপথের ভিড়ে পা মেলানোর সাহস পাইনি তাই
শুধু চেয়ে দেখেছি বাতিদানের নীচে মৃত শিশুর মা
চোখের কাজলের চেয়ে জল বেশি মূল্যবান হয়তো
তাই আলোর ফুলকির বদলে অন্ধকার কিনেছি..
মাটিতে দাঁড়িয়ে চাঁদ কে দেখেছি যতবার
ততোবারই মনে হয়েছে,একটু আর একটু
একে একে সিঁড়ি ভেঙেছি,বহুতলের ছাদ থেকেও
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চেয়েছি,তার পরেও আর একটু।
পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু চুরাটায় দাঁড়িয়েও মনে হয়েছে আর একটু।
উচ্চতার হিসাব করতে গিয়ে দেখি পড়ে আছে ভাগ শেষ।
আপন কক্ষপথে ঘুরছে পৃথিবী,মধ্যাকর্ষর টানে দাঁড়িয়ে আছি এখনো।
নিচে নামার সিঁড়ি গুলোতে জমেছে শ্যাওলা। চন্দ্রগ্রহণে চাঁদের উপর পরে পৃথিবীর ছায়া।
সমস্ত মুদ্রাদোষ জেনে গেলে কেউ
রহস্যের মায়াজল দারুণ সম্বল।
জীবনের কানাগলিতে ভ্যাবাচ্যাকা পথিকের দলে,
জীবনের এই সহজ সত্য জানা হয়নি তাদের।
শীতের শহরে প’ড়ে থাকে মরা নদী,
মাঝরাতে ভেসে আসে অভিমানী হাওয়া
তবু অসহায়ভাবে যারা ভালবেসে গেল
নির্জন দুপুরকালে পাতাঝরা হাওয়া দিলে
হু হু করা বাতাসে তখন ফিরতি পথের টান…
সব পিছুডাকে একই টান থাকে না।
সব পিছুটানে ডাকনাম থাকে না।
ছুঁয়ে দিতে জানে যারা, যেই হাওয়ারা,
একবার ছুঁয়ে দিয়ে ফিরে গেছে যারা,
বসন্তে কখনও তারা ফেরেনা আবার।
ক্রমাগত ভিজিয়েছে যে বৃষ্টিছাট,
এই তো বৃষ্টি ধরে এলো। একফালি মেঘ যদিও আকাশে
হাওয়াঘর থেকে খবর আসে কালজানির হলুদ সংকেত এখনো জারি
আসলে পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে এখনো
ঘোল জলের সাথে ভেসে যায় কিছু গাছ বা গাছেদের জীবন
একটা চর ভেসে যায় সংকোশের জলে, ভেসে যায় কিছু স্বপ্নের ফসল
কিছু গ্রাম ঘুমোতে পারেনা। ভয়। নদীর রঙ ওদের গায়ে মাখা।
কেউ রাত জাগে, জাল ফেলে, বৃষ্টি জল বড়ো ভালোবেসে পসরা সাজায়
উনুনে হাড়ির জল ফুটতে থাকে ভাত হয়ে ওঠার গল্পের ভিতর
কোন রূপকথা নেই। রূপের ভিতর ওরা কাগজের নৌকো ভাসায়। চাঁদ সদাগরের গল্প লেখে।
আর এই রায়ডাকের চরে জল নেমে গেলে নৌকোর খোলা ভরে ওরা বালি তুলে আনে
ওই বালির ভিতর ঘামের গন্ধ। ঘামের স্বাদ একটু নোনতা বটে।
এই গল্পের ভিতর শহর বাস করে। শহরের ইমারত গড়া এখানেই শুরু।
নিশ্চুপ অভিসারে উজ্জ্বল রেখা
বিলাসী প্রজাপতি তাকিয়ে শুয়োপোকার ভবিষ্যৎ
উড়ে চলেছে রঙিন ফরিংয়ের সাদাপাখা
পদতলে মিষ্টি সুবাসিত কর্দমাক্ত পথ ।
সঙ্গী শুধু লাল পিঁপড়ে আর নিস্তব্ধতা
আর ঝোপঝাড়ের আড়ালে লোলুপ দৃষ্টি
মেহেন্দি রাঙা হাতে প্লাষ্টিক থলি
আর দক্ষিণ হাতে সেলফি স্টিক
সন্মুখে অগ্রসর প্রেয়সী ,উদ্দেশ্যহীন পথ
অস্তাচলের নীচে বসে আর নিরাবতা নয়
ঘরের চাল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জলবিন্দুকে
টেনে হিচরে নামিয়ে নিক্ষেপ কর বয়ঃসন্ধির মুখে।
নব যৌবনা নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে , ভরা নদীর গতি পরিবর্তন করো শিঘ্রই ।
ওদের বুঝিয়ে দাও – সদ্য যৌবন প্রাপ্ত আবেগ
আর চিরযৌবনা বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য
ইন্টারনেটর ভেতরে ত্রয়ী ডব্লিউ যতটা সহজলভ্য
বাইরের বাস্তবতা ততটাই কঠিন।
ভারসাম্য
তন্ময় দেব
খুব উঁচু থেকে সব ছোট দেখা যায়;
তাই মাটির কাছে নেমে আসা ভালো
যেমন ভালো, বৃষ্টির পর সোঁদা গন্ধ।
ঢেঁকি শাকের ঝোপ। বনকুলের বাগান।
জনহীন বালুচরে তরমুজের খেত…
হাসিমুখ, বাহবা, প্রশংসা অথবা
তিরস্কার, ব্যর্থতা, পিছিয়ে পড়া –
সবকিছু জীবন স্রোতে কলার ডোঙায়
ভাসিয়ে দিতে গিয়ে বুঝি কখনোই
কিছু ছিল না আমার
শুধু বেহুলার মতো ভালোবাসা আঁকড়ে
এগিয়ে যাচ্ছি প্রিয়জনদের মৃত্যুদুয়ার
থেকে আগলে রাখবো বলে
খুব বেশি দুঃখের কথা ভাবলে সব অর্থহীন
মনে হয়। তাই আনন্দের কাছ ঘেঁষে বসা ভালো