অবেলার কবিতা

এখন আর কথা বলতে ভালো লাগে না। মন হয় সব কথা বলা হয়ে গেছে। কি এমন জানি আমি, তাই কথা বললেই বাজে বকবক মনে হয়। কথা থেকে অনেক দূরে চলে যাই এখন। বুঝতে পারি কাজে কথা লাগে না। কাজ থামলেই কথা আসে। তাহলে কত বছর থেমে ছিলাম আমি ! কত মানুষকে থামিয়ে দিয়েছি। লজ্জায় মাথা নিচু করি। চুপ করে যাই। সবাই কাজের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুক।
তোমার মুখে হুল এক্সপ্রেসের কথা শুনেছি। তুমি বাড়ি ফিরতে। কোনো কোনো দিন তোমার বলায় হুল আমাকেও সঙ্গে নিত। এখন স্টেশনে একা বসে থাকি। হুল চলে যায়। কে জানে এখন হুল গল্প হয় কি না। তুমি অনেকদিন বাড়ি ঢুকে গেছ। হুল থেকে তোমার বাড়ি অনেক দূর। জানি না তুমি আর কোনোদিন স্টেশনে আসবে কি না।
প্রতিটা মানুষের একটা অন্তত দাঁড়াবার জায়গা থাক। আমারও একটা দাঁড়াবার জায়গা আছে, যেখানে আমি কবিতা লিখি।
বাবাকে নিয়ে একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারলাম না।কোথা থেকে শুরু করব? কত বছর পেরিয়ে গেল। এখনও প্রথম শব্দটাও ধরতে পারি নি। প্রথম শব্দটার রঙ কি হবে? বাবার প্রতিটা মুহূর্তই তো দুপুর। কোন রঙে তার সম্পূর্ণটা আলো হয়ে উঠবে ? এক একদিন রাতের গানগুলোতে বাবা বাঁশি বাজাত। বাঁশির গর্ত দিয়ে কান্না গড়িয়ে আসত। খেতে না পেয়ে এক একদিন বাবা উপোস থাকত। গাছের ডালে উঠে সারা পাড়া দেখত। রান্নাঘর থেকে বাসনের আওয়াজ শুনত। রাতে পাড়াজুড়ে ভাতের গন্ধ উঠলে ঘরে ফিরে আবার বাঁশি বাজাত। আমি অন্ধের মতো শব্দ হাতড়াই।
তুমি ফুল দেখেছ ? গাছের কাছে তোমাকে দেখেছি কিন্তু সত্যিই কি তুমি ফুল দেখেছ ? ফুল তুললে আর ফুল দেখা যায় ? কেউ কোনোদিন ফুল দেখেছে ? ফুল দেখে থাকলে তাকে ঘরে ঘরে পাঠাল কে ? কে তাকে বলল নিজের সবকিছু উৎসর্গের জন্যে ?
গাছ থেকে যেদিন ফুল উঠে এলো হাতে সেদিনই মন থেকে সুন্দর মুছে গেল।
.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত