| 23 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

এই সময়ের এক বৃদ্ধ রাজা

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

বৃদ্ধ রাজা ওয়াশরুমে ঢুকলেন। এটি তার জীবনের শেষবার ওয়াশরুমে যাওয়া। বৃদ্ধ রাজা  অবশ্য এব্যাপারে জানতেন না। আমরা জানি যে, তিনি মারা যাওয়ার আগে ঐ শেষ বার ওয়াশরুমে গ্যাছেন। ব্যাসিং এর আয়নায় তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। চশমাটা খুলে কয়েকবার চোখের পলক ফেলে চশমাটা আবার চোখে দিলেন। এতে বোঝাগেল যে, তিনি চশমা খুললে নিজেকে ঠিক করে দেখতে পান না। হঠাৎ বেলুন ফাটার মতো শব্দ হলো পেছনে। উত্তেজনার মতো কমডের দিকে তাকালেন। আবার আয়নার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলেন কৃত্তিম দাঁত গুলো বেরকরে। ভাবলেন দাঁত গুলো বদলানো দরকার। প্রায়ই ঢিলে হয়ে যায় তখন জিহবা দিয়ে ঠেলে যায়গা মতো বসাতে হয়। আবার উত্তেজনার মতো তাকালেন কমটের দিকে। এবার হাসলেন না চোখ আর নাকের ভাঁজ গুলোতে চিন্তাশীলতার ছাপ ফুঁটে উঠলো। কমডের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তার পাছায় ভেজা অনুভব করলেন। পায়জামা খুলে ফেললেন সত্যতা নিশ্চিত হতে। দেখলেন, ঘটনা সত্য তার সাদা পায়জামায় হলুদ আলপনা।  দাঁত গুলো জিহবা দিয়ে ঠেলে যায়গা মতো স্থানান্তর করে ভাবলেন নিজের পাছার কন্ট্রোল নাই পুরা রাজ্য সামলাই। অবজ্ঞা ভরে খানিক হাসলেন। কমডে বসে তার অসস্তি হয় ইদানিং যতটা ইনপুট ততটা আউটপুট হয়না। কিছু বাকি থেকে যায়। এই ভাবতে ভাবতে তার সোস্যাল মিডিয়ার উপর রাগ হয় খুব। বিভিন্ন সময় বলা বক্তব্য নিয়ে ট্রল করে ছেলে পেলে। ভাবলেন এগুলো তো আমি বলতে চাইনা কিন্তু কেন হয়। এই কেনোর উত্তরটা বৃদ্ধ রাজা কমডে বসেই পেয়েগেলেন। আর শব্দ করে বললেন, আমার যেটুকু আউট হয়না সেগুলো মাথায় উঠেযায় ফলে ঐ ভুলভাল বক্তব্য দেই আর ছেলেপেলেরা ট্রল করার সুযোগ পায়। এবার একবার সিঙ্গাপুর যাওয়া দরকার। হঠাত্ বৃদ্ধ রাজা কুঁজো হয়ে পড়লেন চোখ লাল হয়ে যেন বেরিয়ে আসতে চাইছে। পেটের ভেতর ভুমিকম্প হচ্ছে। আকর্ষিক ভাবে থেমে গেল। সস্তির নিশ্বাস ফেললেন। ইদানিং এমন হয় কিন্তু কেন বৃদ্ধ রাজা তা জানেন না। বৃদ্ধ রাজার ইচ্ছে হয় তার বয়সি কারো ওয়াশরুমে ঢুকে দেখতে। সবারই কি বয়স হলে এমন হয়! হ্যান্ড শাওয়ারটা তুলতে গিয়ে পড়ে গেলো আর দু দিকে মাথা নাড়ালেন মুখ থেকে শব্দ করে বললেন, না আমার বয়সের মানুষ সচরাচর বাঁচেনা আমি নিজেইতো ডেডক্সপায়ারি মাল।

বৃদ্ধ রাজা ফ্লাশ বাটনে চাপলেন কিন্তু ঢাকনা দেননি।  দেখলেন পানির চাপে কত সহজে সব মল গুলো সুড়সুড় করে নিচের দিকে চলে গেলো। ভাবলেন, এরপর তা রিজার্ভ টাঙ্কিতে জমা হবে। বৃদ্ধ রাজা  কিসের সাথে যেন মিল পেলেন আর হেসে শব্দ করে বললেন, রাজ্যের অনেক কিছুইতো রাজনীতির চাপে… জোরে শব্দ হলো, ঘড়িটা খুলতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে গ্যাছে। নিজেই বিরক্ত হলেন। আর ভাবলেন রাজ্য জুড়ে যে অবস্থা তাতে ঘড়ির মতো কখন যে রাজত্ব ফসকে যায় কে জানে। বৃদ্ধ রাজা তার প্রথম পুত্রের উপর তেমন ভরসা করতে পারেন না। তার এই পুত্রের সমস্ত মাথা কুট বুদ্ধিতে প্যাচানো। বৃদ্ধ রাজা তার নিজের কথা ভাবলেন, বাবার রাজত্ব আমি পরিচালনা করি প্রজারা বাবাকে ভক্তি করেন ইশ্বরের মতো, কিন্তু তিনি লোক বিশেষ ভালো ছিলেন না। এবার বৃদ্ধ রাজা হেসে মাথা দুলিয়ে ভাবলেন, সাধারন মানুষের মৃত্যুর পর থাকে স্মৃতি আর রাজারা মরলে হয় ইতিহাস। আর ইতিহাসে থাকে সুন্দর্য্য। সেই সুন্দর্য্য রাজাকে মহান করে তোলে। আমিও মহান হয়ে উঠবো রাজত্ব ঠিকই থাকবে। বৃদ্ধ রাজার সমস্ত মুখাবয়বে একটা ক্লান্তি রেখা ফুটে উঠলো। ভাবলেন, কেন মৃত্যুর চিন্তা আমার। মাথা উচু করে ব্যাসিং এর আয়নায় তাকাতেই  মুড পাল্টে গেল। এবার রাজ্যের সর্বত্র যে ছবি, শহরের বিভিন্ন যায়গায় যে ভাস্কর্য গুলো আছে সে সব যুবক বয়সের। বৃদ্ধ বয়সের ছবি দেখতে ইচ্ছে করেনা আজকাল। 

বৃদ্ধ রাজা ভাবলেন পাজামা বদলাতে হবে নাহলে প্রতিকুল অবস্থায় মসনদে ফেরা যাবে না। বৃদ্ধ রাজা  ব্যাসিং এ পানি ছাড়লেন আর শব্দ করে বললেন, ঠিক আছে প্রজারা আমাকে আর চাইছেনা, আমি যেমন আমার গু জড়ানো পায়জামা পরে মসনদে আবার ফিরতে চাইনা তেমনি। আবার বিরক্তি ফুটলো চোখে মুখে আর শব্দ করে বললেন, না না এই উদাহরণ আমি কেন দিলাম! প্রজাদের কাছে আমি কি গু জড়ানো পায়জামার মতো। নাহ্ এই মনে হয় বাকীটা মাথায় উঠে গেছে। এবার নিজের মাথা চাপড়াতে লাগলেন। 

বৃদ্ধ রাজা তার মসনদে ঢুকলেন দুই পাশে দুই যুবরাজ নিয়ে। বৃদ্ধ রাজা রাজাসনে গিয়ে বসলেন গম্ভির মেজাজে। মন্ত্রীদের দিকে এক এক করে তাকালেন দেখলেন যে সকলেরই বিষন্ন মুখ। বেশি বিষন্ন লাগছে খাদ্য মজুত মন্ত্রীর মুখ। বৃদ্ধ রাজা বললেন ‘তুমি ভাতের বদলে মার খেয়েছ নাকি’। মন্ত্রী বললেন, জী না রাজা আমাদের গুদামে মজুত করা চাল পোকায় ধরেছে এগুলো কি করা যায় তাই নিয়ে চিন্তিত। বৃদ্ধ রাজা তার ডান পাশের যুবরাজের দিকে তাকালেন। যুবরাজ বললেন, এটা কোন জাতীয় সম্যস্যা না। রাজ্যে এমনিতেই ফসল কম তাই চালের মূল্যও বেশি। আপনি কমদামে প্রজাদের মধ্যে বিক্রি করে দেন। তাতে ফলাফল দাড়াবে প্রজাদের কাছে ভাবমুর্তিও বাড়বে সাথে লাভের কড়িও রাজকোষে ঢুকবে। মন্ত্রী সংকিত গলায় বলে বসলেন, আর পোকা। ধমক দিয়ে যুবরাজ বললেন, আপনাকে কতবার বলেছি মাথায় একটু ব্যাড়া দেন মাথায়তো চুল নাই বুদ্ধি সব উড়ে যাচ্ছে’। আর আমাদের রাজার নামে একটা মেইল পাঠান বিয়ার গিল্ডসের কাছে, যেন তিনি চালের পোকা বিষয়ে একটা ভালো বয়ান দেন ডিসকভারিতে। বৃদ্ধ রাজা তার এই পুত্রের বুদ্ধিতে মুগ্ধ। মনে মনে তৃপ্তি অনুভব করলেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ের বিষন্ন, নেটওয়ার্ক মন্ত্রী। বৃদ্ধ রাজা নেটওয়ার্ক মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন ঘুম ভালো হয়নি তোমার? নেটওয়ার্ক মন্ত্রী বললেন, হয়েছে তবে সোশ্যাল মিডিয়ার পেইজ গুলোতে টাওয়ারের উপর আমাকে বসিয়ে রেখেছে এমন সব ছবি ঘুরছে। রাজা বললেন সেতো ভালো সংবাদ বিষন্নতার কি আছে। নেটওয়ার্ক মন্ত্রী সঙ্কুচিত গলায় বললেন, অনেকটা শূলে চড়াবার মতো। রাজা তার বাম পাশে যুবরাজের দিকে তাকালেন। যুবরাজ বললেন, ওগুলো এডিট করা যায়। আপনি চালেরও কমদামে ইন্টারনেট দিয়ে দেন প্রজাদের। সবাই ইন্টারনেট ব্যাবহার করুক আর আপনি পিছোনে মারুন। নেটওয়ার্ক মন্ত্রী বললেন, যুবরাজ যদি ব্যাপারটা… যুবরাজ চিৎকার করে বললেন, বোধ বুদ্ধিতো দিন দিন পিছন দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আপনি ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে দিলে গাধা গুলোও হুমড়ি খেয়ে পড়বে আর আপনি নজর রাখবেন রাজ বিরোধী চিৎকার করা পাগল গুলোর দিকে। তারপর লিস্ট গুলো ধরিয়ে দিবেন সেনাপতির হাতে। সেনাপতি উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে বললেন, বাকি ব্যাপার আমার গুম, ক্রস ফায়ার, সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ দূরঘটনা বিমান দূর্ঘটনা, আর বিশেষ ঝামেলার জন্য আছে বিশেষ সমাধান যেমন… যুবরাজ থামিয়ে দিয়ে বললেন, আপনাকে যে বলেছিলাম ঘুমানর সময় বালিশ মাথার উপরে দিতে!  দিচ্ছেন তো নাহলে বুদ্ধি উড়ে জেতে পারে। সেনাপতি বললেন, জী যুবরাজ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। দুঃখ জড়িত গলায় সেনাপতি বললেন, যুবরাজ সেনাপতি শুনতে আজকাল ভালো লাগেনা যুদ্ধ মন্ত্রী বললে ভালো লাগে। বৃদ্ধ রাজা হেসে উঠলেন কারন তার নিম্নদেশ থেকে হাওয়া বেরোল। শব্দটা বেলুনের গিট খুললে যেভাবে হাওয়া বেরিয়ে যায় তেমনি। মসনদে সবাই হাসতে শুরু করলো যুদ্ধ মন্ত্রীর কথায়। বৃদ্ধ রাজা আবার গম্ভীর হলেন মসনদ নীরব। বৃদ্ধ রাজা রাজাসন ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। ওয়াশরুমে যাবেন বলে। এই মুহূর্তে রাজা সেই ওয়াস রুমে আছেন গু জড়ানো পায়জামা হতে, কিন্তু দ্বিতীয় বার মসনদে ঢুকতে পারছেননা। 

বৃদ্ধ রাজা কমডের উপর বসে আছেন ঢাকনা দিয়ে। তার একটা গল্প মনে পড়ে গেলো। জনৈক এক রাজা তার শাগরেট কে জিগ্গেস করেছিলেন আমার রাজ্যে মানুষ কেমন শান্তি অনুভব করে, শাগরেট জবাবে বলেছিল, মানুষ প্রক্ষালন করার পর যেমন শান্তি অনুভব করে তেমন। রাজা তার উপর মনক্ষুন্ন হলেন। একদিন রাজা সেই শাগরেট কে নিয়ে নৌকা ভ্রমনে বের হলেন। তারপর সেই রাজার ব্যাপক ভাবে প্রক্ষালনের বেগ এলো। রাজা বললেন, ওহে নৌকাটা পাড়ে ভিড়াও। সাগরেট জিগ্গেস করলেন, ক্ষমা করবেন রাজা কি হয়েছে। রাজা বললেন, আমার প্রক্ষালনের বেগ এসেছে নৌকা ভিড়াও পাড়ে। সাগরেট বললেন রাজা এই খোলা প্রান্তরে আপনি  প্রক্ষালন ত্যাগ করতে পারবেন না। আর একটু সামনে যাই। এভাবে যেতে যেতে এক সময় রাজার সয্যের বাইরে চলে গেল। এবার ধমক দিয়ে ভিড়াতে বললেন নৌকা। ওমনি নৌকা ভিড়ে গেলো পাড়ে। তারপর রাজা প্রক্ষালন সেরে এসে তার শাগরেটকে বললেন, খুব শান্তি পাচ্ছি হে। এবার সাগরেট বললেন, রাজা আপনাকে আমি প্রজাদের শান্তি সম্পর্কে এই উদাহরণ দিয়ে ছিলাম। শুনে রাজা তার ভুল বুঝতে পারলো। কমডে বিশ্রামরত বৃদ্ধ রাজা ভাবলেন এসব গল্পে মানায়।

আমিওতো রাজ্যের শান্তির কথা ভাবি। কিন্তু করা হয়ে ওঠেনা। বৃদ্ধ রাজা শব্দ করে বললেন, সে যাই হক গু বেরিয়ে গেলে আসলেই শান্তি। কিন্তু বৃদ্ধ রাজা পুরোপুরি শান্তি পাননা। তার কিছু বাকী থেকে যায়। বৃদ্ধ রাজা ভাবলেন কত ভাবেই না রাজ কোষ বাড়াচ্ছি প্রজাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছি নানা রকম করের ফর্দ। কম্পানি গুলোও খুব হারামি ওদের চাপদিয়ে বছর বছর টাকা বাড়াই ওরাও প্রজাদের গলা টিপে ধরে। বৃদ্ধ রাজা শব্দ করে বললেন, কত নেশাইতো করতে করতে কাটে রিহ্যাবেও পাঠানো যায়। কিন্তু প্রাচুর্যের নেশা কখন কাটেনা। একটা রিহ্যাব খোলা দরকার এই নেশার। বৃদ্ধ রাজা সটান করে ওঠে পড়লেন কমড থেকে আর ভাবলেন আবার বাকীটা মাথায় উঠে গোলমাল করছে। বিরক্তি জড়ানো শরীর নিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বেরতে গিয়ে দ্রুম করে পড়ে গেলেন। আর পড়ে যাওয়ার শব্দ বাইরে অতটা হলোনা যতটা ভিতরে হলো। তবুও মসনদের সবাই খানিকটা উদ্বিগ্ন ছিলো। অনেক বিলম্বের পরে যখন ওয়াশরুম থেকে রাজা বের হলেন না। তাই ডান দিকের যুবরাজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভাঙা হলো ওয়াশরুমের দরোজা। বের করা হল বৃদ্ধ রাজাকে। তবে ততখনে তার মৃত্যু হয়ে গেছে। 

প্রাচুর্যে ভরা ঐ প্রাসাদ গুলোতে ঠিক হারানো বেদনার সুর ভাসে না। তাদের বন্ধন গুলো যেন নদীতে ভাসমান নৌকার মতো। দূর থেকে স্থির দেখা যায়। আর কাছে গেলেই কেবল দেখা যায় নদীর ঢেউয়ে শুধু দুলতে থাকে। ভালোবাসা হলো রোদে ঝকমক করা শিশিরে মতো ছুয়ে দিলেই ভ্যানিশ। প্রাচুর্যে ভরা প্রাসাদে বেদনা ম্লান হওয়ার আরো অনেক কারন গুলোর মধ্যে একটা হলো, রাজাসনে অন্য কারো চাহিদা থাকে। যখন  নিশ্চিত হলো রাজা মৃত। সব কিছু সেরে শেষ যাত্রার পূর্বে আর একবার বৃদ্ধ রাজাকে দেখতে গেলেন ডান দিকের যুবরাজ এখন তিনি হবেন রাজা। যুবরাজ বৃদ্ধ রাজার দিকে তাকিয়ে ভাবলেন অসমাপ্ত ভাস্কর্য গুলোতে নিজের মুখটা এবার বসানো যাবে। আর বৃদ্ধ রাজা সম্ভবত তার বন্ধ চোখের আড়াল থেকে দেখতে চাইলেন যুবরাজের পাছার কন্ট্রোল আছে! নাকি নেই। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত