‘পদ্মশ্রী’ প্রসঙ্গে বিব্রত সাইফ

Reading Time: 2 minutes

ভারতীয় চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সাইফ আলী খানকে ২০০৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। ভারতীয় সম্মাননার মর্যাদাক্রম অনুসারে ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণের পরই পদ্মশ্রীর স্থান। অর্থাৎ ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার এটি। কাঙ্ক্ষিত এই সম্মাননায় ভূষিত হতে চান বলিউডের প্রত্যেক শিল্পী।

২০০৫ সালে ‘হাম তুম’ ছবির জন্য যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে পুরস্কার নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তা ধোপে টেকেনি। পরবর্তী সময়ে সাইফের পদ্মশ্রী পাওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। সাইফ আলী খানের ২০০৯ সালের পদ্মশ্রী পাওয়ার আগের আর পরের জীবন ভিন্ন। কেননা পদ্মশ্রী পাওয়ার পর তিনি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বড় বিতর্কের মুখোমুখি হন। তখন অভিযোগ করা হয়, সরকারকে ঘুষ দিয়ে তিনি এই পুরস্কার বাগিয়েছেন।

সেই ১০ বছর বয়সী পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে চ্যাট শো ‘কুইক হিল পিঞ্চ বাই আরবাজ খান’-এ। সাইফ আলী খান দীর্ঘ ১০ বছর পর জানালেন, যাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, সাইফ আলী খানকে কেন পদ্মশ্রী? তিনিও আসলে তাঁদের দলে ছিলেন। সহজ করে বললে, সাইফের নিজেরও প্রশ্ন, তাঁকে কেন পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে! প্রথমবারের মত সাইফ জানালেন, তিনি নাকি পদ্মশ্রী নিতে চাননি। তখন তিনি বাবা নবাব মনসুর আলী খান পতৌদিকে জানান, তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করতে চান না​। কারণ তিনি মনে করেন, বলিউডে তাঁর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পেতে পারেন। কিন্তু বাবা তখন তাঁকে নানা কিছু বুঝিয়েছেন।

ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদি তখন ছেলেকে বলেন, ‘তুমি এত বড় কেউ হয়ে যাওনি যে সরকারের দেওয়া সম্মান প্রত্যাখ্যান করবে।’ তখন ছেলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে খুশি মনে পদ্মশ্রী গ্রহণ করেন। এই ঘটনা এত দিন পতৌদি পরিবারের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১০ বছর পরে আরবাজ খানের শোতে উন্মোচন হলো সেই পুরোনো গল্প।

আরবাজ খানের এই শোতে সেলিব্রিটিদের বিভিন্ন মানুষের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। সাইফকে একটা প্রশ্ন দেওয়া হয়, তাতে লেখা ছিল, ‘যিনি পদ্মশ্রী পেয়েছেন, নিজের ছেলের নাম রেখেছেন দস্যুর নামে; তিনি কীভাবে “স্যাকরেড গেমস”-এ চরিত্র পান? তিনি তো অভিনয় জানেন না।’

সাইফ আলী খান বলেছেন, ‘সরকার আমাকে পদ্মশ্রী দিয়েছেন, এটা আমার অপরাধ? নাকি আপনারা এখনো ভাবেন, আমি সরকারকে ঘুষ দিয়েছি। আমি পদ্মশ্রী গ্রহণ করতে চাইনি। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সিনিয়র শিল্পী আছেন, যাঁরা আমার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য। কিন্তু তারপরও তাঁরা পাননি। বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। আবার এটাও সত্যি, এমন অনেক শিল্পী আছেন যাঁরা আমার চেয়েও কম যোগ্যতা নিয়ে পদ্মশ্রী পেয়েছেন। আমার মনে হয় আজ থেকে আরও অনেক বছর পর মানুষ যখন আমার সব কাজের দিকে তাকাবে, তখন তাঁরা আমার পদ্মশ্রীকে মেনে নেবে।’

‘তৈমুর লং’ ছিলেন তুর্কি-মোঙ্গল সেনাধ্যক্ষ। তিনি পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজ দখলে এনে তৈমুরীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। সাইফ বলেছেন, ‘তুর্কি শাসক তৈমুরের ইতিহাস সম্পর্কে আমি সচেতন। তবে তৈমুর নামটির বললে কানে যে ধ্বনি আসে, সেটা তাঁর এবং কারিনার খুব পছন্দ।’

তাঁর অভিনয় প্রতিভা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমি যথেষ্ট ভালো অভিনয় করি।’

‘নবাব’ সাইফ আলী খানকে তাঁর পদবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ সময় সাইফ চটপট জবাব দেন, ‘নবাব’ হওয়ার চেয়ে তিনি বরং কাবাব খেতে বেশি পছন্দ করেন। অর্থাৎ, পারিবারিক পদবি হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে মোটেও ‘নবাব’ মনে করেন না তিনি।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

.

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>