তিনটি কবিতা

আমাদের  বাড়ি

 

আমাদের  বাড়ি ছিল বরাবর মাঝারি গোছের,

দুটি ঘর, একটি ছাদ, কার ঠেকা বারবার মোছে?

মানুষ, মানুষও ছিল, জানলার ধারে ধারে গাঁথা-

নজরমিনার থেকে মাঝে মাঝে গুনতি হত মাথা!

চাল নেওয়া মুঠো মাপে, মুঠোটি বাপকেলে মাঠ

হাত ধরব বলে তার, পেরিয়েছি জন্মের চৌকাঠ….

 

ঈশ্বর

 

বালিতে ঈশ্বর আঁকি, কালসিন্ধু মোছে বারবার

হে বিপুল বারি, জেনো, সাধ্য নেই ভুলিয়ে দেবার

আমি এই শতধারা, সহস্রধারায় পড়ি ঝরে

আবার বাষ্প হই চোখে চোখে, কখনো কখনো যাই মরে!

আমার দুহাতে দুই অশ্ব আছে, অপার শক্তির আমি নাম

গ্রামের শেষ প্রান্তে বটবৃক্ষ, প্রণামটি রেখেই এলাম।

অক্ষরপুরুষ

 

ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছে, অক্ষরপুরুষ-

আমি তারো রেয়াত করি না,

যখন যেমন জোটে, অন্ন ও লবণ-

তেমনি উপুড় করি আগ্রাসী জঠরে,

পাক হয়, সিদ্ধ হয়, মাংস ও নাবিক,

সুশুভ্র ললাটপত্রে আমি দেখি ঠিক!

 

ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছে, অক্ষরপুরুষ-

আমি তারো রেয়াত করি না,

তবে এইটুকু দেখি, সে যেন ফেরে না

শূন্যহাতে, তাই এই অক্ষরপ্রাসাদে

খোলা আছে অন্নকূট, আগুন নেভে না!

 

One thought on “তিনটি কবিতা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত