| 15 এপ্রিল 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

বাবার বিষাদ

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
তোমার বিষণ্ণ হবার অপেক্ষায় থাকে কেউ;
শাপলাপাতা পেঁচিয়ে ওঠা ঢোঁড়াসাপ যেনো
গিলতে চাইছে সূর্যটা;
 
মন ভালো নেই এমন একটা দুপুর
তোমাকে ঘিরে আদ্যোপান্ত বাজতে থাকে;
 
যেন রেলগাড়ি সাইরেন বাজাচ্ছে দূরে
অথচ তোমাকে হাতের ওপর নিয়ে
গোটা শহরটা প্রদক্ষিণ করে যাবে বিষণ্নতা
এরকম কথা ছিলো তার, ডাগর মাত্রাবৃত্ত এসে
তাকে শোনাবে কবিতা; এরকম কিছুই ঘটেনি জীবনে!
 
একটা পাঁচতারা হোটেলের সামনে এসে
খড়কুটা জড়ো করছে বাবুই-
যেনো তার অসীম অস্তিত্বের ঘরটি
এখানেই বেঁধে ফেলা ভালো, আর কিসে মঙ্গল
তা জানবার উৎকন্ঠা, তোমাকে ঘুমাতে দেয় না;
ঘড়ি ধরে ধরে ঠিক মাঝরাতে এসে জড়ো হয়
চেস্ট পেইন, সমস্ত নাসিকা জুড়ে স্তব্ধ হাওয়ার চলাচল
ব্যহত করে সিলিং ফ্যানের শব্দ, তোমার তেষ্টা পায়!
 
 
এইসব ধীর, মেঘজড়ো রাত
ডোডোদের মত বিরল আর অপাঙক্তেয়;
যেনো এক খরতপ্ত মরিশাস এসে ভ্রমণ করছে বুকে;
কোথায় বেহালা, কোথায় শামুক, একে একে তাকে
দেখিয়ে দিচ্ছে গাইড!
 
তোমার আবারো তেষ্টা পায়
ডাঙা ঝিলমিল ঝিলের পানিতে
ডুবিয়ে রাখতে চাচ্ছো পা;
 
অথচ বিদিক এসে তরতর করে
গন্তব্য এলোমেলো করে তোমার!
 
যেখানে আজান হচ্ছে, সুবহে সাদিক
সেখানে এসে এলিয়ে দিচ্ছে গা, আর, ডানার ঝাঁপটায়
শহরটাকে, ঝিমুনি হতে সরায় জিব্রাইল!
 
মথুরার দিক থেকে ভেসে আসে কান্না;
আর, সুদূর যুদ্ধের শেষে, ঝাঁপ দেয় আগুনে কেহ;
রমণীর অজস্র কান্নাদৃশ্যে, আগুন লেগে যেতে দেখি
ইতিহাসে।
 
এরপর তুমি
একটা কুয়ার ধারে এসে
নিজেকে উদ্ধার করছো জল থেকে
সমূহ পতন থেকে, ডুবে মরা অপঘাত থেকে;
যেন হাত ধরে আছে বাবা, বুকে এসে লাগে
মেঘের আঘাত, চোখে লাগে বাবার বিষাদ!
 
আমার সামনে তুমি
আমারই দ্বিমন;
 
বেঁচে আছো, বেঁচে আছো বলো
সংবিধানের, কত ধারা মোতাবেক?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত