Site icon ইরাবতী

কবিতাগুচ্ছ

Reading Time: 2 minutes
নদীর দুঃখ
নদীতীরে হাঁটতে থাকলে নদীকে আপন মনে হয়
নদীর দুঃখ এসে হাত ছুঁয়ে দেয়, চোখ ছুঁয়ে দেয়
মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলে
নদী আর নদী থাকে না, মানুষ হয়ে যায়!
যাদের কোনো দুঃখ নেই
যাদের কোনো নদী নেই
তাদের অসোয়াস্তি হবে, মানুষ খুন করবে
নদী তীরে জন্ম যাদের, তাদের পায়ে জল
ঘুঙুর হয়ে বাজে
ঢেউ এসে, বৃষ্টির ফোটা এসে মেঘের গল্প করে
চর্যার গল্প করে
কখনও কখনও কালিদাস এসে চিঠি পাঠায় দূরদেশে, করিমের গান হয়ে, বসন্ত বাতাস হয়ে
আমি দূর থেকে বৃষ্টির ছাটে বিনয়ের গায়ত্রীকে উড়ে যেতে দেখি নরম পালক হয়ে
পাণ্ডুলিপি এখন আর অন্ধকারের আয়োজন করে না, বরং অন্ধকারই দুঃখ সেলাই করে করে
কুড়ি কুড়ি বছর পর জীবন বাবুকে পৌঁছে দিয়ে আসে!
এক সময় মানুষ খুব এক্সট্রোভার্ট ছিল, এখন মারাত্মক রকমের ইনট্রোভার্ট
তাই
নদীকে নিয়ে নিয়েছি সাথে, বুকে করে
একা একা কথা বলব বলে
তার দুঃখকে সামনন্ততন্ত্র থেকে আলাদা করব বলে
কেননা
মানুষ একা হয়ে গেলে নদীর দুঃখ গভীরতর হয়ে যায়…
মোরগফুল
ঝোলা কাঁধে যে লোকটা অন্ধকারের দিকে যায়
তাকে ফিরিয়ো না।
সে চাঁদের গায়ে সারাক্ষণ কবিতা লেখে এবং মহুয়া পান করে
তার পা আটকে আছে শূন্য গহবরে, রজঃস্বলা রজতকান্তিতে!
লোকটা দুখী ছিল একসময়, এখন খুব চামে থাকে, চামে আছে,
তার ঝোলায় রং-বেরঙের গাছ, তুঁতফল,  মুখচ্ছবি, জোছনা উঁকি দেয়
সে একজন সহজ মানুষ, তার কোনো চাওয়া নেই
বিগতদিন এসে থমকে থাকে পায়ের কাছে
তার কাঁধে ও ঝোলায় পোয়াতি শব্দ নিঃসীম শুয়ে থাকে, কুটকুট করে আত্মা খায়, মিহি দানা খায়
শুকপাখি ডিম পেরে রেখে যায় দূর পাহাড়ের দিকে
বনভূমির দিকে, আর সে ডিমে অলোকরঞ্জন এসে, গরম হাওয়া এসে তা দেয়, ওম দেয়
ডিম ফুটছে দ্যাখো,
রক্তবিন্দু হয়ে ভেসে যাচ্ছে চরাচর! কাক ডাকছে, মোরগফুল দেখা যাচ্ছে অনন্তে…
গাছ
গাছকে নাড়া দিয়ে দেখি
গাছ জেগে আছে
ঘুমুতে যাবার আগে, তাকে আদর করে যাই
গাল টিপে দিতে দিতে গল্প করি
নিজের গল্প, পরিবারের গল্প, আরও কত কী
কখনও কখনও গাছও বেশ সহজতা শিখে নেয়
মিটিমিটি হাসে এবং তার হাত বাড়িয়ে দেয়
ভাল লাগে।
গাছকে তখন, আমার বন্ধু, ভাই কিংবা আত্মজা মনে হয়।
Exit mobile version