| 16 এপ্রিল 2024
Categories
এই দিনে কবিতা সাহিত্য

পারমিতা চক্রবর্তীর কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

আজ ২৫ জুন কবি, গদ্যকার ও সম্পাদক পারমিতা চক্রবর্তীর শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।


 

ডেসটিনেশন ও কবিতার সংলাপ

বিচ্ছিন্নতা থেকে আত্মহত্যাকারী

বিশ্লেষণ করে কল্পনা

চোখের পরিশ্রুতে পানীয় উপাদেয়

হয়

আমার কবিতা বৃষ্টির প্রভাব

কাটিয়ে

জাহাজে’র সাথে চলে ক্রমশ

যেভাবে আকাশ শারীরিক ভাবে

প্রতিবন্ধী হয়

গাংচিল খুলে দেয় ব্লাউজের হুক

অপাক্তেয় বিকেলবেলায় দুরু দুরু

বুকে সে

গর্ভবতী হয়

এভাবে দৃশ্যের নিকট চলে আসে এ্যারোগেন্ট তুলি

যার গন্তব্য ঠিক হয়নি

সৃষ্টি’র মধ্যবর্তী পর্যায়ে দাঁড়িয়ে দেখা

যায়

সব চরিএ কাল্পনিক…

 

 

 

স্কিজোফ্রেনিক অ্যাপ

মাংসল চিতায় যুদ্ধ হয় অজস্র ক্ষত’র

মাঝি জাল থেকে একটু একটু করে

আলাদা করে নীরবতা

যাকে মোবাইলে তুলে রাখি রিংটোন

ভেবে

একদিন জল জমে ভেঙে

যাওয়া ঘুমে’র ছিদ্রে

গুটিগুটি পায়ে হেঁটে যাওয়া মশা ম্যালেরিয়া সংরক্ষিত করে

কৌটোর মধ্যে

তবুও

স্কিজোফ্রেনিক অ্যাপ ডাউনলোড

করতেই ডিলিট হয় চিত্রকল্প

যাকে মাউন্টব্যাটেন’র ক্যামেরায়

পাওয়া …

 

 

 

দেওয়াল

অলিগলিতে রিক্সাস্টান্ড …

– সময়! এক মুহূর্ত কেন ?

ধূপের একদিকে লক্ষ্মীপট অপরে বেশ্যার

অন্তর্বাস৷

– অবাক হচ্ছো?

– উপদ্রব বাড়ছে ৷ সাক্ষী খুন হচ্ছে পুলিশের হাতে ৷

– মঞ্চের আড়ালে যা নিষিদ্ধ, আমৃত্যু গোচরে রাখি ৷

– কি!

– আবর্তিত হব ৷ হোমকুন্ডে যাকে দেখ তার কোন ডাক্তার নেই ৷

– দিনপ্রতি ডেটল, ফিনাইলের প্রলেপ জড়ায়…

উপদ্রুত এলাকা৷ ওষুধ প্রয়োজন!

 

 

সহজের গল্প…
কেন তুমি কাঁদছ মেয়ে!
কেন পারছনা চেনা প্রতিবাদে
সামিল হতে।
এই তো প্রতিবাদের পুরানো অবয়ব,
তবুও তুমি কাঁদছ মেয়ে!
কবিরা লিখছেন,
শিল্পীর ছবিতে  রক্তের আচঁড়
শতছিন্ন যোনি….
অগনিত সাধারন মানুষ মিছিলে পা মেলাচ্ছেন….কম তো নয়
তবুও চেনামুখ বিশ্বাস হারাচ্ছে
মূর্খ মানবী গোপনে শিউরে উঠছে বারবার।
কি চেয়েছিলে মেয়ে
কি প্রত্যাশা ছিল তোমার
অন্নজল ত্যাগ অথবা মহাপ্রলয়!
কালোমুখে ছেয়ে গেছে বিনোদন
তাই বা কম কি!!

 

 

 

আমি ও আমার সত্ত্বা 
“লেখা আমার মা ”
শূণ্য বুকে আঁকড়ে ধরি
আমায় ছেড়ে যেয়ো না
:
বাতাস যেমন ক্লান্ত দেহে
উদ্দীপকের ক্লোরোফিল
গন্ধ তেমন ঘর্মাক্ত দেহে
সিনথলের সিনোপসিস
:
পানীয় যদি উত্তেজকের কোরক হয়
জীবন তবে গীটারের তারে
জীবনমুখী গানের সমতুল
:
বর্ণমালা জুড়ে আমার বাস
শূণ্য স্লেটে উপচে পড়ে শব্দচ্ছ্বাস
:
কলম কি তবে আমি ?
আপন বেগে বয়ে চলি
লেখানদীর এপার ওপার
:
ঝড়ের রাতে নৌকাডুবি হয়ে
হারিয়ে যেওয়ো না
যন্তে রেখো আপন নীড়ে

 

 

 

ঘুমন্ত মরচে
 
ঘুমন্ত মরচের দাগ সমস্ত পুকুর জুড়ে
বাসী রজনীগন্ধা ভারে ব্যস্ত বিছানা
স্তনবৃন্তের রোমে জেগে থাকে
আলস্য ভরা রাত
ডেনিম শার্টের ভাঙা বোতামে
আটকে অনিচ্ছুক …
দুঃস্মৃতি আজ কলম ধরেছে
ঘুন পোকার কালি হয়ে
নিষিদ্ধ বাসর , ক্লান্ত নীরবতা আমায়
বিপ্লবী করে যার আক্ষরিক নাম
ঘা ত ক
 
 
 
 
 
 
ওলটানো পনের বছর
 
টেবিলের এক কোণে বিস্কুটের কৌটো
তার পাশে
উপুড় করে রাখা পনেরোটি বছর
শহরে ইটের পরিমাণ বেড়ে গেছে
হঠাৎ আঁকা দৃশ্যগুলো ভীষণ
আপেক্ষিক
 
ভাঙছে দেওয়াল …
চোখের উপর হরিণ , জলে নিঃশ্বাস
ভয়ংকর ভয় ইট সরিয়ে দেখে
জলপ্রপাত !
 
 
 
 
 
 
মাসিক
 
ঘাসের কাঁথা জড়িয়ে রাখে
উন্মুক্ত স্তন
প্রসূতি মাস মাসিকের গন্ধে
বৃদ্ধ হয়
উরু থেকে জঙ্খা অবধি
 
ভেজাল সর্বত্র শরীরে , হিংসতায়
ক্ষুরে , থাবায় আটকে
যৌনঘাম
 
ওই যে শিশু শুয়ে থাকে
ন্যাড়া হয়ে
সে ও বাতিল ভাবে
যথেষ্ট যথেষ্ট …
ঘুমের মধ্যে যাও
 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত