তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

আজ ০১ সেপ্টেম্বর কবি তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

নাম
 শৈল্পিক আঘাতের অপেক্ষা করতে করতে ক্ষয়ে যাওয়া শিলাকে কথা দিয়েছিলাম-
 তোমাকে আমি খুঁজে বের করবোই।
 স্বপ্নের ভেতর তাই এতক্ষণ বসে থাকা। 
জুনিপার গাছের নীচে তুষারকন্যার শরীর থেকে খসে পড়া পোশাকের ছটায়
 চোখ ঝলসে যাচ্ছে,
 তবু বসে আছি!
দৈত্য -দানব এখন আমার প্রতিবেশী! 
শ্বাপদসঙ্কুল অরণ্যে, 
গুহার অন্দরমহলে বেঁচে থাকার জন্য আমাকে এখন আর আগুন জ্বালাতে হয়না…
সবাই, ওরা সবাই কাতর – তোমাকে খুঁজে দিতে…
আর তুমি,তুমি কিনা পালিয়ে বেড়াচ্ছ এ সমুদ্র থেকে ও সমুদ্রে…
আফ্রিকান লোককথা থেকে ভারতীয় রূপকথায়…
তুমি জানো না, 
একা আমি কথা দেওয়া আঁকড়ে বসে আছি…
এখানে, পাথর নেই, কাঁকর নেই,মাটি নেই,জল নেই !
অনাগত সন্তানকে দেওয়ার মতো নামও নেই…
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
সূর্যমুখী দেশের মেয়ে
আরেকটু এগিয়ে গেলে
আমাদের পাড়া!
গ্রাম শেষ…
সাজানো মুনিয়ারঙ
ঝলমলে,
সূর্যমুখী দেশ?
ও সূর্যমুখী দেশের মেয়ে,
ভালোবাসা ছলাৎছল নদী…
তোমাদের নামে নামে মৃগনাভী ছড়াতে প্রস্তুত…
যেয়ো না…
যাওয়ার পথে ফোস্কার তীব্র করুণ আঁচে,
ডাকা তো আধেক ঘুমে চাপা পড়ে যায়!
পুরুষেরা অনাহারে বাঁচে…
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
পাহাড়জন্ম
মাথার ভেতর থেকে
পুরনো দিনের এস্রাজ,
অন্ধকার সন্ধ্যায়
ধূমায়িত নিবিড় হয়ে ওঠে।
তোমার গলার মতো ঠান্ডা হাওয়া
শীতলতম সম্পর্কপ্রদেশ চায়…
অথচ আগুন দেখবো বলে,
সেই কবে থেকে
আমি এই গোপন পাহাড়জন্ম ছেড়ে যেতে পারিনি…
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
নস্টালজিয়া
নস্টালজিক বিকেল মানে,
তোমার কাছে যদি আধভেজা ছাদ
আর না ফোটা কতগুলো কুঁড়ি হয়
তবে আমি তোমাকে নিয়ে যেতেই পারি মৃত্যুর দিকে।
     গ্যাসভর্তি বেলুন গাড়ির পেছনে,
সদ্য হাসতে শেখা ওঠা কিশোরীর পেছনে,
আলপনা আঁকা কুঁড়ে ঘরটির পেছনে ছুটতে ছুটতে 
যে মৃত্যুর দিকে চলে গিয়েছে পৃথিবী পৃথিবী মানুষ।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

সঙ্গীতজ্ঞ

মুখের উপর উপুড় করা বই
আর বইয়ের পাতা থেকে নেমে যাচ্ছে
নিষিদ্ধ ইশারা।
বুকের বাঁ দিকে ক্রমাগত নেচে চলেছে একটা ময়ূর
যার দিকে তাকালেই মনে হচ্ছে
কতদিন খিদের সঙ্গে দেখা হয়নি।
অনভ্যাসে ডুবে গেলে মানুষের এরকমই হয়!
বাউল, অন্ধ বাউল,
একতারা রাখো আমার দু’চোখে!
ঘুম নয়,
এখন ওই ময়ূরের থেকে নিষ্কৃতি চাই…

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

লিবিডো

বারান্দাকে আজকাল প্রাচীন প্রেমিক মনে হয়!
চাঁদ ওঠার আগে,
সব রঙিন খেলা ভেস্তে দেয় করুণ আঙুল!
আঙুলের সঙ্গে তর্ক হয়!
এইভাবে না, ওইভাবে –
আরেকটু গভীরে গেলে নক্ষত্রখচিত অন্তর্বাসের সঙ্গে দেখা হবে!
স্রোতের উল্টোদিকে দৌড়াতে দৌড়াতে যে অন্তর্বাস ভুলে গিয়েছিল যুবতীর বুক।
বারান্দা, আজকাল অবাধ্য প্রেমিক এবং নিশাচর পেঁচা।

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

ভ্যান গগ ও আমি

রাস্তাটি কখনো মরে যাবে না।
আহ্বানে আকাশের দিকে তাকালাম।
পায়ের নিচে পৃথিবী
বলি পর্বের শেষ ঘোড়ার মতো ছটফট করছে।
বন্ধু ভ্যান গগ তৎক্ষনাৎ তাঁর তুলি দিয়ে
দু’টো তারা আর কী অসম্ভব রাত্রি
ঘোড়াটির দিকে ছুঁড়ে,
আমাকে নিয়ে ঢুকে গেলেন
ডানাহীন ক্যানভাসের ভেতর।

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

খিদে

প্রতিদিন মানুষের ভুল ঝাঁকায় ভরে
ফেরিওয়ালা ঈশ্বর হেঁটে যান স্বর্গের দিকে।
যাওয়ার পথে পড়ে
আলোমাখা এক সরাইখানা।
ঈশ্বর থামেন!
তাঁর বন্ধু আল্লা
এখানেই ভাত আগলে বসে থাকেন—
একসঙ্গে খাবে বলে!

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

অন্বেষণে মেঘ জমে ওঠে

বিনুনির শাসন ডিঙিয়ে
প্রিয় পুরুষ,
কখনো আসে না দেওয়ালের দিকে—
যে দেওয়াল পিঠের গল্প জানে।

নারীটিও আসে না হ্রদের কাছে,
অথচ স্তন তার দীর্ঘ হ্রদের মতো চঞ্চল…

মধ্যাহ্ন আদরের পর তারা কেবল
পরস্পরের মুখের দিকে চেয়ে
খুঁজে চলে দাগ!

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত