একগুচ্ছ কবিতা

Reading Time: 3 minutes ক্যালরি এভাবে ডাকছো কেনো হে করুণা? একাকীত্বে ভয়? ভাঙছে কোনো কাঁচের করোটি স্মৃতির? এমন‌ই জট লাগা গাছপালা আঁকা আমার হৃদয়ে, সুনসান, একটা নদীকে বসিয়ে সেখানে কুয়াশা জমাই, তল যেখানে শেষ সেখানে বিবাদ মানুষের, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে মগজে টানানো গান, পাতাদের পৌষফুল! কলহ তোমার কে হয়? মনস্তাপ? যেনো আমাকে প্রশ্ন করে সরু সাপ, পানিতে নেমে যাচ্ছে ফনার ছোবল নিয়ে; এই ঘরছাড়া সকাল আমাকে চেনে, আমি ততোধিক অচিন তোমার কাছে, ঘুরে ফিরে কাঠবাদামের গাছে এসে বসে মাছরাঙা, সাবধানে মাছের কলিজা থেকে ছিঁড়ে আনে সাঁতারক্যালরি! পাঞ্জা আগায় দেও যদি মনে করো এইখানে তোমার তিরস্কারের বৃষ্টিতে ক্লিক করতেছে আমার শঠতার ছাতা, তাইলে তোমার কাছে আমার কিছু কৈফিয়ত আছে; যদি মনে করো শুকনা পাতায় বসাইলেই আমি তোমার তালুতে খসখসায়া ভাইঙা যাবো তাইলে ক’ব তোমার হৃদয় এক্সপায়ার্ড- এইখানে টার্কি পাখির মতো গলা উঁচা কইরা আছে আমার বাক্যেরা, বিকাল শেষে সূর্যটা তাঁর আগুনের অক্ষরগুলা শান্তভাবে নামায় রাখে দিগন্তে, আর পিঠের ওপর অসংখ্য চাবুকের দাগ শো করতে করতে অস্ত যায়! এই যে দেখতেছো ভাপা পিঠার দোকানিরে ঘিরে গল্প করতেছে মানুষজন, আর ধোঁয়াওড়া গুড়ের গন্ধে রাস্তাঘাট ব্লক হইয়া যাচ্ছে, এইটা আমার ঠিকানা, এইসব গল্পের ভিতর দিয়া শিং উঁচানো ষাঁড়ের সাথে দেখা হয় আমার, খালি গায়ে দেউড়িতে পড়তে বসা শেফালির সাথে হাসি বিনিময় করি আর ক্ষুদ্রঋণের রঙ দিয়া কৃষকের ধানগুলারে দিনে দিনে হলুদ হইতে দেখি! আমার কোনোমতে বেঁচে থাকা ঘাসগুলারে ভালো লাগে, যারা তোমার পায়ের তলায় পিষ্ট হতে হতে ঘাড় সোজা করে আবার, এদের সাথে গলা মিলায়া গান করতে ভালো লাগে; আর ভালো লাগে তোমার তাক করা ফনার নিচে বইসা বাংলা ভাষায় লিখতে, যদি ভাবো ছোবল দিবা আর পেটি উবুত হইয়া পইড়া থাকবো আমার কবিতা, তাইলে তোমার সাথে ফয়সালা আছে, হাত রাখো টেবিলে আর পাঞ্জা আগায় দেও! আলোর সমাজে একটা রং ওঠা সোয়েটার গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাতের আকাশ, তোমাকে হয়তো সে প্রশ্ন করে বসবে নাম-ধাম-ঠিকানা ও গোষ্ঠীর ধারা, হয়তো হাওয়াকে লেলিয়ে দিয়ে ছোট করে ধাক্কা দিতে থাকবে মেঘ, মিষ্টি হেসে পাশ কেটে যাবে কুয়াশার ঝাপসা মাথা, এই সমস্ত কল্পনাকে জড়িয়ে ধরে তুমি কি জীবনটাকে নামিয়ে রেখেছো প্রত্যাশার চুলা হতে? বাম হাতে বাজারের ব্যাগ থেকে গলা উঁচিয়ে আছে গাঁও গেরামের হাঁস, পথঘাটে অনেক ধুলা- হয়তো চিন্তাকূপে সাঁতার কাটছে মেয়ের স্কুল ফিস, মিটমিট করে ব্যথার বাবল এসে বুকে জায়গা বুঝে নেয়; অথচ সংসারের সবগুলি প্রতিশ্রুতির ওপাশে একটা ধানকল দাঁড়ানো, জীবনকে ছুঁড়ে দিচ্ছে ফুলটস বল, ডানহাতে লেগে আছে কলমের কালি, তোমার চারপাশে কতসব হাসিঅলা মুখ! এতোসব ভাবছো কেনোই বা! একটা অনিশ্চয়, গালে টোল ফেলে তোমার দিকে চেয়ে আছে; অথচ তুমিও ডুব দিতে জানো, জানো উল্টা সাঁতার, বরং মুচড়ে ফেলো এতোসব অতিভাবনার থাবা, গান করো, গাও, মৃত্যুকে চমকে দিয়ে লিখে ফেলো হাড়ক্ষয়, অদিতিবাগান; স্ত্রীকে বলে দাও সূর্যাস্তরেসিপি, গ্লানিকে বসিয়ে রেখে দরজায় তালা দিয়ে আসো, মৃৎফুলে, ঝিঁঝিদের আলোর সমাজে! মাকাল ফল বলো তো, মাকাল ফল কে না চেনে? আর কাঠের ঘুঙুর? যে হাত গড়িয়ে কব্জিতে বসে রোদ, মিঠাপানি পেয়ে সে হাত ডুবে থাকে; নিশ্চুপ গান, মেলে রাখে হাতপাখা; শিয়রে ডাবের ঝুঁকে থাকা ডাল আঁকা! এভাবে এসেছো বুকের ওপর হেঁটে, সিনার ওপর শুকাতে রেখেছো চুল- তবু তুমি ডাকো, দাঁড় ফেলো ডাকো, দিস্তা মেঘে টোকা দেয় মাস্তুল! তবু তুমি জানো, মাকালের আদ্রতা পৃথিবীর দিকে ঢেলে রাখে চপলতা! কে না চেনে? কে সেধে হাত দেয়? চেয়ে থেকে কেউ, চেয়ে থাকা বাদ দেয়!  যাত্রাবাড়ী তোরা যারা হেঁটে গিয়েছিলি পাহাড়ে, আমি নিচ থেকে সবাইকে নাম ধরে ডেকে দেখেছি গোড়ালিতে জোর থাকাটা জরুরি, নিজেকে উঁচু দেখাতে কাজে দেয়- ভাবছি, অন্তরীন হাওয়ার ভিতর, আত্মগোপনের আগে একবার ঘুরে যাবো পুরাটা শহর; তিনদিকে সিঁড়ি নিয়ে হাওয়া খায় ফ্লাইওভার- আর তাতে দাঁড়ালে, নিচকার মানুষ ও জীবিকা কতোখানি তুচ্ছ দেখায়, দেখবো; তোমাদের সুনীল ছাতায় বৃষ্টিকে হাসিখুশি ঝরতে দেখে চিনচিন ব্যাথাও বুকে চাপা পড়ে যায়, আর সেই ব্যাথার ধারে এসে সকালেই কোন‌ও যাত্রী, যাবে বলে ‘নছিমন-নছিমন’ ডাকে! নার্ভ অটুট রেখে বৃষ্টিবিঘ্নিত পূবালী হাওয়ার দিনে সূর্যের থাবা হতে ছুটি মেলে পাখিদের, কতো কথা ভীড় করে, যেনো, ঝড়ে বা হাওয়ায় উড়ে আসে চিরকুট,  ব্যাস ছেড়ে উড়ে আসে বৃত্তের প্রেমভাব- আমাদের সব কথা হাওয়ার বাকল গায়ে, সর্বংসহা গাছের মহিমা পেয়ে গেছে কতদিন; দূর থেকে হাইফেন লাগে, তোমাদের বাড়ির সড়ক! প্রসঙ্গে তোমার নামটি ঝরে ক্লান্ত বকুল হয়ে, কতো দিন বাগান পেয়ে থামি, ডাক দেই আকশি উঁচানো স্বরে; আর প্রেম দূরত্বসর্পিল, ক্যারমের ঘুটিমাঝে লাল উন্মাদ এক, তাড়া দেয়; যেনো সাপের গল্প শেষে, নার্ভ অটুট রেখে, তুমি ফিরে গেছো ঘরে, আধভেজা গায়!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>