প্রিয় নামহীন

প্রিয় নামহীন,

কেমন আছো অনি? রাগ করো না লক্ষীটি! তুমি বলেছিলে আমায় অনি বলে ডেকো। তখনই জানতাম মধু বাসরে সত্যি নাম নিষিদ্ধ। তাই এই নামহীন আমার বড্ড প্রিয়।

আমি টিনা, গার্গী যাই হই, আমার এই তন্বীশরীরের প্রত্যেকটি খাঁজে আমার নাম, পতিতা।আচ্ছা তুমি ভালো আছো তো?

দু’মাস হয়ে গেলো আমার ব্রান্ডেডহুইস্কি, দামী সানগ্লাস আর পাঁচতারা বেডরুমে বড্ড অনাকাঙ্ক্ষিত তীব্র ভাগাড়ের দুর্গন্ধ। বিদেশি সাবান, পারফিউমে চাপা পড়ে যাচ্ছে তোমার “মধুকন্যার” অঙ্গ সৌরভ।মনে পড়ে কি তোমার, ওই নামেই ডাকতে আমায়…।

মনে পড়ে সেই প্রথম দিন?

সবার সামর্থ্য নেই প্রথম সারির এই বীরাঙ্গনার কাছে আসার, রুপে-গুণে অদ্বিতীয়া নাকি আমি, তেমনই আমার দম্ভ। কেনো থাকবে না বলো? কে না আসে মন্দমেয়ের কাছে একমুঠো সুখ পেতে? পশু, পিশাচ, প্রতারক, প্রবঞ্চক,ভদ্র মুখোশধারী সবাই। কিন্তু তুমি? তুমি কেনো এসেছিলে আজও অজানা।

বব ডিলান নীল-ওঠা টিশার্ট জিন্স আর পায়ে চপ্পল।সরিয়েই রাখা হয়েছিলো তোমার আবেদন পত্র। কি যে অন্যরকম নেশা লাগলো চোখে, মন বললো তোমায় চাই। পাঁচতারা হোটেল হিন্দুস্থানের নরম গদিতে, প্রথম কথা ছিলো তোমার, আপনাকে কি বাইরে নিয়ে বেরুনো যায়? ব্যঙ্গ করে বলেছিলাম, কেনো আউটডোর ভালো লাগে নাকি? নির্লীপ্ত তুমি বলেছিলে, নিজেকে শুধু আমায় দেবে?

বারণ করতে লিপস্টিক লাগাতে। তাতে নাকি ঠোঁটের সাহস হারিয়ে যায়। প্রথমবার শরীর স্বাদ পেয়েছিলো ভালোবাসার। তুমি রবি ঠাকুর ভালোবাসতে।

সেই হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার মতন আমি নেচে উঠেছিলাম, “আমার খোলাহাওয়ায়…” 

মন্দারমনির প্রাইভেট সমুদ্রতটে খুলে দিয়ে মনের দখিণ দ্বার শুল্ক সন্ধ্যা চৈত্রমাসে, বকুল বাতাসে উড়িয়েছিলাম লাল শাড়ি, প্রভাতী মেঘে বায়না ধরেছিলাম, অনি,তোমার বাড়ি নিয়ে যাবে?গোধূলী আঁকবে আমার সিঁথিতে? না না, সেন্ট থোমাসের কিশোরীর এইস্বপ্ন দেখা সাজতো।

মা যখন লম্পট স্বামীকে খুন করে আত্মহত্যা করে।একা মেয়েটাকে, নিজের কাকা স্নেহ-ভোগ বাসনায় উরুসন্ধিতে আদর করতেই পারে। সেই মেয়ের স্বপ্ন দেখা সাজে না। 

বয়স তখন আমার দশ!

না না আজ খারাপ কথা ভাববো না, তুমি বলেছিলে, বাঁচতে হবে মধুকন্যা।

তাহলে কোথায় হারিয়ে গেলে?

আমি তো বেশ ছিলাম, শক্ত আবরণে, নিজেকে পটচিত্রের খল-নায়িকা বানিয়ে।হৃদয় প্রতিষ্ঠা করলে কেনো মূর্তির ভেতরে?

তুমি এসেছিলে,তোমার দমবন্ধ করা আভিজাত্যর বাইরে, এক টুকরো নিঃশ্বাস নিতে কিন্ত আমি যে প্রাণ পেয়েছিলাম তোমার গিটারের স্ট্রিংয়ে।তোমার আলতো স্পর্শে, রোজের ফোনে, মৌ-মৌ হাসিতে, রোজ সকালে ঘুম ভাঙানোর এস.এম.এস এ, অনর্গল আড্ডায়। নিয়ম ভেঙ্গে মনে হয়েছিলো, ভালোবাসা তোমার দৃপ্ত, শুভ্র হিমাদ্রি চোখে।

কি ভীষণ রেগে যেতে যদি ফোন আসতো অন্য কারুর ।

মা হওয়ার দুঃসাহসীক বাসনা আমার কখনোই ছিলো না, কিন্ত তোমার জেদ, আমার ওপর আধিপত্যকে আগলে রাখতাম বুকের ভেতরে।

জানো তোমায় কোনওদিন বলা হয়নি, ঘুরতে গিয়ে রোজ ভাবতাম, সূর্যাস্ত দেখতে গিয়ে দেরি হয়ে যাক আর মিস হোক ফেরার ট্রেন।

নিজেকে বারবার সমর্পণ করতে ইচ্ছে করতো তোমার কাছে, যখন জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেতে, মনে হতো আজ বসন্ত। ভালোবাসার প্রজাপতি উড়তো ডানা মেলে যখন মিলিত হত সিক্ত অবয়ব..!উষ্ণ আদরে জেগে উঠতো বউ হওয়ার ইচ্ছে।আজ তোমায় বড্ড মনে পড়ছে।তুমি যে বলেছিলে,অন্য শহরে সংসারপাতবো আমরা।

দু’মাস হয়ে গেলো, প্রতীক্ষাই সার।ফোনটা সুইচড্ অফ।

আবার নামতে হয়েছে কামনার জঙ্গলে, কালো হাত ছুয়ে যাচ্ছে নীথর শরীর। প্রলেপ চড়েছে দম্ভের। নিশি কালো রজনীর পৈশাচিক চুম্বন, কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে এই রক্ত মাংসের প্রাণহীন দেহ।

না আমি তোমায় দোষ দিই না।

খন্ড খন্ড মুহুর্তগুলো জড়ো করে রেখেছি এই আষাঢ়ী দুচোখের জন্য। বিরহের মেঘাবৃত জীর্ণ তোমারই স্মরণে আজ বেদনার পল্বল। তুমি না এলে, ভালোবাসা বুঝতাম না যে।

আজ আমার চেয়ে থাকাতেই আনন্দ। মনে মনে শুধু ভাবি তুমি আবার আসবে বলতে আমায়, ভালোবাসি মধুকন্যা ।আর যদি না ফেরো…।

ভালো থেকো অনি । নিকোটিনে পুড়িয়ো না হৃদয়।বুকের মধ্যে জড়িয়ে রেখো এমন কাউকে যে গিটারের স্ট্রীংয়ে তোমায় নেশা লাগায়। তুমি নিশ্চয় দশটা-পাঁচটায় নাম লিখিয়েছো গান গাইতে ভুলো না কিন্তু…আর প্লিজ, নীল কালো টি-শার্ট ছাড়াও রঙ হয়। অগোছালো সুন্দর থেকো, কেমন? আমায় কি প্রাক্তন বলা যায়? না বোধহয়।

থাক। আমি ভালোবাসবো বলেই বেসেছি। কোনো কিছু না ভেবেই বেসেছি। কিছু চাই না।তুমি যেমন আছো সেই রকম-ই থেকো ব্যাস। এইটুকুই। সত্যি বলছি আর কিছু চাই না। অতীতের কালো মুছে আলোকিত করেছ আমার জীবন… সর্বত্র তোমার আলোয় দৃশ্যমান হচ্ছে কিছু মুহূর্ত ওই মুহূ্র্ত গুলো নামহীন কিন্তু আন্তরিক।

ধূসর সোনালী কাব্যে তুমি সারা জীবন আমার ভালোবাসা হয়ে থাকবে। কথা দিলাম। এই চিঠিটা ডাক বাক্স পাবে না কোনওদিন।

যদি কখনও আসো, জানি সেদিন কিছু বলতে পারবো না। সেদিন এই পত্র প্রেম থাকবে আর থাকবে তুমি আমি আর একান্ত ব্যক্তিগত…। যাই, শরীর ডাকছে দরজায় ।

 

ইতি,

শুধু তোমার 

মধুকন্যা 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত