প্রজাপতি (পর্ব-১)

‘মেরো না, পায়ে পড়ি—।’

‘মারব না। স্‌সা—!’

‘তবে রুমালটা দিয়ে ওরকম ঝাপ্‌টা মারছ কেন। মরে যাবে যে।’

‘আরে না, মরবে না। ওকে পেড়ে ফেলব শুধু। আয়, আয়, স্‌সা—।’

‘আহ্‌, উহ্‌, ইস্‌! গেল, গেল এবার। এত সুন্দর প্রজাপতিটা….।’

‘হ্যাঁ, পাশের বাড়ির চিনু যে রকম কালো বোম্বাই প্রিণ্ট শাড়িটা পরে, ঠিক—।’

‘তোমার মাথা! কী রকম চক্‌চক্‌ করছে দেখছ, বেনারসী সিল্ক নীলাম্বরী হলে যেরকম হয়, ঠিক সেরকম রঙ। তার ওপরে রুপোলী ছাপের বুটি। কী সুন্দর। দোহাই—।’

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, তোমার সেই রুপোলী বুটি বেনারসী নীলাম্বরীটার মত, তাই না? কে যেন প্রেজেণ্ট করেছিল?’

‘দাদা। কিন্তু—।’

‘কোন্‌ দাদা? আহ্‌, এইবার।’

‘ইস্‌, গে গেল!’

‘যাত্তেরি, কেটে পড়ল। কোন্‌ দাদা, বললে না?’

‘কোন্‌ দাদা আবার, যে-দুই দাদা আছে।’

‘ওরা তো, মায়ের পেটের বোনটিকে বেনারসী সিল্ক কিনে দেয় না। ওরা তো লাফাঙ্গা।’

‘সেটা আবার কী!’

‘যার ফেমিনিন জেণ্ডার লাফাঙ্গী। হেই স্‌সা—!’

‘তার মানে কী?’

‘যাদের বাটপাড়ের ভয় নেই।’

‘তার মানে, ল্যাঙ্‌টা?’

‘স্‌সুনটি আমার! বুঝতে পেরেছ দেখছি। হুই স্‌সা—।’

‘অসভ্য! আচ্ছা, দাদাদের তুমি ওরকম বল কেন।’

‘বলি—।’

‘আহ্‌ ইস্‌, মরেছে?’

‘নাঃ পারিনি। প্রজাপতিটা খচ্চর আছে, ওই কড়িকাঠের কাছে উঠে গেছে। তোমার সেই শাড়িটার দাম বেশী, তাই বলছিলাম। কে দিয়েছে, বললে না? তোমার কেশবদা নাকি?’

‘যাঃ।’

‘তবে, ঘুরঘুরে পাকা, সেই র‍্যাশন ইনিস্‌পেকটা তোমার অনিলদা?’

‘কী যে যা তা বল-না, ওরা দেবে কেন। কিন্তু ও কি, ও কি করছ?’

‘কী করছি।’

‘পালকের ঝাড়নটা নিলে কেন?’

‘তা নইলে ওটাকে কাবু করতে পারছি না।’

‘ছেড়ে দাও না, আহ্‌! কী বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে তোমাকে।’

‘কেন?’

‘তোমার চোখগুলো টকটকে লাল হয়ে উঠেছে, খুনীর মত।’

‘তা হবে। এই, এই, মার্‌ স্‌সা—।’

‘আহ্‌—উহ্‌!’

‘তবু হল না।’

‘তুমি ঘেমে উঠেছ।’

‘তা উঠেছি।’

‘তার উপরে তোমার ওই দোনলা পাইপ প্যাণ্ট—!’

‘স্‌লা একে কাপটি, তায় এখন ঘামে জেবড়ে গেছে। যেন পা টেনে ধরছে মাইরি।’

‘ব্রাউজের মত বিচ্ছিরি সার্টটাও তো গায়ে লেপটে গেছে। এবার ক্ষান্ত দাও না।’

‘দেবো, ধরি আগে। প্রজাপতিটা মদ্দা না মাদী বল তো? ’

‘তা আবার বোঝা যায় নাকি। আহা, বেশ হয়েছে এবার, কড়িকাঠে গিয়ে চুপ করে বসে আছে।’

‘বসাচ্ছি। এটার ভাব দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মাদী। জব্বর খাটাচ্ছে। খুব হাততালি দিচ্ছ, না?’

‘দেবই তো—কিন্তু ও কি, ও কি করছ সুখেনদা।’

‘দেশলাই ছুঁড়ে মারছি। ওড়াবো ওকে, তবে—এইবার! উড়েছে। আয় আয়…।’

‘আহ্‌ কী করছ, দিদি জামাইবাবুর বিয়ের ছবিটা দেয়াল থেকে পড়ে যাবে যে।’

‘পড়বে না। তাছাড়া তোমার দিদি জামাইবাবুর তো ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু এটা নির্ঘাত মাদী, দেখছ, লাল লাল ফুটকিও রয়েছে।’

‘তোমার মুণ্ডু। ওটা মোটেই লাল না, মেজেণ্টা। কিন্তু ছবিটা তুমি ঠিক ভাঙবে।’

‘না। আহ্‌ এবার, স্‌সা ঝেড়েছি কিন্তু—!’

‘ইস্‌, ছি, কী করলে বল তো। একদিকের পুরো পালকটা খসিয়ে দিলে?’

‘কী করব, ওর ফরফরানির জন্যেই তো। কিন্তু দেখেছ্‌, একটা পালকেই এখনো ওড়বার চেষ্টা করছে!’

‘ছি ছি, তুমি জান প্রজাপতি মারতে নেই!’

‘কী হয়?’

‘ওরা বিয়ের দেবতা না?’

‘সেই যে নেমন্তন্নর চিঠিতে লেখা থাকে, প্রজাপতয়ে নমঃ।’

শিখা কোন জবাব দিল না। এক ডানা ভাঙা প্রজাপতিটা তখন দেওয়াল ঘেঁষটে নিচে পড়ছে। শিখার দিকে তাকিয়ে দেখলাম। ও তখন আমার দিকেই চেয়ে রয়েছে। ঠোঁট দুটো ফোলানো, যেমন রাগ বা অভিমান করলে হয়। চোখের চাউনিও সেই রকম, একটু বাঁক খাওয়া। কালো তারা দুটো যেন একটু বেঁকে গেছে। আর সকালবেলাই কাজল পরেছে। ঠিক মনে হয়, সিনেমা সিনেমা। ভাল লাগে বেশ দেখতে।

কিন্তু আবার মনে হয়, এটা সত্যি না। সত্যি কি প্রজাপতিটার জন্যে ওর কষ্ট হচ্ছে। মনে হয় না। মনে হয়, ও যেন দেয়লা করছে। সিনেমা সিনেমা ভাব। এতক্ষণ বলে বলে, এইরকম করতে হয়। অথচ ওকে দেখে মনে হচ্ছে, প্রজাপতিটাকে বাঁচাবার জন্যে ও-ও লড়ছিল। সেই রকমই কি মনে হচ্ছে না, ওর গোলাপী আঁচল খসা দেখে। চুলের আলগা খোঁপা খুলে পড়েছে। আর ডোরা কাটা কাটা ব্লাউজটা তো দারুণ—ভাবলেই নিজের হাতটা চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।

খেতে হবে না। দু’ হাত পাইপ প্যাণ্টুলের পকেটেই পুরে দিই। কিন্তু, সত্যি, ওর ব্লাউজের নীল, লাল, হলদে রঙের ডোরাগুলো কাঁধের কাছ থেকে নামতে নামতে এমন ঠেলে উঠেছে, অদ্ভুত! আর কেমন, উঠেছে যেন ঢেউ দিয়ে, নেমেছে গোল হয়ে। বুকের দু’ দিকের কোন দিকেই কাপড় নেই। বোতাম পাটিতে বোতাম নেই, ঠিক উচ্চিংড়ের মত দুটো সেপটিপিন লাগানো। যেন চেয়ে আছে। গোটা আঁচলটা বাঁ হাতের ওপরে। ব্লাউজের নিচে ও আর কিছু পরেনি। পরলে ঠিক বোঝা যেত। আর ওগুলো পরলেই আসল জিনিস সব এমন ঠাস বুনোট খোঁচা পাথরের মতন লাগে—বিচ্ছিরি!

তবে এটাও ঠিক, শিখার আছে। এদিক ওদিক করে যা-ই খাক, শরীরটা বেশ ভাল আছে। ওকে দেখলে কেন জানি না, ভোরবেলার তাজা শিশির পড়া কপি পাতার মতন লাগে। ঠিক সেই রকম ডাঁটো, একটু একটু পাউডার লাগানো, আর নরম। ওরকম পাতার চচ্চড়ি যে খেয়েছে, সে-ই জানে কেমন লাগে। একটুও ছিবড়ে হয় না, সবটুকু খেয়ে ফেলা যায়।

ওকে সেই রকম লাগছে। আরো লাগছে এখন জামাটা পরেছে বলেই। ডোরাকাটা জামাটার কেমন টলটলে আলগা আলগা ভাব—ভাবলে মনে হয় হাতের মাথা খেয়ে ফেলি। কেননা, বোঁটা ছেঁড়া বেল কুঁড়ির কথাও মনে পড়ছে। কিন্তু ও এত এলোমেলো হয়ে পড়েছে, জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে আর ঘেমে উঠেছে, যেন প্রজাপতিটাকে বাঁচাবার জন্যে ও-ও লড়ছিল।

পকেটে হাত দুটো থাবড়ে থাবড়ে, গোড়ালির নালি দিয়ে একটু হাওয়া ঢোকাতে চাইলাম। উরে স্‌সা—কী গরম লাগছে। একটা প্রজাপতি ধরতে হাঁপিয়ে গিয়েছি।
শিখা দেওয়ালের কাছে সরে গিয়ে, ডানা ভাঙা প্রজাপতিটাকে দুই আঙুলে তুলে নিল। আর একটু দূর থেকে ভাঙা ডানাটা কুড়িয়ে আনল। কীরে বাবা, প্রজাপতিটার কি মরণ নেই! শরীরের সংগে লাগানো ডানাটা এখনো নাড়িয়ে চলছে। উড়তে চায় নাকি। কোথায় যেতে চায়, বিয়ে করতে? তা তো না, প্রজাপতি হল—কী যেন বলে, এই স্‌সা-প্রজাপতি-প্রজাপতি—হ্যাঁ “প্রজাপতির সনির্বন্ধে” বলে। কী তার অর্থ, কে জানে। মোটের ওপর প্রজাপতি বিয়ে দেয়। তাহলে বিয়ে দিতে যেতে চায় বোধ হয়।
কিন্তু না, আমি ওটাকে সত্যি মারতে চাইনি। ধরতে চেয়েছিলাম! ধরে গিয়ে মারলাম—মারলাম মানে, নিজেই মরলো। এত ফরফর করবার কী ছিল, ছেউটি ছুঁড়ির মত। যেন গায়ে হাত দিতে গেলেই সুড়সুড়ি লেগে যায়, কাতুকুতু লাগে, আর এঁকেবেঁকে ছটফটিয়ে মরে। তখন কোথায় লাগতে কোথায় লাগে, পাঁজরায় না বুকে। তারপরে নাও, ‘উহ্‌ সুখেনদা, নিশ্বাস ফেলতে পারছি না, কী রকম লাগিয়ে দিলে।’ স্‌সা—যত্‌তো ঝামেলা। সেই যেমন হল একবার, পিকনিকে যাওয়া হল, এখানকারই একটা কারখানা স্টাফের সঙ্গে। কারখানার স্টাফ মানে, মজুর বা কেরানী না, সব বিলকুল সাহেব, সবাই ইংরেজীতে—ইংরেজীতে না, স্‌সা ইনরিজিতে কথা বলে, ‘বাউ’ মারে, রপোট কত! থাকে সব কোম্পানীর পাঁচিল ঘেরা কোয়ার্টারের মধ্যে। রঙীন মোজাইক টাইলস্‌-এর মেঝে, প্লাস্টিক পেইণ্ট দেয়াল। সব মাথা-ভারি পোস্টের লোক থাকে সেখানে, তারা সবাই সাহেব, বউয়েরা মেমসাব, মেয়েরা মিসিবাবা, ছেলেরা সব বাবা। সব বাঙালীর বাঙ্‌ আর ইংরেজের রেজ—যাকে বলে বাঙ্‌রেজ।
আমাকে কি আর ওদের পিকনিকে নিয়ে যাবার কথা। না কি, কোয়ার্টারে গিয়ে যে মাঝে মধ্যে দিলালি করে আসি, তা ওদের খুব ভাল লাগে। মোটেই না। দাঁতে দাঁত চিবিয়ে মরে, তার নামই হাসি। চোখের নজর দেখলেই বোঝা যায়, মনে মনে কী গালাগাল দেয়। এত খারাপ যে, আমিও বোধহয় লজ্জা পেয়ে যাব। তবু আমাকে খাতির করতে হয়। আমার নাম সুখেন, সুখেন্দু—সুখ যুক্ত ইন্দু, স্‌সুখেন্দু—বাপের নাম ভুলে যাবে সব, এমন না শুনলে। এর পরে কেউ বলবে না, আমি ব্যাকরণ জানি না। আমি সুখচাঁদ। অবিশ্যি সবাই বলে সুখেন গুণ্ডা। সামনে না, আড়ালে। জানে সবাই। কারখানার স্টাফ, ম্যানেজার বল, লেবার এ্যাটভাইসার বল, সিকিউরিটি অফিসার বল, তারাও তা-ই জানে। আর সেইজন্যেই খাতির করে। তবে কিনা, আমি তো আসলে ভদ্দর লোকেরই ছেলে, সেইজন্যে একেবার গুণ্ডার মত দেখে না। তেতোর ওপরে একটু মিঠে পলেস্তরা, যেন সামাজিক মেলামেশা।
তা তো দেখাতেই হবে। আমার না হয় ঢাক ঢাক গুর গুর নেই, দু’ কান কাটা। ওদের তো আর তা না। এই শহরের একটা গুণ্ডার সঙ্গে ওরা কি করে মেলামেশা করবে। ওরা যেন জানেই না, আমি কে, আমি কী। ভাবখানা, এমি একটা তাজা প্রাণের দুঃসাহসী যুবক। এ ডেয়ার ডেভিল নাইস্‌ ইয়ংম্যান। একথা বলে আবার চোপরা, কারখানার ম্যানেজার। লেবার এ্যাডভাইসার মিত্তিরও বলে। স্‌সালা, এখন হাসি পায়, রাম খিস্তি করতে ইচ্ছা করে। তার ওপরে আবার যখন দেখি, ওদের বউয়েরাও ওরকম বলে। তোদের কত্তারা বলে, তার না হয় কারণ আছে। তোরা কেন বলিস। কুটকুটুনি, না? সত্যি, দেখলে মেয়েলোক বলতে ইচ্ছা করে না, মাগী বলতে ইচ্ছা করে। আর মনে হয়, মাগীগুলোর কস্মিনকালে গা ঘামে না, গায়ে পোকা। খাওয়া আছে, খাটুনি নেই। নরম নরম বিছানায় খালি থলথলিয়ে চিত্তির দিয়ে পড়ে থাকা।

তাছাড়া খাটাবে বা কে, সে রকম পুরুষই বা কে আছে। চোপরা বল, মিত্তির বল, ওরা তো আর মানুষ নেই। ওরা কেবল ম্যানেজার আর লেবার এ্যাডভাইসার। ওতে মেয়েমানুষ ম্যানেজ করা যায় না, লেবার করানোও যায় না। তা-ই দেখ গিয়ে, মেমসাবেরা শেদে যাওয়া চুলে কালো রঙ মেখে, বুক থেকে কপাল অবধি রঙ পালিশ দিয়ে, কাতলা মাছের পেটিওয়ালা বুক, নিজের মেয়েটির মত বানিয়ে, খাই-খাই করে বেড়াচ্ছে। ‘হ্যালো সুখেন’ ‘ও সুখেন’—যেন সুখেন ছাড়া প্রাণ বাঁচে না। সুখেন তোমাদের পীরিতের ইয়ে। ঠিক সময়ে বিয়োলে সুখেনের থেকে বড় ছেলে তোমার হত, সে খেয়াল নেই। চোপড়ার বউটা আবার বলে, আমি নাকি ‘হ্যাণ্ডসাম’। মিত্তিরের বউটা গায়ে আঙুল টিপে বলে, ‘তোমার শরীরটা সাংঘাতিক শক্ত, গড়নটাও সুন্দর।’ আরে, ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারের বউটা পর্যন্ত, যার চুল দাঁত কিছুই বোধ হয় আসল না, চোখ ঘুরিয়ে বলে, ‘তোমার চুলগুলো সুন্দর কোঁচকানো, হিরোদের মত।’ স্‌সা—! তোরা কেন, ওসব বলবে তোদের মেয়েরা। তবে জানি, মায়েরা যা বলে মেয়েরা মনে মনে তা-ই গুন গুন করে, চোখে মুখে সান্‌ সান্‌ মারে।

আসলে ওদের কত্তারা তো ভাবে, আমি একটা কাঁচা-খেকো হাউণ্ড। তারই নাম ডেয়ার ডেভিল নাইস ইয়ংম্যান। জানে, এই গোটা মফস্বল টাউনটা, আমার হাতের কবজায়। দরকার হলে, এক কথায় আগুন লাগিয়ে দিতে পারি। রক্তে ভাসিয়ে দিতে পারি। তা-ই ভয়ে ভক্তি, ভরসাও। একটু হাতে-টাতে রাখতে চায়। তার জন্যেই খাতির বেরাদারিম আদতে পোষা কুকুরের ওপর নেক নজর। কিন্তু ওরাও জানে না—না না, জানে ঠিকই, ওদের আমি এক একটা শুয়োরের বাচ্চা ছাড়া কিছুই মনে করি না। আমি ভাবি, মেমসাবরা কী ভাবে। সেই কুকুরটাকে খেলায় আর আদর করে, না কী? উরে স্‌সাহ্‌, আমার সেই ছবিটির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, সে-ই ইংরেজি খিস্তি ছবির বইটা, যার মধ্যে মেয়েমানুষ আর কুকুরের ছবি ছিল। কী কাণ্ড রে বাবা! ঝকঝকে ছাপানো ছবি। ইংরেজীতে সব লেখা। নিশ্চয়ই প্রেসেই ছাপানো, লেখাপড়া জানা লোকদেরই লেখা। যারা কেনে, পড়ে, তারাও কিছু কিঞ্চিত লেখাপড়াও জানে। নইলে পড়বে কেমনে করে। শুধু কি কুকুর নাকি। এখন কোন জন্তু জানোয়ার নেই, যাদের সঙ্গে মেয়েমানুষের ছবি ছিল না। হাতী ঘোড়া ষাঁড়…স্‌সাহ্‌ অদ্ভুত কাণ্ড। কী করে ওসব ভাল লাগে, মজা পাওয়া যায়, আমি সত্যি বুঝি না। আমার তো মনে হয়, আমার সামনে কেউ ওরকম কাণ্ড করলে, আমি দুটোকেই পিটিয়ে মেরে ফেলব। জন্তুটাকে আগে মারব। তারপরে মেয়েমানুষটাকে।

আসলে ওসব সত্যি না। কেবল বদমাইসি। তবে, একবার মহাভারতে না কিসে পড়েছিলাম, অশ্বমেধের ঘোড়া যখন ফিরে আসে, অর্থাৎ জিতে ফিরে আসে, তখন বলি দেওয়া হয়। তার তারপরে, রাজার যে আসল রানী, পাটরানী, তাকে তার সঙ্গে ওই সব করতে হয়। সেই বইটার ছবির মত। সত্যি ওরকম করত নাকি, কে জানে। নাকি খালি গুলবাজাকি। কিন্তু রামায়ণ মহাভারতে কি মথ্যা কথা লেখে। কী জানি, আমি ওসব ভাবতেই পারি না। আরে, শত হলেও সেটা একটা ঘোড়া তো! একটা প্রকাণ্ড জানোয়ার! ধূ—র, যাচ্ছেতাই। আর বাঙ্‌রেজ আর পাঞ্জারেজ—মানে পাঞ্জাবীর পাঞ্জ আর ইংরেজের রেজ, পাঞ্জরেজ মেমসাবরা আমাকে সেরকম একটা কুকুর ভাবে নাকি। মারব মুখে লাথি। আমি থু থু দিই শুয়ারিগুলোর গায়ে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত