| 26 ফেব্রুয়ারি 2025
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

উৎসব সংখ্যা: চার্লস বার্নস্টাইনের কবিতার অনুবাদ । রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,Charles Bernstein
 
ভাষাকবিতার কবি চার্লস বার্নস্টাইনের কবিতার অনুবাদ। হ্যাঁ, আমি সেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চার্লস বার্ন্সটাইনের কথাই বলছি, একাধারে যিনি কবি, প্রাবন্ধিক, কাব্যিক তত্ত্ববিদ ও গবেষক; কপালে যাঁর দুর্বোধ্যতার তকমা, রক্তে নতুনের খোঁজ, মজ্জায় প্রতিরোধের বীজ, difficult যাঁর প্রিয় বিশেষণ। এতদ সত্ত্বেও ২০১৯ সালে তাঁর Near/Miss কাব্যগ্রন্থটি মার্কিন সাহিত্য জগতের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার Bollingen Award লাভ করেছে। পোশাকি পরিচয়: জন্ম ১৯৫০, আমেরিকার ম্যানহ্যাটন শহরে, ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি পরিবারে, হার্ভাডের ছাত্র, বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্কের সানি ডিস্টিংগুয়িস্ট প্রফেসার, পেনিসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্যে ডোনাল্ড টি রেগান প্রফেসার এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস এন্ড সায়েন্সের ফেলো, পেনসাউন্ড এবং ইলেকট্রনিক পোয়েট্রি সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা। আর এইসব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি বিখ্যাত তাঁর L=A=N=G=U=A=G=E পত্রিকার সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। প্রায় ১০০টি বইয়ের অধিকারী তিনি যার বিশদ তথ্য এই সাইটে http://writing.upenn.edu/epc/authors/bernstein/
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com: ২০২১ এ চার্লস বার্নস্টাইনের সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা এক উল্টোপাল্টা পৃথিবীর কথা বলে, যাকে ধারণ করেছেন তাঁর “tactical reversal” পদ্ধতিতে, নতুনতর সম্ভাবনার আলোয়। বর্তমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির চোরাবালিতে মানুষের নিরন্তর অনিশ্চয়তা ও অসঙ্গতি কবিকে যে বৈপরিত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় তারই বাঁকা চাহনি তাঁর লেখনিতে, বোধ ও বোধ্যতার নিবিড় অনুষঙ্গে জেগে উঠেছে তাঁর কবিতার সূচিমুখ। Topsy-Turvy চারটি অধ্যায় নিয়ে রচিত, যাকে বার্নস্টাইন বলছেন চারটি বইয়ের সমাহার। সেই প্রথম বইটির নাম দিয়েছেন Cognitive Dissidence. এই মতানৈক্যই তাঁকে প্রথাগত কাব্যশৈলীর অনুগামী আর অনায়াস নিরাপত্তার বিপরীতমুখী চলনের মন্ত্র জোগায়, সৃষ্টি করেন এক নতুন কাব্যতত্ত্ব— প্যাটাক্যুয়রিক্স, যার অন্তরে বাস করে তিনটি ‘q’—queered(কিম্ভূত), quixotic(কল্পনাবিলাসী), querulous(কলহপ্রিয়)। এই নান্দনিক তূণেই মোকাবিলা করেছেন আমাদের এই উল্টোপাল্টা পৃথিবীর। এই Cognitive Dissidence থেকে প্রথম তিনটি কবিতার অনুবাদ করা হল এখানে।
 

 
যথাস্থানে আশ্রয়
 
শুরু থেকেই এ ছিল অসম্ভব,
তিক্ত পাঁচমিশেলি বাদ্য বাজাচ্ছি
সেই কবে থেকেই
যখন আমরা বাঁধনহারা নাচতাম।
এখন আমরা পরিত্যক্ত।
ঈশ্বরের নীরবতা আমাদের
একে অপরের কাছে বধির করে,
আর প্রতারক করে প্রতারণা
সেই পরিচিত সুরে।
পরিচিত ও মারাত্মক।
জেগে ওঠার কথা যারা বলে
এখনও অনেক
অনেক নীচু তাদের কণ্ঠস্বর:
ভবিষ্যতে কী আসতে চলেছে
তারই একটু আভাস দিতে
ইতিমধ্যেই উত্তরদিকে সুর তুলেছে
অ্যান্থ্রব্‌সিন।
 
 
 
আমি-র গান
 
(রুকার্ট ও মাহ্লর পরে)
 
আমি এই পৃথিবীতে এসে পরিত্যক্ত হয়েছি
জীবনের মূল্যবান সময়টুকু নষ্ট করার পর
হাতে ব্যান্ডেজ ছাড়া আর কিছুই রইল না।
তবু অলক্ষিতে সময় বয়ে যায় ধীরে,
স্বপ্নগুলো আছড়ে পড়ে চোখের পাতায়
তবু একা, ছড়ার ছাইতে চাপা।
এই পৃথিবীর ভুল বাসাগুলো
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তবু আমি আমার গানে
প্রতিটা দরবারে, প্রতিটা সকালে
 
 
 
যদি সাফো হতো ইউএফও
 
আর আমি একটা জিন হতাম
তবে আমরা প্লুটোর ওপর নাচতাম
আর রিওর ইপানেমা সাগর বেলায়
সান্ধ্যভোজ সারতাম। আর কিছুই
আমাকে তেমন করে টানে না
এই বুননছেঁড়া বিস্ময়গুলো ছাড়া,
যারা এতদিন শুধু তিনটে অনুমোদিত
বিক্রেতার দ্বারা ক্রেতাহীন বাজারে এসেছে।
আমি একে প্রায় মঙ্গল গ্রহ বানিয়ে
বাড়ি ফিরতে পারতাম,
কিন্তু বড্ড বেশি কাদা ওইখানে, আর
আমি ঘরোয়া গন্ধের অভাববোধ করেছি
যদি তা বিদেশাগতও হয়।
জন অ্যাশবেরির উদ্দেশ্যে
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত