| 15 এপ্রিল 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা গল্প: মঞ্জিমা । হীরক সেনগুপ্ত

আনুমানিক পঠনকাল: 10 মিনিট

ব্যাঙ্কে এলে মঞ্জিমার চোখ টানবেই। কারণটা খুব স্বাভাবিক। দেড়ফুট মেহগনি কিউবিকল। এন্ট্রেসের অপোজিট। কাস্টমারের চোখ বরাবর ব্যবস্থা। লক্ষণ গন্ডীতে বিচ্ছুরিত বার্নিং বিউটি। রিসেপশনিষ্ট মঞ্জিমা। কাস্টমার, পতঙ্গ। বিবশ। হেঁটে আসে।

মঞ্জিমা ভেবেছিল ইংরেজি পড়াবে। কলেজ-টলেজে। যোগ্যতা ছিল। হঠাৎ ভয়ানক অসুস্থতায় কলেজের সুযোগটা গেল। তাই, শেষে ব্যাঙ্ক। অবশ্য ব্যাঙ্কের ইনার আই থাকে। চিনেছিল ভবিষ্যৎ পুঁজি। মঞ্জিমাকে ওর নিজের শর্তেই তুলে নিল। মোটা মাইনে। সঙ্গে অন্যান্য সুবিধাও, আর মঞ্জিমার তো ঝোঁকের বশে  ব্যাঙ্কিংয়ের এমবিএ ডিগ্রিটা ছিলই। খাপে খাপ। কাজে লাগল।

অভ্রের সঙ্গে মঞ্জিমার আলাপ আচমকা। অভ্র তখন ফ্যাশন ফোটোগ্রাফিতে। বিজ্ঞাপন জগতের সেনসেশন। নামী চিত্রশিল্পীও বটে। সেবার গেছিল ‘লীলাবতী গার্লসের স্টুডেন্টস’ ফেস্টিভ্যালে।  চিফ-গেস্ট। ইনভাইট করেছিল,হর্ষিল নায়ার। কলেজের এক্স স্টুডেন্ট। অভ্রর টিমে কাজ করত।

ফ্যাশন কম্পিটিশন ইভেন্টে গিজগিজ স্টুডেন্টস।  রাম্পে হেঁটেছিল অনেকেই । কিছু  গেস্ট ছিল কসমেটিকস কোম্পানির। কর্পোরেট হাউজের চোখ পড়ল তারপর যা হয়।

কয়েকমাস পর মাস্কারা ইন্টার ন্যাশনাল বিউটি কনটেস্টে ইনভিটেশন। মঞ্জিমার পার্টিসিপেশন নেহাৎ কৌতূহলে। মাথায় উঠল সেরার মুকুট। যদিও পরে মঞ্জিমার সে মডেলিং কেরিয়ারও বাদ হল। তবে অভ্র সম্পর্ক ততদিনে পাহাড় । রয়েই গেল।

বাড়িতে ফিরে ব্যাগে হাত রেখেই মনে পড়ল গিফটের কথা। দেবত্রী দিয়েছে। অনেকদিন পর দেখা হল ব্যাঙ্কে। একসময়ের ফ্যাশন পাগল। এখন ঘ্যামা স্কিন স্পেশালিস্ট। মঞ্জিমার ব্যাচমেট।

দেবত্রী থাকে নিউটাউন। আজ ব্যাঙ্কে এসেছিল টাইট জিন্স আর ক্রপটপে। বড়জোর লাগছিল ২৭/২৮। আগে তো ছিল

সাইজ ছিল ৩৬-২৪-৩৬। এখন হয়ত একটু কমই, ৩৪-২৪-৩৪। তাতে কী, ক্রাশড করতে  এনাফ।

মঞ্জিমাকে দেখে একঝলক হাসল। দেবত্রী তখন টেলার-কাউন্টারে, বাঁহাতের তিন আঙ্গুল নাড়ায়। বাতাসে জলতরঙ্গ ওঠে। সে সুরের ন্যাকা চপস্টিক মঞ্জিমার কিউবিকলে থিতু।

দেবত্রী গাড়িতে বসে  ফোন করল,

‘গুরু, সুপার মডেলই রয়ে গেলি। আমরা ধেড়িয়েছি’

‘ইস,বাজে বকিস না তো। সঙ্গে কথা ছিল। ক্লিনিকে যাব?’

‘ নাইস অফ ইয়ু। ক্লিনিক কী বলছিস! ধেৎ। মুখপুড়ি বাড়ি আয়। জমিয়ে আড্ডা হবে। কবে আসছিস?’

‘এই উইক-এন্ডে তিনদিন ছুটি। কবে যাব?’

দেবত্রী খানিক ভাবল।

‘কাম অন স্যাটার্ডে, ইজ ইট ওকে?’

‘ওক্কে। স্যাটার্ডে, মর্নিং। ডান?’

‘ডান, স্যাটার্ডে’

বাথরুমে আসে মঞ্জিমা। হটবাথ নিয়ে ফ্রেশ লাগছে। দেয়ালের কাচে নিজের ছায়া। দেখতে দেখতে ভাবছিল। আস্তে, আস্তে টাওয়েলের চাপ। গলা, ঘাড়, ব্রেস্টের নিচে, একটু স্লোপে, নিপল ছুঁয়ে… কোমর, থাই, গোড়ালির খানিকটা। দু’ পায়ের গোছ… বাকি অংশে জলজ গন্ধ উমম…।

সিল্কের ফ্রন্ট-ওপেন রোব, হাল্কা গিঁট। মঞ্জিমা এখন পদ্মফুল। অল্প ওডিকোলনের টুঁকি। ঘাড়ে, লতিতে। চুলে টার্কিশে জড়ানো।আলগোছ। দোতলায় অভ্রর স্টুডিও। ভিতরে দিয়ে সিঁড়ি। ঘড়িতে  সাড়ে আটটা। স্টুডিওতে আলো জ্বলছে। অভ্র এখনও ওখানেই। মঞ্জিমা বিন-ব্যাগে বসল। ভিটামিন-ই মাথায় অল্প ম্যাসাজ করে। টার্কিশ টাওয়েল এখন পায়ের কাছে ল্যাব্রাডর। গুটিসুটি, কুঁইকুঁই। নিচু টেবিলে কফি, রাতের খাবার ঢাকা। ঝুড়িতে ফল।তিনদিকের দেওয়ালে অভ্রর আঁকা। বাকিটায় ঝকঝকে শার্সি। সিঁড়ির ধাপে মৃদু শব্দ । মঞ্জিমা দেখল, অভ্র এসে বিন-ব্যাগের পিছনে দাঁড়ায়। কমলা পাঞ্জাবি, সাদা চোস্ত। হাতের মোবাইল।

অভ্র খানিক অন্যমনস্ক। কব্জিতে রং, পাঞ্জাবির পকেটে নতুন ব্রাশ। মঞ্জিমা একঝলক আবার দেখে। এখনও টানটান । রিভলভারের গুলি। আচমকা ছিটকে যেতে পারে। মঞ্জিমার মন, লিরিল গার্ল। কফি-পটে হাত বাড়াল। অভ্রর চোখ এখনও আঁকায় ডুবে। একটু পরে বলল,

‘মম, নতুন পারফিউম?’

‘হু ,দেবত্রী দিল,ব্যাঙ্কে এসেছিল। তোমার কথা জিজ্ঞেস করল। ভাসিয়ে বললাম, ব্যস্ত।তেল-আভিভ যাবে’

অভ্রর হাসিতেই কথা।

‘অনেকদিন দেখা নেই। ভালো আছে?’

‘ভালোই, তবে সেই আগের স্পার্কলিংটা নেই।

এমনিতে ঠিকঠাক। হঠাৎ দেখলে দারুণ চোখ টানে। আমাকে বলল ,

‘আয় একদিন,’

‘যাবে বললে?’

‘ভাবছি, তুমি বেরোলে  যাব। শনিবার’

‘বাহ! ঘুরে এসো’

অভ্র চশমা মুছছে।

‘বোলো এই পারফিউমটা চমৎকার…’

কথা বলতে বলতে অভ্র, মঞ্জিমার কাঁধের পাশ থেকে হাত নামিয়ে আনে। পেছন দিক থেকে রোব খুলল। ব্রেস্টের নিচে তালু ।

‘জানো মম, তোমার এই শরীরটা যত দেখি আশ্চর্য হই!’

‘কেন?’

অভ্র ঝুঁকে পড়েছে।

‘আসলে তোমার ফিগারটা এত সিমেট্রিক্যাল। একটু আগে কাজ করতে করতে ভাবছিলাম। জেনারেলি এমন হয় না। অত্যন্ত স্ট্রং জিওমেট্রিক ফর্ম’

‘কেমন শুনি?

‘এই ধরো কপালের টিপ, কানের দুই লতি মিলিয়ে একটা ত্রিভুজ। আবার টিপ, দুই কাঁধ, নাভি ভাবলে চমৎকার চতুর্ভুজ।

‘আর কিছু?

‘আছেই তো। দু‘ কাঁধের শীর্ষ থেকে যোনির পরিমিতি। কিম্বা ধরো, দুই নিপল হয়ে যোনি… আরও আছে…

‘ব্বাবা… যত বয়েস বাড়ছে তোমার তত দেখি নতুন নতুন থিওরি…’

মঞ্জিমার ব্রেস্ট, অভ্রর মুঠোয়।

‘এই দ্যাখো আমার তালু বলছে একচুলও বদলাওনি।

যেমন দেখেছি লীলাবতীতে, তেমনই আজ। তফাৎ শুধু…’

মঞ্জিমা ভরা চোখে অভ্রকে দেখল। দীর্ঘশ্বাস রুদ্ধ। ততক্ষণ অভ্রর একটা গভীর চুমু, শেষ হল।

 অভ্রর রসিক মেঘ ভিজিয়ে গেল ঘর, দুয়ার। শরীর।

‘আজ আর কিছু না খেলেও চলবে… নিপলে মৃদু আদরের স্পর্শ…’

মঞ্জিমা বলল,

‘অনেক হয়েছে। পাগলামি রাখো। চেঞ্জ করে এস।

ডিনার দিচ্ছি’

গ্র্যান্ড-ফাদার ক্লকের এগারোটার ঢং। অভ্র চঞ্চল।

‘এখন? আচ্ছা দাও। চট করে আসছি’

খাবার টেবিলে কথা হচ্ছিল।

‘আচ্ছা মম, তোমায় বলেছিলাম, আমার ইনস্টগ্রামে অনেক মডেল, ফলোয়ার, কী বলেছে?’

খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে মঞ্জিমা বলল,

‘উফ! তোমার এত ফলোয়ার, নিত্যই অভিনব প্রস্তাব।

যাক গে। কী বলেছো এক্ষুনি মনে পড়ছে না। আরেকবার শুনি’

‘ওদের প্রোপোজাল দিয়েছিলাম। ওদের মিনস নট  ওনলি ফলোয়ারস, ইট ওয়াজ অ্যান ওপেন কল। ওভার দ্য সোশ্যাল মিডিয়া’

মঞ্জিমা বিস্মিত।

‘একদম রিকালেক্ট করতে পারছি না। ব্যাপারটা কী?’

অভ্র স্যুপে চুমুক দিয়ে বলল, বিষয়টা প্রফেশনালি মনে হয়েছে। উইমেন আর মোস্টলি ডিসস্যাটিসফ্যায়েড, রিগার্ডিং দেয়ার ব্রেস্ট সাইজ। দে ব্রুড। আইদার টু স্মল সাইজড অর অ্যাবাউট এক্সট্রা লার্জ।… হয় ঐ প্রত্যঙ্গ নিয়ে হতাশা অথবা খুঁতখুঁতানি…’ ‘লিখেছিলাম, এ বিষয়ে যদি মহিলারা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন… দ্যাট মিনস হাউ দে ফিল অ্যাবাউট, বাস্টস’ লুকস. উড হ্যাভ ইট বিন আদারওয়াইজ হ্যাপি… দোজ ফিলিংস, ই ফ শেয়ারড… উইথ ডিউ কনফিডেনশিয়ালিটি… আই কুড ট্রাই টু পেইন্ট দোজ হন্টেড মুডস…’

এবার মঞ্জিমা ঘাড় নাড়ল।

‘ইয়েস ইউ সেইড ইট বিফোর, থট অফ সামথিং, গট ইট।

এনি রিপ্লাই?’

মঞ্জিমার চোখ কপালে।

অভ্র আগ্রহী।

‘পারহ্যাপস নান ওন্ট বিলিভ, রেসপন্সেস আর সিম্পলি ওভারহোয়েলমিং!’

‘দোজ অ্যাপিলস, প্রেয়ারস ইনক্লুডিং চ্যাটস এন্ড

পিকস … রিয়েলি ফ্যাসিনেটিং, অলসো ফ্রাসট্রেটিং টু…

হাউ দে আর বুলিড, অর টন্টেড। হু আপসেটিংলি হ্যারাসড …ইন ল’স হাউসেস..ইভন,ডাইভোর্সড..আনবিলিভেভলি কমপ্লেক্সড। ফ্লাডেড ইমোশনস….দিস প্রজেক্ট উইল বি  টাফ, এন্ড চ্যালেঞ্জিংং। ধারণাই ছিল না।  এত হিউজ রেসপন্স পাব।..

‘যেমন একজন…যথেষ্ট সুন্দরী, রূপসী  লিখেছেন আমি অখুশি। মনে হয় সাইজটা আরেকটু বড় হলে ভালো হত। পুরুষের  দৃষ্টিতে আমার শরীরের প্রতি কামনা আছে।

বাট সিমস নো ইন্টারেস্ট অ্যাবাউট বুবস। নো কিউরিওসিটি হয়ত খানিক উপেক্ষায়ই করে যায় এ দুটো।আমার শরীর জ্বলে। আমি চাই ,ইউ শ্যুড ড্র দোজ বুবস বিগ এনাফ। যেন পুরুষেরা চোখ ফেরাতে না পারে…’

মঞ্জিমার দু’চোখ বিষণ্ণ বিস্ময়।

‘থাক না ওসব কথা। কিছু মহিলা তোমায় বিশ্বাস করে, পাঠিয়েছেন..থাক …ওনাদের গোপন কথা… কাজটা তোমার,..ইউ সি ,শেয়ারিং ইউল বি আনফেয়ার। হাজার হোক….’ মঞ্জিমা তবুও চুপ করেছিল।খানিক পরে বলল,

‘কোন মহিলার যে কোথায় কোন বেদনা।

নিঃস্বতার কষ্ট লুকিয়ে, কে জানে। যেটুকু শুনলাম, বিচিত্র বইকি..!’

‘তবে আমাকে শুনিয়ে তোমার লাভ কী? দে বিলিভড ইউ। নট মি’ অভ্র বিব্রত।

‘আসলে বলছি…আজ ওগুলো পড়ছিলাম। আর তোমার শরীরের কথা বারবার মনে হচ্ছিল.. তাই আশ্চর্য সিমেট্রি বললাম’

‘হু,বুঝলাম’

মঞ্জিমা কী কষ্ট পেল? অভ্রর ভেতরে নীল বিদ্যুৎ খোঁচা।

‘ওক্কে’

‘তোমার কথাটা ঠিকই।বিষয়টা আশ্চর্য লাগছিল,তাই হয়ত বলে ফেলছিলাম..। অ্যায়াম অনেস্টলি সরি।সে উহ্যই থাক’ পরিবেশ সহজ করার জন্য বলল,

‘স্টীল,..আই মাস্ট সে, দোজ ফিলিংস আর টু  কমপ্লিকেটেড টু বি পেইন্টেড’

মঞ্জিমা বোঝে, রিফিজ করায় অভ্র আপসেট। তাই নিজেই আগ্রহ দেখায়।

‘আচ্ছা বলো’

অভ্রর সত্যিই বলার স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছেটা চলে গেছিল‌। ভাবল মেয়েদের এমন একটা সেনসিটিভ ইস্যু…কথা না তুললেই ভালো হত। অভ্রর চুপ করে যাওয়াতে মঞ্জিমা মনে মনে কষ্টও পেল।ইস.. বাধা না দিলেই হত।না হয় অল্পই শুনতাম..ক্ষতি কী সত্যিই ছিল?

‘কী হল, বলবে না! অভিমান হল?’

অভ্র হাসে।

‘সেকি, অভিমান কেন হবে মম! আচ্ছা ইনশর্ট বলছি…

এমন সব  ফোটোগ্রাফ এসেছে সেগুলো সত্যিই আকর্ষণীয়। ওদের ব্রেস্ট যদি একটু ছোট কি বড় হয়ও বা, তাহলেও বিশেষ সৌন্দর্যহানি হয়েছে, মনে হয়নি। তবুও  কী বিচিত্র অপ্রাপ্তি! সব থেকেও মানসিকভাবে নিঃস্ব… আশ্চর্য.’ অভ্র মঞ্জিমা দু’জনেই নীরব। অনুভব করে কথায় তাল কেটে গেছে। ডিনার অনেকক্ষণ হয়েছে।তবু ফুরানো কথার যন্ত্রণা, সওয়ারী শূন্য দোলনার  নিঃশব্দ দোলন। ওদের বিদ্ধ করে অদৃশ্য দুলছে। দুলেই যাচ্ছে।দোলনায় কথার মরচে ধরা আংটা, কিচ..কিচ। কিচ..কিচ। দেয়াল ঘড়িতে বারোটার ঘন্টা।নিঃঝুম পরিবেশকে  ঠেলা দেয়। চমক ভাঙ্গিয়ে গভীর রাতের বাতাস, হারিয়ে গেল।

অভ্র স্টুডিওতে গেল। মঞ্জিমা বিছানায়। নানান কথা ভাসছে। দেবত্রীর কথা, ওর শরীরের খানিক অসামঞ্জস্য। অভ্রর কথা। সব ঘুরছে। আচ্ছা, দেবত্রীরও কী এমন কোন গোপন হতাশা আছে? ও যদি নাম উহ্য রেখে, ফেসক্রপড ছবি পাঠায়! বিচিত্র প্রবল ঢেউ আছড়ায়।ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসছে।সাদাকালো শামুক। ভাবনা কচ্ছপ। …হলভর্তি দর্শক …পোডিয়ামে মঞ্জিমার নাম ঘোষণা হচ্ছে উইনার হিসেবে, স্পষ্ট মনে আছে প্রথম রানার আপ, দেবত্রীর দৃষ্টি। আচ্ছন্ন সবুজ, ঈর্ষাকাতর।

…হতেই পারে সেসব মঞ্জিমার চোখের ভুল…আবার নাও তো হতে পারে। যদিও সে মুহুর্ত ছিল অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। …সে চোখের দৃষ্টি আর কেউ খেয়াল করেছিল কিনা জানা হয়নি.. তবুও যেন মনে হয়, একলহমা উন্মুক্ত ছিল দেবত্রীর অন্তঃকরণ..

…যদিও সম্পর্কে ফাটল ধরেনি। মঞ্জিমা সেদিন ঐ কসমেটিকস কোম্পানির অফার হেলায় ফিরিয়ে দিলে দেবত্রী লুফে নিয়েছিল… এজন্য ওর মেডিক্যাল কেরিয়ার দু’বছর পিছিয়েও যায়…। সেদিনের অফার অ্যাকসেপ্ট করা থেকে দেবত্রীর সুপার-মডেলের পরিণত হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।…তবে বিজ্ঞাপন-জগতের সবাইকে অবাক করে দেবত্রী। নিজেকে আশ্চর্যভাবে গুটিয়ে নিয়েছিল! মেডিক্যাল কেরিয়ারে ওর খ্যাতি, আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। তবু সেদিনের প্রতিযোগিতায় প্রথম না হতে পারার দুঃখটা বোধহয় মজা-হুল্লোড় টপকে শেষ পযর্ন্ত ইগোর লড়াই… যদিও  ব্যাঙ্কে এলেই  কথা বলে। আজ তো পারফিউমও দিল, সঙ্গে নেমতন্ন। মঞ্জিমা যাবে…

তবু মনটা বিমর্ষ। ভাবল, অভ্র ওসব চিঠি, ছবির কথাটা না বললেই ভালো হত। এসব মনে পড়ত  না।

ঘুম আসছিল না। অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করে উঠে এল। সামনে ড্রেসিং টেবিল। গাউনটা সরিয়ে নির্মোক শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঝলমল আলো, কাঁধ, স্তনের বক্রতলে গড়িয়ে নিপলের অগ্রভাগ ছুঁয়ে… পিছলে যাচ্ছে বাহুর ঢালে, কোমর.. থেকে আলোর রেখা… নাভির অন্ধকার ঘুরে হারিয়েছে বাঁকে। আরও নিচে সামান্য কেশ অলংকৃত যোনি ত্রিভুজ। থাই, হাঁটু, পায়ের আঙুলে প্রচ্ছায়া।

সাজঘরে পিছন আর পাশেও বেলজিয়াম গ্লাস আয়না। মঞ্জিমার দেহ, একটি ধনুকের বাঁক। স্তন, কোমর। নিতম্বের উপত্যকায় মারাত্মক ঘের …লুক্কায়িত উল্লাস ।নিজের শিহরণ নিজেই টের পায়। ও এখন কাঁটাওলা সজারু…আহ! প্রতিম্বিবে ঝলসে যায় লক্ষ মঞ্জিমা।পারস্পরিক অহংকার।সোনালী ত্বকের চিকচিক বালি,

গুঁড়ো ওড়ানো অভ্র । আছড়ে পড়া জোয়ারের ফিসফিস… জলেদের না ফেরার বায়না।দর্পণে সামুদ্রিক অলংকারের প্রতিলিপি।

দু’হাতে নিজের স্তনদুটিতে ঈষৎ চাপ।  তালু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিস্তৃতি পরিমাপ করে । তফাৎ ঠেকল না কিছুই। মনের অহংকারী রোম উল্লাস। মঞ্জিমার গোপন সুখ…নিয়মিত শরীর চর্চায় সুডৌল গড়ন। লালিত্যের সাফল্য ..মধ্যরাতে দ্রুতগতির জয়জয়ন্তী! মঞ্জিমা নেচে ওঠে।

১০

শনিবার দেবত্রীর বাড়ি যেতে  বারোটা হল।  নিউটাউনের রাস্তায় লোক কম। ঠিকানা বললেও চেনে না। জিপিএসে লোকেশন দেখাচ্ছে না। এসবেই দেরি। দেবত্রীর বরও ডাক্তার। অভিরূপ, এইমসে পড়ায়। তেমন বনিবনা  নেই। এক মেয়ে, দেবত্রীর মায়ের কাছে থাকে। মঞ্জিমা কলিংবেলে আঙ্গুল রাখে। সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে পিয়ানোর মূর্ছনা দেবত্রী বেলের ভিডিও ফোন দেখে।

‘মঞ্জিমা!’

নিচে এল।

‘বাব্বা, ভাবলাম এখনও অহংকার পড়েনি মাস্কারা উইনারের,

ভেতরে আয় শিগগির’

‘ধেৎ, তুই যে কী বলিস না’ দেবত্রী হাসল। উচ্ছল ঝিলিক ,রিনরিন ।

‘লস্যি খাবি?না গরম কিছু?’

‘লস্যি’

দেবত্রী এক ঝলক মাপে। মঞ্জিমার সাদা জিন্স প্যারালাল আর ফ্যাব ইন্ডিয়ার রানি কালারের কুর্তা। কানে কালো মুক্তোর টপ। বাঁহাতে প্ল্যাটিনাম ব্যাঙ্গেল। গলায় কালো মঙ্গল সূত্র।

দেবত্রী বলল,

‘আরে ভাই, হেব্বি মাঞ্জা দিয়েছিস। দারুণ মানিয়েছে’

‘আহা! তুই কি কম ..লো কাট টপ, আসামের ঘাগড়া, কানে গলায় হাল্কা স্বস্তিক। মিনে করা চমৎকার রুলি। ধানের টিপ। কালো ভেলভেট বিন্দি, পটের বিবি!’মরুভূমির পরস্পর মুখোমুখি ফনিমনসা ফুল। কাঁটাগুলো কথোপকথন শুয়ে নেয়। কত কথা হল। সোফায়, বাগানের দোলনায়, ছাদে… মেজনাইন ফ্লোরে। ওর স্টাডি কাম লাইব্রেরিতে, ফাটাফাটি কালেকশন। মঞ্জিমার ব্যাগে মুরাকামি আর পাবলো নেরুদার ‘সংস অফ ডেসপায়ার’ ছিল। বই দুটোর কোনটাই মঞ্জিমা দেখল না।

বলল,

‘মুরাকামি দেখছি না?’

দেবত্রী ঠোঁট ওল্টায় ,

‘নাহ ‘

‘নেরুদা…?’

‘ও সব পড়ার সময় কোথায়, শালা পেশেন্টের পেছনে লাইফ হেল…শখ আহ্লাদ সব ভোগে..মাই ফুট!’ মঞ্জিমা ব্যাগ থেকে বই দুটো বের করে হাতে দেয়। ‘চমৎকার বই।সময় করে পড়িস’

‘ওয়াও, থ্যাঙ্কু’ একথা সেকথায় বেলা গড়ায়। দেবত্রী একবার ভাবল মঞ্জিমাকে বলে,’…হ্যাঁ রে অভ্রদার একটা টুইটার পোস্ট দেখলাম, বেশ পিকিউলিয়ার; উইমেন ব্রেস্টের ওপর একটা কাজ করছে,কী ব্যাপার বল তো… ‘ কিন্তু চেপে গেল।

১১

এমনিতেই অভ্রর সঙ্গে মঞ্জিমার অ্যাফেয়ারে দেবত্রীর দারুণ আফশোস আছে। কারণটা দেবত্রী নিজেও জানে না। তবে কেমন যেন ধারণা হয়েছিল, মঞ্জিমা শুধু জিতেই যাচ্ছে… ওর বিউটি কনটেস্ট পেজেন্টের মুকুট… দেবত্রীর পাওয়া উচিৎ ছিল… মঞ্জিমা তখনও সাঁতার জানত না। ইন্ডিয়ান ফোক-সংয়েও একেবারে আনাড়ি…সেসব কিছুই কাউন্টেড হয়নি। কেবলমাত্র প্রিন্সির পার্শিয়ালটিতে, ধূর শালা। যাক যেসব ভুলভাল দিনের কথা…! আদ্দির চিকনের গেঞ্জি, গুজরাটি ফ্রক রেখেছিল মঞ্জিমার জন্য ।বাইরে পোশাক ছেড়ে ফ্রেশ হল মঞ্জিমা। বাথরুম থেকে বেরোতেই দেবত্রীর ভেতরটা ছটফট করতে থাকে। এখন তো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। ব্রেস্টের মাপ পারহ্যাপস, সেই থার্টি সিক্সই।না । সিমস লিটল স্মল…ধরা যাচ্ছে না।…স্টীল ওয়েস্ট-লাইন, শোল্ডার হিপ…উফ জাস্ট আনবেয়ারেবল! পরার জন্য এসব না দিলেই হত। শরীর জ্বলছে। উপায়ও নেই… দেবত্রীর অস্বস্তি হয়। এই আঠেরো  উনিশ বছরে স্যাগিং হয়নি! অফকোর্স হয়েছে। তবে… মালটা মেকাপ কীভাবে করল? প্যাডেড ব্রা’য়ে?

ব্যাঙ্কে কী যেন বলছিল না?

‘তোর ক্লিনিকে যাব..’..সামথিং লাইক দ্যাট। মনে মনে দেবত্রী হাসে… মাস্কারা উইনার, পথে এস ।দেখাচ্ছি খেলা। মঞ্জিমাই কথা বলছিল। পুরোন দিনের কথা তুলতেই একটা সুযোগ এল দেবত্রীর..

‘হ্যাঁরে  তোর অদিতি সাক্সেনাকে মনে আছে?’

‘কোন অদিতি? যার বাবা ফরেন সার্ভিসে ছিল?’

‘হু’

‘ওফ থাকবে না, যা ফ্লার্ট করত!

‘যোগাযোগ আছে তোর?’

‘আরে ছিল না, হঠাৎ একদিন দেখা, তাও আবার হংকংয়ে ‘

‘কী করে?’

‘ও ইন্ডিয়ান এম্ব্যাবিসে। আমি  প্রথমে চিনতে পারিনি।

পাসপোর্টে একটা প্রব্লেম হচ্ছিল মেয়ের। সেজন্য এম্ব্যাসিতে  যোগাযোগ করেছিলাম।… সেখানে ওই আমাকে চিনতে পারে। যা বাল্কি হয়ে গেছে না..’

‘তারপর?’

‘অনেক কথা হল। শেষে যখন শুনল আমি ডার্মার ডাক্তার, বলল,

‘লিসন, দেবত্রী, আই নিড ইয়োর হেল্প’

‘ফর হোয়াট?’

১২

একথা সেকথায় জানলাম, ও এজিংয়ের সমস্যায় জেরবার। বডি-পার্টস স্যাগড হচ্ছে। প্লাস্টিক করাতে চায়… ভরসা পাচ্ছে না…’ বললাম, ‘স্যাগিং..ইস ভেরি ন্যাচারাল …ইয়্যু ক্যান মেক ইট আপ ফর সামটাইম। বেটার ইউ কাম টু মাই চেম্বার..

‘শ্যাল আই ভিজিট ইয়্যু নেক্সট মান্থ,…আই হ্যাভ টু ভিটিজ ইন্ডিয়া’

‘ওক্কে। দেন ইয়্যু মাস্ট’

‘ও কী বলল জানিস..?

‘কি?’

‘ডোন্ট বি আপসেট, ইউ ইউল বি পেইড ফর কনসালটেশন…’

‘ভাবলাম বলি… দেন হোয়াই মি… দেয়ার আর লট অফ গাইস… পরে চিন্তা করলাম, হয়ত অদিতির কেসটা সিম্পল নয়…ফাজলামি করে উত্তর দিলাম

‘ইউ  স্টুপিড…অফকোর্স ..ইয়্যু মাস্ট কাম…’ মঞ্জিমা খেয়াল করছিল, দেবত্রীর কথায় যতটা সিলিনেস ছিল, ফেস ওয়াজ সামথিং ডিফারেন্ট। বুঝল অদিতি সাক্সেনা হয়ত খানিকটা গটআপ… হয়ত সত্যিই সার্জারি করাতে চেয়েছিল তবে একথার পেছনে আয়নার পারদের মত লেগেছিল অন্য কিছু। যা ইনভিজিবল থেকেও রিফ্লিকেটড হচ্ছিল  চোখে। নাহ শুনতেই হবে …মঞ্জিমাও বেশ গুডগার্লের মত বলল,

‘তারপর?

‘আর বলিস না। ওর কেস হিস্ট্রি শুনে তো আমার চোখ কপালে উঠল। আইব্রো ,জ’লাইন ,চিক, এসবের মেকাপ হয়ে গেছে,ও চাইছিল লেবিয়াপ্লাস্টি!

‘আমি একটু আশ্চর্য হলাম ।ও তো আমাদেরই বয়েসী টাচিং ফর্টি-ফাইভ…!

বললাম,

‘কেন রে এর মধ্যেই কী তোর মেনোপজ…!’

‘না মানে হ্যা …তবে বলতে পারিস…খুব ইরেগুলার …আমি  চেক করে বুঝলাম, সত্যি বলছে না। মেনপজ হলেও হতে পারে, তবে ভ্যাজাইনা রিয়েলি টর্চার্ড…মিস হ্যান্ডেলড!’

‘মানে! কী বলছিস তুই ?’

‘যা ফাইন্ডিংস তাইই বললাম…’

‘কিন্তু কিভাবে?’

‘হয়ত  কোন পর্ণ অ্যাকটিভিটি ছিল বা আছে।

প্রথম প্রথম কেয়ার করেনি…’ দেবত্রী খানিক বাড়িয়ে কথা বলছিল। মঞ্জিমাকে জাজ করার জন্য। বুঝল,মঞ্জিমা কথা ধরতে পারেনি।সিরিয়াসলি নিয়েছে।সুযোগটা দেবত্রী কাজে লাগায়।মঞ্জিমা আগ্রহী। আরও জানতে চাইছে। জিজ্ঞেস করল, ‘আদার পার্টস, আইমিন ব্রেস্ট, লিপ, নোজ?’

১৩

দেবত্রী মনে মনে আনন্দিত। মঞ্জিমার আতঙ্ক তৈরি করতে পেরে নিশ্চিত। এরপর কথার আড়ালে মঞ্জিমা নিজের কথাও বলবে।খুশি খুশি মনে  রসিয়ে মঞ্জিমাকে বলল, ‘ওয়েট। ইটস আ লং হিস্ট্রি।আগে আইসক্রিমটা নিয়ে আসি …তোর আবার ক্যালোরি ফ্যালোরির চক্কর নেই তো?’ মঞ্জিমার দাঁতের পাটি চমৎকার। নিখুঁত সাজানো। হাসল।

‘ওহ নো অ্যায়াম জাস্ট ফন্ড অব আইসক্রিমস’ মঞ্জিমা ঘড়ি দেখল। পাঁচটা কুড়ি। ঠিক আছে এখনও চলতে পারে। দেবত্রী আইসক্রিম ট্রে এনেছে। কাচের টেবিলে রেখে ব্ল্যাক ফরেস্ট, আর ব্লুবেরি ন্যাচারাল..। উইথ স্পুন।

মঞ্জিমা আঁতকে ওঠে,

‘তুই কী পাগল হয়েছিস … এত খাবে কে ?’

‘আহ! যা খাবি খা। পরে দেখা যাবে.’

আয়েস করে বসল দেবত্রী।

‘অদিতির কেসটা তোকে, ইন আ নাটশেল বলছি। হয়ত তুইও জানিস, তবুও বলি’ ‘চেস্ট ওয়ালের  মাসল, অনেকগুলো ওভারল্যাপিং টিস্যু নিয়ে ব্রেস্ট। বাদবাকি ফ্যাটি টিস্যু। পিউবার্টির সঙ্গে সঙ্গে এনলার্জড। ব্রেস্ট-সাইজটা ডিসাইডেড মূলত লিগামেন্টে ডিপোজিটেড ফ্যাট, এন্ড সেক্স হরমোনে। মেনোপজে হয় কি,ইস্ট্রোজেন লেভেল লো।টিস্যুও ডিকেইড’ মঞ্জিমা বলল,

‘ও, আচ্ছা। তাহলে,মিড লাইফে কি ব্রেস্ট-সাইজ ছোট,বড় করা যায়?’

‘ব্রেস্ট অ্যাকচুয়ালি মাসল আর সাসপেনশারি লিগামেন্টস।এরাই সাইজ ধরে রাখে। টিস্যু শ্লাগড হলে ব্রেস্টের শেপে ঝাড়।নর্মাল লোকাস থেকে নিচে আসে। যদিও এজন্য  গ্র্যাভিটেশনাল পুলও রেসপনসিবল’ জেনারেলি কসমেটিকস সার্জারিতে ব্রেস্ট-সাইজ ছোট-বড় হয় বটে । তবে সাইজ রিডাকশনটা টিপিক্যাল ইলনেস থাকলেই কনসিডার করি আমরা’

মঞ্জিমা আশ্চর্য হয়,

‘টিপিক্যাল ইলনেস মানে? কী ধরণের?’

‘যেমন ধর পিঠে, ঘাড়ে পেইন। অর দুটো সাইজ ডিফারেন্ট..’

‘আচ্ছা’

১৪

দেবত্রী মনে মনে হাসে পথে এস বাবা…

মঞ্জিমা আবার জিজ্ঞেস করল,

‘আচ্ছা, সারাজীবন ব্রেস্টের সাইজ এক থাকে না?’

‘মোটেই না। যদি শরীরে ৫ পাউন্ডও ফ্যাট জমে তাতেও সাইজ চেঞ্জ হতে পারে। যদিও এটা খানিকটা হেরিডিটিটারি। মেনপজে ব্রেস্টটিস্যুর ইলাস্টিসিটি ভোগে। স্কিনের টাইটনেস হাওয়া। সাইজ স্যাগড’ ‘আরও শুনবি, এর সঙ্গে আমাদের মেন্টাল মেকাপেরও জটিল সম্পর্ক আছে। যারা বিগসাইজড, মেল পার্টনারের কাছে বুবস নিয়ে বোস্ট-অফ করে। স্মলবাস্ট, অনেক সময়ই বুলিড’ দেবত্রী দেখল মঞ্জিমা ট্র্যাপড। আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

মঞ্জিমাও প্রশ্ন করছে।

‘ধর  একজন ট্রান্সপারসন। মহিলা হওয়ার জন্য সেক্স চেঞ্জ করবে ভাবছে। সাকসেস রেট কেমন?’

দেবত্রী ঠিক করল, বেশ ডিটেইলসে বলবে।

‘দ্যাখ, এই ধরণের মানুষেরা বেশ ডিপ্রেসিভ। তার উপর যদিও বা সেক্সচেঞ্জ হল , সার্জারিতে  শরীরকে ফাঁকি দেয়া ইমপসিবল।যতই অগমেন্টেশন হোক না কেন, শরীর কী অ্যাকসেপ্ট করবে তা বেশ জটিল। সময় সাপেক্ষ’ ‘বিশেষত একজন এফিমিনেট  বুঝতে পারে না, নারীতে পরিণত হওয়া মেল ওয়ার্ল্ডের কী প্রচন্ড সীমাবদ্ধতা !’ ‘এরা নিজেদের বদলে ফেলতে চায়।অথচ ধারণাই থাকে না তাদের ইলুউশন এন্ড রিয়েলিটির হিউজ গ্যাপ সম্পর্কে.’ দেবত্রী ফিল করছে, মঞ্জিমাকে  ক্রমশ  ইপ্সিত প্রশ্নের জালে জড়িয়ে ফেলছে…আর একটু প্রেসার দিলেই নিজের কথায় আসবে..

…জীবনে কত ফিমেল পেশেন্ট দেখল,…মঞ্জিমা তো কোন ছাড়….ইনিয়েবিনিয়ে ঠিক নিজের কথা পাড়বে…ডাক্তার দেখলেই সব শালা ঢিলে…চাঁদু…

দেবত্রী আন্দাজে ঢিলটা ছুঁড়েই দিল।

‘কেন রে,কসমেটিকস করিয়ে নিলেই পারিস।

ফিউচারে নো টেনশন’

১৪

মঞ্জিমা ঘড়ি দেখল। আটটা বাজে উঠতে হবে। দেবত্রী বলল,

‘এত ছটফট করছিস ?’

‘নারে, উঠতে হবে। নিজের জামাকাপড়গুলো হাতে নিল।

‘এখনই উঠবি,

 ‘হু’

‘কথাই তো হল না! বোস বোস’

‘নারে, অনেকটা রাস্তা’

কথা বলতে বলতে এক ঝটকায় চিকনের টপ আর গুজরাটি ফ্রক খুলে ফেলল। ঘরের মাঝে প্রায় নিরাভরণ শরীর.. দেবত্রীকে অবাক করে ব্রাও খুলে ফেলে। জিন্স আর নগ্ন ব্রেস্টের উপর নিজের টপ পরতে পরতে বলল,

‘কেমন দেখলি আমার ভাইট্যাল স্ট্যাটিস্টিকস! ‘

মঞ্জিমার অদ্ভুত আচরণে দেবত্রী হাঁ। আন্দাজ ঠিকই করেছে।

লিটল স্যাগড ব্রেস্ট! বেটা ব্রা’য়ের প্যাডে মেকাপ দিয়েছে। হুহ বাবা। আমার চোখকে ফাঁকি দেবে! না হয় আমি মাস্কারা উইনার হয়নি। তাতে!

কপট আন্তরিকতার ভান করল দেবত্রী,

‘তুই ব্রা পরলি না?’

‘দূর ,সব সময় ভালো লাগে? না হয় একটু ছেলেরা দেখবে নাচছে। …নাচুক..’

‘মানে? তোর কী মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি!’

‘ধুর…এই দ্যাখ ঝট করে ঘুরে টপটা তুলে ফেলল পিঠের দিকে। কাঁধ অবধি… এটা কী ?’

দেবত্রী বাকরুদ্ধ।

পিঠের দু’দিকে স্ক্যালপেলের কাটা‌ দাগ। ফেইন্ট হয়েও হয়নি…

তাকিয়ে থাকে…

সামনে ফিরে বলে,

‘বুঝেছিস নিশ্চয়ই। ক্যান্সার, ক্যান্সার…ডাবল মাসেক্টোমি…আমার আবার ব্রেস্ট, তার  আবার ফিউচার, টেনশন। হেঃ’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত