| 19 এপ্রিল 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা: একগুচ্ছ কবিতা । বিজয় সিংহ

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

 

ফলিত
 
হাড় থেকে মাংস তোলার ফলিত জাদু
শিখিয়েছেন, কৃতজ্ঞ সাঁই, আমি ধ্যান-বিন্দুর নিহিত
থেকে ছন্ন এই ঘর এই গেরস্থালি বিছিয়েছি যে আলোয়
 
তার গতিমুখ নেই খুশি নেই বিপন্নতা নেই,আজীবক,
নাস্তি থেকে শাঁস ছেনে মহাশূন্যের গরলে ঢেলে দিলে
অহিংস স্বপ্নের শূন্যে হাউমাউ কেঁদেছিল গালিবের
 
শায়েরীরা, শায়েরীর নীলাভ তরলে এই আঙুল ডোবানো
স্পর্শে রাত-রাত যে পংক্তি উঠে আসে, তাতে
কবুতর টিয়ারং নিয়ে ঝাপট মেরেছে, সাঁই, এ বরখা বাহারে
 
যার শব ভেসে যায় তাকে দেখে চমকে উঠেছে স্বরব্যঞ্জন
বর্ণেরা ধ্বনিকে সব পরিত্রাণ ভেবে নিলে সেই পরিত্রাতা
যদি নদী হয়, আমি নদী থেকে মৎস্যমুখী ঢেউ
 
ঢেউ থেকে ফেনা ফেনা থেকে আদি রস
আলাদা আলাদা করে দেখেছি তুমিও ধুরন্ধর
আমার চোখের থেকে রেটিনাকে টেনে নাও অজান্তে আমার
 
খাঁচা থেকে ফুসফুস, ভৈরবের থেকে আহীরের রতি
বিচ্ছিন্ন করেছ, হা হা হাসছ শহরের বিপদ সীমায়
তোমার হাসির মধ্যে গুড়িসুড়ি বসে থাকে আমারই প্যাথোস
 
ও যেভাবে চূড়ান্তের মাথায় উড়েছে মৃত জ্বর
ও যেভাবে জ্বরের দাক্ষিণ্যে কাঁপে মায়াবী ঐহিক
ও যেভাবে ঐহিকেরা সাঁই-য়ের জঁটার চাঁদে তসবীর-এ-শাম হয়ে যায়

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

 

 

সিলেবাস
 
মাধুর্যকে আমিও পেয়েছিলাম, শায়ের-বদনাম ধরে রাখতেই পারিনি
যেহেতু এ রাঢ়বঙ্গ বড্ড বেশি বৃষ্টি নিয়ে কথা বলেছিল
যেহেতু বৃষ্টির বুক ছিঁড়ে ময়ূরেরা ঐশী মধু তীব্র টেনে নেয়
 
চিরপান্থ, তুমিই শিখিয়েছো কখনো নদীর নাম শয়তান হবে না
শিখিয়েছো হৃদিমধ্যে বঙ্গীয় জবারা বেড়ে ওঠে
শিখিয়েছো শকুন যে শকুন তারও মধ্যে মধুকৈটভ জাগ্রত হয়েছেন
 
আমাদের সিলেবাস শূন্য গোলার্ধের ডক্যু নামিয়েছে
আমাদের সিলেবাসে বাঘিনীর চোখে রাখা পিতৃতন্ত্রের সংহিতা
আমাদের সিলেবাস খুঁড়ে সেই বালিকাও ঘোলা জল পান করেছিল
 
জাহান্নুমের আগুন কীভাবে পোড়ায় কবিতাকে চির অশ্রু, দেখো
বেহেশতের মৃত ফুলে ঢেকে যাচ্ছে আত্মবীজ, দেখো জন্মান্তর
মৃত্যুময়, শেষবার মাধুর্য ফেরাও; মনোগৃহে জল ও আগুন রাখা আছে

 

 

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

 

পক্ষ
 
আমার স্বপক্ষে ছিল আলাদিন ও বিপক্ষে আশ্চর্য প্রদীপ
মাথার ওপরে ছিল ছিপছিপে কাকেরা ও হাতের মুঠোতে সংশয়
দু রাস্তায় দুটিপা তোমার, অবিলম্বে বাড়িতে ফেরাও
 
বাড়িঘর অতিমারে গড়িয়ে গড়িয়ে নামে, আটকে যায় পাঁকে
আরব্য রজনী তুমি ঘুমঘোরে বুকে রাখো, চিরাগের মুহূর্ত ফেরাও
বাড়িঘর গাছে ঢাকে, সবুজ নৃসিংহ হতে শেখেনি এখনও
 
কোন গাছে ক-নম্বর কোটরের মধ্যে শিখা, নিজেই ভুলেছো
বিস্ফোরণের এ আখোলা দরোজা: জলস্রোত ঢুকেছে গুমসুম
তোমার স্বপক্ষে ছিল জ্যোতির্ময় ও বিপক্ষে জলের উৎসার
 
জল-বীজে ছন্নহৃদি মাথার জঁটায় গুপ্ত বিপর্যস্ত চাঁদ
জিন, সেও পরিশ্রান্ত, বেখুদি আরব নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে
তোমার বিপক্ষে ছিল আরবি হরফ ও স্বপক্ষে বুড়ো মুস্তাফা

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

 

যোগ
 
ছন্নযোগে নৌকো কাঁপছে বহতা মালিনী ওগো তোমার ছলাৎ উঠে আসে
বরফের মায়া ততদিনে পুড়িয়ে ফেলেছে দুই হাত
কলিজা আল্লারাখার মাংসপিণ্ডে জমিয়ে রেখেছি
 
সমস্ত বিষন্ন ঢেলে বেহুদা কাঁহিকা চাঁদ কিছুটা পরেই গলে যাবে
যৌথ খামারের যত পাঁচশালা স্বপ্ন ডোবে বাইশে শ্রাবণ
অস্ত্রের গরিমা কার কত বেশি শীত না শ্রাবণের কাল এ প্রশ্নে নিশ্চুপ
 
জ্বলন্ত নীরবে গিয়ে ওগো বহমান কত আগে রক্তবিন্দু ছড়িয়ে গিয়েছ
না বুঝেই তাকে আমি পারিজাত ভেবে নিই কুড়োতে বেরোই
চিৎকার করেছে ভোর শার্সি তারও আগে নিজে নিয়েছে ভাঙন
 
ওগো স্রোতবতী দেখি আলতাসিঁদুরের নৌকা ভেসে আসে নিকোনো ভোরের কিছু আগে
গুয়াপানজাঁতিমালা— নৌকার গলুই ঢেকে যায়
কার সঙ্গে কার বিয়ে? আশরীর সুগন্ধে ছয়লাপ
 
তন্দ্রা চোখে সিদ্ধাই সে ঘুম ঘুমিয়ে পড়ার আগে পোড়া চিল দু-চোখ খুবলেছে
চোখের ভিতর রাখা ময়ূরপালঙ্ক তাতে বেমিসাল ঝরনা খুলেছিলে
কার সঙ্গে কার যোগ? বিয়োগের নীচে আমি পিন্ডদান করেছি আগেই
 
 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত