| 17 জুলাই 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

উৎসব সংখ্যা: একগুচ্ছ কবিতা । জুবায়ের দুখু

আনুমানিক পঠনকাল: 4 মিনিট
বেদনাচক্র
ভুল করে বেলা শেষে সূর্যের অতলান্তিকার গভীর নিঙড়ে দেখি, বেদনার প্রদক্ষিণ ।
 
বেদনা–, সূর্য জমিতে ফুটে উঠলে
পৃথিবী ঝলসে ওঠে রোদের তীব্রতায়।
আর, বিকেলগুলো–একটাকা কয়েনের মতো
লাল রঙে রঙ্গিত হয়,
নদী বাঁকে
তেপান্তরে।
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com 
 
 
ফুল-পুত্র
নদীর ওপারে যে সবুজ গ্রাম,
বেদেনীদের ঘর–
বাঁধা আছে ওখানে আমার প্রাণ।
 
বহুদিন আগে একটা ফুলগাছে
এসেছিল আমার ভ্রূণ..!
 
সুনসান মধ্য রাত। ঝিঁঝিঁ পোকার গান।
তারপর ভোর এলে–গাছডালে পাখিরা আসতো,
গাছতলে মানুষ বসতো, ফুলের গন্ধ নিতো।
 
পাখির খুবলে খাওয়া শরীর নিয়ে
আমার জননী ফুলগাছ
একদিন আমাকে মানুষ হতে বললো।
 
অথচ মানুষ হবার আগেই
মানুষ আমাকে পাষাণের মতো ছিঁড়ে ফেললো।
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
বহুরূপী
ঘুমের ভেতর খোয়াব দেখি একটা সুবিশাল বন,
বনে এক ফুলগাছে–চড়ুই পাখি, দোয়েল পাখি,
বসে বসে, ডালে ডালে, গান গায় কিচিরমিচির।
 
এখন এমন মধ্য বনে–
শালগাছ, বটগাছগুলো অন্ধকারে
পাহাড় ধসে পড়ার ভয়ে জেগে থাকে সারারাত।
 
রাতের বিছানায় কেবল নিদ্রা নেয় মানুষ ;
এবং স্বপ্ন দেখে–পাখি হওয়ার স্বপ্ন,
ফুল হওয়ার স্বপ্ন, গাছ ও নদী হওয়ার স্বপ্ন।
 
কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলে মানুষ–
ফুল, পাখি, গাছ ও নদীজীবন ধ্বংস করে।
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
সখ্যতা
বিদঘুটে গলি পাড় হলে
জলবাহী নদী
নদীর ওপারে মাঠ,
মাঠে শেষে–গ্রাম মানুষ বৃক্ষলতা ।
 
এভাবে পাড় হতে হতে
দূরে দিগন্ত দেখা যায় প্রতিবার,
ওখানে ইচ্ছে করে যেতে
নীল দিগন্তে কালো মেঘের আলিঙ্গনে।
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
যিশুর কাছে অনুরোধ
আমার বুকে
গড়ে উঠেছে
দীর্ঘ জেরুজালেমের পথ।
 
পথে একটা রাখাল ছেলে
চড়িয়ে বেড়াচ্ছে–
দুম্বা অথবা বকরির দল।
 
যিশুর পর
তোমাকে এমন করে কেউ
ডাকেনি মরিয়ম।
 
আমাকে ভাবো তোমার পুত্র,
আর আমরা যিশুর ভ্রাতা
রক্ষা করো, রক্ষা করো।
হে যিশু তোমার কওম ইজরায়েল থেকে
আমাদের রক্ষা করো।
 
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
ময়ূরীরথ-১
গভীর নিশীথে–টিমটিম আলো জ্বলে দূরে কোথাও মায়ের লুণ্ঠনে। তখনও ভোর হয়নি, রাতের আবছায়া পড়ে আছে বাতাবিলেবু উঠোন জুড়ে। হায়! পাখিদের ভোর–হায়! ফুলেদের ভোর। কপাট খোলা, দাঁড়িয়ে আছে।
 
এখানে তাড়া নেই কারো। এখানে বাড়ি নেই কারো। কার কোলে ফিরে যাবো বহুদিন পর পিঙ্গল পাখি। আমি কার কোলে ফিরে যাবো ঝিঙে ফুলের পথ। ঝাউগাছ, চিচিঙ্গা, কলমিলতা?
 
কৃষ্ণচূড়ার বনে হারিয়ে গ্যাছে আমাদের ইশকুল পালানো যেসকল দিনগুলো। খুঁজতে হবে। পাখির জীবন নিয়ে একবার বের হতে দাও আমায়। উড়ে উড়ে খুঁজে বের করবো আমাদের তীর্থস্থান। আমাকে বের হতে দাও ময়ূরীরথ। আমাকে বের হতে দাও…
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
ময়ূরীরথ-২
বিষণ্ণ প্রহর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দীর্ঘতরো। বোধের দেয়াল জুড়ে ক্লান্ত পাখির সুর। পাখিরা এলো মুক্তির বার্তা নিয়ে। মুক্তির পথ বড়ই দূর্গম। যেতে হবে সেগুনবাগিচার বনে। বনে গেলে হারিয়ে যাই পাখির কিচিরমিচির গানে। হারিয়ে কতদূর যাওয়া যায় স্রোত? সমুদ্রে তিমির রাত। নদী বড় জোর সমুদ্রের পুরনো বন্ধু, অথবা সন্তান সমতুল্য। সন্তান মানুষের আদি নামকরণ। আদি থেকে আমরা ময়ূরীরথ চড়ে এসেছি বর্তমানে। বর্তমান একটা অতীত ফুল। কিংবা ধরো ভবিষ্যৎ একটা বর্তমান ফুল।
 
 
 
 
 
 
ময়ূরীরথ-৩
শালিখ পাখির ডানায় উড়ে এলো ভোর
সবুজ ছায়ার পথ মাঠ প্রান্তর
পথের পরে পথ আঁকাবাঁকা সরু
দু’দিকেই ছাওয়া তার বৃক্ষলতা তরু।
 
দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে নিখিল জগৎ
জগতের ওপর পিঠ , মহৎ মহৎ
আর্টের খাতায় আঁকা জীবনের মানে
জীবন থামবে কোথা ময়ূরীরথ জানে।
 
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
ময়ূরীরথ-৪
মাসকালই মাঠে ফড়িঙের দিন। ফড়িঙ কোথায় কোথায় উড়ে যায়। যাওয়ার আনন্দ রঙের মতো। রঙের লাবণ্য রামধনু। পাহাড়ের গাঁয়ে দেখা যায় যে বাড়ি গুলো। সেই বাড়ির ভেতর লোকানো আছে একটা পাখির খাঁচা। পাখিরা কতদূর থেকে উড়ে আসে, জানা নেই। মাধবীলতার বনে শরতের চাঁদ। সূর্যের আলো নিয়ে মেতেছে ফাঁদ। আলোর অরণ্যে চাঁদের বুড়ি। ময়ূরীরথে সাওয়ার হয়ে বয়স করছে চুরি।
 
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
 
 
 
কৃষকের লেলিন
তোমাকে পাখির মতো দেখতে হলে
ভুলে যেতাম পৃথিবীর সব পাখির নাম কৌশলে
ভুবনডাঙা নদীর ওপারে তারপর
শ্যামলী প্রান্তে কুনমতে তোমাকে নিয়ে বাঁধতাম ঘর
ফুলের লেহাজ দেখে হতে পাট পাট
তোমার বুকে তখন ভরা ধানহীন চৌচির চৈত্র মাঠ
জলে অভাবে কলতলা শুকনো মলিন
তোমাকে ভালোবাসি আমি কৃষকের লেলিন
পথের বাউণ্ডুলের মতো নই আমি নই
বিকেলবেলা শুধু বিলের ধারে একা বসে রই
ওসব সবই ছেড়ে দেব অবুঝ বালক
আমাকে দেখে হাসবে হয়তো পাড়ার কিছু লোক
এভাবেই ছেড়ে যেতে, পাবো কোনদিন
তোমাকে ভালোবাসি আমি কৃষকের লেলিন।
 
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com 
 
 
দর্জি
সুতোয় বাঁধা আঙুল। আঙুলে সুতি কাপড়ের গন্ধ। একটা সকাল সেলাই করে চলছে দর্জি। দুপুরের দাওয়ায় আগুন নিয়ে সূর্য। হিজল ফুল এঁকে দিয়ে গ্যাছে শীতঋতু। শীতঋতু হিমালয়ের বান্ধবী। চায়ের টঙে বসে তোমাকে দেখি রোজ। তোমরা সেলাই করো পৃথিবী, শুধু করোনা আমার চোখ।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত