| 26 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা: পাঁচটি কবিতা । শমিত কুমার দাস

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

 

মোহ

যতবারই পা বাড়াই ততবারই হাত টেনে ধরো
যতবারই মুখ খুলি মধু ঢেলে দাও জিভে
 অথচ শব্দ কত শানিয়ে রাখি
যথালগ্নে সব ভাঙা ডাল হয়ে যায়
যতবার চোখ খুলি তোমাকে দেখব বলে
দূর থেকে দূরে যাও মোহটুকু বেড়া হয়ে থাকে
এসব জানার আগে মাটিও বাঁশের কাছে
নতনেত্র নতজানু শেখা প্রয়োজন
না হলে তারারা শুধু তারা হয়ে যায়।
দর্শন
তোকে দেখলে আজও আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে থরথর করে
পূর্ণিমার রাতে নিজস্ব প্রগলভতা তোকে ছুঁতে চায়
আলোকবর্ষের ওপারের হাওয়া নিয়ে আসে
আমার অলিখিত নিবেদনের শীর্ণ কৃষ্ণ মেঘ,
বিষণ্ণ ও স্তিমিত আঙুলের ভাঁজে
তিরতিরে চিঠি উড়ে যায় ভুল পিনকোডে।
আমি এক অবিনশ্বর ভিখারির মতো হাতে অঞ্জলি নিয়ে বসে থাকি
যদি তোর সুনিপুণ চোখ স্বপ্নের দিশা পায়, যেস্বপ্নে আমিই সম্রাট, এইটুকু রূপকথা
তুই যত দূরে যাবি আমি ততদূর এক অনমিত পরিখা এঁকে দিয়ে
বিষাদের স্বর্ণচূড়ায় একা বসে 
অপূর্ব আলোয় তোকে শুধু তোকে দেখে যাব।
দিনলিপি
আমি তার খোঁজে বহমান জীবনের পথে
অসংখ্য  শব্দ  জ্বেলে রাখি
উজ্জ্বল ধানক্ষেতকে দাঁড় করিয়ে এক সকালে
যে মাটির রাস্তা অনন্ত ঘরে নিয়েছিল
আজ তার অবশিষ্ট কংক্রিটে গোধূলিতে মিশে যায়
তবু আজ তারই হাতে একবার সাজাব
 মন্দাক্রান্তা বাগানের ধ্রুব পান্ডুলিপি
এই আশা নিয়ে চাঁদ তার দিনলিপি ছড়িয়ে দিয়েছে।
ক্ষয়
তোমাদের বিষদাঁতে ঝলসে উঠাছে অতীতের দ্বিচারিতা
তবু যারা তোমাদের হাত ধরে, জানে না সাপ কাউকে রেয়াৎ করে না
হাত ও পায়ের খোলস ঝরে গেলে
অমোঘ ছোবলে ভাষা বিবর্ণহয়ে যায়
কোথাও সন্ধ্যার রাগিনী বাজে সকরুণ
মৃদু তবু ক্রমশ  তারে তারে তীব্র হয় অন্ধকার
অলক্ষ্যে ক্ষয় নেমে আসে
যাকে ভোর মনে হয় ধ্বংসাবশেষের বুকে।
প্রলয়পয়োধিকালে
জলের ভেতরে এতো কথা
তার নিচে প্রশ্নর অনন্তবেলা
যত জলাশয়ে যাই শঙ্খচিল ছায়া ফেলে
ফিরে আসি তীর ধরে অনুগত হয়ে
নিজস্ব ভাষার হাত কেড়ে নিল ভয়
তাই কিছু বলার আগে চোখ ধুয়ে সাবধানে চারপাশ দেখি
হাত থেকে ভুল করে ঝরে যাবে আর্ত বকুল
ভেবে মুঠোতে নিজেকে ধরে রাখি
তবু সব কিছু জলকেই বলি
জল তার স্তরে স্তরে প্রশ্ন জমিয়ে রাখে
একদিন এভারেস্ট থেকে নেমে
অন্ধকার ভক্তদের ধ্বংস করে দেবে বলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত