| 29 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা: তৈমুর খানের গুচ্ছ কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
 
 
 
পরিমার্জিত চেতনা
 
পরিমার্জিত কিছু চেতনার পাঠ
রোজ গুণগান করে
রোজ তাদের নিরীহ দেখায়
 
আদিম জ্বরের মুখে স্বাদ পেতে চাই
কমলালেবুর প্রগাঢ় স্বাদ
কতটুকু সত্যি আর কতটুকু নিখাদ
বাতায়ন জানে না তা—
 
তবু বাতায়নে আলো আসে
টেবিল সাজায় ঘরে ঘরে
 
উড়ন্ত পাখির ডানা সমস্ত করুণা ক্ষান্ত হলে
ঝরে পড়ে
বাক্য ব্যয় করে করে পরিমার্জিত চেতনার
সতর্ক প্রয়োগ
গৃহ-সংসারে ঘোরেফেরে…
 
 
 
 
কুরুক্ষেত্রের মাঠের দিকে
 
কেউ বোঝেনি, তবু এসেছি
কার জন্য এখানে বসত আমার?
 
ছোটখাটো ঘর, দুপুরের ছায়া পড়েছে
একটা কুকুর, একটা বেড়াল এই সুযোগে ঘুমিয়ে নিচ্ছে
চাটাই পেতে চাটাই বুনছে মা
বাবা নেই, কুলমিতে বাবার মহাভারত তোলা আছে
ছেলে মেয়ে দুটি ফিরবে,পেঁয়াজ আর আমানির গন্ধ উঠছে
গিন্নি সস্তা তাঁতের শাড়ি লেপ্টে আছে, মাটির পুতুল…
আজ আমি বেরোবো না কোথাও—
বাবার কথা ভাবতে ভাবতে পেয়ারা গাছের নিচে খুঁজছি পরকাল
এইতো বাবা এসে পেছনে বসেছে!
বলছে আমাকে: আজ একটু মহাভারত পাঠ করো…
 
আমি নীরবে কুরুক্ষেত্রের মাঠের দিকে হেঁটে যাচ্ছি আনমনে…
 
 
 
 
মঞ্চ থেকে প্রপঞ্চ আলো
 
জলস্তর নেমে গেলে
নিজের ছাগল-আত্মা পাণ্ডুবর্ণ ঘাস ছিঁড়ে খায়
দোহাই পৃথিবীজুড়ে অনৃত ভাষণ শুধু পাথর ছড়িয়ে দেয়
পাথুরে কাব্যের নদী
কোথাও অমল জলে মরীচিকা মেশালে
নরম সুন্দর পরকীয়া
সারাদিন আমার পাঁজরে বিবাহ লেখে
 
নারীর কোমল অবলীলা চতুর সংকটে
ব্যাকরণহীন কোনও বিকেল প্রসব করে
যে বিকেলে রাজার পাশে সভাসদ
মাদল বাজিয়ে ওড়ায় লালধুলো বিষাদ
পিপাসার গান গায় অথবা মহিমা
থেকে থেকে ক্রূর কোনও জলপাবক
একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ অথবা জননী-জনক
ভাগ্যের চাকায় লেপ্টে থাকে কিছুটা অমোঘ
মাটি খুঁড়ে, মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখি শোক
 
 
রস
 
যেটুকু রস আছে তাই তুলে আনি
আমার এই বিমূঢ় রসাতলে
ধর্ম নেই, কতকগুলি ধর্মের ধাড়ি
চরে বেড়ায় আবেগের মাঠে
জল শুকনো নদী শুধু স্মৃতির ঢেউ তোলে
পরকীয় বাতাস এসে উড়িয়ে দেয় শাড়ি
 
আমি তবে জ্যোৎস্নার ফ্রকের নিচে
কার উরু খুঁজি?
এমন স্নিগ্ধ ঘাস বয়ঃসন্ধির পাঠশালা বোঝে
ক্রমে ক্রমে জমা হয় রস—
 
আমার একাগ্র হরিণী জনারণ্যে বাঁচে
 
 
 
 
মূর্খজীবন
 
পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ছে হাওয়া
আর কোথাও যাবে নাকো যাওয়া
ভুল ঠিকানায় জীবন বারোমাস
মরচে ধরে, জন্ম নেয় ঘাস
 
দূর পাহাড়ে মেঘ নামে,মেঘের পরি নামে
চিঠি আসে রামধনু আর সবুজ পাতার খামে
বুকের আগুন জ্বলে, ওড়ে পোড়া ছাই
একটি জীবন মূর্খ হয় ভণ্ড তপস্যায়।
 
 
 
 
রসের সমুদ্র
 
কলসি উবুড় হচ্ছে
কলসি ডুবে যাচ্ছে রসে
আমাদের শুধু পেয়াদাগিরি
লাঠি হাতে সতর্কবার্তা বিলি
 
আবার কলসি ভেসে উঠছে
রসের সমুদ্রে ঢেউ
ঢেউ লেগে চলে যাচ্ছে দূরে
আমরা উদাসীন দেখেও দেখি না
 
কলসির কত ইচ্ছে—ডোবা ভাসা কাত্ হওয়া
অথবা দুলতে দুলতে যাওয়া
রসের সমুদ্র খুলে দেয় নাভি
আমরা সমুদ্রতীরে জ্বর গায়ে থাকি
আমরা নিঃশব্দে মরে যাই
 
 
 
 

One thought on “ইরাবতী উৎসব সংখ্যা: তৈমুর খানের গুচ্ছ কবিতা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত