| 4 মার্চ 2024
Categories
উৎসব সংখ্যা’২০২১

ইরাবতী উৎসব সংখ্যা: নাবিক সিরিজের কবিতা । সৈয়দ কওসর জামাল

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
পাখিদের মতো শিস দিই
দৈত্যের মতো থাবা এগিয়ে এসেও
ফিরে যায়
শিসধ্বনি ডিঙাতে পারে না
কোনো আর্তনাদ নয়, চঞ্চলতা নয়
এই গণ্ডিরেখা পেয়েছি তোমার কাছে
শিখিয়েছ প্রয়োজনে উচ্ছ্বাস গোপন
করার সহজ পথগুলো
এই স্বাধীনতা পাখির মর্যাদা চায়
ছোটো ছোটো উড়ে যাওয়া
ছোটো ছোটো স্বপ্নের চাহনি
আদিগন্ত আকাশের কাছে পৌঁছে যায়
আমার নাবিক জীবনের রূপকথা
দিগন্তের খুব কাছে থাকে
এক একটি বন্দর ছেড়ে
সিন্ধুর গোপন সত্য খুঁজে ফিরি আমি
আশ্চর্য বশীকরণমুদ্রায় তুলেছি
মৃত্যুর ভঙ্গিমাগুলি
যেভাবে লিখেছ তুমি পরবাস
আমার ললাটে, তেমনই এ কররেখা
এঁকে বেঁকে চলে যেতে চায়
নির্জন দ্বীপের নরম আলোর কাছে।
 
 
তুমি তার কিছু কিছু জানো
দেখেছ আয়নায় ভেসে যাচ্ছে রাতের কল্লোল্ধ্বনি
এও এক সমুদ্রের কথা
যেখানে বিমূর্ত রূপ খুঁজে খুঁজে এসেছে ভয়াল
এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি বলে
মৃত্যুকেও বন্ধু মনে হয়
মেধার কাছেও থেকে যায় নাবিকের কিছু ঋণ
আকাশ-নক্ষত্রকথা বাড়িয়েছে জ্ঞানের পরিধি
যে আলো এসেছে মর্ত্যে
তারও কোলাহলজুড়ে নিরন্তর তৃষ্ণা লিখে রাখি
লবণ লবণ শুধু সতৃষ্ণ চোখের নীচে নীল
নীল ছোপ মোছে না জ্যোৎস্নায়
এই দ্বীপে কতদিন পা ফ্যালেনি চাঁদ
এই দ্বীপে জীবিত বলতে এক নাবিকের চোখ
যার আলো সমুদ্র পেরিয়ে
তোমাকেও ছুঁতে চায় চিরচেনা প্রেমের ইঙ্গিতে
সহ্য করো, সহ্য করো নাবিকের গান
সহ্য করো উৎকণ্ঠা, অসহ্য প্রেমিক রূপকথা।
 
এ উপকরণ যত বাস্তবের, তার চেয়ে বেশি
স্বপ্নের মতন বেঁচে থাকার ভিতর
যত দিন যায়, তারাও দুর্বল হতে হতে ক্ষীণ
তাহলে কী করে যাবে পৃথিবীর অন্যপারে
একা একা সমুদ্রনাবিক?
কোথায় সি-গাল আর আকাশে পাকখাওয়া
একঘেয়ে উড়ন্ত স্বপ্নেরা?
বেলা যায় দেখে একে একে নৌকার পাল
নিজেকে গুটায় কোনো বেদনায়, শ্রমে
মাধ্যাকর্ষণের ভ্রমে তখনও উত্তাল স্রোতগুলি
ঘূর্ণির প্রকোপে ডুবে যায়
কুয়াশা নেশার মতো বৈঠা ঠেলে চলে
তোমার মুখের ছবি আমার সমুদ্রফ্রেমে ধরা
গতির দ্যোতক তুমি, চলাচল কখনও থামে না
যে আকাশ প্রশস্ততা মেলে আছে কাছে
এত কাছে, মনে হয় নক্ষত্রমণ্ডলী
সভা করে মানুষের হিতে, শুধু এক
হৃতপথ নাবিক উল্কার মতো ছুটে চলে
কক্ষপথ কখনও না মেনে।
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত