রাবণের চিতা

বসত ঘরটা পাকা করতে গিয়ে কলিম মাস্টার আটকে গেছে। গতবছর সে বাজারে একটা দোকানকোঠা কিনেছিল। এবার হাত দিয়েছে দালানে। তার রেজিস্টার ইস্কুলটা সরকারি হওয়ার পর থেকেই কেমন যেন একটা দুমধারাক্কা নেশায় পেয়েছে। আগে ছিল কম বেতনের গরিব শিক্ষক। দাউদ-খাজলির চুলকানির মতো ভাত-কাপড়ের চিন্তাটা কিছুতেই পিছু ছাড়ত না। হঠাৎ শেখ হাসিনার এক ঘোষণাতে বেতন হয়ে গেলো পঁচিশ হাজার! নববর্ষসহ বছরে তিনটা ভোনাস। মনের অবদমিত কামনাগুলা আচান্নক সুযোগ পেয়ে বহুগুন বাড়িয়ে দিলো তার সকল প্রকার হজম শক্তি! ফলে ভোঁতা ছুঁড়িতে হঠাৎ ধার ওঠলে যা হয়, কলিম মাস্টারও তাই শুরু করল!

প্রথমেই তারা এককালিন মোটা একটা টাকা পেয়েছিল। তাই দিয়ে চতুর মাস্টার গ্রামের বাজারে অষুদের একটা ফার্মেসি খুলে বসে। এই কয় বছরে সেটা বড় হতে হতে এখন তারটাই বাজারের সেরা। এই দেশের মানুষ এখন ভাতেরচে অষুদ খায় বেশি। ইস্কুল ছুটির পর এমনিতেই তো সে বাজারে রাত দশটা পর্যন্ত আড্ডা মারত। তার মতো টিকচিহ্ন দিয়ে পাশকরা আরো কয়েকজন চাকরিসর্বস্ব মগজফোকলা মাস্টার বিকাল হলেই সুমনের স্টলে বসে আড্ড জমাতো। এখন সেই আড্ডাটা বসে তার ঘরে। ওরাই চা-শিঙ্গারার অর্ডার দেয়। পান-সিগারেট আনায়। বিল দেয়। আবার যাবার সময় দরকারি অষুদটাও তার ঘর থেকেই নগদানগদি কিনে নিয়ে যায়। তাবাদে রমরমা বিক্রিবাট্টার সুবাদে তেল, সাবান-সোডা থেকে শুরু করে পুটকির হাগু মুছার টিসুতক অষুদ কম্পানির লোকজন ফিরি দিয়ে যায়। তাই দিনে দিনে কলিম মাস্টার তিল থেকে হেসে-খেলে তাল বানায়। দুদিন ধরে শেষ ভাদ্রের নিন্মচাপ চলছে। সকাল থেকেই আকাশ মুখকালো করে আছে। মাঝে মাঝে দৌড়াইন্ন্যা বৃষ্টি ফার্মেসির টিনের চালে ঝুমঝুম শব্দ তুলে পালিয়ে যায়। কলিম মাস্টার বড় করে দম ফালে। সারাজীবন জঙ্গারে খাওয়া টিনের ভাঙা ঘরে কেটেছে তার। এদিকে দেখতে দেখতে চকচকা টিনে ছাওয়া হাফবিল্ডিং-এ গৈ-গেরাম ভরে যাচ্ছে। পাকা টয়লেট, মটর দিয়ে শুষে তুলা পাতালের পানি, ডিশ লাইন টিভি…দিনে দিনে শহরের সব আমোদ-আরাম মানুষ যার যার ঘরে এনে তুলছে। আর সে কিনা ঘুম থেকে ওঠে বদনা হাতে আধাকাঁচা চাকের টয়লের দিকে ছুটে!
অষুদের দোকানটার আয় এখন তার বেতনেরচে বেশি। মনে মনে এই ভরসাটা তো ছিলই আর কাজটা পাওয়ার লোভে বজ্জাত মেস্তরিটাও মূল হিসাবটা অনেক ছোট করে দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলেছিল। দালানটা শেষ করতে এখনো অন্তত তিন লাখ টাকার দরকার। তাবাদে দ্যাখো, দোকান চালানোর সুবিধার জন্যই তাকে একটা হোন্ডাও কিনতে হয়েছিল। মাস্টার বড়ো করে দম লয় ; আগের দিনের মানুষই ভালোছিল। এক জোড়া খেতা-বালিশ আর খেঁজুর পাতার একটা পাটি দিয়ে ওরা মহাসুখে জীবন পার করে দিত।

গত কয় বছরে মাস্টারের জীবনটা রঙধনুর মতো বর্ণিল হয়ে গেছে; স্কুলটা সরকারি হলো, ফার্মেসি হলো, মার্কেটে নিজের একটা কোঠা হলো, ঝকঝকে নতুন টিভিএস মোটরবাইক হলো! এখন বাড়িটা শেষ করতে পাড়লেই…। বেডরুম, ওয়াশরুম, ড্রুইংরুম, কিচেন…। নামগুলা কী ইজ্জতধার! টাকারও তো একটা নেশা আছে, ডাট্ আছে লোক দেখানোর সুখে! সেই সুখেই কলিম মাস্টার এখন মনে মনে মাতাল! দিন ভালো থাকলে আছরের পরেই বাজারটা জমতে থাকে। গরম গরম চিতই পিঠা, ভাঁপা পিঠা, চা-পান, বিড়ি-সিগারেট রাত নটা-দশাটা তক শত শত মানুষ এইসব নিয়ে বাজারের কোণাকানায় কিলবিল করে। স্টলে স্টলে রঙিন টিভি, চ্যানেলে চ্যানেলে কত রংঢং। আজ বৃষ্টি। তাই বাজারে মানুষের আনাগোনা কম। একটু আগে সে তার স্মার্টফোনে দেখেছে, আগামিকাল দিন উঠবার সম্ভাবনা আশি ভাগ। এর মাঝেই ছাতা মাথায় ফরিদ মেম্বার এসে দোকানে ওঠে। মেম্বার তার প্রাইমারির বন্ধু। হাইস্কুলে উঠবার আগেই অভাবের চাপে পড়াটড়া ছেড়ে দিয়েছিল। ঘাগু মাল। সারাজীবন ক্ষুধার্ত কুকুরের গু-খোঁজার মতো টাকার পিছে ছুটেছে। তাই নিষ্ঠুর মেম্বারের চরিত্র বলতে কিছু নাই। মেম্বার ভেজা ছাতাটা ভাঁজ করে দরজার চৌকাঠের সাথে ঠেঁস দিয়ে রেখে দেয়, তে ডাক্তর কিরুম আছো? কলিম মাস্টর কথা বলে না। সে মেম্বারকে চুপচাপ দেখে। শুধু রাজনীতি, কুটনীতি, দূর্নীতি, খুননীতি নয়; পল্টির মুরগি, ফিশারির মাছ আর অতিরিক্ত আরামে মেম্বর এখন শৈল্ল্যে-গতরেও দশজনের একজন। আয়নার মতো চকচকে টাকটা বাঁ-হাতের চেটু দিয়ে মুছতে মুছতে মেম্বার বাইরে গলা বাড়ায়, এই সুমন, আমগরে দুই কাপ দুধচা দে।
টি-শার্ট আর জিন্সপরা মেম্বারের গাব্দাগোব্দা কালো শরীর থেকে খাটাশের মতো বদ গন্ধ আসছে। পাশের প্লাস্টিকের চেয়ারটা টান দিয়ে মেম্বার কলিম মাস্টারের মুখোমুখি বসে; অ-ডাক্তর, মুখ চুঙ্গা কৈরা রাখছ্ ক্যায়া?

বাল্যবন্ধু হলেও মাস্টর ফরিদকে চিরকাল পাশকাটিয়ে চলতে চেয়েছে। শৈশব থেকে ফরিদ বড় ঝামেলার মানুষ। যেদিকে যায় আগুনের লহরের মতো আশপাশের কিছুনা কিছু ছাইভস্ম করে ফেলে। মেম্বারের কথার জবাবে কিছু বলবে না বলবে না করেও মাস্টার মুখ ফস্কে বলে ফেলে, কিছু ট্যাকা দিতা পারবা? মেম্বার মাস্টারের সামনে টেবিলে রাখা একটা কাগজ তুলে চোখের সামনে মেলে ধরে; রড-সিমেন্ট, টাইলস্সহ নানান নির্মান সামগ্রীর একটা লম্বা তালিকা। সবশেষের সমষ্টিতে জিনিসগুলার বাজার মূল্য তিন লাখ বিশ হাজার টাকা। মেম্বার তরমুজের বিচির মতো কালো কালো দাঁত বেড় করে হাসে, অ, এই কথা! আগে কৈবে না।
মাস্টারের বুকটা খামাখা ধড়াস করে ওঠে। খালি চায়ের কাপের পেটে-পিঠে বসে কয়টা মাছি মুখের শুঁং, পা পিলপিল করে ঘষটায় আর গু খাওয়া পোকার মতো চোষে চোষে উচ্ছিষ্ট খায়।

টাকার অভাবে তর যেমুন ঘর আটকা আছে, দুইটা মালের অভাবে আমারও একটা চালান আটকা আছে। মাস্টার আরেকবার ফরিদকে দেখে। ফরিদের কোনো দল নাই, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নাই। সে চিরকাল সরকারি দলের মানুষ। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দুই হাতে আখের গোছানো তার নৈতিক স্বভাব। গত বছর এক দফায় এই অঞ্চল থেকে বেশ ক’জন যুবতি নারী ও শিশু হারিয়ে গেছিল। আজ অবধি তাদের কোনো পাত্তা নাই। এই কিত্তির পেছনে ফরিদেরও নাকি হাত আছে; মানুষের কানাঘুষায় মাস্টার এইরকম-ই কয়েকবার শোনেছে। এই পর্যন্তই শেষ। প্রকাশ্যে কেউ টু শব্দটা করেনি, থানাও কোনো মামলা কিংবা এজাহার রাখেনি।
এই সুমন…।
মেম্বার সুমনকে ডাকে।
পান-সিগারেট দিয়ে, চায়ের বিল ও খালি কাপ নিয়ে সুমন চলে গেলে মেম্বার মাস্টারের দিকে গলা বাড়; কাগজে কয় তিন লাখ বিশাজার হইলেই বাড়ি কলমপিট অয়?
মাস্টার নিজের অজান্তে মেম্বারের সাথে সাথে মাথা নাড়ে, হ কমপ্লিট অয়।
ঠিক নয়টার সোমে আইমু, দোকানে থাকিস।
দোকানের ঝাপ ফেলে, দরজায় খিল দিয়ে, লেনদেন হয় রাত দশাটায়। মাস্টার তখনো জানে না এই টাকার বিনিময় কী। তিন লাখ বিশ হাজার টাকা মাস্টারের হাতে তুলে দিতে দিতে মেম্বার বলে, এই টাকায় অবাধে তিনটা মাল পাইতাম কিন্তু তুই আমার বন্ধু, দুইটা পোলা দিছ্। কাউলকা চালান ইন্ডিয়ার বর্ডার পাছ অইব।
টাকাগুলা কোলে নিয়ে মাস্টার ঝলঝলা চোখে মেম্বারের দিকে তাকিয়ে থাকে। টাকাগুনে দেবার সময় সে এইরকম একটা কিছুই আন্দাজ করেছিল। কোল জোড়ে হাজার টাকার তাড়া তাড়া বান্ডিলের ওমে মাস্টারের প্যারালাইজড্ বিবেক ঘুমে ঢুলে, ঘন ঘন হাই ওঠে এবং বেহুদা বুক ধড়াস ধড়াস ডাকে! নানান পথে মানুষ এখন দু-হাত ভরে রোজগার করছে। টাকার অভাব নাই। অভাব মূল্যবোধের, সুশিক্ষা ও চেতনার। তাই টাকাওয়ালা অশিক্ষিত, অসচেতন রোগি পেলে সে দরকারি একটা অষুদের সাথে বেদরকারি দুই-তিনটা সস্তা ভিটামিন চড়াদামে ভরে দিয়ে বিলটা বহুত মোটা-তাজা করে নেয়। জাগামতো তিন টাকার ক্যাপসোল তেরো টাকায় গছিয়ে দেয়। ছোট ছোট এইসব চুরি-চামারিতে প্রথম প্রথম বিবেক কামড়ালেও এখন তা অভ্যাসের এখতিয়ারে ডাকাতির পর্যায়ে চলে এসেছে বলেই না মাস্টার দিব্যি চোখে দেখে, পাকাবাড়ির ব্যালকোনিতে দাঁড়িয়ে সে সিগারেট টানছে!
ঢুলতে ঢুলতেই মাস্টার মনে মনে ঠিক করে ফেলে, রিক্সাচালক রশিদের পোলা দুইটারে দিয়ে দিবে সে। পঙ্গপালের মতো কিলবিল করতে থাকা কোটি কোটি মানুষের এই দেশে দুইটা পোলা হারিয়ে গ্যালে কী হয়? তার নিজের ছেলে দুইটার মুখ মনে পড়তেই বুকটা আরেকবার ধড়াস করে ওঠে। বিদ্যুতের আলোভরা নির্জন গলি দিয়ে কয়টা শিয়াল রহিমের পল্টির দিকে দৌড়ে যায়। খেক্ খেক্ করে। ঝিঁঝিঁ ডাকে অবিশ্রান্ত। মাস্টার আরেকবার নিজেকে শোনায়, কোটি কোটি মানুষের দেশে একজন রিক্সাচালকের দুইটা পোলা হারায়া গ্যালে কী হয়?
এক লাইটারের আগুনে দুইজন দুইটা দামি সিগারেট ধরায়। চোখে চোখে পরস্পর পরস্পরের আস্থা খোঁজে, ভরসা বিনিময় করে। তারপর মুখ ভর্তি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মাস্টার বলে, ছুটির পরে সবার শেষে যে দুইটা ছেলে যাইব হেগরে নিবা।
ছুটির পরে, সবার শেষে ?
হ।
মেম্বার নিঃশব্দে দোকান থেকে বেড়িয়ে যায়। মাস্টারের বুকটা খামাখা বারকয় ফাৎ ফাৎ করে। দোকানের পিছনে ছোট্ট ঝোঁপটায় একটা বাগডাশ নিয়তির মতো ডাকে, ওয়াপ ওয়াপ…।
মাস্টার লোকাচারে জানে, রাতের নীরবে বনবিড়ালের ওয়াপ ওয়াপ ডাকের সময় সুখ না দুঃখ জানতে চাইলে জীবটা বিধাতার মতো নির্ভুল উত্তর দেয়। তাই সে দ্রæত ও জোরালো গলায় দোকানের ভেতর থেকেই অবলা জীবটার উদ্দিশে জোরে চিৎকার দিয়ে জানতে চায়, সুখ না দুঃখ?
দুঃখ!
মাস্টার নিজের কানকেও অবিশ্বাস করে স্তম্ভিতের মতো বসে থাকে। আর বার বার তার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে বাজতে থাকে কহরের মতো গম্ভীর, কর্কশ সেই উচ্চারণ, দুঃখ!
তবু সে মনকে সানায়, জোর দিয়ে ভরসা দেয়, তার নসীবে দুঃখ আসবে কেন? নিশ্চয়ই সে ভুল শোনেছে। ধুস্…শালা সব ভোগাস।
মাস্টার ঘুরেফিরে সেই ছেলে দুইটাকে দেখে। একটা পড়ে থ্রিতে, একটা ফউরে। তার ছেলে দুইটাও তাই। পঙ্গপালের মতো স্কুল ভর্তি শত শত ছাত্র। সে কয়জন কে পড়াবে ? পড়ানোটা ক্লান্তিকর, বিষ্টার মতো জঘন্য। তাই মাস্টার পড়ায় না। কোনোদিনই পড়ায় না। ক্লাসে ছেলেরা হাউকাউ করে। মারামারি করে। মাস্টার বেত দিয়ে টেবিলে জোরে জোরে বাড়ি মারে, এই আটের নামতাটা লেখ। তার বুক খামাখা উথাল-পাতাল করে। সে ক্লাসে ক্লাসে লেখা দিয়ে বারান্দার এমাথা সেমাথা হাঁটে। বাইরে ফনফনা রোদ। শন্শনা বাতাস। টাইম কাটে না! কখন যে চারটা বাজবে! আস্তা ইস্কুলে সে একা। এক গোট গরু-ছাগলের পিছনে বেত হাতে সে একলা একটা বাটপার রাখাল। একজন ম্যাডাম গেছে বাচ্চা বিয়ানোর লম্বা ছুটিতে। একজন বদলি হয়ে শশুরবাড়ির কাছাকাছি চলে গেছে। ওরা চলে গিয়ে ভালই করেছে। ফেসবুকের ছেনালি, শশুরবাড়ির টাকা-পয়সা, শাড়ি-গয়নার গপ্পো আর পরস্পরের মাথার ওকুন বাছাবাছি দেখতে দেখতে মাস্টারের ঘিন্না ধরে গিয়েছিল।

বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মাস্টার তার নিজের ছেলে দুইটাকে আগে-ভাগে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ইস্কুলটা ছুটি দেয় ঠিক চারটায়। তার আগেই সে রশিদের পোলা দুইটাকে ডেকে নিয়ে, অফিস রুমটা ঝাড়– দিতে লাগিয়ে দিয়েছে। ঝাড়–টাড়– দেওয়া শেষ হলে, টেবিল-চেয়ার মুছা বাবদ আরো দশ-পনেরো মিনিট আটকে রেখে ছেড়ে দেয়। বুকে বই চেপে খাঁ খাঁ শূন্য মাঠে নামে শুধু দুই ভাই। ছোটটা বড়টাকে জোরে জোরে বলে, এই ভাই, আমারে তর বড় লাটিমটা দিবে ?
বড়টা বলে, তর নীল টগ্গ্যা মার্বলটা দিবে ?
তারপর বাড়ির দিকে একটা ভোঁ দৌড়।
একটা সিগারেট ধরিয়ে মাস্টার ধীরে-সুস্থ্যে হোন্ডার স্টাটারে কিক্ দেয়। গায়ে-পায়ে মানুষের বিষ্টার মতো কেমন একটা অস্বস্থি, বুকে রাইজ্যের চাপ চাপ অস্থিরতা। কীএকটা ভয়ে হঠাৎ মগজে হিম হিম লাগে। সে বাজারের ফার্মেসিতে না গিয়ে ভ্যাট ভ্যাট শব্দ তুলে দ্রæত বাড়ির দিকে হোন্ডা চালায়। চাবি ঘুরিয়ে হোন্ডার ইঞ্জিনটা বন্ধ করতেই অসমাপ্ত দালানটা তার দিকে হা-করে তাকিয়ে থাকে! হোন্ডার শব্দে মাস্টারের বউ টিনের ঘরের বারান্দায় বেড়িয়ে আসে, আমার ছেলেরা কৈ, অহনও আইয়েনা ক্যায়া? মাস্টার হোন্ডা থেকে নামতে নামতে বলে, আইছে না?
না।
কয় কী ! হ্যাগরে না আমি সবার আগে ছুটি দিছি।
বলতে বলতে মাস্টারের খান খান গলা ফেলনা ইট-কাঠের মতো চারপাশে ঝুর ঝুর ভেঙে পড়ে। আতঙ্কটা সর্বগ্রাসী চিতার মতো পায়ের পাতা থেকে তালুতক ধক্করে জ্বলে ওঠে। সে টলতে টলতে মোবাইলে কল দেয়। ওপাশে মেম্বারের গলা, হ্যালো?
হ্যালো, তুমি কোন দুইডারে নিছঅ ?
সবার আগে যে দুইডা আইছে।
হ্যারা অহন কৈ?
আমি কি কৈয়াম? আমি ত পার্টিরে টাইম মত চালান বুঝায়া দিছি। মোবাইলটা হাত থেকে খসে পড়ে। শিলাবৃষ্টিতে ছেঁচা-খাওয়া আমারে মতো মাস্টারের দেহটাও টপ্পাত্ করে মাটিতে গড়ায়। মাস্টারের বউ বারান্দা থেকে ছুটে এসে দেখে, ধনুস্টংঙ্কারের রোগীর মতো খিঁচতে খিঁচতে তার স্বামীর মুখটা নীল হয়ে গেছে। তবু মহিলা অজ্ঞান প্রায় মানুষটার একটা হাত ধরে টানতে টানতে বুক-ফাটা আর্তনাদে গোটা জগতের কাছে জানতে চায়, আমার বাপধনেরা কৈ?

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত