রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্বের বিস্ময়। তবু তাকে কেন অবহেলা? সম্মান দিতে সংশয়?

আজ থেকে ১৫০ বছর আগে রবীন্দ্রনাথের জন্ম। ষার্ধোশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব চলছে, রবীন্দ্রনাথের সম্মানে সেমিনারে সেমিনারে চলছে রবীন্দ্র জীবনালোচনা। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট লন্ডনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম দ্বারা প্রভাবিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। কিছুদিন আগে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী বাঙ্গালি রবীন্দ্রানুরাগী অমর্ত্য সেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দুইদিন ব্যাপী কনফারেন্সে রবীন্দ্রনাথের উপর আলোচনা করেন। নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড এবং জার্মানিতেও তিনি রবীন্দ্র প্রতিভা নিয়ে বক্তৃতা করেন।

সাধারণত খ্যাতিমান কবি, উপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, গীতিকার বা ছোটগল্প লেখকের কোন স্মরণীয় উক্তি অক্সফোর্ড এবং পেঙ্গুইন অভিধানের পাতায় উদৃতি হিসেবে স্থান পায়। আমি এই দুইটা অভিধান কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম সেখানে, কিন্তু সেখানে রবীন্দ্রনাথের কোন লেখার স্থান হয় নি। অভিধান কতৃপক্ষ প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের ট্যাসিটাস থেকে শুরু করে ফ্রান্সের হিপোলাইট টাইনের লেখা অভিধানে স্থান দিলেও কোথাও রবীন্দ্রনাথের লেখা একটা লাইনও নেই। যদিও রবীন্দ্র সমগ্রের ২৪ টা মোটা মোটা বই আড়াই হাজারের বেশি গানের রচনা থাকার পরেও পশ্চিমা কারো মনে দাগ কাটতে পারেনি। অথবা সংক্ষেপে বলে দেয়া যায় এটাই তো স্বাভাবিক যেন রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রাচ্যের কোন অতিপ্রজ অতিবাস্তব কলমের ফলাফল যা আমাদের পশ্চিমা ভোগবাদী মাথার উপর দিয়ে চলে যায় এবং যার অন্তর্নিহিত অর্থ আমরা বুঝতে পারি না। একটা কবিতার লাইন আমার খুব মনে পড়ছে তবে পুরোটা কবিতা মনে আছে ভাসা ভাসা। প্রথমবার তাজমহল দেখে রবীন্দ্রনাথ বর্ণনা করেছিলেন, “অনন্তের মুখের উপর একফোটা অশ্রুবিন্দু”। আগ্রায় ভ্রমণে আসা উইলফ্রেড ওয়েন এই উদৃতি একজন ট্যুরিস্ট গাইডের কাছ থেকে শুনতে পান এবং রবীন্দ্রনাথের জীবনী পড়ে জানতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের জীবনী পড়ে তার কি অর্জন বিসর্জন হয়েছিল তা জানা যায় না। তবে উইলফ্রেড ওয়েন মারা গেলে তার মা মৃত সন্তানের পকেটবুকে দেখতে পান একটা উদৃতি লেখা “যখন আমি এখান থেকে চলে যাবো, তখন এই কথা হবে আমার বিদায় বাণী, এখানে যা কিছু দেখেছি এর থেকে ভাল কিছু সম্ভব নয়”

এটা সত্য যে কেবল উদৃতি দিয়েই লেখকের যোগ্যতা শ্রেনিবিন্যাস করা যায় না, কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে অবজ্ঞা করা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। ২৫ কোটি বাংগালির বাইরে লেখক রবীন্দ্রনাথ অন্য কোন ভাষা ভাষীদের কাছে জনপ্রিয় নন। সেক্সপিয়র বা ডিকেন্সের ক্ষেত্রে এমন চিত্র দেখা যায় না। স্কটল্যান্ডে বার্নসের জনপ্রিয়তা প্রায় ১০০ বছর আগে থেকেই বিদ্যমান যা ব্রিটেনের জন্ম ইতিহাসের সমসাময়িক। প্রতিটি বাংগালিই রবীন্দ্রনাথকে জানেন, এমনকি যারা লিখতে পড়তে জানেন না তারাও রবীন্দ্র সংগীতের দুই এক লাইন আওড়াতে পারে। এখানে উল্লেখ্য ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথের রচনা। বাংলায় কেউ বেড়াতে গেলে রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা দেশে অবাক হয়ে যাবেন। বহু বছর আগে কলকাতার বড় বড় সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে মেশার চেষ্টা করেছিলাম, আমি ঘন্টার পর ঘন্টা আমলাদের মুখে রবীন্দ্র আলোচনা শুনতাম। একজন আমলা বলেছিলেন, “রবীন্দ্রনাথের লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ পড়লে মনে হয় এমব্রয়ডারি করা কাপড়ের উলটো পাশ দেখছি।”  একজন বললেন, রবীন্দ্র সাহিত্যে বাস্তবের কোন মিল খুজে না পেয়ে রীতিমত আমি গবেষণা শুরু করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা অনেক সময় যৌন তাড়নার দিকে ধাবিত করতে পারে এবং সেখান থেকে কুরুচির জন্ম হয়। ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথ মারা গেলে তার শবযাত্রায় অগণিত মানুষ জড়ো হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই স্মৃতি হিসেবে কবির মাথা থেকে চুল ছিড়ে নিতে লাগলেন। শোকার্তরা নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে চিতার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে এবং তারা কবির দেহ আগুনে পুরোপুরি ভস্মিভূত হওয়ার আগেই চিতার উপর হুমড়ি খেয়ে কবির অস্থি মজ্জা খুঁজতে থাকে স্মারক হিসেবে রাখবে বলে।

পৃথিবীর কোন দেশের কোন লেখক এত সম্মান, খ্যাতি অর্জন করতে পারেন নি। কিন্তু অর্জনের পরেও রবীন্দ্রনাথ বিশ্বের কাছে পুরোপুরি আঞ্চলিক লেখক। বাংলার বাইরে তার সম্পর্কে কোন কৌতুহল নেই, যেন নেই কোন প্রাসঙ্গিকতা। প্রথমবারের মত একজন অইউরোপিয়ান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতে নেন। এই গল্প সবার জানা। ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী নামে ১০০ কবিতার সংকলন ইংরেজিতে অনুবাদ করে ভারত থেকে ইংল্যান্ডের উদেশ্যে জাহাজে উঠে বসলেন। গীতাঞ্জলীর ইংরেজি ভাষান্তরে নাম দেয়া হলো ‘সং অফারিংস’। লন্ডনের পাতালরেলে তিনি লেখার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে ফেললেন। খোজাখুজির পর সৌভাগক্রমে তিনি এগুলো মালিকবিহীন লাগেজ অফিসে খুজে পান। এরপরে উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস’র সাথে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ ঘটে। ইয়েটস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা পড়লেন এবং উপদেষ্টা হলেন। তখন ইয়েটস রবীন্দ্রনাথের লেখাকে কিছু সংশোধন এবং পরিমার্জনের কাজ করেন।    

শ্বাস রুদ্ধকর গতিতে সব কাজ এগিয়ে যেতে লাগল। রবীন্দ্রনাথ লন্ডনে পৌছালেন ১৯১২ সালের জুনে আর পরের বছর মার্চে ম্যাকমিলান প্রকাশনী থেকে তার কাব্য সংকলন প্রকাশিত হলো। বইটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন ইয়েটস। ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন। কলকাতা ছাড়ার আগে লন্ডনে তিনি মাত্র একজন মানুষকে চিনতেন, তিনি ছিলেন চিত্রশিল্পী উইলিয়াম রোথেনস্টাইন। দুই বছরের মাথায় তিনি বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত হলেন। সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার জিতে তার হয়ত খ্যাতি বেড়েছিল, বইয়ের কাটতি বেড়েছিল এবং আধুনিক প্রকাশনা শিল্প জ্ঞানচর্চা প্রচারে ভূমিকা রেখেছিল এক শতাব্দী আগে কিন্তু রবীন্দ্রনাথের উপর নোবেল পুরষ্কারের প্রভাব অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। গীতাঞ্জলী বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ে এবং যুদ্ধ চলাকালীন গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের কবিতা আত্মা এবং প্রক্রিতির মাঝে যে সংবেদন তৈরি করেছিল তাতে যেন বীনার তন্ত্রীতে বেজে উঠেছিল সুর। উইলফ্রেড ওয়েনের পকেট নোটবুকে গীতাঞ্জলীর কবিতাংশ লেখা ছিল। এবং কিছুদিনের মধ্যেই গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থকে আন্দ্রে গিদ ফ্রেঞ্চ এবং বরিস প্যাস্তারনাক রাশান ভাষায় ভাষান্তর করেন।    

সাফল্য সবাইকে রবীন্দ্রনাথের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে বাধ্য করে। রবীন্দ্রনাথ হয়ে গেলেন পশ্চিমাবিশ্ব যেমনভাবে প্রাচ্যকে দেখতে চায় তার প্রতিনিধিত্বকারী। বড় দাড়িওয়ালা ঋষির মত দেখতে, সহজিয়া মরমী, অপেক্ষাক্রিত অনুন্নত কিন্তু সরল সাধারন সভ্যতা কিন্তু আকর্ষণ আছে এমন প্রতিচ্ছবিই প্রাচ্যের প্রতিভূ, লম্বা সাদা আলখাল্লা, দীর্ঘ শুভ্র চুল দাড়ি মিলিয়ে রবীন্দ্রনাথ যথার্থ। অবশ্য বাস্তব আরো বেশি জটিল। কলকাতার সবথেকে প্রভাবশালী পরিবারে রবীন্দ্রনাথের জন্ম। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে মধ্যসত্ত্ব ব্যাবসা করে তারা বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে যান। উচ্চারনের সুবিধার্থে ইংরেজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মুখে বাংগালি পদবি ঠাকুর হয়ে গেল ‘টেগর’। ইউরোপের মানুষ তাদের পরিবারে অচেনা অগন্তুক নয় মোটেও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর স্টিমার কোম্পানি এবং কয়লার খনির মালিক ছিলেন এবং ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃত্যু হয়েছিল ইংল্যান্ডে এবং কেনসাল গ্রীন সেমিট্রিতে এখনো তার সমাধি স্তম্ভ আছে। কবি রবীন্দ্রনাথেরও এটা তৃতীয়বারের মত লন্ডনযাত্রা। তার প্রথম লন্ডন ভ্রমনে তিনি বিশাল হল ঘরে সংগীত শোনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেখানেই তিনি ইংল্যান্ডের লোকসংগীতের সাথে পরিচিত হন। পরে তিনি তার স্বতন্ত্র্য রবীন্দ্র সংগীতের ধারায় এই সুর যুক্ত করেন।             

অন্য সব পরিচয় ছাপিয়ে, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মেলবন্ধনকারী। তিনি ইউরোপের জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সমাদর করতেন কিন্তু যখন ব্রিটেন ভারতের নীতি আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানোর চেষ্টা করলো তখন প্রতারিত মনে করলেন। ইউরোপিয়ান অতি উতসাহীর দল শুধু তাই দেখে যা তারা দেখতে চায়। প্রথমে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন পশ্চিমাদের ফ্যাশন এবং তারপরেই কর্পুরের মত উবে গেলেন। রবীন্দ্রনাথের লেখাকে ভাববাদী আখ্যা দিয়ে রোমান্টিক রাবিশ বলে ১৯৩৫ সালে ইয়েটস লিখেছিলেন “ড্যাম টেগর” এবং তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ নিজেই নিজের সুনাম নষ্ট করছেন। ফিলিপ লারকিন তার একবন্ধু রবার্ট কনকোয়েস্ট’র কাছে ১৯৫৬ সালে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, “এক ভারতীয় আমার কাছে জানতে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছে [ Rabin Drum sic] রবীন্দ্র সংগীত আপনার কাছে কেমন লাগে?” ফিলিপ লারকিনের নাকি মনে হয়েছিল “ভারতীয়কে টেলিগ্রামে উত্তর দিয়ে দিই, “এসব বালছাল”   

তার কবিতায় ভালো কিছু আছে? পড়তে পারে না এমন বাংগালীর কাছে প্রশ্ন করে সে নিশ্চয়ই উত্তর দেবে, জানি না। বাংগালিদের ধারণা কোন অনুবাদই রবীন্দ্রনাথের লেখাকে সমুন্নত করতে পারে না। আর যারা পড়তে পারে না তারা স্মৃতি থেকে আবৃত্তি করে, “বিশ্বাস হলো এমন এক পাখি যে ভোরের অন্ধকারেও আলো অনুভব করে”। বিখ্যাত অনুবাদক ইউলিয়াম রেডিস মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ প্রশ্নকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইতেন। উপমার বাহারে হৃদয়কে বাহুতে প্রতিস্থাপন করেছিলেন যেটা আসলে ঝুকিপূর্ণ। এই কারনেই তার লেখা হয়ে গেছে অনাধুনিক এবং মূলস্রোত থেকে বিচ্যুত। লারকিনের কাছ থেকে এরকম তীব্র সমালোচনা শুনে এমনটাই মনে হতে পারে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নতুন করে চিন্তা করার। চলুন ভুলে যাই রবীন্দ্রনাথ একজন ছিলেন, জ্ঞানচর্চায় তার দৃশ্যমান অর্জন ছিল অনেক। এরকম বহু বিশেষনে রবীন্দ্রনাথকে বিশেষায়িত করা যায়। তিনি একজন প্রাবন্ধিক, বিদ্যোতসাহী মানুষ যিনি নোবেল পুরষ্কারের টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় প্লেগের মত ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তিনি শান্তির বানী প্রচার করেছেন, ধর্মীয় বিভাজনের মধ্যে থেকেও তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ, তিনি বাংলায় কৃষিখাতে বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন, তিনি একজন পরিবেশবাদী, এবং জাতীয়তাবাদের সমালোচনাকারী। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সময়ের থেকেও অগ্রগামী। সেই অনগ্রসর সময়ে তার লেখায় তিনি নারীর অধিকার, নারীর অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছেন।

Is his poetry any good? The answer for anyone who can’t read Bengali must be: don’t know. No translation (according to Bengalis) lives up to the job, and at their worst, they can read like In Memoriam notices: “Faith is the bird that feels the light when the dawn is still dark” is among the better lines. Translator William Radice thinks that Tagore’s willingness to tackle the big questions, heart on sleeve, has made him vulnerable to “philistinism or contempt”. That may be so – see Larkin – but perhaps the time has come for us to forget Tagore was ever a poet, and think of his more intelligible achievements. These are many. He was a fine essayist; an educationist who founded a university; an opponent of the terrorism that then plagued Bengal; a secularist amid religious divisions; an agricultural improver and ecologist; a critical nationalist. In his fiction, he showed an understanding of women – their discontents and dilemmas in a patriarchal society – that was ahead of its time. On his 150th anniversary, we shouldn’t resist two cheers, at least.

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত