| 13 জুলাই 2024
Categories
এই দিনে গদ্য সাহিত্য

পঁচিশে বৈশাখ স্মরণ: বাঁচিয়ে দিল তোমার গান । দিলীপ মজুমদার

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট

করোনার প্রথম ঢেউ লাগেনি আমার শরীরে। লাগল দ্বিতীয় ঢেউ।  অসতর্ক হয়েছিলাম। নিকট আত্মীয়ের জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি, শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়ার সময় নানাজনের মুখোমুখী। অশরীরী অণুজীবটি সেই অসতর্কতার মধ্যে ঢুকে গেল মুখ বা নাকের ভেতর দিয়ে। প্রথমে একটু খুক খুক কাশি। একটু জ্বর। দুর্বলতা। ডাক্তারের কথায় কোভিদ টেস্ট করতেই ধরা পড়ল। তারপরে আরও নানা লক্ষণ প্রকট হতে লাগল। স্বাদ-গন্ধহীনতা, মুখের ভেতর লালচে রঙ।

তারপরে দেওয়াল আর দূরত্ব। রুদ্ধঘরে সঙ্গীহীন।  কেউ নেই, কিছু নেই। ভয়াবহ নির্জনতা। বইপত্র আছে। পড়ার ইচ্ছে নেই। নির্জনতা তৈরি করে ভয়। জানি, ভয় আর অবসন্নতা বাড়িয়ে দেয় রোগের প্রকোপ। কিন্তু তাকে তো প্রতিরোধ করতে পারছি না।

কী মনে করে মেয়ে চালিয়ে দিল রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্যাসেট। দূরত্ব বাঁচিয়ে। প্রথমটা তেমন কিছু মনে হয় নি। আস্তে আস্তে হতে লাগল। কানের ভেতর দিয়ে মরমে প্রবেশ। কাটতে লাগল নির্জনতা। দূর হতে লাগল সঙ্গহীনতা। কাটতে লাগল ভয় আর অসহায়তা। ধীরবিলম্বিত লয়ে।

সংকটের কল্পনাতে ম্রিয়মান হচ্ছ কেন? আপনা মাঝে শক্তি ধর নিজেরে করো জয়। ভয় তোমার প্রাণশক্তিকে নিঃশেষ করে দেবে। তাই মুক্ত করো ভয়। মৃত্যু একটা সত্য। কিন্তু তাই বলে দুবেলা মরার আগে মরব কেন? ভীরুর হাতে তো ভুবনের ভার নেই। উঠবে রে ঝড়, দুলবে রে বুক, জাগবে হাহাকার; হালের কাছে মাঝি আছে, সেই পার করাবে তরী। বিপদে আমাকে কেউ রক্ষা করবে, এ তো আমার প্রাথর্না নয়, আমি বিপদে ভয় যেন না করি । দুঃখকে জয় করার সাধনাই তো মানুষের সাধনা।

যে দুঃখকে আমরা এড়িয়ে চলতে চাই, সেই দুঃখকে  অকাতরে বরণ করে নেবার শক্তিকে আহ্বান করতে হবে। দুঃখ যদি না পাবে তো দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে? বিষকে বিষের দাহ দিয়ে মারতে হবে দহন করে। যখন মরতে মরতে মরণটাকে একেবারে শেষ করে দিতে পারব,  তখন সেই জীবন এসে আপন আসন আপনি লবে।

করোনাসুর যে ভয়, যে অসহায়তা, যে নিঃসঙ্গতার প্রাচীর তুলে দিয়েছিল; যাতে আমার বন্ধুজন বাধ্য হয়ে বর্জন করেছিলেন আমাকে; রবীন্দ্রনাথের গান তার উপর এক আশ্চর্য প্রলেপ দিল।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত