| 30 মে 2024
Categories
এই দিনে গদ্য সাহিত্য

ভিতর ও বাহিরে

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট
তিনি পালিয়ে যেতে ভালবাসেন। পালিয়েই যান, যেতে পারেন।
১৯৫৪ সাল। জানুয়ারি মাস। কলকাতার সেনেট হলে কবি সম্মেলন। দরজার সামনে দাঁড়ানো ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে নামী কবিদের কবিতা শুনছেন। তাঁর, সেই তরুণেরও সে দিন কবিতা পড়ার কথা। কিন্তু ঠিক করে ফেলেছেন, মোটেই কবিতা পড়বেন না। অস্বস্তি হচ্ছে যে।
ভিড় , মঞ্চ, অনুষ্ঠান কবি আর পাঠকের মাঝখানে যে কাঁপুনি তৈরি হওয়ার কথা, এ সব তা নষ্ট করে দেয় অনেক সময়। তাই ঠিক করেছেন নামী কবিদের দেখে, তাঁদের বলা শুনেই পালাবেন। তাঁর নাম ডাকার আগেই চলে যাওয়া চাই।
ও মা! সুভাষ মুখোপাধ্যায় দেখে ফেলেছেন, ইশারায় ডাকছেন। তরুণ কবি শঙ্খ ঘোষ ইশারাতেই তাঁর সুভাষদাকে ‘না’ বললেন। কিন্তু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতো দামালকে কি ঠেকানো সোজা ! আসন ছেড়ে শঙ্খকে ধরতে তিনি এগিয়ে আসছেন। অগত্যা শঙ্খও বেরিয়ে পড়লেন পাশের মুরলীধর সেন লেনে। শুরু হল রোমহর্ষক লুকোচুরি খেলা কবির পেছনে কবি। শঙ্খের পিছনে সুভাষ। কিছুটা পশ্চিমে এগিয়ে শঙ্খ দেখেন তখনও পেছনে সুভাষদা, সমানে ধাওয়া করছেন। অগত্যা আর একটু দ্রুত পা চালাতে হল। শেষ পর্যন্ত তরুণ শঙ্খই জিতলেন, পালাতে সফল। সে দিনের সেই সেনেট হল নেই, সুভাষ মুখোপাধ্যায় নেই, তরুণ কবিদের লাজুকতা নেই আছে চার পাশে অজস্র সভা, আত্মপ্রকাশের আয়োজন, ফেসবুকের ছবি। তবে এখনও আছেন শঙ্খ ঘোষ আছেন তাঁর শব্দ ও নৈঃশব্দ্য নিয়ে।
বাঙালি ভদ্রলোকের বিশেষ কতগুলি বৈশিষ্ট্য তাঁর কথায়বার্তায় জীবনযাপনে মিশে গেছে তৈরি করেছে তাঁর নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট। সেই যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে ফ্যাশন আর স্টাইলের পার্থক্য নির্দেশ করেছিলেন। ফ্যাশন হল চালু একটা ছাঁচ, স্টাইল ছাঁচ নয়, তা নিজের একান্ত রীতি। শঙ্খ ঘোষের নিজস্ব কিছু রীতি আছে। এককালে বাংলা কবিতায় বিষ্ণু দে-র অনুগামীদের বৈষ্ণব বলা হত, অনেকেই শঙ্খবাবুর স্টাইলকে কৌতুক করে ‘শঙ্খীয়’ বলেন। সেই বলার মধ্যে কৌতুক যেমন থাকে তেমনই কারও কারও উচ্চারণে থাকে শ্লেষ।
দীর্ঘ দিন বাঙালির সংস্কৃতিতে জীবন যাপন করেছেন যিনি, চান না চান যিনি আইকন হয়ে উঠেছেন প্রায়, তাঁকে নিয়ে কোনও কোনও বাঙালি যে শ্লেষ-পরায়ণ হবেন এ আর নতুন কথা কী ! তবে সত্যি কথা এই যে শঙ্খবাবু নিজের যে রীতি তৈরি করেছেন তা নিতান্ত বাইরের নয়। এ ভেতর থেকে গড়ে ওঠা। তা আপনার পছন্দ হতে পারে, নাও পারে। তার মূল সূত্র হল থাকা এবং না-থাকা। শঙ্খ ঘোষ তাঁর সমকালে বাঁচেন, খুবই বাঁচেন কিন্তু সমকালের ফ্যাশনে ঢুকে পড়েন না। সেই ফ্যাশনের ছাঁচ থেকে নিজেকে আলতো করে সরিয়ে রাখতে পারেন। এটাই তাঁর স্টাইল। এটা তিনি বজায় রাখতে পেরেছেন তরুণ বয়স থেকেই।
ওই যে কবি সম্মেলনের ঘটনা না, কবি সম্মেলন তো তিনি বর্জন করেননি। শুনতে গেছেন, তরুণ কবির পক্ষে নামী কবিদের দেখা শোনার আগ্রহ স্বাভাবিক। কিন্তু তার পর? সেই পালিয়ে আসা। সুযোগ পেলেই পকেট থেকে কবিতা বের করে সম্মেলন থেকে সম্মেলনে কবিতা পড়ে শোনাব এই কাব্য-ফ্যাশনের ছাঁচে নিজেকে মেশাতে তরুণ শঙ্খ নারাজ।
একই কাণ্ড কি তাঁর সঙ্গে কৃত্তিবাস কবিগোষ্ঠীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ঘটেনি? সুনীল ও পরে শক্তির সঙ্গে শঙ্খের সখ্য গভীর।
১৯৫৩। সুনীলের বয়স তখন উনিশ। থার্ড ইয়ারের ছাত্র। শ্রাবণ মাসে কৃত্তিবাসের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হল। তরুণতম কবিদের মুখপত্র। ভাঙা স্বাধীন দেশ। ‘বাংলাদেশের শারীরিক মানচিত্রের মতোই কাব্যের মানচিত্রও খণ্ডিত।’ কৃত্তিবাস সম্পাদক সুনীল সেই খণ্ডতার বিরোধী। পাকিস্তানের কবিদের তিনি সমদলীয় ও সহকর্মী বলে মনে করতেন । সুনীলের হাতে এল ‘সেই সময়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান তরুণ কবি শঙ্খ ঘোষের পুরো একটা কবিতার খাতা।’ শঙ্খ , দেশভাগের মর্মান্তিক বেদনা অনেক সহ-কবির মতোই তাঁর পরিবারের শরীরে মিশে আছে। কলকাতার শহর পথের ধুলোতে এসে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁকে।
শিয়ালদা স্টেশনের ক্ষুধার্ত শরণার্থী, সবজান্তা কলকাতা শহর, এলোমেলো রাত্রিদিন শঙ্খের চেনা বাস্তব। শঙ্খের কবিতার ভালমন্দ নিয়ে পরে শান্তিনিকেতনে বিতর্কে মাতবেন বুদ্ধদেব বসু আর সুভাষ মুখোপাধ্যায়। সুভাষ শঙ্খের কবিতায় মুগ্ধ, ‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুর মনে হবে কেবল ভাত ভাত করলেই কবিতা হয় না। যাঁকে নিয়ে এই অগ্রজ দুই কবির মতান্তর, তিনি তো স্বভাব-কুণ্ঠায় রাঙা। অবশ্য খেয়াল করেছিলেন ঠিকই বুদ্ধদেব ও সুভাষের মধ্যে কবিতা নিয়ে মতান্তর হল বটে কিন্তু মনান্তর হল না। পারস্পরিক প্রীতি সৌজন্যের কোনও অভাব ছিল না তাঁদের মধ্যে।
এই যে মতান্তরে আছেন মনান্তরে নেই, সমকালে আছেন কিন্তু সমকালের ফ্যাশনে নেই, নিজের মতের কথা সৌজন্য বজায় রেখেই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে এই বাঙালিয়ানা যা গড়ে উঠেছিল একসময়, শঙ্খ তার উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন। কৃত্তিবাসের পাঠক প্রথম মুখোমুখি হয়েছিলেন শঙ্খের ‘দিনগুলি রাতগুলি’ কবিতাটির ‘বাসনা-বিদ্যুতে তুমি ছিন্ন করো চরিত্রের মেঘ।’ কিন্তু এই উচ্চারণ যাঁর তিনি কিন্তু কখনও শক্তির মধ্যরাতের ফুটপাথ বদলের সঙ্গী নন, কলকাতা শাসন করা চার যুবকের একজন তিনি হয়ে উঠতে চাননি। তিনি তাঁর মতো থেকে যাবেন তখনও, এখনও।
কৃত্তিবাসীদের সখা কিন্তু প্রতিদিনের দিনযাপনে কোথাও নিজের মতো একা। সুনীল-শক্তি তা জানতেন। তাঁদের পারস্পরিক বেরাদরির অভাব ছিল না, তবে কেউ কারও জীবন-যাপনের নিজস্বতাকে খাটো করেননি। শঙ্খের জীবন-যাপনের পদ্ধতি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালির খুব প্রিয়। সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা, স্বল্পভাষী, নিয়মানুবর্তী মানুষ। মধ্যবিত্ত জীবন-যাপনের চিহ্নগুলিকে কখনও বাদ দেন না। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য তিনি মন্থন করেছেন , বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, কিন্তু সেই শিক্ষকতার পাণ্ডিত্য ও শুচিবায়ুগ্রস্ততা তাঁকে গ্রাস করেনি।
যাদবপুর পর্বে তাঁর ছাত্ররা অনেকেই ‘দুর্দান্ত’ কবি। ছাত্রদের সেই বে-হিসেবিপনার অতিকথা খোশগল্প হয়ে ছড়ায়। প্রয়াত কবি জয়দেব বসু তাঁর খুবই প্রিয় ছাত্র। এই জয়দেব নাকি স্যার-কে মাঝে মাঝে খুবই জ্বালাতেন। একদিন নাকি সবাইকে ঘর থেকে বাইরে বের করে শঙ্খবাবুকে বলেছিলেন, স্যার একবার শালা বলুন। কেউ নেই, বলুন স্যার। এই গপ্পোকথা অনুযায়ী শিক্ষক শঙ্খবাবু তা বলেননি, মৃদু হেসেছিলেন।
জয়দেব নাকি আবডালে তাই বলতেন ‘শান্ত বড়ো স্বাভাবিক নয়’। শঙ্খ ঘোষের কবিতার পদ এই ভাবে যাদবপুরী জয়দেব নিজের মতো ‘পান’ করে (গিলে ফেলে) ব্যবহার করতেন। যাদবপুরের ঝিল , লবি, করিডর জানত শঙ্খবাবু তাঁর ছাত্রদের আশ্রয় দেন, প্রশ্রয়ও। কিন্তু নিজের স্টাইল বদল করে নয়।
তাঁকে অক্লেশে অনেক কথা বলা যায়, ছেলেমেয়েদের পারস্পরিক পেছনে লাগা তাঁর সামনেই ঘটানো যায়। তিনি মজাই পাবেন। অংশগ্রহণ করবেন না। চাইবেন তাঁর ছাত্ররা ভিন্ন রুচির অধিকার নিয়ে গলা ফাটাক কিন্তু মনান্তরে যেন না যায় । এটাই তো রুচির সমগ্রতা। তবু তাঁর ছাত্রদের মনান্তর হত। আর স্যার মন খারাপ করে কবিতায় লেখেন তাঁর প্রিয় অনুজদের কথা ,
কোনো কোনো রোববার সকালবেলায় মনে হয়
এই হয়তো এসে পৌঁছবে জয়দেব, আসবে তারাপদ
ওদের বনিবনাও হবে আবার
’।
তাঁর উল্টোডাঙার বাড়ি। বইঘেরা বসার ঘর। দেয়ালে কাচলাগানো বই রাখার সেল্ফ। একটা চৌকি। কাঠের টেবিল। তাদের ওপর বই। বই মাটিতেও। এই সব বইয়ের শরীরে খেয়াল করলেই বোঝা যায় পাঠকদের হাত পড়েছে।
পাঠক তো একজন নন, পাঠক অনেকে। পড়ার জন্য বই চাইলে শঙ্খবাবু ফেরান না, তবে সেই সব বই সব সময় বাড়ি ফেরে না এই যা। খান-চারেক বেতের চেয়ার। চৌকি আর এ-দিক ও-দিকের বেতের চেয়ারের মাঝে সেন্টার টেবিল। এই বইঘরে সময় নেই অসময় নেই নানা জনের আসা যাওয়া। নানা পেশার নানা বয়সের মানুষ। কেউ কবি, কেউ পাঠক, কেউ অধ্যাপক, কেউ কেরানি, কেউ নিতান্ত কৌতূহলী। তাঁদের নানা জিজ্ঞাসা, নানা সমস্যা। আবার কেউ আসেন নিতান্ত কথার টানে।
বিশেষ করে রোববার এই বইঘরে খেলা করে নানা কথার ওঠা-পড়া। তিনি বসেন চৌকির দিকে মুখ করে দাঁড়ালে বাঁ-দিকের চেয়ারে। এই নানা কথার ওঠাপড়ায় যে সব সময় যোগ দেন তা নয়। শোনেন, কখনও মন্তব্য করেন, কখনও করেন না। কখনও হাসেন, কখনও নীরব। সেন্টার টেবিলে চা আসে, চানাচুর মিষ্টি। রোববারের আসরে কেউ আসছেন, কেউ চলে যাচ্ছেন। যিনি যাচ্ছেন তাঁকে দরজা অবধি পৌঁছে দিয়ে আবার নিজে চেয়ারে এসে বসছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। চৌকিতে এসে পড়ে শীতের রোদ। এই বইঘরের কথাবার্তার দস্তুর দেখলে মনে হবে যদিও তিনি গৃহকর্তা তবু তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন না। উপভোগ করছেন নানা রুচির অধিকার। নানা কথা। শঙ্খ ঘোষের প্রেমের কবিতা সুনীল বা শক্তির মতো তীব্র প্রত্যক্ষ প্যাশনের নয়। তলায় তলায় চোরা স্রোত বইছে, যে বোঝে সে বোঝে। যেখানে প্যাশন তুলনায় তীব্র, সেখানেও বলার পাশে না বলা কথা।
বিগত দশ বছর অবশ্য তিনি নিজের স্টাইল বজায় রেখেই অন্য ভাবে প্রকাশময় হয়ে উঠছেন। তিনি বামপন্থায় বিশ্বাসী কিন্তু দলীয় বাম শাসকদের থেকে ক্রমশ দূরে চলে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে সেই পরিবর্তনের পর্বে তিনি প্রায় বিবেকের মতো সরব হয়েছেন। ফ্যাসিবাদকে ব্যাখ্যা করেছেন অন্য ভাবে। তাঁর মনে হয়েছে অপরের স্বর যে রাজনৈতিক দল শোনে না, উন্নয়নের নামে কৃষকদের যারা বিপন্ন করে তাঁরা অপশক্তি।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। তার পর পরিবর্তিত সরকারের দলে নাম লিখিয়েছেন অনেকে। যাঁরা একদা শাসক দলের বিরোধিতা করেছিলেন তাঁরা অনেকেই বর্তমান শাসক দলের কাছাকাছি। মেধাজীবীরা শাসক দলের কাছাকাছি চলে এলে যে স্বাধীনতা হারান এই সরল সত্য অনেক কবিই বুঝতে চান না, বুঝলেও মানতে চান না । শঙ্খ ঘোষ তাঁর থাকা না-থাকার ভঙ্গিটি এই রাজনৈতিক কার্যক্রমেও সচেতন ভাবে বজায় রাখতে সমর্থ। তাঁর ভূমিকায় আগের শাসক দলও খুশি নন, বর্তমান শাসকেরাও কবি শঙ্খ ঘোষকে গ্রাস করতে পারেননি। তাঁর বইয়ের ঘরে ছড়ানো ছেটানো বই, রোদ। তিনি জানেন স্বাধীনতা, দেশভাগ, অতিবাম আন্দোলন, বামেদের ক্ষমতা দখল, বাংলা মাধ্যম স্কুলের অবক্ষয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবির আস্ফালন, পরিবর্তন, পুঁজির বিশ্বায়নএ সবের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে বাঙালি জীবন। তিনি এই সব কিছুর ভেতরে শামিয়ানা খাটিয়ে জেগে ছিলেন। নিজের মতো করে বলেছেন, চুপ করে থেকেছেন। সমকালে থেকেও আরেক রকম জীবনের আদর্শ সাধারণ বাঙালির সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এখনও সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে চুপি চুপি অন্যের লেখার প্রুফ দেখতে বসেন এই বর্ষীয়ান কবি। কেউ জানবে না, চুপি চুপি সংশোধন করে দেবেন ত্রুটি। চেয়েছেন ত্রুটি সংশোধন করতে, হয়তো পুরো পারেননি। আজও তাই দরজা খোলা ছেলেমেয়েরা সমানে আসে। ভদ্রলোক কবির বইঘরে মাঝে মাঝে বইসজ্জা বদলে যায়। যে বইটি ভাল লাগে, সেই বইটি চুপিচুপি সেল্ফের ওপর সাজিয়ে দেন। দেখতে জানলে সেই বদল দেখে নিতে হয়। অসম্মান করে নয়, অসৌজন্য প্রকাশ করে নয়, নিজের কথা এ ভাবেই বলেন শঙ্খ ঘোষ।
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কৃতজ্ঞতা: এবিপি

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত