| 19 এপ্রিল 2024
Categories
বিনোদন

মুভি রিভিউ: গুলাবো সিতাবো

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

সুজিত সরকারের গুলাবো সিতাবো মুক্তি পেল। প্রেক্ষাগৃহে নয়, গৃহে গৃহে, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে। নিউ নর্মাল-এর এও আর একটা অধ্যায় শুরু হল বোধহয়। কবে খুলবে সিনেমা হল! কবে আবার লোকে ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখতে ভীড় করবে! কবে দুজনে একটু ক্লোজ হবার জন্য খুঁজে নেবে হলের অন্ধকার! কবে আবার সবাইকে নিয়ে “চলো সিনেমা দেখে আসি”-র ঝুঁকি নিতে পারবে বাবা-মা?
তাই গুলাবো-সিতাবো দেখতে দেখতে বারবার মনে হয় বড় পর্দায় কেমন দেখাত পুরোনো লক্ষ্ণৌ শহর? তার বার্ডস আই ভিউ? গিজগিজে ভীড়? টাঙ্গা? আর ফতিমা মহল? দিনের বেলায় হত-দরিদ্র ইঁট বের করা, আর সন্ধ্যেরাতে মনকেমন আলো-আঁধারির হাভেলির ঐ বারান্দাটা? ঐ পুরোনো রেলিং, বড় জানলা, সোফাসেট? পালঙ্ক? যেখানে বসে থাকে ফাট্টু বেগম? লোলচর্ম বৃদ্ধা, খানদানি, রসে টইটম্বুর মনখানির ছাপ রিংকলের কারুকাজ করা মুখখানিতে, দুষ্টু চাউনি এখনো। এখনো মনে করে ইশক করে পালিয়ে যাবার কথা। গেছিলও। কিন্তু এই হাভেলির ইশকে লন্ডনে থাকা আশিককে ফেলে নিকাহ করে বসল মির্জাকে। হাড় কিপটে একটা। বাক্সো থেকে খুচরো নিয়ে যাকে প্রায়ই দূর করে দেয় বেগম আর বলে -” কঁঈ দিন আপনা শকল মুঝে মৎ দিখানা।” তাও মির্জা পড়ে থাকে ফতিমা মহলে। উঞ্ছবৃত্তি চালিয়ে যায় আর মনে মনে কামনা করে বেগমের পটল তোলার। এক দঙ্গল ভাড়াটেও ছেড়ে যায় না ফতিমা মহল। কোথায় যাবে, কোথায় পাবে তিরিশ-চল্লিশ টাকায় মাথা গোঁজার আস্তানা? এই গল্প, এই সিনেমার গল্প সেই ফতিমা মহলের। গুলাবো সিতাবো সেখানে পথের মোড়ে নেচে নেচে গান গাওয়া হাত-পুতুল। ঐতিহ্য বটে। তবে তারও দিন নেই আর, নেহাৎ লক্ষ্ণৌয়ের এই পুরোনো বসতি বলে করে খায়, দুই ঝগড়ুটে বৌ। গুলাবো সিতাবো মানে লক্ষ্ণৌ, লক্ষ্ণৌ মানে ফতিমা মহল, ফতিমা মহল মানে মির্জা আর ফাট্টু বেগম।
তাহলে কি ভালোবাসার গল্প? পৃথিবীর সমস্ত গল্পই কোথাও না কোথাও ভালোবাসার গল্প? কখনো ভালোবাসা পাওয়ার বা কখনো না পাওয়ার। গুলাবো সিতাবো ভালোবাসা না পাওয়ার গল্প। ফতিমা মহলের বিশাল ছাদে ট্যাংকির আড়াল থেকে প্যান্টের বোতাম আর সালোয়ারের দড়ি ঠিক করতে করতে বেরিয়ে আসা দুই ছেলে-মেয়ের গল্প। যেখানে মুখরা মেয়ে লড়তে লড়তে অবলীলায় ছেলের মুখের ওপর বলে দিতে পারে – “অগর মর্দাঙ্গিমে ঠেস পঁওছা হ্যায় তো যা সকতে হো!” যেখানে আটা চাক্কির দোকানের বন্ধ দরজার আড়ালে কাটানো দুপুর এক সন্ধ্যায় বরের লাল গাড়ি থেকে নেমে ” অর্গানিক আটার” খোঁজ করে নীরবে থাপ্পড় কষিয়ে চলে যায়। গুলাবো সিতাবো এই সব প্র‍্যাক্টিকাল গপ্পো। অশীতিপর অথর্ব ফাট্টু বেগমের পালিয়ে যাওয়াও বাস্তব। তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকা ফাট্টু বেগম জন্মদিন পালন করে রানির মতন, আর তারপরে কালো গাড়ি চেপে বেরিয়ে যায়। পাশে দাঁড়ানো মির্জাকে খেয়ালও করে না ( না কি করে!!)। তা হলে কি পুরোনো আশিক আব্দুল রহমানকে পেয়ে পুরোনো প্রেম ফিরে আসে? দূর পাগল। এও দুনিয়াদারি। সফল মানুষ আব্দুল রহমান বুড়ো বয়েসে আর একটা ফাটকায় জিতে যায়। ফতিমা মহল হেরিটেজ রেসর্ট হয় বোধহয়….
মির্জা ফেরে হাতে ফতিমা মহলের গেটে সাজানো ব্লু পোলকা ডট বেলুন। নাহ, ফাট্টু বেগম তাও দেয়নি তাকে। চিরটাকালের বিটকেল বুড়ো পাক্কা খুলে এনেছে, হয় তো বেচে দেবে চকের বাজারে দশ টাকায়….
আর একবার আদাব মির্জা! স্যালুট মিস্টার বচ্চন। আপনি ছাড়া এটা হত না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত