রিকশা, এই রিকশা

শান্তনু বিশ্বাস 

সাইকেল রিক্সাগুলি সামাজিক অভিজাতদের জন্য পরিবহণের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু ১৮৮০ সাল থেকে তারা আন্তঃ-শহর পরিবহন ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্ব দেশগুলির শহরগুলির মধ্যে, যেখানে রাস্তার সংযোগকারী রাস্তাগুলি খুব বেশি সংকীর্ণ থাকায় মোটর গাড়ি সহজে চালিত করা যায়নি। সম্ভবত তারা একমাত্র ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম শীর্ষস্থানীয় বিন্দু ভ্রমণের দিকনির্দেশ করেছিল।

১৯১৯ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা দেখা যায়।মিয়ানমার থেকে (তখনকার বার্মা) রিকশা বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পৌঁছেছে।১৯৩৮সালের দিকে ঢাকার রাস্তায় রিক্সা দেখা যায়।ঢাকা কলকাতা থেকে রিক্সা পেয়েছিল।ঢাকায় এবং বাংলাদেশের অন্যান্য অংশে রিক্সা প্রথমবারের মতো চালু হওয়ার সময় আমরা বিভিন্ন তথ্য পাই।কিছু সূত্র থেকে জানতে পারলাম যে, রিকশা নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোনা (বর্তমানে এটি একটি জেলা, পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার অংশ ছিল) শহরের ঢাকা শহরের সামনে এসেছিল।ঢাকায় চলত ঘোড়ার গাড়ি, পালকি আর ধোলাই খালের নৌকা। কাজেই নতুন ত্রিচক্র যানটি ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছিল। প্রথম প্রথম ঢাকাবাসীরা রিকশা যানটি চড়তে চাইতো না। ১৯৪১ সালে কতটি রিকশা ছিল জানেন কি?

মাত্র ৩৭ টি রিকশা ছিল। আর ১৯৪৭ সালে ১৮১ টি। ১৯৪৭ সালের আগে ঢাকা ছিল জেলা শহর। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৬২, ৪৬৯ জন !!

১৯৯৮ সালে ৮০ লক্ষ। এবং রেজি রিকশা ছিল ১১২,৫৭২ টি ! আসলে তো আরো বেশী।

এখন ১৫মিলিয়ন মানুষের এ শহরে পাঁচ লক্ষাধিক রিক্সা৪০শতাংশ মানুষের বাহন,যেটি একমাত্র “গিনেস ওয়াল্ড রেকর্ড ২০১৫” তে লিপিবদ্ধ হয়।ঢাকা নিয়ে হাজারো অভিযোগের মাঝে এ এক আলো! আসুন এ আলো ছড়িয়ে দেই সারা বিশ্বের মাঝে। পরিবেশ বান্ধব যানবাহন রিক্সা। প্রাকৃতিক বাতাস উপভোগ করতে অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব যানবাহনে চড়া এবং হাঁটার বিকল্প নেই।

সবকিছু চিন্তা করতে হবে। বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেয়া এবং বাজার-সদায় করে বাসায় ফেরার জন্য রিকশা অবশ্যই দরকার বাংলাদেশে।ঢাকা শহরে পরিবেশ বান্ধব যানবাহন রিক্সা চলাচল বন্ধ ঘোষণা একেবারেই অযৌক্তিক । অথচ আমরা সবসময় বলে থাকি রিক্সা হচ্ছে এই বাংলার একটি ঐতিয্যবাহী যানবাহন। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বাংলাদেশে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সকল দেশের অধিনায়কদের কে মঞ্চে আসার জন্য রিক্সা ব্যবহার করা হয়েছিল , কেননা এটা আমাদের বাংলার যানবাহন বলে কথা। তাহলে এখন কেনো এটাকে নিয়ে এত টানাহেঁচড়া করতেছেন আমাদের নীতি নির্ধারকরা।

রঙিন আঙ্গিকে রিক্সা বাংলাদেশে ১৯৫০ এর পরে শুরু হয়েছিল। কিছু সূত্র হতে জানতে পারি যে, ১৯৪৪ সালে ঢাকায় এবং ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামে রিক্সা লাইসেন্স চালু করা শুরু হয়। এখন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নতুন রিক্সা লাইসেন্স জারি করার ক্ষমতা রয়েছে তবে ১৯৮৭ সাল থেকে তারা আর কোনো রিক্সা লাইসেন্স প্রকাশ করতে বাধা দেয়নি। তবে প্রতি বছর ডিসিসির পুনর্নবীকরণ রিক্সা লাইসেন্সের হুইল দেখে ট্যাক্স বিভাগ। একটি ইস্যুকৃত রিক্সা লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর কাউকে বিক্রি করা যেতে পারে, তাই রিক্সার লাইসেন্স নতুন মালিক এবং নতুন ঠিকানা পায়।অর্থনেতিক,সামাজিক ও পরিবেশ বান্ধব এ বাহনকে নিয়ে ঢাকার হাজারো অফিযোগের মাঝেও আশা নিয়ে প্রচার করি।ভাবুন তো এ ঢাকাতে রিক্সার পরিবর্তে অন্যকোনো বাহন থাকলে পরিবেশের আর কি অবস্থা হতো!

প্রশ্ন আপনাদের কাছে?
আসুন রিক্সাকে নিয়ে লড়ি,রিক্সাকে প্রচার করি।
রিক্সার জন্য ভালবাসা , জয় হোক মেহনতী মানুষের।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত