অন্যতম সুন্দর বিচ ঋষিকোন্ডা ভ্রমণ


বিশাখাপত্তনম থেকে মাত্র ৮ কিমির দূরত্বে সোনালি বালিঘেরা মায়াময় সমুদ্রতট। চোখজুড়োনো ল্যান্ডস্কেপ মধ্যে ঈষদুষ্ণ সমুদ্রের জলে গা ভিজানোর জন্যে আপনাকে আসতেই হবে এখানে।


শহর থেকে বেশ কাছেই। কিন্তু হই হট্টগোলের লেশমাত্র নেই। দিগন্তে নীল পাহাড়ের সারি। স্বচ্ছ নীল জল মিশে গিয়েছে সোনালি বালিতে। শুধু অন্ধ্র প্রদেশ নয়, ঋষিকোন্ডা নিঃসন্দেহে ভারতের একটি অন্যতম সুন্দর বিচ। পাহাড়ের গা বেয়ে বিচে পৌঁছনোর রাস্তাটিও খুব মনোরম। চারদিকের ছড়িয়ে থাকা গাছগাছালির চোখকে আরাম দেয়। সি স্পোর্টের সুব্যবস্থা রয়েছে বিচে। সাঁতার কাটতে পারেন। ওয়াটার স্কিইয়িং এবং উইন্ড সাফির্ংয়ের মতো দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টের ব্যবস্থাও আছে।

 

কী কী দেখবেন ঋষিকোন্ডায়?

 

বোজ্জান্না কোন্ডা: বিশাখাপত্তনমের কাছে শঙ্করম গ্রামে অবস্থিত ২০০০ বছরের পুরনো একটি বৌদ্ধ হেরিটেজ স্পট বোজ্জানা কোন্ডা। বুদ্ধমূর্তি, স্তূপ, বৌদ্ধ স্থাপত্য দেখে মুগ্ধ হতে হয়।

 

ডলফিনস নোজ: ১৭৪ মিটার লম্বা একটা পাথর, যার আকার অনেকটা ডলফিনের নাকের মতো। এটি এখানকার বিখ্যাত একটি ট্যুরিস্ট স্পট। সমুদ্রের দিকে মুখিয়ে থাকা এই পাথরের উপর রয়েছে একটি লাইটহাউজ়। লাইটহাউজ়ের তীব্র আলো প্রায় ৬৪ কিমি দূর থেকে দেখা যায়।

 

সিংহাচলম: পাহাড়ের উপর অবস্থিত সিংহাচলম বা সিংহপর্বত বিশাখাপত্তনম থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার দূরত্বে। ইচ্ছে করলে ট্রেকিং করেও পৌঁছতে পারেন সিংহাচলম। পর্বতশীর্ষে মন্দিরে রয়েছে নরসিংহ লক্ষ্মীনারায়ণের বিগ্রহ। সারা বছরই চন্দনে ঢাকা থাকে এই মূর্তি। বছরে একবার চন্দন বিসর্জন অনুষ্ঠানের সময় এই চন্দন তুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের ভিতরের এবং বাইরের অপূর্ব কারুকার্য অসামান্য শৈল্পিক নিদর্শন।

 

বোরা কেভস: আরাকু ভ্যালি অনন্তগিরি হিল রেঞ্জে অবস্থিত বোরা কেভস বিশাখাপত্তনমের টুরিস্ট হট স্পট। সমুদ্রতট থেকে প্রায় ১৪০০ মিটার উচ্চে অবস্থিত বোরা কেভস প্রকৃতির এক আশ্চর্য অবদান। মাটির নীচের ক্যালশিয়াম ডিপোজ়িট দিয়ে তৈরি স্ট্যালাকটাইট এবং স্ট্যালাগমাইট চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। স্থানীয় মানুষরা গুহার ভিতরের শিবলিঙ্গ এবং কামধেনুর মূর্তি ভক্তিভরে পুজো করেন। বোরা কেভে পর্যটকদের জন্যে বিশেষ গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কাম্বালাকোন্ডা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি: শহর থেকে একটু দূরে কাম্বালাকোন্ডা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি। প্যান্থার,শম্বর, চিতল হরিণ, বার্কিং ডিয়ার, শিয়াল, ভল্লুক এবং জংলি কুকুরের বাস এখানে। সংরক্ষিত এলাকা ঘুরে দেখার সময় এদের সঙ্গে সাক্ষাত্‌ হওয়া বিচিত্র নয়।

 

খাওয়াদাওয়া

অবশ্যই ট্রাই করুন অন্ধ্রপ্রদেশে স্থানীয় খাবারদাবার। তবে যাঁরা বেশি ঝাল খেতে পারেন না, তাঁদের একটু দেখেশুনে খাওয়াই ভাল। তবে বিচে বেড়াতে গিয়ে ‘মুড়ি মিক্সচার’ চাখতে ভুলবেন না।

 

কেনাকাটা

বিশাখাপত্তনম থেকে কিনতে পারেন অন্ধ্রপ্রদেশের হ্যান্ডলুম যেমন নারায়ণপেট, পোচমপল্লি এবং কলমকারি। চন্দনকাঠের তৈরি জিনিসপত্র বা চন্দনগুঁড়োও পাওয়া যায়। এছাড়া নানারকমের মশলা, সাবান, পারফিউম, রুপোর জিনিসপত্র এখানে পাবেন।

 

কখন যাবেন

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ঋষিকোন্ডার আবহাওয়া খুব ভাল থাকে। পর্যটকদের জন্যে বিশেষ বিশাখা উত্‌সব পালিত হয় ডিসেম্বরে। খেলাধুলা, নাচগান, খাওয়াদাওয়া এবং হস্তশিল্পের প্রদর্শনী বিশাখা উত্‌সবের অন্যতম আকর্ষণ।

 

কীভাবে যাবেন

কলকাতা, ভুবনেশ্বর, চেন্নাই, মুম্বই, দিল্লি থেকে বিশাখাপত্তনম অবধি সোজা ফ্লাইট রয়েছে। ওখান থেকে প্রি পেড ট্যাক্সিতে সোজা চলে আসতে পারেন ঋষিকোন্ডায়। হাওড়া থেকে বিশাখাপত্তনম যাওয়ার জন্যে বুকিং করতে পারেন করমণ্ডল এক্সপ্রেস, ফলকনামা এক্সপ্রেস, হাওড়া-চেন্নাই মেল, হাওড়া- তিরুপতি এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি- তিরুঅনন্তপুরম এর্নাকুলাম এক্লপ্রেস বা ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস।

 

কোথায় থাকবেন

অন্ধ্রপ্রদেশ ট্যুরিজ়মের বিচ রিসর্ট রয়েছে ঋষিকোন্ডায়। ফোন: ৮১৬২৩৪। এ ছাড়াও থাকতে পারেন বিশাখাপত্তনমের যাত্রীনিবাসে। ফোন: ৫৬২৩৩৩। এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক বেসরকারি হোটেল এবং রিসর্টে।

কৃতজ্ঞতাঃ সানন্দা

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত