নারী পুরুষের মিলন কাহিনী(পর্ব-৩৩)

বিবাহ  মানব সমাজের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। যুগে যুগে প্রতিষ্ঠানটি এর আদি রূপ থেকে বর্তমান কাঠামোয় উপনীত হয়েছে। বিবাহপ্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে প্রধানত ধর্ম। বিয়েসংক্রান্ত সকল নিয়মকানুন বিধিবদ্ধ হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনে। প্রাচীনকাল থেকে বাংলায় ধর্মীয় শাস্ত্রের বিধানই ছিল সামাজিক আইন, ধর্মীয় আইনের দ্বারাই শাসিত হতো সমাজ-সংসার। ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতিও বৈবাহিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে নানাভাবে। মনুস্মৃতি এবং অর্থশাস্ত্রে আট প্রকারের হিন্দু-বিবাহ পদ্ধতির উল্লেখ আছে। ‘ব্রাহ্ম’, ‘দৈব’, ‘আর্য’, ‘প্রজাপত্য’, ‘অসুর’, ‘রাক্ষস’, ‘পৈশাচ’ ও ‘গান্ধর্ব’ এই আট ধরনের বিবাহের মধ্যে ব্রাহ্ম বিবাহই শুধু গ্রহণযোগ্য ছিল। দায়ভাগ গ্রন্থে জীমূতবাহন উল্লেখ করেছেন যে, ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রজাপত্য এবং গান্ধর্ব বিবাহ অনিন্দনীয়। ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী নিজ বর্ণের মধ্যে বিবাহ ছিল সাধারণ নিয়ম। সবর্ণে বিবাহ উৎকৃষ্ট হলেও মনু ব্রাহ্মণ পুরুষকে নিজ বর্ণ ছাড়া নিম্নতর তিন বর্ণে বিবাহের অধিকার দিয়েছিলেন। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে, যেমন চন্ডীমঙ্গলে, মুসলমানদের নিকা বিবাহের কথা বলা হয়েছে। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, এমনকি বিশ শতকেও মুসলমানদের মধ্যে বহুবিবাহ ব্যাপক হারে প্রচলিত ছিল। উচ্চশ্রেণীর অবস্থাপন্ন মুসলমানদের একাধিক স্ত্রী থাকত। বিশ শতকের শুরুতে কুলীনদের বাইরে হিন্দু সমাজে বহুবিবাহ তেমন প্রচলিত ছিল না। বিয়ের এমন অনেক জানা অজানা বিষয়ে আলো ফেলেছেন ড. রোহিণী ধর্মপাল তাঁর এই ধারাবাহিক ‘নারী-পুরুষের মিলন কাহিনী’-তে। আজ থাকছে নারী-পুরুষের মিলন কাহিনীর ৩৩পর্ব।


দ্বিতীয় বারের পাশাখেলায় দুর্যোধন কোনো খুঁত রাখেন নি। একেবারে  বারো plus এক। তো সেই প্রথম বারোর বনবাস পর্বে যুধিষ্ঠির বললেন অর্জুনকে দিব্যাস্ত্র সংগ্রহে উত্তর দিকে যেতে। কারণ সবাই জানেন এই তেরো বছরের পারে কী অপেক্ষা করছে! এই সময় নষ্ট করার নয়। বরং শরীরে মনে, নতুন অস্ত্রের জোগাড়ে, অস্ত্র চালনার নৈপুণ্যে আরো মনোনিবেশ করা কী ভীষণ প্রয়োজন । দ্রৌপদীও অর্জুনের দীর্ঘ বিরহ সহ্য করতে হবে আবার, এ কথা জেনেও ছেড়ে দিলেন। কারণ সবাই জানতেন ভীম আর অর্জুনই তাঁদের আসল শক্তি।
এই হাতিয়ারের খোঁজে অর্জুনের প্রথম সংগ্রহ পাশুপতাস্ত্র, যার নাম ব্রহ্মশির। এর পর ইন্দ্র ইন্দ্রাণী কুবের আর যমের সঙ্গে এসে অর্জুনকে বললেন, তুমি দেবলোকে এস। সেখানেই তোমার অভীষ্ট সিদ্ধ হবে। এর পরেই চারিদিকে আলোকিত করে মাতলি চালিত ইন্দ্রের রথগাড়ি এসে হাজির হল, এবং অর্জুন দেবলোকে এলেন। 
সেখানে তো তিনি মহা  আদর পেলেন। তাঁর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে ইন্দ্র একেবারে অঙ্কম্ আরোপয়ামাস, কোলে তুলে নিলেন (মহাভারত, বনপর্ব, খণ্ড সাত, পৃঃ ৪১৩)। তার পর তো শুরু হল অপ্সরাদের নাচগান। সে তুমুল জাঁকজমকপূর্ণ কাণ্ড একেবারে। ঘৃতাচী মেনকা রম্ভা মিশ্রকেশী থেকে শুরু করে উর্বশী পর্যন্ত নাচের দলে! আর কী নাচ সে! তাদের মহাকটিতটশ্রোণী কম্পমানৈঃ পয়োধরৈঃ! একেবারে কোমর নিতম্ব স্তন দোলায়িত করে কটাক্ষে শৃঙ্গারভাবের মধু ঢেলে ঢেলে এমন নাচ, দেখলে উপস্থিত সবার চিত্ত বুদ্ধি ও মন স্তম্ভিত হয়ে যায়!
 অস্ত্র শিক্ষার সঙ্গে এইভাবে আমোদে প্রমোদে দিন কাটতে লাগল অর্জুনের। ইন্দ্র বলেই দিয়ে ছিলেন যে, “বাপু, অস্ত্র নাও। চালনা শিখে নাও। কিন্তু তারপরেই চলে যেও না । অন্তত পাঁচ বছর থেকে যাও আমাদের সঙ্গে”। এখন দেবরাজ, তায় বাবা, দেখা যাচ্ছে স্বর্গে সবাই জানেন অর্জুন আসলে ইন্দ্রের সন্তান,  মাতলি পর্যন্ত অর্জুনকে সম্বোধন করছেন “ইন্দ্রপুত্র” বলে; সে আদেশ উপেক্ষা করেন কী করে অর্জুন !
 মজা হল আমরা যেমন অর্জুনকে lady killer বলেছি, সেই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়, তাও দেখেছি; কিন্তু দেখছি ইন্দ্রও অর্জুনকে তাই ভাবতেন। গন্ধর্ব চিত্রসেনের সঙ্গে অর্জুনের খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে অর্জুন শিখছিলেন নাচ গান ও নানা ধরণের বাজনা। 
হ্যাঁ, নাচও। গীতবাদিত্রনৃত্রানি(মহাভারত, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৪১৮)। স্পষ্ট লেখা আছে এই তিনটি ভাগের কথাই। সেই চিত্রসেনকে ডেকে ইন্দ্র বললেন, তিনি ধরেই নিয়েছেন যে অর্জুন উর্বশীকে দেখে মোহিত হয়েছেন, ” তুমি উর্বশীকে বলো অর্জুনের কাছে যেতে আর সে যেন স্ত্রীষু সঙ্গবিশারদঃ (অর্থাৎ নারীবিশারদ, এর সহজ মৌখিক বাংলাটি আগেই করেছি আমরা, মেয়েবাজ) অর্জুনকে তৃপ্ত করে” (মহাভারত, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৪২০)।
এবার চিত্রসেন উর্বশীর কাছে গিয়ে অর্জুনের অশেষ গুণগান করে বললেন, “সেই অর্জুন আজ তোমার চরণতলে আশ্রয় নেবে, প্রপন্নস্ত্বাং ধনঞ্জয়ঃ, সেই একেবারে খুশি করে দিও, দেবরাজের ইচ্ছেও তাই”।
প্রথমে ইন্দ্রের misunderstanding, তিনি ধরেই নিয়েছেন অর্জুন বেশিদিন নারী সঙ্গ ছাড়া  থাকতে পারবেন না, আর এখানে উর্বশীকে দেখে তিনি নিঃসন্দেহে মুগ্ধ হয়েছেন, সুতরাং তিনি চিত্রসেনকে বললেন “উর্বশীকে বলো অর্জুনকে তৃপ্ত করতে”। আবার চিত্রসেন সেই বার্তা গুলিয়ে ফেলে বললেন,”অর্জুন আজ নিজেই আসবেন তোমার শরণাপন্ন হয়ে”। ডবল misunderstanding!!!
 চিত্রসেনের কথা শুনে উর্বশী তো আহ্লাদে আটখানা! তিনি স্নান সেরে অলঙ্কার ও সুগন্ধী ফুলের মালায় সেজে মনে মনে অর্জুনের সঙ্গেই যেন রমণ করছেন, এই ভাবতে ভাবতে অর্জুনের বাড়ির দিকে হাঁটা লাগালেন।
 এখানে একটা কথা বলি। উর্বশী, আগে রম্ভাকে নিয়েও এই কথা হয়েছে। এই অপ্সরা তো ভালো নাম। আসলে এঁরা স্বর্গের বেশ্যা। রাবণ তো রম্ভাকে তাই বলেই ধর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু মহাভারতে রামায়ণে এই বেশ্যাদেরকেও সতীসাধ্বী বলা হচ্ছে। কখন? যখন এঁরা মনে কোনো একজন পুরুষকেই ভাবছেন । মনটাই তো আসল। শরীর ভোগ করলেও কিন্তু কোনো নারী বা পুরুষকে পাওয়া হলো না, যতক্ষণ না তার মনের নাগালটি পাচ্ছ।  ততক্ষণ পর্যন্ত নারী পুরুষের মিলন নেহাতই বাহ্যিক মিলন, ক্ষণস্থায়ী মিলন। এইখানে, উর্বশী অর্জুনের কথাই ভাবতে ভাবতে, নিজেকে অর্জুনের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন, তাই মহাভারতের রচয়িতা উর্বশীকে বলছেন চিত্তসংকল্পভাবেন সুচিত্তাহনন্যমানসা, অর্থাৎ কায়মনোবাক্যে তখন তিনি সতী স্ত্রীর মতোই সুচিত্তা (মহাভারত, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৪২৩)।
এখানে উর্বশীর যা বর্ণনা আছে, তা সত্যি কামোদ্রেক হওয়ার মতোই। বয়ঃজ্যেষ্ঠরা হয়ত অশ্লীলই বলবেন। আমার তো নারায়ণ সান্যালের বিখ্যাত ‘অশ্লীলতার দায়ে’ মনে পড়ে যাচ্ছে। সমরেশ মজুমদারের ‘বিবর’কে যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল, তখন স্থান কাল পাত্র উল্লেখ না করে মহাভারত থেকেই কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল। এবং সেই সব ঘটনা  চূড়ান্ত অশ্লীল বলে এক  কথায় মেনে নিয়েছিলেন সবাই। তারপর জানা গেল তা মহাভারতের অংশ। আসলে অশ্লীলতা নির্ভর করে প্রেক্ষাপটের ওপর, অর্থাৎ কে কেন কোন সময়ে কাকে কি বলছে এবং অবশ্যই  মানসিকতার ওপর। তাই একটু উর্বশীর বর্ণনা কেমন লেখা আছে বলি? আসলে তো ব্যাসদেব লিখেছেন। নয়ত আমিই অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হতাম! 
দিব্যাঙ্গরাগৌ সুমুখৌ দিব্যচন্ননরুষিতৌ।
গচ্ছন্ত্যা হাররুচিরৌ স্তনৌ তস্যা ববল্গতুঃ!! (শ্লোক ২৫)
হাঁটার সময়, তাঁর স্তনদুটি লাফাচ্ছিল, সেই সুন্দরমুখ স্তনদুটি দিব্য অঙ্গরাগে ও দিব্য চন্দনে রঞ্জিত ছিল এবং গলার হারের স্পর্শ পেয়ে আরো সুন্দর হয়ে উঠেছিল। 
 স্তনোদ্বহনসংক্ষোভান্নম্যমানা পদে পদে। ত্রিবলীদামচিত্রেণ মধ্যেনাতীবশোভিতা।। (শ্লোক ২৬) সেই দুইটি স্তনের ভারে পুরো পথটাই ঝুঁকে হাঁটছিল, আর তাঁর শরীরের মধ্যভাগটি  ত্রিবলীর মত, অর্থাৎ উপর ও নীচ উন্নত, মধ্যভাগ গভীর বলে বড় সুন্দর লাগছিল।
 অধো ভূধরবিস্তীর্ণং নিতম্বোন্নতপীবরম্।
মন্মথায়তং শুভ্রং রসনাদামভূষিতম্।। (শ্লোক ২৭)
তাঁর নাভির নিচের দিকটা, সাদা ধবধবে, পর্বতের মত ছড়ানো, নিতম্ব দুটি উঁচু আর মাংসল, তা কাঞ্চীদামে সেজে আরোও লোভনীয় লাগছিল।
সীধুপানেন চাল্পেন তুষ্ট্যাথ মদনেন চ।
বিলাসনৈশ্চ বিবিধৈঃ প্রেক্ষণীয়তরাহভবৎ।। (শ্লোক ৩০)
অল্প মদ খাওয়া (সকাল বেলাতেই একটু মদীর হয়েছেন আর কী!), মনে আনন্দ (অর্জুনের মত দেহসৌষ্ঠবধারী বীর, সেও উর্বশীকে দেখে মুগ্ধ, চিত্রসেনের কথায় এমনটাই তো ভেবেছিলেন উর্বশী!), কামোত্তেজিত, আর নানাবিধ ছলাকলা সাজগোজে উর্বশী সেদিন আরো সুন্দর হয়ে উঠেছিলেন।
 এই ভাবে মদালসা উর্বশী অর্জুনের বাড়ি পৌঁছে গেলেন। অর্জুন খবর পেয়ে বাইরে এসে উর্বশীকে দেখেই চোখ ঢাকলেন, লজ্জায়; ভাবুন, অর্জুন লজ্জা পাচ্ছেন! সত্যি যদি ইন্দ্র থেকে আমরা, সবাই অর্জুনকে যা ভাবি, তাই যদি তিনি হতেন, চোখ ঢাকতেন কখনো, বলা আছে — পার্থো  লজ্জাসংবৃতলোচনঃ!
 শুধু তাই নয়, উর্বশীকে তিনি বললেন, “অভিবাদয়ে ত্বাং শিরসা! মস্তক নত করে অভিবাদন করছি আপনাকে। দেবি”! এই শুনে তো চমকে উঠলেন উর্বশী! এ বলে কী! তখন উর্বশী চিত্রসেনের কথা অনুসারে বললেন, “সভায় সেদিন তো আপনি অনিমেষং পার্থ! মামেকাং তত্র দৃষ্টবান্! অপলক দৃষ্টিতে আমাকেই শুধু দেখছিলেন। সে তো সবাই দেখেছে। আপনার বাবামশাইও! তাই তাঁর কথায় আর বন্ধু চিত্রসেনের কথায় আমি এসেছি আপনার কাছে। আর এ তো আমার কাছেও অতি কাম্য, কারণ আপনাকে দেখে আমার মনও আকৃষ্ট হয়েছে!”
 অর্জুন এবারে একেবারে কর্ণৌ হস্তাভ্যাং পিধায়! দুই হাতে দুই কান চেপে ধরলেন ! “ছি ছি দেবি! এ কী বলছেন! আপনি আমার গুরুপত্নীতুল্য! এ কথা শোনাও যে পাপ! হ্যাঁ, আপনাকে দেখেছিলাম ঠিকই, কিন্তু তার কারণটা বলি শুনুন। আপনাকে দেখছিলাম আর এই ভেবে আনন্দিত হচ্ছিলাম যে ‘ইয়ং পৌরববংশস্য জননী’, ‘ইনিই পৌরববংশের সেই জননী’ !” আপনি আমার বংশের আদি কারণ। গুরুপত্নীর থেকেও উঁচুতে আপনার স্থান!”
অর্জুনের কথা শুনে তো স্তম্ভিত উর্বশী। তিনি উত্তর দিলেন, “পুরুবংশের যে যে ব্যক্তি স্বর্গে এসেছেন, কেউ তো এমন কথা বলেন নি। রমণে আপত্তিও করেন নি! আপনি তো আশ্চর্য কথা বলছেন! এসব ছাড়ুন, আমি যেহেতু কামপীড়িতা, আপনি না করতে পারেন না আমাকে। আর আমি তো অনুরক্তাও”!
কিন্তু অর্জুন তো নিজের জায়গা থেকে নড়ার পাত্র নন, বিশেষ করে যাঁকে মায়ের চোখে দেখেছেন, তাঁর প্রতি তো অন্য কোনো অনুভূতি আসবেই না! তিনি আবার বোঝালেন, “কুন্তী মা, মাদ্রী মায়ের মত আপনি। আমি আপনার পায়ে পড়ছি! আমি আপনার পুত্রের মত! আপনি দয়া করে ব্যাপারটা বুঝুন আর চলে যান!”
উর্বশী রেগে আগুন হয়ে গেলেন। এক তো তাঁকে দেখেই পুরুষ মাত্রেই পাগল হয়ে যায়, সর্বস্ব ভুলে যায়! তাছাড়া তিনি জীবনে কখনো না শোনেন নি! বরং তিনি অনিচ্ছে প্রকাশ করেছেন। সেখানে এই সেদিনকার ছোকরা তাঁকে না বলে দিচ্ছে মুখের ওপর! রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি অভিশাপ দিলেন অর্জুনকে, “তোমার বাবার কথায় আমি নিজে এলাম তোমার কাছে।
তাও তুমি আমাকে একটুও আদর করলে না! নপুংসকের মত আচরণ করলে! বেশ। তবে তাইই হবে তুমি! নাচিয়ে হয়ে, অপুরুষ হয়ে মেয়েদের মধ্যেই থাকতে হবে তোমাকে!”
বেচারা অর্জুন! না বলেও কী মুশকিলেই না পড়লেন! পর দিন সকালে উঠেই সোজা গিয়ে চিত্রসেনকে সব খুলে বললেন। তিনি জানালেন ইন্দ্রকে। ইন্দ্র আবার অর্জুনকে ডেকে পাঠিয়ে মিটি মিটি হেসে বললেন, “কোনো চিন্তা কোরো না এই নিয়ে। এ সত্যি সত্যি শাপে বর হল তোমার পক্ষে। এক তো সংযম কাকে বলে তা দেখিয়ে দিলে, বড় বড় ঋষিমুনিদের মাথা ঘুরে যায় যাকে দেখলে, তাকে তুমি ফিরিয়ে দিলে। শাবাস! আর দ্বিতীয় কথা, অজ্ঞাতবাস পর্বে এই শাপটি তোমার ছদ্মবেশ ধারণের কাজেই লাগবে। আর তাছাড়া আমি বলছি, তোমার এই শাপটি এক বছর থাকলেই কেটে যাবে, সুতরাং মন খারাপ কোরো না।” 
আমরা সবাই জানি, অজ্ঞাতবাস পর্বে অর্জুন রাজকুমারী উত্তরার নাচের শিক্ষক রূপে যোগ দিয়েছিলেন বৃহন্নলা নাম নিয়ে, স্ত্রীরূপে। 
এই সেই উর্বশীর অভিশাপ। এই সেই এক পুরুষের না বলা। সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখানো। এই হল সত্যিকারের পৌরুষ।

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত