সবজে রুমাল রহস্য (পর্ব-৩)

অপ্রত্যাশিত প্ল্যান থেকে জন্ম নেয়া একটি নভেলা। তৃষ্ণা বসাকের ভাবনা।
সেদিন কয়েকজন সৃষ্টিশীল মানুষ আড্ডা দিচ্ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে, আড্ডার শেষে একটি সবুজ রুমালের দেখা মিললো। একটি রুমাল কে বিড়াল করে দেবার জাদু তো প্রবাদের মত। এখানেও হলো তাই হঠাৎ পাওয়া সবুজ রুমাল টি পেয়েই সব ওলটপালট হয়ে গেল একদল সৃষ্টিশীল মানুষের ভাবনায়।জাদুর মতোই কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই ফেলে যাওয়া এক টুকরো রুমাল হয়ে গেলো ১২-ইয়ারি নভেলা ‘সবজে রুমাল রহস্য’।

পরপর লিখবেন ১২ জন। প্রথম পর্ব লিখলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং শেষ করবেন তৃষ্ণা বসাক। মধ্যে থাকবেন ১০ জন যথাক্রমেঃ 

সোনালি, তপশ্রী পাল, ব্রততী সেন দাস, নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত, নন্দিনী সেনগুপ্ত, শ্যামলী আচার্য, কৃষ্ণা রায়, ইন্দ্রনীল বক্সী, সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিতাভ দাস। আজ থাকছে তপশ্রী পাল লেখা রহস্য নভেলার তৃতীয় পর্ব।


 

পর্ব ৩

শীতের আগে এই নভেম্বরের শুরুতে হাওয়ায় টান ধরেছে। রাতের দিকে আর পাখা চালাতে হচ্ছে না। এই সময় কন্টিনেন্টাল রান্না করতে ভালোবাসে সুচন্দ্রা। কিন্তু এই রুমালটা পেয়ে অবধি মনটা এমন ব্যাতিব্যস্ত হয়ে আছে যে বেশ কিছুদিন ধরে যে ভেবে রেখেছিলো চিকেন স্টেক সিজলার বানানো ট্রাই করবে ডিনারে, সেটাই হয়ে উঠছিলো না। রেসিপিটা দেখে অবধি ডিনারে খাইয়ে তাপসবাবুকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে। তার ওপর আজ টুবু নতুন অফিসে জয়েন করলো। সব মিলিয়ে বেশ কদিন পর রুমালের কথা ভুলে মনটা একটু খুশী ছিলো সুচন্দ্রার। শাশুড়ী অবশ্য ও রসে বঞ্চিত। তাই তাঁর জন্য আলাদা করে মোচার ঘন্ট রান্না হচ্ছে।

রান্নাঘরে চিকেনের কিমা আর চিকেন ব্রেস্ট নিয়ে স্টেক বানাতে ব্যস্ত ছিল সুচন্দ্রা। গোলমরিচের গুঁড়ো, নুন, আদা, রসুন, উস্টারশায়ার সসে ম্যারিনেট করে রাখা হয়েছিলো। এখন হাতের চাপে স্টেক গড়ে নিতে হবে। তাপসবাবু খানিক আগে অফিস থেকে এসে নিত্যকর্ম অর্থাৎ টিভির খবরে মনোনিবেশ করেছেন। এমন সময় বসার ঘর থেকে জোর হাঁক “শীগগীর এসো! দেখে যাও কি দেখাচ্ছে!” “আরে দাঁড়াও! সিজলার প্লেট বসানো গ্যাসে! টোম্যাটো গ্রিল হচ্ছে! এখন আমি কি করে যাবো!” চেঁচায় সুচন্দ্রা। “আরে যা যেখানে আছে রেখে এসো শীগগির!” তাপসের গলা প্রায় বিপন্ন শোনায়। কি এমন হলো রে বাবা! টিভির খবর মানেই তো সেই রাজনীতির কচকচি আর নইলে হাঙ্গামা, মারামারি, অ্যাক্সিডেন্টের খবর। কোনরকমে হাত ধুয়ে গ্যাসটা কমিয়ে মাসীকে দাঁড়াতে বলে বাইরের ঘরে এলো সুচন্দ্রা।

এসে যা দেখলো তাতে চক্ষু চড়কগাছ সুচন্দ্রার! খবরটা আলিপুর অঞ্চলের। বছর পঞ্চাশের মিস্টার রাহুল ভাবনানী খুন হয়েছেন তাঁর নিজের বাড়িতে গতকাল মাঝরাতে। বিশাল বড়লোক ব্যবসায়ী। তাঁর নিজের অকশন হাউস আছে। আর নানা আর্ট ক্রাফট পটারির ইম্পোর্ট এক্সপোর্টের ব্যবসা। উনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। রাতে একটা পার্টি থেকে প্রায় মাঝরাতে ফেরেন এবং সরাসরি শুতে চলে যান। সকালে উনি ঘুম থেকে উঠছেন না দেখে প্রথমে সবাই ভেবেছিল যে অত রাতে শুয়েছেন বলে একটু বেলায় উঠবেন। কিন্তু নটা বেজে যাওয়ার পরেও না ওঠায় ওনার খানসামা চা নিয়ে দরজায় নক করে। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে দেখে দরজা খোলা! শুধু ভেজানো ছিলো! অথচ উনি রোজ রাতে নিশ্চিতভাবে দরজা বন্ধ করে শুতে যান। নিজের খাটে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ণ নেই। শুধু পাশে একটি রুমাল পড়ে ছিলো। হালকা সবুজ রঙের রুমাল। খানসামা বলেছে বাবু সব সময় ধবধবে সাদা ইস্ত্রী করা রুমাল ব্যবহার করতেন। কোণে ওনার নামের আদ্যক্ষর সেলাই করা থাকতো। উনি খুব পার্টিকুলার ছিলেন ওনার রুমালের ব্যাপারে। ঐ রুমাল ওনার নয়। রুমাল নাকে দিয়েই খানসামা প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলো! তাতে এমনই ঝিমধরা গন্ধ! পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। রুমালটি পুলিশ সঙ্গে নিয়ে গেছে। এখনো কাউকে সন্দেহ বা গ্রেপ্তার করা হয় নি। বাড়ির লোকজন ও কর্মচারীদের জেরা করছে পুলিশ। সেই সবুজ রুমাল! তবে কি – তবে কি এ রুমাল মৃত্যুদূত!

     

সুচন্দ্রার মুখ ভয়ে প্রায় সাদা হয়ে গেছে! গলাটা কেমন শুকিয়ে আসছে! ধপ করে টিভির সামনে সোফায় বসে পড়লো সুচন্দ্রা। তাপসবাবুও বাকরুদ্ধ! এমন সময় শাশুড়ী মা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন “হ্যাঁরে, তোরা অমন ব্যোম মেরে টিভির সামনে বসে আছিস কেন?  

কি এমন দেখালো খবরে!” এই রে, উনি শুনলেই এখন পাগল করে মারবেন “এক্ষুণি দূর কর ঐ রুমাল!” তাড়াতাড়ি সুচন্দ্রা একগাল হেসে বলে “ঐ টিভির খবরে যা থাকে – খুনোখুনি রাহাজানি! আজ আলিপুরে একটা খুন হয়েছে তাই দেখাচ্ছিলো মা। আপনি ও নিয়ে ব্যস্ত হবেন না। আপনার খাবার রেডি হয়ে যাবে এক্ষুণি।” “অ! কি যে দিনকাল পড়লো! তা বৌমা রান্নাবান্নাটা শেষ করো! টুবু খিদে খিদে করছিলো –“ বলে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন। হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো সুচন্দ্রা।  

কোনরকমে তাপসবাবুকে বললো “আচ্ছা, তোমার কি মনে হয় – দূর করে দেবো রুমালটা? ফেলে দেবো ময়লার সাথে! আমাদের দরকার নেই এমন রুমাল – কোনদিন কি বিপদ হয়!”

মাথা নাড়েন তাপসবাবু “শুধু রোমালটা ফেলে দিলেই কি – অনাগত কোন বিপদ থেকে মুক্তি মিলবে? কিসের সংকেত ঐ রোমাল? সেটাই তো বুঝছি না। নাকি কাকতালিয়? আর ঐ ফোন? নাঃ, আর চুপ করে বসে থাকা যায় না। আচ্ছা, রোমালটার ছবি তো দেখালো না টিভিতে – শুধু সবুজ রোমাল, নাকি সেই হায়রোগ্লিফিক মনোগ্রাম – “

“আমার মনে হয় ঐ একই রকম রুমাল হবে। দেখছো না সেই গন্ধ!” কাঁপা কাঁপা গলায় বলে সুচন্দ্রা ।

“আচ্ছা আমরা কি আলিপুর পু-পু-পুলিশের সঙ্গে একবার যোগাযোগ করবো! আমার মনে হয় পুলিশকে জানিয়ে রাখা দরকার!” বলেন তাপসবাবু।

“আচ্ছা, উনি না হয় বড়ো ব্যবসায়ী। আমরা তো আদার ব্যাপারী! আমাদের এখানে রুমাল পাঠানোর বা ফেলে যাওয়ার কি অর্থ হতে পারে? আমরা তো কারো সাতে পাঁচে নেই! আবার দেখো এখানে রুমাল ফেলে গেলো – কিন্তু বলতে নেই কোন অঘটন এখনো ঘটে নি। অথচ ওখানে একেবারে খুন! পাশে রুমাল! নাঃ আমার মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে গো – যাই, স্টেকটার যে কি হাল হলো! আচ্ছা, টুবু কোথায় গো? অফিস থেকে ফিরে কোথায় বেরুলো বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছি বলে – দেখি ছেলেটাকে একবার ফোন করে – রাতবিরেতে আর বাইরে থেকে কাজ নেই! কোনদিকে যে যাই! তুমি পুলিশকে পারলে বলেই রাখো। আমি ভালো বুঝছি না।” বলে মোবাইলে ছেলের নম্বর টেপে সুচন্দ্রা।    

এতো সবের পরেও স্টেকটা খেয়ে ভালোই বললো তাপস আর টুবু। যদিও খাওয়ায় আর মন ছিলো না সুচন্দ্রা আর তাপসবাবুর। ছেলেকে এখনি কিছু বলে নি তারা। কিন্তু বাবা মার মুখ চোখ দেখে কিছু সন্দেহ করেছে টুবু । খেয়ে উঠে একটা চিকলেট চিবোতে চিবোতে ইয়ারফোন কানে গুঁজতে গুঁজতে টুবু বলে “তোমাদের কি ব্যাপার বলো তো? ইতনা সান্নাটা কিঁউ? ও বুঝেছি! এখনো মাম্মার সেই রুমাল! হা হা! তোমরা পারো বটে- কি না একখানা রুমাল কে ফেলে গেছে তাই নিয়ে – প্লিস গিভ মি এ ব্রেক!” নিজের ঘরে ঢুকে যায় ছেলে। কিন্তু দশ মিনিট পরেই দৌড়ে আসে! “মাম্মা! ফেসবুকে দেখলাম! দেখো – আলিপুরে খুন! পাশে সেই সবুজ রুমাল! এ তো সত্যি ফেলুদাকে ডাকতে হবে মনে হচ্ছে! হাইলি ইন্টারেস্টিং! তুমি সেদিন বলছিলে না? রুমালের চারিদিকে নাকি ব্রাহ্মী লিপি আর কোণায় একটা ডিজাইন বা ছবি মনোগ্রাম করা? সিন্ধু সভ্যতার সময়ের না – কি! জানো আমার এক বন্ধু আছে । ও ওল্ড হিস্ট্রির ছাত্র। আর ওর ঠাকুর্দা, যার বয়স প্রায় আশির কাছে। তিনি কোন একসময় দিল্লীর ন্যাশনাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ছিলেন। যে কোন পুঁথি বা লিপি পড়তে পারেন।“

“সত্যি বলছিস! আগে বলবি তো! তাহলে – তাহলে কালই একবার ওপরের মিত্র আঙ্কলকে নিয়ে আমি যাবো তোর ঐ বন্ধুর ঠাকুরদার কাছে! তুই একটু ওকে বলে রাখ টুবু! যদি বোঝা যায় রুমালে কার বা কিসের সঙ্কেত!” যেন অন্ধকারে একটা রাস্তা পাওয়া গেছে – এমন ভাবে বলে সুচন্দ্রা।

কে জানে হাতে বেশী সময় আছে না নেই? কবে কোনদিক থেকে কি আঘাত নেমে আসে! টুবুকেও খুব সাবধানে চলাফেরা করতে বলে রাতের মতো বিছানায় যায় সুচন্দ্রা। কিন্তু বিছানায় গেলেই কি ঘুম আসে? মাথার চিন্তার রাশি সুচন্দ্রাকে ঘুমোতে দেয় না মাঝরাত অবধি। শেষরাতে চোখটা সবে লেগে এসেছে, হঠাত মোবাইলটা বেজে ওঠে! বুকটা ধক করে ওঠে সুচন্দ্রার! চোখ খুলে বালিশের নীচ থেকে ফোন বার করতে করতে কেটে যায়। এই সময় আবার কে ফোন করতে পারে! নিশ্চই কোন আজেবাজে নম্বর বা রঙ নম্বর!  ফোন রেখে চোখটা বোজার চেষ্টা করে সুচন্দ্রা! কিন্তু আবার বেজে ওঠে ফোনটা। এবার তাপসবাবুরও ঘুম ভেঙে যায়। জড়িত স্বরে বলেন “এই সময় তোমার মোবাইল বাজছে? রাতে অফ করে শোও না?”

প্রায় ভূতে পাওয়ার মতো সুচন্দ্রা বলে “কোন নাম্বার ডিস্প্লে হচ্ছে না! ধরা তো উচিৎ না – কি বলো?”

“দাঁড়াও, দাঁড়াও! না ধরলে কি মুক্তি পাওয়া যাবে? যে তোমার নাম্বারে এই সময় ফোন করতে পারে, সে যে কোন সময় আমার নাম্বারও জোগাড় করে নেবে। না না, তুমি ফোনটা আমাকে দাও। আমি রেকর্ডিং অন করে ধরি। কাল তো পুলিশের কাছে যাবোই – তখন –“বলতে বলতে ফোনটা হাতে নেন তাপসবাবু। ফোনটা আক্সেপ্ট করে চুপ করে থাকেন। শুনতে চেষ্টা করেন ওদিকের আওয়াজ। খুব দূর থেকে যেন একটা গলা ভেসে আসছে। আবার সেই দুর্বোধ্য ভাষা। খানিকটা যেন অ্যারাবিক কোন ভাষার মতো। একটাই লাইন বারবার রিপিট করছে! দু তিনবার বলে কেটে দিলো ফোন! রেকর্ড করে নিয়েছেন তাপসবাবু। কাল পুলিশকে শোনাতে হবে। ওদের ল্যাঙ্গোয়েজ এক্সপার্ট বলতে পারবে কি ভাষায় কথা বলা হচ্ছে আর নাম্বারই বা কেন ডিস্প্লে হচ্ছে না। কি যে বলতে চাইছে লোকটা–হয়তো কিছু ঘটাবার আগে ওয়ার্নিং দিচ্ছে! কিংবা সাবধান করছে, পুলিশের কাছে যাতে না যায়–না কি রুমালটা যে ফেলে গেছে সে, ফেরত চাইছে জিনিসটা?

উঁহু, কে এমন লোক যে তাঁদের বাড়ি রুমাল ফেলে যাবে আর এরকম দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলবে এতো রাতে?

মন বলছে এ কখনোই ফেলে যাওয়া নয়। ইচ্ছে করে রেখে যাওয়া।

সে রাতে আর ঘুম হলো না দুজনের কারোই। পরদিন অফিসে বলে একদিনের ছুটি নিলেন তাপসবাবু। আজ পুলিশের কাছে একবার ঘুরেই আসবেন।

সুনন্দা বললো “তাহলে তুমি আগে ঘুরে এসো । কিন্তু রুমালটা তো পুলিশ জমা নিয়ে নেবে যদি মিস্টার ভাবনানীর ওখানে যে রুমাল পেয়েছে তার সাথে মিল পায়!”

“নিক না, আপদ যায়! থাক ওটা পুলিশের জিম্মায়। আমরা বাপু সাধারণ মানুষ – আমাদের ঘাড়ে এই রোমাল চেপে আমাদের কাজকম্ম বন্ধ হবার উপক্রম!” বলেন তাপসবাবু।

কোন গভীর ভাবনায় ডুবে গেছিলো সুচন্দ্রা কে জানে? হঠাত স্বপ্নে পাওয়ার মতো বলে “জানো, টুবু বলছিলো ওর এক বন্ধুর দাদু নাকি ব্রাহ্মী লিপি পড়তে পারেন। আমি ভেবেছিলাম আজ মিস্টার মিত্রকে নিয়ে একবার সেখানে যাবো রুমালটা নিয়ে।“

“থাক, তোমায় আর গবেষণা করতে হবে না এই নিয়ে!” গটগট করে স্নানে ঢোকেন তাপসবাবু।

চট করে আলমারীর কোণ থেকে রুমালখানা বার করে আনে সুচন্দ্রা! এই তো! সেই নেশা ধরা গন্ধ! চট করে মোবাইলটা তুলে নেয়। একটা ছবি তুলে নেয় রুমালটার, বেশ ভালো করে মেলে ধরে। এই ছবিটাই ওনাকে দেখাতে হবে! আর কোণের ডিজাইনটা জুম করে আরেকটা তুলে নেয় চটপট! বড়ো করে দেখে, বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছে লিপি আর ডিজাইনটা। রুমালটা ভাঁজ করে তাপসবাবুর ওয়ালেটের পাশে রেখে দেয়।  

তাপসবাবু বেরিয়ে যেতেই ওপরের ফ্ল্যাটে মিস্টার মিত্রের বাড়ি ছোটে সুচন্দ্রা। কলেজে বেরোনোর জন্য রেডি হচ্ছিলেন মিস্টার মিত্র। সুচন্দ্রাকে দেখেই মিসেস মিত্রের মুখ হাঁড়ি । কিন্তু ভদ্রতার কথা ভাবার সময় নেই সুচন্দ্রার। মিসেস মিত্রকে পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়ে। “মিস্টার মিত্র, আমি জানি এই সকালবেলা খুব বিরক্ত করছি আপনাদের। কিন্তু আমার কোন উপায় নেই দাদা। শেষরাতেও আমি ফোন কল পাচ্ছি! কি যে করি–আর আলিপুরের ঘটনা তো টিভিতে শুনেইছেন! সেই সবুজ রুমাল। আপনার হেল্প না পেলে –“

হাঁপাতে হাঁপাতে বলে সুচন্দ্রা।

“বুঝেছি, বুঝেছি। আপনাকে অতো ব্যস্ত হতে হবে না। আমি কি সাহায্য করতে পারি?” বলেন মিস্টার মিত্র।

“টুবুর এক বন্ধুর ঠাকুরদা ব্রাহ্মীলিপি পাঠ করতে পারেন। আপনি যদি আমার সঙ্গে সেখানে একবার যান। কোন লিপির কি তাৎপর্য তা আপনিই ভালো বুঝবেন! সঙ্গে ঐ গ্রাফিক ডিজাইনটার কোন মানে যদি –“ অনুরোধের ভঙ্গীতে হাত জোড় করে সুচন্দ্রা।

“বেশ, যাবো। কিন্তু এখন তো কলেজে যাচ্ছি। তিনটে অবধি আমার ক্লাস। তারপর ফিরে নাহয় যাওয়া যাবে –“

“অনেক ধন্যবাদ দাদা।“ বলে সুচন্দ্রা নেমে আসার সময় শোনে পিছনে মিসেস মিত্র বলছেন “আলিপুরে কি হয়েছে দেখেছো তো! তুমি এর মধ্যে জড়াচ্ছো কেন? শেষে তোমার প্রাণ নিয়ে টানাটানি হবে – তোমায় যেতে হবে না।“

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত