রাশিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

ট্যাংকার লিক করে ডিজেল মিশেছে সাইবেরিয়ার নদীতে। তারজেরে রেগে আগুন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতোমধ্যেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন তিনি। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নরিলস্ক নিকেল নামে এক খনন সংস্থার বিরুদ্ধে।

তেলের ট্যাংকার লিক করে বড়সড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার সাইবেরিয়ার নরিলস্ক শহরে। আম্বার্নোয়া নদীর জলে মিশেছে ট্যাংকার থেকে লিক করা ২০ হাজার টন ডিজেল। যারজেরে কার্যত রক্তবর্ণ হয়ে গিয়েছে নদীর জল। দূষণের পরিমাণ এতটাই ভয়াবহ যে স্যাটেলাইট ছবিতেও তা ধরা পড়ছে। ইতোমধ্য়েই এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। লিক হওয়া ডিজেল নদীপথ ধরে পৌঁছে যেতে পারে উত্তরমেরু বা সুমেরু সাগর পর্যন্ত। আর সেটা হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২৯শে মে তেল লিক করার ঘটনাটি ঘটে। একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাখা তেলের ট্যাংকার লিক করে হঠাৎই ডিজেল বেরোতে শুরু করে। ঠিক কীভাবে ট্যাংকার থেকে তেল লিক করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ২ দিন পরে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে। এমনিতেই করোনার প্রকোপে দিশেহারা রাশিয়া। তার উপর এই তেল-বিপর্যয়। এই খবর শুনে ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানাধীন সংস্থা নরিলস্ক নিকেলকে একহাত নেন প্রেসিডেন্ট। বিপর্যয়ের খবর জানাতে কেন ২ দিন লেগে গেল সেই প্রশ্নও তোলেন। সমালোচনা করেন স্থানীয় প্রশাসনেরও।

রাশিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ইতোমধ্যেই নরিলস্ক নিকেলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তে নেমে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক কর্মীকে আটকও করেছে। তবে যে হারে ডিজেল নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে, জল থেকে সেই ডিজেল তোলা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর উত্তর গোলার্ধ ঘেষা রাশিয়ার শহর নরিলস্ক। একইসঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যেও অন্যতম। তাই ডিজেল লিকের ঘটনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত