কবিতা: ডালি কাটা ধান গুলি । লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল
এক
আলপথের উদারতা থেকে উঠে আসছে পাকা ধানের গন্ধ – তবুও কোনো অমৃতের কাছাকাছি নেই আমরা – কতকগুলো বক্ররেখা দৃষ্টির নিত্যতা নিয়ে দিগন্তগামী ট্র্যাক হতে চাইলেও – মাটির উত্তাপে ভেঙে যাচ্ছে মাপজোপ – হলুদ হচ্ছে আসমানি প্লাবন , হাতের ইশারাগুলি প্রিয় সংগীতের মতো হসন্ত হতে চায় , রীতির ভেতর চোখ গেল পাখির ডাক – আরও নেপথ্যে শুকনোখড় আর বেনাঘাসের দোলায় ইচ্ছেমত আগুন ; অস্থির আঁচড়গুলি দ্রাঘিমার ওপারে দাঁড়ানো ভূমিহীন স্যানিটেরিয়াম –

দুই
বাতাস ছাড়িয়ে দ্বিধারা উঠে যাচ্ছে আকাশে – কতগুলো ছায়া
সাঁতরাতে সাঁতরাতে ধরতে চায় সতেজ জাম পাতা – উদাস নয়ানজুলিতে স্নানরত পানকৌড়িটির ভেজা পালকে বাজে নির্জন দুপুর – সেদিকে তাকিয়ে গোপনে বেড়ে ওঠে কত না সবুজ – এক গর্ভবতী অহংকারের কাছে কৃষকেরা জল চায় – চায় বর্ষার ঘ্রাণ , আশ্চর্য রৌদ্রদিনে বাতাস বইতে বইতে অদ্রিক্ষেত ; তারপর মায়ার মাপে ধান আর ধানের মাপে অস্তিত্ব ; বাঁকের মুখে পতাকার বিমিশ্র প্যাটার্ন –

তিন
পাঁজর ছাড়িয়ে ইচ্ছুক কথাগুলো হয়ে যাচ্ছে সাদা গঙ্গাফড়িং – নিচে ছায়াহীন আদম ইভ : আমাকে চায় – চায় তোমাকেও ; আসলে আকাশ মানে কিছু সরলতা , কিছু সমুদ্র মিলন – তার মাঝেই চাষগন্ধের সুঠাম মানবী স্কোয়ার কিংবা কিউবের প্রাণ বাড়িয়ে দেয় , নিঝুম আবহাওয়ায় আদিম বিছানার কাছে ধানগাছ – কাঁপা কাঁপা আলোর কণায় পয়মন্ত ঋতুর আভা , নাবাল বেয়ে সাতনরি ঘাসের লিপি : আলপথের কথা বার উঠে এলেও সে কখনোই নির্বাচিত ছিলো না – বেজে চলে দুঃখ ধারণ করা হারমোনিয়াম

চার
সবুজ চোখের সাথে কাঁপছে সীমানাও ; বুকের কাছেপিঠে চিরকালীন ইষাণ নৈঋত , অথচ আমারই মনে নেই – পাকা ধানের গন্ধের সাথে মড়া পোড়ানোর গন্ধগুলি একাকার , একে তুমি ফর্ম ভাঙা বলো ! তবে তুমি দেখোনি রঙের বাঁক , চুপচাপ এবাকাসের দিকে তাকিয়ে ভেবেছ পরাবাস্তব স্লোমোশান , তারপরও শিবায়ন থেকে মেছুনী দুলতে দুলতে স্তনাগ্রে ভেজায় শষ্য মৌসুম – আমাদের প্রশ্বাসের পাখি গুলো নেমে আসে বহুযুগ বহুদূর থেকে ; শুরু করি দশদিকের পাইবাঁধা সকাল – সীমানার অনুবাদ

পাঁচ
নিজস্ব জমিনের দিকে তাকিয়ে রিকাউন্ট করি হলুদ সুখ ; টলটলে দিনের জঙ্ঘার ভিতর লম্বা হয়ে যাচ্ছে অনাদি – দূরে ধানের ডালিকাটা আবহাওয়ায় রোদ্দুর দেখার সময় কই , তবুও ধান রোয়া পায়ের ছোপে আমাদের গ্রীষ্মকাল ক্রমশ মিশে যাচ্ছে কৌশিক ভাঙা শ্বাসের ভিতর – যেদিক থেকেই আসুক না কেন ঝাঁক ঝাঁক পাখির দৃশ্যে ভয়ার্ত ভায়োলিন – খানাখন্দের ব্যথার উপর লবনের নৈঃশব্দ্য, বুকে আঁকড়ে ধরি এই ছমছম ধানশব্দ – খাঁখাঁ গোলার্ধ জুড়ে চড়া সুরের একান্ত অভিলাষ ; ছায়ার নিচে জগদ্ধাত্রী আলপনা গুলি তরঙ্গের মাত্রা মাপতে থাকে –
