সরকার আমিন-এর একগুচ্ছ কবিতা

Reading Time: 3 minutes

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর কবি সরকার আমিনের জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


মৃত্যুর অধীনে থাকব না
দেখো, আমাকে কত লোক ভালোবাসে। তবে আমি কেন মৃত্যুর অধীনে থাকব?
মৃত্যু থাকুক, তার মতো। আমি আমার মতো। কেউ কাউকে ডিস্টার্ব করব না
 
মৃত্যু যদি প্রেম করতে চায় করুক
করুক সঙ্গম কনডমবিহীন
জন্ম নিক জীবন, বিয়াক, বিকশিত হোক
 
মৃত্যু যদি আত্মহত্যা করে করুক
আফ্রিকায় গিয়ে করুক, আমেরিকায় গিয়ে করুক
আমার কী বলার আছে?
 
আমি মৃত্যুর সাথে কোনো বিজনেস করব না
মৃত্যুকে আমি এক রত্তি বিশ্বাস করি না
বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক, বদমাশ
কথা শোনে না, জেদি!
 
আমি মৃত্যুকে মোহিত কামালের হাসপাতালে ভর্তি করে দেবো
ওর সাইকোথেরাপি প্রয়োজন। কথা না শোনলে চড় মারব।
 
আমার নাতনির প্রতি
ধরা যাক তোমার নাম সুচরিতা। তুমি আমার বড় বা ছোট কন্যার প্রথম সন্তান। অথবা এমনও হতে পারে আমার দুই কন্যা তোমাকে জন্ম দেয় নি। তুমি জন্মগ্রহণ করেছ অন্য কোনো নারীর গর্ভে। সমস্যা নাই। তুমি আমার নাতনি। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি; তোমার নানাভাই, একজন পাখি। সারা জীবন উড়েছি। তবে আমার মন কখনোই মাটিকে অস্বীকার করে নি। মাটির প্রতি অনেক টান অনুভব করেছি। মাটি থেকে জন্মেছি, আমিও এক পুং সীতা। বলতে পারো শীত-আক্রান্ত সরকার। হৃদয়ের মধ্যে সদা অনুভব করেছি প্রেমের কাঁপুনি। তোমার নানিকে কখনোই করি নি অস্বীকার। কারণ তার অসামান্য সারল্য দুইচারটি বিশ্বসুন্দরীর চেয়ে মহৎ বলে আমার ভ্রম হয়েছে। মনে রেখো সুচরিতা, প্রেম হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রম! আশা করি তুমি তাতে পতিত হয়েছ, বা অচিরেই হবে।
 
সংগ্রাম ভালোবেসেছি। মানুষের হাসি সবচে সুন্দর। হাসি দেখতে চেয়েছি মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মুখেও। শিশুদের ভালোবেসেছি, তাদের হাসির মধ্যে কোনো প্রতারণা নাই। বয়স্কলোকদের মধ্যে দেখেছি প্রতিযোগিতা। কে কাকে কোন কুয়োয় ফেলে দেবে এই নিয়ে মহারণ। সবসময় মনে ময়লা না লাগাতে চেয়েছি, তবু আমার আত্মা কলুষিত হয়েছে। আর তখনই আত্মা মেরামতের জন্য কলেমা তৈয়বের মতো করে কবিতা লিখেছি, গানলামি করেছি। তুমি কি আমার কবিতা পড়ো, গানলামি শোন সোনামণি?
 
আমার নাতনি [জন্ম নেওয়া বা না নেওয়া], শোনো, আমি এক তৃষ্ণার্ত রাখাল। জলের খোঁজে যেই না গেছি টিউবওয়েলের দিকে, গল্পের বাঘ এসে খেয়ে গেছে আমার সবকটা গরু। গরু হারালে একজন কবির কী আর থাকে বাকি, সুচরিতা!
 
আশা করি, তুমি [জন্ম নেওয়া বা না নেওয়া] আমার নাতনি, তোমার নানাভাইয়ের জন্য আকাশের দিকে একটা কাগজের উড়োজাহাজ ছুড়ে দেবে। আকাশে অপেক্ষমাণ আমি, তোমার মিছামিছি উড়োজাহাজের আশায়।
 
মন থেকে মনকে খুলে রাখতে হয়
মনের আগুন নিজেকেই নিভাতে হয়। অন্যের সাহায্য নিলে ভুল হতে পারে। হয়তো সেই হেলপার অতিরিক্ত প্রেমবশত ঢেলে দিল পেট্রোল, হয়তো ঢেলে দিল অ্যাসিড, হয়তো ঢেলে দিল ইউরিনাম, তখন?
 
সো; আগুন নিজেকেই নিভাতে হয়। নগর ভবন কোনো কাজে আসে না। কাজে আসে না ফায়ার ব্রিগেড!
 
মন থেকে মনকে খুলে রেখে মনকে ভালোবাসলে মনে আর আগুন থাকে না
 
খুব রাগ !
বার বার ডাক কেন? এত ডাকলে কি চলে?
 
ঘুম ভেঙে যায় না? দেখো, সূর্য কচলাচ্ছে চোখ, খুব রাগ! সকাল সকাল ঘুম ভাঙানোয়! রাতের তারাগুলোও হামাগুড়ি দিচ্ছে অন্ধকারের বিছানায়! এখন সময় ঘুমাবার!
 
মাথার ভেতর বেশকটা ঘোড়া দৌড়াচ্ছে। আমি আলিবাবা!
 
কারো সাথে কোনো কথা নেই।
 
তস্করপরিভ্রমণে নৈঃশব্দ্যই পরম প্রার্থনা
 
অপশন
পৃথিবীতে কত কত মানুষ! কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ বাদামি! কেউ ধনী, কেউ নির্ধন, কেউ ক্ষুধার্ত, কারো ক্ষিধাই নাই, কেউ শোষক, কেউ শোষিত। কেউ জালেম, কেউ মজলুম! কেউ প্রেমিক, কেউ কামুক। কেউ উদাসীন। কেউ অন্ধ। কেউ বেশি দেখে। কেউ দেখতে চায় না।
 
সব মানুষ, একটা জায়গায় মিল দেখে। সে দেখে তার সামনে, পেছনে বামে ডানে খাদ! একটা আঙুল পিলারে রেখে সে ঝুলছে! এমন কোনো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নেই, বাঁচাবে তাকে। জানাবে নদীসাঁতারের তরিকা। এমন কোনো যিশুনবী নেই, জাগাবে তাকে মৃত্যুর কানাগলি থেকে।
 
ঝুলন্ত মানুষ। তোমার দুটোমাত্র সম্ভাবনা। হয় পড়ে যাবে, নয় উঠে দাঁড়াবে। এ ছাড়া কোনো অপশন নাই।
দাসের উক্তি মনে করো তুমি আলেকজান্দ্রিয়ার মালিকা, আমি তোমার ক্রীতদাস! আমার প্রতি তোমার অনেক দয়া; বললে “বলো, কী চাও- কি করবো দান?” আমি হয়তো বলতাম-“প্রথমে চাই প্রেম, পরিশেষে সন্তান” কী ধরনের কথা হতে পারে? কথা হবে সুন্দরবনে। পেছনে থাকবে হয়তো কোন অহিংস হালুম। তোমার মুখের কথা শেষ হতে না হতেই দুয়েকটি অতি উৎসুক কেয়াপাতার কথা শুনতে কান পাততে হবে। কথা হবে প্রেমযমুনার পাড়ে। মাঝিকে বলব মাফলার দিয়ে ঢেকে ফেল কান। কানকথা ভাল কিছু নয়। দুয়েকটা কথা মুখ থেকে পড়ে যেতে পারে। কখাগুলো দুঃখ পেতে পারে পড়ে গিয়ে। আহতও হতে পারে। নীল ব্যান্ডেজ হাতে নিয়ে হয়তো কোন অহেতুক বনমালি দাঁড়িয়ে থাকবে নিরাপদ দূরত্বে! তোমার আমার কথাগুলোর সারমর্ম লিখতে পারবে হয়তো কোন বধির বিদ্যালয়ের ঘণ্টাবাদক। ঘণ্টার রেশ যেমন সহসা কাটে না তেমনই তোমার আমার অর্থহীন কথাগুলো বাতাসে ভাসতে ভাসতে আন্দামানের জেলুলার জেল থেকে পালিয়ে যাবে। বাঘ ও ছাগল প্রতিদিন দেখতেছি সড়কে সড়কে চলিতেছে দূরযান দিয়া পাল্লা বলিতেছে সবাই, এক্সিডেন্ট! আল্লার মাল তো নিয়ে গেছে আল্লা! গান গাই ; মনে মনে পাগলের তাল বাঘেরা শেইপ করে ছাগলের গাল পৃথিবী একদিন, ইনশাল্লাহ! একদিন বোকারা শাসন করবে পৃথিবী, ইনশাল্লাহ কবিতা হবে তাদের পবিত্র গ্রন্থ, ইনশাল্লাহ তারা চোখের জলে ভাসিয়ে দেবে রূপার নৌকা চালাক লোকেরা বোকা হবার তীব্র সাধনা করবে, কিন্ত পারবে না বোকাদের সরলতা দেখবে আর কাঁদবে, ইনশাল্লাহ! হেই; পারি কিন্তু বলটা তুমি দিয়েছো ছুঁড়ে আমার দিকে আমিও ছুঁড়ে দিয়েছি জোরে যতটা পারি আমরা ভুলে যাইনি খেলা খেলতে পারি বলটা তুমি দিয়েছো ছুঁড়ে আমার দিকে আমার আছে উড়ার পাখা তোমার আছে তিনটি ঘোড়া উড়তে পারি জগত জোড়া যতই বলো- ‘আমিন খোঁড়া!’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>