Site icon ইরাবতী

সঞ্জয় সাহার কবিতা

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
Reading Time: 3 minutes
আজ ২৩ অক্টোবর কবি, কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক সঞ্জয় সাহা’র শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।
কাটোয়া লোকাল               
১.
                                        
অন্তঃসত্ত্বা  হলে বমি পায় খুব 
                  আমি অন্তঃসত্ত্বা  হইনি             অন্তরে সত্তা বহন করেছি অনেক           
প্রেম হলে তীব্র কান্না পেতে থাকে                        বমি ও কান্না খুব কাছাকাছি                                           
২.
                                     
 গ্রহণ করেছি বললে কম বলা হয়                          বলি অর্জন       তুষার ও বুদ্ধের কাছে রেখে যাবো কৃতজ্ঞতা    উত্তরপুরুষ সমালোচনা লিখবে ভ্রুবলয় জুড়ে 
৩.
তোমাকে পূর্ণ করে ভাবি                         সন্তানও সঙ্গীসহ      সবকিছু সংবিধান শাসিত হয় না জানি          রক্তে হিমোগ্লোবিন কমছে একথা ঠিক        তাজমহলের বুকে মরচে  পড়ে না কোনদিন
৪.
      মাঝ  রাস্তা পার হয়ে এলেও             আরো মাঝ  রাস্তা বাকি থাকে,     যেমন অর্ধেক রাত্রির শেষে বাকি অর্ধেক       এভাবেই ভোর হয়  দি গুড মোরো টু  আওয়ার ওয়াকিং সোলস 
৫.
  বন্ধুরা  ঠিক টের পায়      কিভাবে যে  ফুলের গন্ধ লেগে থাকে গায়ে   চোখের  পাপড়িতে লজ্জাবতীর ট্যাকটিকে                       বাল্যশিক্ষা, টিচার্স  ম্যানুয়াল                মুখ টিপে হাসে                                কিউপিড সেওকি হাসছে!
কত দিন পর কতদিন পর তুমি আমার শহরে এলে রেইনট্রি গুলিতে আজ শরৎকাল ঢাকের বাজনায় জীবনমুখী সুর পাখিদের রান্নাঘরে ফুলের এক্কাদোক্কা —
আজ সারারাত জুড়ে স্বাতী নক্ষত্রের দল দূরের ছায়াপথ থেকে ছুড়ে দেবে লক্ষ লক্ষ মাইলফলক অজাত বর্শা নুপুরের ছন্দ আর ঘোড়ার হ্রেষা– কাল তোমাকে দেবো তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত গাওয়া ঘি সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা আর দুটো সবুজ কাঁচা লঙ্কা— না হয়, লংড্রাইভে যাব ডুয়ার্সের বন চিরে যেভাবে হরিণেরা ছোটে সবুজতর কোনো বনের সন্ধানে, সেইভাবে– এতসব বলছি কেন, জানো আসলে তুমি তো কোত্থাও যাওনি, যেতেই পারো না এক জীবনে খুব বেশি দূরে যাওয়া যায় না কখনো।
বান্ধবীর করোনা হলে বান্ধবীর করোনা হলে প্রাচীণ শহর জুড়ে নামে ঘুম প্রজাপতির পাখায় জমতে থাকে অন্ধকার পাখির শীষে জন্ম নেয় অসংখ্য এলিজি
বান্ধবীর করোনা হলে মিলিটারি ব্যারাকে নেমে আসে শীতের স্তব্ধতা। ডুয়ার্স কলেজের রাগি অধ্যাপক ডায়াস থেকে নেমে সোজা চলতি বাংলায় বা রাজবংশীতে পড়াতে শুরু করেন কবি জয়দেব……. “ত্বমসি মম জীবনম্, ত্বমসি মম ভুষণম্ “ইত্যাদি। বান্ধবীর করোনা হলে আমিও অর্ধেক বেঁচে থাকি তখনই আসলে আমরা প্রকৃত কাছাকাছি আসি, কেউ দেখতে পায় না আমাদের। পাবার কথাও নয়… বান্ধবীর করোনা হলে, এতকিছু একসাথে ঘটে যে বলাই হয়না -‘ভালো থেকো,দ্রুত সেরে ওঠো, এ রোগ তত বেশি মরণ ও কামর নয়’। ‘এই হাজামাজা দু-একটা বিল এখন’। ‘ডোবো, সামান্য পাঁক, গেরি ও গুগলি মেখে চান সেরে, সপ্রতিভ হও’। আর, এইসব আলফাল লিখবো বলেই কী মিথ্যে করে বললে, ‘ আই আম করোনা পজিটিভ ‘?
ডায়েরি– ১১ বাম জমানার শুরুতে খুন হয়ে যাওয়া (শহিদ) কমেরেডের শিক্ষ্ক পুত্র ডি-এল-এড পরীক্ষায় নকল করতে না-পারার জন্য হা-হুতাশ করে মুন্ডপাত করেন কর্তব্যরত শিক্ষকদের ,আর পঞ্চায়েত ভোটের ফল নিয়ে পুষে রাখেন তীব্র সংশয় … হে ধরনী দ্বিধা হও…।।
ডায়েরি—১০ আমি তুলসি পাতা নই কিন্তু সাহিত্য আমার দেশপ্রেম আমার মাতৃভক্তি।
আমার আত্মা কলঙ্কিত নয় অন্তত আমার হাত দিয়ে একটি ফুলও তুমি পাবেনা চ্যাংমুরি কানি আমিই সেই অহং চাঁদের উত্তর পুরুষ
ডায়েরি –৬ ভাগাড়ে রয়েছে শব্দ তোমার ,যাও খুঁজে আনো কবি অক্ষরগুলো যত্নে সাজাও ,ইতর ভদ্র সবই তারপর দিও ব্রহ্মের তেজ, লঙ্কা পোড়াবে হনু লেজের আগুনে সব জ্বলে যাবে, অপমানে সব অণু
মান সম্মান যদি কিছু থাকে,যা আছে এখনও বাকি নিন্দুক ভাবে ,কবি বলে তার সাত খুন মাপ নাকি ! হেসেছে সবাই শিষ্ঠ জনেরা ,কেবলই চলেছে হেসে আবহমানের নেতানো লিঙে যোনি দিয়েছিলে ঠেসে বীরপুঙ্গব- ঠাট্টা করেছে প্রাচীন প্রপিতামহী কোনো শব্দই অচ্ছুৎ নয়, পরম ও বৈদেহী !
 
Exit mobile version