সহজিয়া (দুই)

মন আর শরীর কি আলাদা? মনের হাট কোথায় বসে গো?কোথায় মেলে নিত্যিনতুন মনের উপাচার?মন যারে চায়,সে তো মনের মানুষ।কই,শরীরের মানুষ তো বলি না তারে।

আমার তো শরীর মন এক তারে বাঁধা।মনে যদি আঙুল ছোঁয়াও,সেই সুর বাজে সর্ব অঙ্গে।তোমরা বল,ও মেয়ে,শরীর মন কি এক হয় কখনও?শরীর হল পঞ্চভুতের সমষ্টি, বাসাংসি জীর্ণানি।শরীরের ক্ষয় হয়।মন তো মরেনা।আমি বলি,অত বিদ্যে নেই বাপু।শরীর মন আমার কাছে এক ঠাই।আমার মনের মানুষ বাস করে সর্ব অঙ্গ জুড়ে।আমার ঘুমের ঘোরে,জাগরনের অবসরে তাকে পাই আমার মাঝে।

মন কাকে বল গো তোমরা?আমার মনের হদিশ কে দেবে?ওগো নিঠুর দরদী, মনে ঘা দিয়ে মন চেনাবে আমায়?অশ্রু যে চোখে ঝরে গো।নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে যন্ত্রনায়।মনের ঠিকানা তো পাইনা।আমার মনের মানুষের বাঁশির সুরে ঘর ভুলি,পর ভুলি।জগৎ সংসার ভুলি গো।সে পোড়া বাঁশী আমায় পোড়ায়।আমি পুড়ি।ছাঁই হয়ে ছড়িয়ে যাই।সে যায় দু’পায়ে মারিয়ে।আমার শরীর ধুলায় মেশে।

তোমরা বল, মনকে শক্ত বাঁধনে বাঁধ রে মুখপুড়ি।নইলে নিজেও পুড়বি যে।জ্বলেপুড়ে খাঁক হবি।আমি বলি বাঁধতে শিখিনি।বাঁধন ছেঁড়াতেই আমার আনন্দ।মনপাখির খাঁচা খুলে উড়ান দেই তারে,শরীর ওড়ে না?ঠিক জানো?আমি তো শরীরকেও উড়তে দেখি।পা এর নিচের মাটি সরে সরে যায়।আমি উড়তে থাকি,আরো উঁচুতে।তোমার মাটির সংসার অনেক তলায় পরে থাকে।

আমার মনকে বাঁধতে চাও গোঁসাই?তাহলে আমারেই বেঁধে নিয়ে চল।তোমার আঙিনায় উঠানে আলপনা দেব,ভাত রাধবো তোমার।সকাল বিকেল তোমার কানে বলব,রাধেকিষ্টো।ফুল তুলে মালা গাঁথবো তোমার পূজার থালায়।কিন্তু সাবধান,বাঁধন আলগা হলেই কিন্তু পাখি ভাগলবা।তখন আমার শরীর সঙ্গীত হবে।আমার কাটা ডানায় নতুন পালক গজাবে,লাল নীল হলুদ সবুজ।তোমরা শুধু মনের খোঁজেই থাকো।তোমার মোক্ষ তোমার থাক।আমার জন্য পাপ পূন্য সমস্ত আকাশ।স্বর্গের বাসনা নেইই যখন,আমার শরীর আকাশ হোক বরং।যদি সত্যিই আমার মনের খোঁজ চাও কোনদিন,হাতে হাত রেখো,চোখে চোখ।শরীরের কোষে কোষে হৃদয়ের ব্যপ্তি গো।ভালবেসে ছুঁয়ে দেখো।পেলেও পেতে পারো হৃদয়পুরের হদিশ।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত