বৃত্ত

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
(এক)
শীতের ঘন কুয়াশা ভেদ করে, শিশিরে পা ভিজিয়ে এক এক করে আসছে ওরা। খালি পা,দুই ফিতার সস্তা স্যান্ডেল,ফুল করা বাহারি জুতা,দামী স্যু, হাঁটার জুতা,কাপড়ের,চামড়ার সব ধরনের পা এক এক করে জড়ো হচ্ছে। উঠানের কোণে রাখা দামী খয়েরী রংয়ের মেহগনি কাঠের পলিশ করা চকচকে একটা বাক্স। এ গাঁয়ে এমন বাক্স কেউ দেখেনি আগে।আরব দেশ থেকে এসেছে এ বাক্স। বাক্সের মালিকের উঠান। শিউলী গাছটার নিচে রাখা হয়েছে দামী বাক্সটি। বাক্সের গায়ে স্পষ্ট ইংরেজি অক্ষরে মালিকের নাম ঠিকানা জ্বলজ্বল করছে। পাশে আরবি হরফেও কিছু লেখা। খয়েরি রং এর বাক্সের উপরে রুপালী রঙের আংটা লাগানো। নেম প্লেটটাও রুপালী। মালিকের উঠানে একটু একটু করে ভিড় বাড়ছে। কেউ কেউ বাক্সটাকে ছুঁয়ে দেখছে, কেউ কেউ বাক্সের ভেতরে দেখতে ব্যাকুল। ছোট ছোট দলগুলোতে চাপা গুঞ্জণ। কেউ কেউ বাক্সটাকে এক নজর দেখেই অন্দরমহলে খোঁজ নিতে ব্যস্ত,খয়েরি রঙের বাক্সের দাম কেমন হতে পারে এবং এর সৌন্দর্য্য নিয়ে ব্যস্ততা অনেকের।  পাগলা আলী এসেছে, প্রচন্ড শীতেও ওর পরনে ছেঁড়া পাতলা সাদা রংয়ের হাফ শার্ট। সাদা রংটা অবশ্য এখন আর কেউ সাদা বলবেনা, নোংরা জমে জমে সাদা এখন অদ্ভূত রং ধারন করেছে। দুই রকম দুটো তালি দেওয়া স্যান্ডেল দেখে কেউ কেউ ওকে খুঁচিয়ে যাচ্ছে নানা রকম প্রশ্ন করে।আলি  পাঁচটাকা দামের পাউরুটিতে কামড় দিচ্ছে কিছুক্ষণ পরপর। তার চোখটা আটকে আছে খয়েরি বাক্সের দিকে।  বাক্সের মালিক আলি পাগলকে ছেলে বলত,আর পাগল আলি ছিল বাপ বলতে অজ্ঞান!  কেউ কেউ বাড়ির লোককে জ্ঞান দিয়ে যাচ্ছে অনবরত। পাশের বাড়ি থেকে বড় বড় গামলা ভর্তি  গরম ভাত,সরষে তেলে মাখানো আলু ভর্তা আর পাতলা ডাল রেখে গেল খাবার ঘরে। বাড়ির লোকগুলোর চোখ জ্বলছে। ক্লান্ত ঘুমহীন চোখে খয়েরি বাক্স পেয়ে এক ধরনের প্রশান্তি।   প্রায় দুইমাস থেকে এ বাড়ির প্রতিটা মানুষের ঘুমহীন সময় কেটেছে খয়েরি রঙের বাক্সটার অপেক্ষার। অবশ্য তখন কেউ বাক্সের রঙ জানত না। বর্ণহীন একটা বাক্সের অপেক্ষায় ক্লান্ত চোখ,মনগুলো শুন্যতার মাঝেও প্রশান্তি পেল যেন। সবাই যখন বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনি বাড়ির বড় ছেলে ঘোষণা করল বাক্সের মুখ খোলা হবে। প্রথমে বাড়ির লোকদের দেখানো হবে, এরপর মহিলাদের আর সবশেষে পুরুষদের।  সবার প্রথমে বাড়ির মেজ ছেলের বউ বাক্সের ভেতরটা  দেখে চলে গেল,না চলে গেল বললে ভুল হবে তাদের ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হলো। এক এক করে ভাই, বোন, ভাইয়ের বউ,ছেলেমেয়েরা আসল। সবশেষে আসল মা। মায়ের শূন্যদৃষ্টিতে কোন কান্না নেই,তবুও বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে উপস্থিত প্রায় সকলের চোখে পানি। মা খয়েরি রঙের বাক্সটার ঢাকনা সরিয়ে প্রায় দুইমাস আগে সৌদি আরবে মরে যাওয়া মেজ ছেলের মুখ, না মুখ নয়,মুখের ছায়া দেখলেন। দুইমাস ধরে প্রবাসে হিমায়িত হয়েছে তার আদরের  মেজ ছেলে প্রিয়জনদের কাছে আসবে বলে। তার চেহারা কয়লা বরণ ধারন করেছে। মায়ের কাছে সেটাই সোনাবরন রুপ। দেখেই মূর্ছা গেলেন মা। খয়েরি রঙের বাক্সের উপর টুপ করে দুটি ভোরের শিউলি খসে পড়ল। 
(দুই)
রোজা আসতে বেশি দেরি নেই। রোজায় আক্কাস শিকদারের কাজের চাপ একটু বেড়ে যায়। হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে।অন্ধকার থাকতে তাকে সদরে যেতে হয় সবজি আনতে।নদীর ওপাড়ে ভোর না হতেই বাজার বসে।ওখানের বাজার ভেঙ্গে গেলে সবজির দোকান গুটিয়ে নিজেদের গ্রামের বাজারে দোকান সাজায় আক্কাস। রোজা আসলেই সবজি,মসলার দাম বাড়তে থাকে । তাই আলু,মিষ্টি কুমড়া, রসুন,পেঁয়াজ  মজুদ করে রেখেছে আক্কাস। নিজের বাড়ির পাশে যেটুকু জমি রয়েছে তাতে লাউয়ের আবাদ করেছে এবার। তিন সন্তান,বউ আর বৃদ্ধ  মাকে নিয়ে সুখের সংসার আক্কাসের।বড় মেয়েটা এবার অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে,ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে।ছোট মেয়েটির এখনো স্কুলে যাবার বয়স হয়নি। ভদ্র,ভালো মানুষ হিসেবে আক্কাস শিকদারের খুব সুনাম এলাকায়। তাকে কেউ কখনো বিড়ি,সিগারেট  এমনকি দোকানে বসে চা খেতেও দেখেনি। ছোটবেলায় বাবা মারা যাবার পর অনেক কষ্টে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিল আক্কাস।এরপর বাপ দাদার রেখে যাওয়া এই তরকারির ব্যবসার হাল ধরতে হয়েছে তাকে। তাই যত কষ্টই হোক ছেলেমেয়েদের অনেক দূর পর্যন্ত পড়াতে চায় আক্কাস।” মা, পড়ালেখা শেষ  কইরা তুই যদি আমাগো স্কুলের ম্যাডামদের মত পড়াইতে পারতি!”- এ কথা শুনতে শুনতে বড় মেয়ে পারুলের স্বপ্ন এখন শিক্ষক হয়ে বাবার স্বপ্নকে সত্যি করা। খুব মন দিয়ে পড়ালেখা করে পারুল।
তবে আক্কাসের খুব চিন্তা হয় ছেলেমেয়েদের নিয়ে।কারন গ্রামের পরিবেশ খুব খারাপ হয়ে পড়ছে দিনদিন।  শিকদার আর ব্যাপারি-দুই দলে ভাগ হয়ে পড়েছে নয়নতারা গ্রাম। শিকদারদের সাথে যোগ দিয়েছে পশ্চিম পাড়ার ফকির,শেখ আর মিয়া গোষ্ঠীর লোকজন। ব্যাপারীদের ভেতর থেকেও কিছু কিছু লোক গোপনে হাত মিলিয়েছে শিকদারদের সাথে।পূর্ব পাড়া আর উত্তর পাড়ার খালাশী,ভুঁইয়া, তালুকদার  গোষ্ঠীর লোকজন ব্যাপারীদের সাথে মিশে গেছে।সারাক্ষণ -ই গ্রামে মারামারি, ঝগড়া লেগে আছে।দুই দলই প্রকাশ্যে ঢাল, কাতরা, কালি,লাঠি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত। প্রতিটি মানুষের মনে এত ক্ষোভ, হিংস্রতা জমা পড়লো কখন তাই বুঝে উঠতে পারেনা আক্কাস। অথচ আগে কতই না চমৎকার সময় পার করতো গ্রামের সবাই। ঈদ,পুজোয় পুরো গ্রাম এক হয়ে যেত। সবাই মিলে আনন্দ করতো। বৈশাখ মাস এলেই গ্রাম জুড়ে মেলা বসত।আক্কাস টাকা জমাতো মেলায় চাকু,বাঁশি,মিষ্টি কেনার জন্য।গ্রামে তখন মাঝে মাঝেই পালাগান, জারিগান, যাত্রা হতো।পুরো গ্রামের মানুষ এক সুতোয় বাঁধা ছিল।এখন ঈদের নামাজ পড়তে যেতেও ভয় লাগে আক্কাস ব্যাপারীর।দল অনুযায়ী  ঈদগাহ ভাগ করা হয়েছে।  শিশুরাও মন খুলে হাসতে ভুলে গেছে,খেলতে ভুলে গেছে। শিশুদের যে কোন ঝগড়াও শেষ পর্যন্ত দলের উপর প্রভাব পড়ে। পুরো গ্রাম জুড়ে আতংক।
আক্কাস যেহেতু ব্যাপারী গোষ্ঠীর ছেলে তাই হিসেব মত সে ব্যাপারীদের দলের লোক। তবে আক্কাস আসলে কোন দলের কাজকেই সমর্থন করেনা।তার এই দলাদলি একদম ই ভালো লাগেনা। আক্কাসকে কেউ কখনো মারামারিতে দেখেনি।সে তার মত চুপচাপ কাজ সেরে বাড়ি ফেরে।বাজারের কোন রকম গল্প আড্ডায় সে থাকেনা। তাই দুই দলের সবার কাছেই আক্কাস খুব প্রিয়। সবাই বলে আক্কাসের কোন শত্রু নাই। 
কৈশোরের গ্রামকে খুব মনে পড়ে আক্কাসের।গ্রামটা যদি আবার আগের মত হয়ে যেত! 
১০ রোজা।রহমতের শেষ দিন।পাতলা চাদর গায়ে জড়িয়ে প্রতিদিনের মত তারাবির নামাজের জন্য বের হয়। ঘন কুয়াশা পড়েছে।বাঁশবাগানের মধ্যে গাঢ় অন্ধকারের বুকে জমেছে কুয়াশার আদর। ব্যাপারী পাড়ার বড় মসজিদে খতম তারাবী পড়ানো হয় তাই দুইটা মসজিদ মাঝে রেখে আক্কাস যায় সেখানে নামাজ পড়তে। আজ হঠাৎ করে আক্কাসের গা ছমছম করে উঠলো।মনে হলো কেউ তার পিছু নিয়েছে।কয়েকবার পেছনে তাকিয়েও আক্কাস ব্যাপারী কাউকে দেখতে পেলনা। বুকটা কেন যেন কেঁপে উঠলো।হঠাৎ করেই বাঁশঝাড়ের অন্ধকার ভেদ করে আক্কাসের আর্তচিৎকারে গ্রামবাসী শিউরে উঠলো।
(৩)
পুলিশের গাড়ির হুইসেল,মানুষের পায়ের শব্দ,আক্কাসের বৌ,মা আর সন্তানদের আহাজারিতে গ্রামে শোকের ছায়া আর কবরের নিস্তব্ধতা নেমে এলো।সবার মুখে একটাই প্রশ্ন, ” এইডা কি হইলো?”
আক্কাসের মার্ডারকে কেন্দ্র করে ব্যাপারী আর শিকদারদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল নতুন দ্বন্দ্ব। যেহেতু আক্কাস ব্যাপারী গোষ্ঠীর লোক তাই ধরে নেওয়া হলো শিকদারের লোকেরা আক্কাসকে মেরেছে। অন্যদিকে,শিকদারের লোকেদের ভাষ্যমতে নিজেদের লোককে মেরে শিকদারদের ফাঁসাতে চাইছে ব্যাপারীরা। সাধারণ মানুষের কাছে আক্কাসের মৃত্যু এক রহস্য হয়ে রয়ে গেল।সব জায়গায় একই আলোচনা,” এমন নিরীহ লোকটারে মাইরা ফালাইলো?”
কারো কারো মুখ ভয়ে বেঁকে উঠলো, ” আহারে, পুরো পেটটা ফাইড়া ফালাইছে।ভাত খাইয়া তারাবী পড়বার যাইতেছিল। ভাতগুলান বাইর অইয়া লাশের পাশে পইড়া রইছে।”
তামাক টানতে টানতে মুরুব্বি একজন বলে উঠলো,” এই জালেম গো বিচার আল্লাহ করবে।”
এদিকে আক্কাস ব্যাপারীর পরিবার দিশেহারা।কি করবে,কোথায় যাবে তারা।কার কাছে বিচার চাইবে।কাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনা। আক্কাসের স্ত্রীর কাছে না আছে টাকা, না চেনে  সে থানা,কোর্ট।
ব্যাপারী দলের নেতা নাঈমুল ব্যাপারী আক্কাসের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায়। প্রতিশোধ নিতে হবে শিকদারদের উপর তা ভালো করে বুঝিয়ে দেয়। কান্না জড়ানো গলায় বলে,” ভাবী, কাল আমার সাথে থানায় যাবেন।আসামীদের বাঁচার কোন পথ রাখবোনা।সব খরচ আমরা দলের সবাই মিলে নেবো।” 
শুরু হলো সুফিয়া বেগমের জীবনের নতুন অধ্যায়। থানা, পুলিশ,কোর্ট চিনতে শুরু করলো।তবে তার তেমন কোন কাজ নেই। নাঈমুল ব্যাপারী যা বলতে বলে সুফিয়া বেগম তাই বলে যা করতে বলে তাই করে।কেস সাজানো,কাকে কাকে আসামী দেওয়া হবে সব নাঈমুল ব্যাপারীর দায়িত্ব।
কেসের সাক্ষী প্রয়োজন।সাক্ষীর নাম দেওয়া হলো জয়নাল ভুঁইয়া। জয়নাল তারাবীর নামাজ পড়তে গিয়ে নিজের চোখে দেখেছে শিকদার গোষ্ঠীর নুরু,মাসুদ,কামরুল মিলে মেরে ফেলেছে আক্কাস ভুঁইয়াকে।যদিও জয়নাল ভুঁইয়া এসবের কিছুই জানতে পারলোনা। 
জয়নাল ভুঁইয়াকে যখন জানানো হলো তাকে  সাক্ষী রাখা হয়েছে এবং শিকদারদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই সুযোগটা কাজে লাগাতে সাহায্য করলে তার প্রত্যাশিত চাকরির জন্য আর অপেক্ষা করতে হবেনা তখন নাঈমুল ব্যাপারীর মুখের ওপরে কথা বলার শক্তি খুঁজে পায়না জয়নাল।তাছাড়া আক্কাসের ছেলেমেয়েরা তার বাবার হত্যার বিচার ও পাবে,এই বলে নিজেকে সান্তনা দিল জয়নাল।
নয়নতারা গ্রামের পুরুষেরা পালাতে শুরু করলো, শুরু হলো লুটপাট।পুলিশ স্হায়ীভাবে পাহারা বসালো নয়নতারার বুকে।
(৪)
জয়নাল ভুঁইয়া মারা যাবার অনেক বছর পেরিয়ে গেছে।নয়নতারা গ্রামে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে আর মারামারি লুটপাট চলছেই। গ্রামের দুই দল এখন রাজনৈতিক দুই নেতার সঙ্গে যোগ হয়েছে। ফলে নয়নতারা গ্রাম সারাক্ষণই ক্ষোভে ফুসছে।জয়নাল ভুঁইয়াকে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে হয়েছিল সংসার,সন্তানের কথা চিন্তা করে তাদের মধ্যে একজন কুপিয়ে হত্যা করে জয়নাল ভুঁইয়া কে।
জয়নাল ভুঁইয়া শিক্ষিত ও বিচক্ষণ লোক ছিল।তার স্ত্রী  সেলিনা বেগম পেশায় শিক্ষক।ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য শহরে থাকলেও জয়নাল ভুঁইয়া গ্রামের বাড়িতেই বেশি সময় কাটাত।থাকত নয়নতারাতেই। গ্রামের দরবার শালিস তাকে ছাড়া হতোনা। গ্রামের কেউ বিপদে পড়লেই তার কাছে আসতো। যে কোন দলের মানুষের বিপদে তাকে পাশে পাওয়া যেত। কিন্তু চাকরির আাশায় নাঈমুল ব্যাপারির নোংরা বৃত্তে জড়িয়ে পড়ে, জীবনটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল জয়নাল ভুঁইয়া। 
(৫)
মঈন শিকদারের স্ত্রীর চোখ উঠোনে জড়ো হওয়া লোকেদের ভিড়ের মাঝে খুঁজতে থাকে সেলিনা বেগমের মুখ।এত কান্না,চাপা আলোচনা উপেক্ষা করে একটা কথাই বাজতে থাকে কানের কাছে সারাক্ষণ, “যে আমার স্বামীকে কেড়ে নিল, তার শাস্তি যেন আমি দেখে মরতে পারি।” সেলিনা বেগমের সেই ভারী দীর্ঘনিশ্বাস এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেনি রেহানা।সারাক্ষণ বুক কাঁপত তার। টাকার জোরে তার স্বামীকে জেল খাটতে হয়নি কিন্তু রেহানার সারাক্ষণ ভয় করতো।কি শাস্তি দেবে আল্লাহ!মঈনের স্ত্রী রেহানা বিশ্বাস করে সেলিনা বেগমের দীর্ঘশ্বাস আর সন্তানদের কষ্টের ফল আল্লাহ তাকে দেখিয়েছেন। যদিও তার স্বামী গ্রামের কোন মারামারিতে মারা যায়নি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে এক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায় দুইমাস আগে।আজ খয়েরি রংয়ের কফিনে করে তার স্বামীর লাশ এসেছে বাড়িতে।একমাত্র ছেলের বয়স পাঁচ বছর।ছেলেকে কোলে তুলে নেবার, ছুঁয়ে দেখবার সুযোগ হলোনা মঈনের।
রেহানার বিশ্বাস এটা সেলিনা বেগমের যন্ত্রণার ফল। কারো সন্তানকে বাবাহারা করেছিল তার স্বামী আর তাই তার ছেলে বাবার মুখটা দেখার সুযোগও পেলনা। প্রকৃতির প্রতিশোধ হয়তো একেই বলে। স্বামীর লাশের কফিন উঠোনে রেখেই ছেলেকে বুকে নিয়ে ছুটতে লাগলো। নয়নতারার অভিশাপ,প্রতিশোধের আগুন ছেলের গায়ে লাগতে দিতে চায়না রেহানা। এই নোংরা খেলার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে জয়নাল,আক্কাস, মঈনের মত আরো নতুন নতুন শিকার জীবন দিয়ে সচল রাখবে এই বৃত্ত।কিন্তু দলের নেতারা থেকে যাবে বৃত্তের বাইরে বিত্ত বৈভব আর ক্ষমতার রাজত্বে।
ছেলেকে বুকে চেপে ধরে রেহানা দৌড়াচ্ছে।কোথায় যাবে,কী করবে কিছুই জানেনা।শুধু জানে এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত