শেখর বালার ৫ টি কবিতা

কথা-১

একটি সময় ছিল,
যখন কথা বলতে বলতে রাত পেরিয়ে সকাল হত
তোমার আমার মোবাইলের ব্যালান্স ও ফুরাতো
তবু আমাদের কথা কোনদিন ই ফুরাতো না।

আর এখন….
কথা ফুরিয়ে যায় সময় ফুরায় না
ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা সেই আমরা-
সময় ফুরানোর জন্য কাঙালের মত
অপেক্ষা করি
দুই মিনিটে ফোন রাখলে কেমন দেখায় তাই তিন মিনিটের জন্য অপেক্ষা করি..
আহারে তিন মিনিট!

কথা-২অ্যান্ড্রোয়েড ফোনটা কেনার পর থেকেই দেখছি তোমার ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে
সারাদিন মেইল, টুইটার, ফেসবুকিং, চ্যাটিং, আপলোড, ডাউনলোড ইত্যাদি ইত্যাদি…
সময় কই দুইদন্ড দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় বনলতা সেনের খোঁজ করবার।

ডাউনলোড তো তুমি আগেও করতে
বরং অনেক বেশি ই করতে
তবে আউটপুটে উত্তম- বচ্চন-শাহরুখ- রোশন-
কাজল- সোনম- শাকিরা- সানি’র বদলে খুঁজে পেতে শুধু আমাকে
এই যা সামান্য পার্থক্য!
কোনদিন সে ছবিতে থাকতো লাবন্যময়ী সুখের ছোঁয়া
কোনদিন খুব দুঃখী একখানা কালো টিপ
সেদিন তুমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করে আনতে
মনের ভিতরে জমে থাকা কষ্টের মেঘগুলোকে
বেদনার নদীটিকে বাধ্য করতে উল্টোদিকে যেতে।

এখন যেহেতু ডাউনলোডে আমি নাই
তাই বরাদ্দ নেই সেইসব অগুনিত প্রশ্নের কথামালার
হাই হ্যালোতে আটকে গেছে আমাদের নৈমিত্তিক জীবন।

কথা-৩মাঝে মাঝে তোমাকে কথা দিয়ে
না রাখতে পারার বেদনা আমাকে কষ্ট দেয় খুব
ভীষণ অনুতপ্ত হই
চোখ দিয়েও যে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুধারা- একথা এড়িয়ে গেলে মিথ্যে বলা হবে।

কী এমন ক্ষতি হত-
ভালবাসার সাম্পানে চড়ে তোমার বায়না রক্ষা করলে
একদিন লালবাগ কেল্লায় হাঁটতে হাঁটতে তুমি বলেছিলে- এরপর দেখতে যাব নভোথিয়েটার
হাসির কল্লোল তুলে বলেছিলে, আমাকে দেখাতেই হবে সাফারি পার্ক আর সোহরাওর্য়াদীর পাতাল যাদুঘর…
প্রত্যেকবার সুনীলের নাদের আলীর ঢংয়ে বলেছিলাম
অপেক্ষা করো যাবো….
অবশ্যই যাবো একদিন।

আজ না রাখা আর না বলা সেই কথাগুলো ভীড় করছে আমার জানালা পাশে
করাঘাত করছে দরজায়
আমি তাদের সাদরে বসতে দিয়েছি ঘরে
আর শপথ করে বলেছি-
আমার চোখের পাতা থেকে একটি শব্দহীন, যন্ত্রণাহীন, কাব্যিক তরঙ্গ পাঠালাম তোমার কাছে
যা পাহাড় পর্বত ঊর্মিমালা পেরিয়ে
ঠিক পৌঁছে যাবে তোমার কাছে
আর বাতাসে এঁকে দিলাম ভালোবাসার চিহ্ন
নিশ্চয়ই তুমি শিহরিত হয়ে আমাকে চিনতে পারবে
অই দমকা বাতাসে আমি ছিলাম
আর তরঙ্গও আমার ছিল।

কথা-৪মনের গহীনে কত কথা আছে জমা
কথা বলে আর কতই-বা যায় বলা
তার চেয়ে বরং মুখোমুখি বসে থাকি
চোখে চোখ রেখে কথার মালা গাঁথি।

এ মালা আমি পরাবো তোমার গলে
গুনগুন করে কথারা পড়বে ঢলে
চোখের ভাষা তো অনুবাদ করে মুখ
জানি; সে অনুবাদে থাকে অনেক ভুল!

বেহুদা কথা যাক না নির্বাসনে
যায় কী বলা কথা সে মেপে মেপে
না বলা কথা শুনতে পাবে তুমি
এ চোখ পানে তাকাও যদি রিমি…

কথা না বলে চোখপানে চেয়ে রই
হিসাব না কষে ফোঁটাই প্রেমের খই
ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক আজি
আলতো পরশে ভালোবাসা হোক বাজি।

কথা-৫তোমায় আমি বলতে পারি নাই
তুমি আমার মন বাগানের সাঁই
তোমার কাছেই প্রথম প্রেমের পাঠ
সাক্ষী আছে টিএসসি’র ওই মাঠ।

কত গল্প কত কথার স্মৃতি…
ভাগ করেছি তুমি এবং আমি
কত হাসি কত চোখের জল
জানে শুধু সবুজ দূর্বাদল।

কত কথা রয়ে গেলো বাকি
হাতিরপুলে রোজ তোমাকে খুঁজি
এখন তুমি মেমোরি লস্ট ম্যান
চারিদিকে তোমার কত ফ্যান।

এখন আমি একলা কথা কই
চিঠি পড়ে যত্ন করে থুই
আমার লেখা দীর্ঘ প্রেমের চিঠি
তোমার কাছে কেমন আছে রিমি?

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত