শেষ রাতে পটু

 

রয়ে গেছে রাখালি মেলা কিন্তু রাখালের কারবার নেই। প্রতি বছর মাঘ মাসের দুই তারিখে গরু-মোষ চরানো রাখালদের গৃহস্থরা দিঘিরপাড় গ্রামের হাসপাতাল মাঠে নিয়ে আসত। রসগোল্লা, জিলিপি, সন্দেশ, পান্তুয়া, খই, মুড়ি-মুড়কি, পৌষ পিঠে পেটপুরে খাইয়ে নতুন পোষাকে বিদায় দিত।সেদিনেই আবার তারা নতুন গৃহস্থ খুঁজে নিত। কোনও গৃহস্থ আবার বাড়ির সবচেয়ে বড় ঝুঁটিওয়ালা দেশি মোরগটি কেটে ভাত দিত। রাখালদের প্রতি দরদে খামতি ছিল না।আহা!বেচারা সম্বৎসর হুকুম শুনেছে।শেষবার যদি একটু হাসি মুখ দেখা না যায়,গৃহস্থের অমঙ্গল হবে।গৃহস্থদের মুখে এমনই কথা হামেশাই শোনা যেতো। বছরের পর বছর বসে বাপ-দাদো-নানার আমলের রাখালি মাঠের সেই দৃশ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় রাখালি মেলা। এখন মেলার বহর বাড়লেও রাখালদের চেনা ছন্দ বিলুপ্ত। রাখালি মেলা থেকেই রাখাল আসতো বাড়িতে। ইদানীং কাজের খোঁজে তারা ভিন রাজ্যে পাড়ি জমায়। সচরাচর কাজের লোক পাওয়া মুশকিল।

গরু-মোষ দেখাশোনার পাশাপাশি বাড়ির টুকিটাকি হুকুম শোনার জন্য একজনকে চায়।ছয় ভাইয়ের সংসারে ছেলেমেয়ে বয়স্ক মায়ের যৌথ সংসারে পটুও নিজের আসন পাকা করে নিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মায়ায় জড়িয়ে গৃহস্থ মা আনোয়ারা বিবির কাছে কত দিনের চেনা। যেন পেটে ধরা হারানো ছেলে ফিরে এসেছে। আনোয়ারা বিবি জানায়, বাপ পটু তুমিও আমার এক ছেলে। এ বাড়িতে অসম্মান হবে না। থাকো খাও কাজ করো। আর যেদিন বাড়ি যাবা চাল ডাল বেঁধে দবো। ঘাড় নেড়ে পটুর উত্তর, আমার বাপ থাকতেও নেই। মা মরে যাওয়ার পর বাপ আবার বিয়ে করলো। রাত দিন জুটতো লাথি ঝাঁটা। তাই আমি আর বাড়ি ফিরে যাবো না। হেসে গৃহস্থ মা জানাল, আচ্ছা বাপ তোমাকে যেতি হবে না। এই বাড়িতেই থাকবা। 

এক সপ্তাহ আগেই কলকাতায় গিয়েছিল পাড়ার যুবক আকালি। রাতের শেষ ট্রেনে দেবগ্রাম স্টেশনে নেমে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করছিল সে। মাঘের হাড়হিম ঠান্ডায় আকালি দেখেছিল প্ল্যাটফর্মের রাধাচূড়া গাছের তলায় কেউ একজন বসে, জুবুথুবু অবস্থায় কাঁপছে। গায়ে পাতলা চাদর মাথায় মাফলার। পায়ে প্লাস্টিকের চটি। রেল পোস্টের আবছায়া লাইট গাছের পাতা ভেদ করে ছেলেটির গায়ে পড়ে জানান দিচ্ছে অসহায়ত্ব। দুই হাঁটুর ভিতর থেকে মাথাটা তুলে আকালির হাতটা ধরেছিল। রাত জাগা বরফের অসাড় হাত আর ছাড়তে পারেনি আকালি। অন্যমনস্ক মুখের ভয়াল দুর্দশায় আকালি জেরবার হয়ে মায়াটা কাটিয়ে পিছন ফিরে হাঁটতে পারেনি, বড্ড ব্যাকুল হয়েছিল। মনের মধ্যে খচখচানির ধন্দ সরিয়ে নামধাম জানতে চেয়েছিল, কোথায় বাড়ি তোমার?এত রাতে একা এখানে কেন?” 

বাড়ি আমার মালদা। বাড়ি থেকে চলে এসেছি।

সেকি! মা-বাপ চিন্তা করবে না?

মা মরে গেছে। বাপটা থেকেও নেই।

মালদা থেকে নদিয়া কিভাবে আসল? আর এত রাতে ছেলেটাকে ফেলে রেখে যাওয়াটা কি ঠিক হবে! ভোর হলে আকালি ছেলেটিকে গ্রামে নিয়ে আসে। পুরো ঘটনা শুনে আকালির বাড়ি থেকে প্রতিবেশী আকাই বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। বাড়ির বউগুলো সাদরে গ্রহণ করে। আনোয়ারা বিবির স্বামী আব্দুল মোমেনের মারা যাওয়া অনেক বছর হয়ে গেলেও ছেলে-বউদের মিল মহব্বতে সংসার তাজা ঘোড়া হয়ে ছুটছে। গ্রামের মধ্যে আকাইয়ের একমাত্র মুদির দোকান। বড়ভাই কলিম ধান-গম ভাঙা কলঘরের মালিক। পরিবারের ছোটভাই নুরুল কলকাতায় চাকরি করে। আর বাকি তিন ভাই গৃহস্থ চাষী। মাঠে ডজন ডজন মুনিশ, গোয়াল ভর্তি গরু। কাজের শেষ নেই। আকাই সকালে মুদির দোকানে যাওয়ার আগে আনোয়ারা বিবিকে বলে যায়, মা পটুকে বেলা হলে দোকানে যেতি বলবা। কদিন ধরে ও ভিড়টা বেশ সামলাচ্ছে। আকাইয়ের কথা পটুর কানে যায়। সে চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকেই জানালো, সেজো ভাই তুমি যাও আমি মাঠে জলখাবার দিয়ে এসিই দোকানে যাব। সকাল নটা নাগাদ গরম ভাত, ডাল, আলু ডিমের তরকারি ভর্তি গামলাটা মাথায় নিয়ে পটু মাঠে যায়। 

স্কুলে যাওয়ার সময় হয়েছে। মেজো বউ হেনা মেয়ে মিতাকে স্নান করিয়ে রেডি করল। কিন্তু বায়না ধরেছে পটুকাকার সঙ্গে স্কুলে যাবে। মিনিট দশ পরে মাঠ থেকে ফিরে সাইকেলে চাপিয়ে হাসিমুখে মিতাকে স্কুলে পৌঁছে দিল পটু। স্কুল থেকে ফেরার পথে আকাইয়ের মুদির দোকানে ঢুকলো, তার হাত চালানো দেখে আকাই তো খুশিতে টগবগিয়ে যায়। বলল, ভাই পটু যেমনি তোর নামটা, তেমনি কাজেও তুই পটু। তুই তো এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়গড় হয়েচিস।   

ভাই দুনিয়ার এমন কাজ নাই যা আমি পারি না। আসলে তোমরা বাড়ির সব মানুষই ভালো তাই আমার কাজ পছন্দ করছ, সঙ্কোচহীনের সঙ্গে জানালো পটু। মুদির দোকানের পশ্চিমে তিনটি বাড়ি। তার পূর্বদিকে কড়কড়ে বাঁশঝাড়। বাঁশ বাগানের উত্তর গায়ে উলুবন থেকে শূন্য অন্ধকারের প্রতিযোগিতা। রাতের অনাবিল নীরবতার গন্ধ উড়ছে। কুয়াশা ঢেকে দিয়েছে রাস্তা। নয়ানজুলিতে টুপটাপ করে আড়ষ্ট ভেঙে পড়ছে বিন্দু বিন্দু শিশির। তরোয়াল আকৃতির পাতা পড়েই ডুব দিচ্ছে জলে। পটু দু’মিনিট কালভার্টে বসল। নিশাচর পতঙ্গের দাপট। বাবলার মগডাল ছুঁয়ে পেঁচার কাতরানিতে অবসাদ কাটিয়ে উঠছে বিশুদ্ধ রাত। তারার মিটমিট আলো রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছে। পটু বিলীন হল। কালভার্টের পাশেই বৃহৎ জাম গাছের ডালে বসে দেখল গ্রামেরই মুরুব্বি হ্যারিকেন লাঠি হাতে মাঠের দিকে যাচ্ছে। পটু বুঝে গেল ধানে জল দিতে যাচ্ছে। মুরুব্বি চলে যাওয়ার মিনিট দুয়েক পর সাদা কাপড় মুড়িয়ে একজন দাঁড়াল। জাম গাছের কান্ড বেয়ে নামার শব্দ শুনে,কে তুমি? বলে কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো সাহিদা। সরসর করে নেমে সাহিদার মুখ চেপে ধরে, চুপ করো চুপ করো সাহিদা,আমি পটু। পটুকে এমন পরিস্থিতিতে দেখে সাহিদা অবাক হল!

গাছে কেন? তুমি?

মানুষ আসছিল। ধরা খাওয়ার ভয়ে গাছে উঠেলাম।

দুই কিশোর কিশোরী রাতের উপাখ্যান গায়ে মেখেছে। নোঙর ফেলেছে জনশূন্য বন্দরে। গোটা পৃথিবীর তামাম জ্যোৎস্নাদের ছুটি হয়েছে। চাঁদ ঘোমটা নামিয়ে পরিযায়ী এখন। এই রকম সময়েই পটু সাহিদাকে আসতে বলেছিল। সাহিদার স্কুল যাতায়াতের পথে দোকানের সামনে পটুর সঙ্গে প্রথম শুভদৃষ্টি হয়। পরের দিন দোকানে সাহিদা সাবান কিনতে গেলে পরিচয় ঘটে। কেনাকাটার ছুতোয় সেদিন থেকে ঘনঘন দোকানে আসাযাওয়া শুরু করে সাহিদা। দিন কতকের মধ্যে দুজনের মনের অন্তিম সীমানায় সম্পর্ক গাঢ়ভাবে জমাট বেঁধেছে। আকাই ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে একদিন গায়ে মাখা লাক্স সাবান, মুখ ফর্সা ক্রিম, ট্যালকম পাউডারও ধরিয়ে দিয়েছিল। ফকফকা সুন্দরী হওয়ার হাতছানিতে পটুর প্রেমে গদগদে সাহিদা শুধুই মুচকি হেসেছিল। কিন্তু আকাই ভাইয়ের ভয়ে পটুর মনের কথা বলা হয় না। আজ সকালে অন্যদিনের মতো দোকানে যায় সাহিদা। পটু  বুকে বল, মনে আশা ধরে রেখে বলেছিল, কালভার্টের কাছে রাতে আসতে পারবা? পটুর কথাতে সাহিদা রাতে দেখা করতে এসেছে। জাম গাছের আড়ালে সাহিদা ও পটুর বুকের হাপর ওঠানামা করছে। উত্তপ্ত কয়লায় জ্বলজ্বলে শরীর। ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে। যুগ যুগ ধরে দুজনে জমিয়ে রেখেছিল দাউদাউ জ্বলে ওঠার দাহ্য উপকরণ। আগুনে আগুনে হাড় রক্ত মাংস এক কড়াইয়ে  সিদ্ধ হচ্ছে। সাহিদার বুকে জন্মানো তুলতুলে দুই উর্বর অনন্তকাল পাহাড় পটুর হাতের মুঠোতে খেলছে। সাহিদা আঙুল খামচে পটুর পিঠে জ্যন্ত মেরুরেখা টেনেছে। ঠোঁটের কমলা কোয়াতে দুজনই রস শোষণের চরম উন্মাদনায় মত্ত। বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে সাহিদার ঘরে কাটানো আবদ্ধ জীবনটা মুহুর্তেই সুপ্ত সুখের সমুদ্র উপকূল। পটুর বুকের আগলে গরম আগ্নেয় লাভার স্রোত খসিয়ে সাহিদা অস্পষ্ট ভাবে জানায়, তুমি আমাকে এভাবেই আড়াল করে রাখবা। তোমার বুকে মাথা রেখে আঁধার কাটাব, আলো কাটাব, কাটাব সুখ দুখের আর্দশ জীবন, তবে লুকিয়ে চুরিয়ে নয়, প্রকাশ্যে। সাহিদার গাল, ঘাড় বুকে চুমুর বিলি কাটতে কাটতে পটুর উত্তর, সাহিদা আমার নাম পটু, এই নামের অমর্যাদা করব না। আমার উপর তুমি নিজেকে ছেড়ে দাও৷ আজ থেকে পুকুরের জলের দিকে তাকিয়ে যদি বলি এক দিক নীচু তুমি সেটাই বিশ্বাস করবা!

আরও আপন হতে হতে দুটো মানুষ মিলিয়ে একটা মানুষ হয়েছে। অনেক দূর থেকে টর্চ লাইট এসে পড়ল জামগাছের গায়ে। সাহিদা পটুকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দিল। শীতের রাতেও পটুর শরীর ভিজে সাঁতার কাটছে ঘামে। অপূর্ণ খুশিতেই পটু পথ মাপতে মাপতে ঘরের গন্তব্যে পা বাড়ায়। 

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে চা মুড়ি খেয়ে পটু গরুর জন্য খড় কাটল।পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব কর্তব্য বেড়েই চলেছে। ছোটবড় সকলেই একবাক্যে প্রশংসায় ভরাচ্ছে। বাড়ির ছোট সদস্য আরিফ, মিতা, নাদিরা পটুর সঙ্গে খেলতে চায়। কখনো পটু হামাগুড়ি দিয়ে ঘোড়া সাজে। আবার চোর পুলিশ খেলায় চোর সাজে। খেলার অবসান ঘটিয়ে স্নান সেরে দোকানে যায়। পটুর এ বাড়িতে আসার পর থেকে দোকানের চাবি তার কাছেই থাকে৷ সকালে দোকান খোলা, রাতে দোকান বন্ধ। এক্কেবারে পটুই হর্তাকর্তা। সাহিদা ঘনঘন নজর রাখে৷ জোহরের আজান ভেসে এলেই বাড়ি যায় আকাই৷ সাহিদা আসে৷ ওড়নার ভাঁজ থেকে হাত বের করে, পটু ধুকি পিঠে নাও। মা বানিয়েছে। তোমার জন্য লুকিয়ে এনেছি।

ধুকিটা হাতে রেখে পটু জানায়, সাহিদা তোমার আংটিটা সোনার?

হ্যাঁ, সোনার। স্কুল যাওয়ার আগে বিড়ি বেঁধে টাকা জমিয়ে কিনেছি। বলে হো হো করে দুপাটি দাঁত হেসে ওঠে। 

আমার তো তেমন কিছুই দেওয়ার সার্মথ্য নেই। আমার কাছে কিছু টাকা আছে। তোমাকে একটা আংটি আমি পরিয়ে দেব। গড়াতে দেব সোনার দোকানে। তোমার আংটিটা দিয়ো মাপ নিয়ে আবার ফিরিয়ে দেব, বলে পটু। পটু এত ভালোবাসে! অবাক হয় সাহিদা৷ চোখমুখ আনন্দে বিচ্ছুরিত হয়। তার জীবন উদ্যানে প্রস্ফুটিত হচ্ছে মোলায়েম ফুল। মনের আঙিনায় নাচে ময়ূরী। সাহিদা আংটি খুলে পটুকে দিল। রাতে দোকান বন্ধ করে ফিরল পটু। আকাইয়ের শরীরটা ভালো নেই। সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ফিরেছে। ঘরের মেঝেতে লেপ কম্বলের মধ্যে পা ঢুকিয়ে সকলেই গল্প করছে। কলিমের মেয়ে সোনামার বিয়ের ব্যাপারে কথা চলছে। পটু দরজায় একটু সময় দাঁড়িয়ে টিভির ঘরে ঢুকল। রাতে খাবার খেয়ে শীতে সবাই দরজায় খিল দিল। ফজরের আজান দেওয়ার পর পথে ‘হা হা পশ্চিমি হা’ বলতে বলতে গরু মোষ নিয়ে মাঠে যাচ্ছে লোকজন। ক্যাঁচকুঁচ করতে করতে কাঠের চাকা এগোচ্ছে। পুকুর পাড়ের আম, শিরীষ, ক্যাঁও, পিটুলিগাছে সাবলীলভাবে পাখি কিচির মিচির করছে। মাছরাঙা আর বকের মস্তানির ভয়ে জল ছিটিয়ে ডুব দিচ্ছে খাবি খাওয়া মাছের ঝাঁক। দুর্বাঘাস হিমে স্নান সেরে উঠছে সকালে। হৈ হট্টগোল হাঁকডাক চলছে। কোন ঝামেলা হচ্ছে! হাঁটতে বেরিয়ে প্রথমে সানোওয়ারা চাচির নজরে পড়েছিল। একেএকে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। আব্বাস আকাইয়ের বাড়িতে খবর পৌঁছে দিল। আকাইরা ছুটে এসে দেখে দোকানের তালা খোলা। ক্যাশ বাক্স বাইরে পড়ে। কয়েনসহ সব টাকা গায়েব। কলিম ছুটল বাড়ি। ঘরে ঢুকে দেখল পটু নেই। সাইকেলটাও নেই। মুখে মুখে চেঁচামেচিতে সাহিদা কালভার্টের কাছে জামগাছ তলায় এসে দাঁড়াল। গুলিয়ে যাচ্ছে সাহিদার পাটিগণিত। মাধ্যমিকের সাদা খাতায় কষা অঙ্কের চেয়েও কঠিন। কুয়াশার কুন্ডলি পাকিয়ে নয়ানজুলির জল ঘুমিয়ে। জামপাতারা তখনও আচ্ছন্ন রাতের রেশে। বিল থেকে মাছ ধরে পিঠে জাল নিয়ে ফিরছে মেছুনিদের সারি। সাহিদা দেখতে পাচ্ছে সে আষ্টেপৃষ্টে জালের ফাঁসে জড়িয়ে গেছে। দম আটকে আসছে।    

 

    

 

    

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত