শিউলি গাছ ও একাকী চশমা

ছোটবেলা থেকেই বাড়ির সামনের শিউলি গাছটা ছিল বন্ধুর মতো। তার জমে আছে কত গল্প, কত গান, অভিমান। পুজো আসলেই ছোট্ট ছোট্ট সাদা ফুলে ভরে উঠত গাছের ডাল। সবুজ কচি কচি পাতা। বর্ষাকালে পাতায় পাতায় সবুজ শুঁয়োপোকা। বোঝা যেত না এক্কেবারে। মহালয়ার দিন কে কত ফুল কুড়াতে পারে তার  রীতিমত কম্পিটিশন। আর কি ঘ্রাণ! রাতে বাড়ি ফেরার সময় গাছ তলায় দাঁড়িয়ে বুক ভরে শ্বাস নেওয়া। আহ! প্রাণটা জুড়িয়ে যায় যেন। সেবার ধরা পড়ল চোখ খারাপ। একটা কালো ফ্রেমের চশমা লাগল। ছোট্ট মুখে এই এতবড় ধ্যাবড়া চশমা। বিচ্ছিরি!

একদিন শিউলি গাছটাকে জিজ্ঞেস করলাম নতুন চশমায় কেমন লাগছে গো? চেয়ে রইল শিউলি গাছ অনেকক্ষন মুখের দিকে। তারপর পাতা দুলিয়ে জবাব দিল ‘উঁহু একদম বিচ্ছিরি’। সব কথা বুঝতে পারতাম আমি। বলতে না পারলে কি হবে; একবার বেড়াতে গেছি মামাবাড়ি। দিন দশেক ছিলাম না ফিরে গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে একদম স্তব্ধ হয়ে গেলাম। কোথায় গেল? এখানেই তো ছিলো! ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলাম এক্কেবারে গোড়া থেকে পুচিয়ে কেটে দিয়েছে। পাশের বাড়ির পাঁচিল তৈরি হচ্ছে। এক দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে ঠাম্মাকে ঝাঁকাতে থাকলাম, বল আমায় না জিজ্ঞেস করে কেন কাটলে আমার শিউলি গাছ? জানো না আমার বন্ধু ছিল?

ঠাম্মা বলল, আরে ছাড় ছাড়! দেখো পাগল মেয়ের কান্ড! আমি কেটেছি নাকি? পাশের বাড়ির পাঁচিল তৈরি হবে না? আবার ছুটে গেলাম বাড়ির সামনে দুচোখে উপচে পড়ছে জল। সেই বিচ্ছিরি কালো ফ্রেমের চশমার ওপারে অভিমানী দুটো চোখ জলে ভেসে যাচ্ছে। শিউলি গাছ তুমি কি দেখতে পারছ?? শিউলি গাছ?

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত